fbpx

January 2021

January 2021: Interview: Debjani Halder

Debjani Halder Ram Janmbhoomi Book Release By Amit Shah
Debjani Halder Ram Janmbhoomi Book Release
দেবযানী হালদার একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক লেখিকা। পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অন্যতম একজন প্রচারক তিনি। ওনার লেখা গবেষণামূলক গ্রন্থ, ‘রাম জন্মভূমি: সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা’, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশের সাথে সাথেই এসেছে ব্যাপক সাড়া — কিছু প্রশংসা ও কিছু সমালোচনা। তাই, সেই বিষয়ে আমাদের ম্যাগাজিনের পাঠকবৃন্দের অবগত করানোর জন্যে আমাদের মুখ্য সম্পাদক শ্রী তীর্থেন্দু গঙ্গোপাধ্যায় (ওরফে তীর্থ) একটি খোলাখুলি আলোচনায় যুক্ত হলেন শ্রীমতী দেবযানী হালদারের সহিত। তাদের কথোপকথনটি নিম্নে মুদ্রিত হইলো।
 
তীর্থ: সর্বাগ্রে, প্রণাম নিও দিদি। প্রথম বই প্রকাশ — এটার আনন্দ কেমন সেটা আমি নিজে জানি। তাই আমি জিজ্ঞেস করবো না যে তুমি কেমন আছো বা তোমার এখন কেমন লাগছে। তবে পাঠকবৃন্দের জন্য তুমিই বলো তোমার মনের অবস্থার কথা।
 
দেবযানী: নিঃসন্দেহে একটা অন্যরকম অনুভূতি যে অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সহজ নয়। বইটা বেরোনোর পর যতটা উৎকণ্ঠা আছে, বেরোনোর আগে বের করতে পারার পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে ঠিক ততটাই উৎকণ্ঠা ছিল। প্রথম বই বলে অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। যেহেতু অত্যন্ত জটিল এবং বিতর্কিত বিষয়, সেই জন্য কিভাবে এই বইটিকে গ্রহণ করবেন সবাই, সে বিষয়ে চিন্তা তো ছিলই।
 
তীর্থ: আচ্ছা, “রাম জন্মভূমি : সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা” এরূপ শিরোনাম কেনো?
 
দেবযানী: আসলে রাম মন্দির নির্মাণের যে লড়াই হয়েছে সেটা কিন্তু ওই জন্মভূমির উপর মন্দির নির্মাণ করা নিয়ে। রাম মন্দির হাজারো নির্মাণ করা যেত। কিন্তু শ্রীরামের জন্মভূমির একটা আলাদা মাহাত্ম্য আছে। ঠিক যেমন অসংখ্য রামকৃষ্ণ মিশন থাকলেও কামারপুকুরের আলাদা গুরুত্ব আছে। আর এই লড়াই সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল, ন্যায় প্রতিষ্ঠার লড়াই ছিল। তাই এমন নামকেই আমার এক্ষেত্রে ঠিক মনে হয়েছে।
 
তীর্থ: যেমনটা তুমি বললে, যে বিষয়ে তুমি বই লিখেছো সেটা অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত বিষয়। কখনও ভয় লাগেনি লেখার সময়?
 
দেবযানী: সত্যি বলতে ভয় ছিল। একটা ভয় ছিল যে যদি আমি ঠিকভাবে বিষয়টাকে উত্থাপন করতে না পারি তবে লেখা বেকার হয়ে যাবে। সবাই যাতে বুঝতে পারেন সেভাবে লেখাটাও চ্যালেঞ্জ ছিল। বহুবার লিখেছি একই জিনিষ। এছাড়া আইনি জটিলতা তুলে ধরার বিষয় ছিল। সর্বোপরি, প্রশাসনিক বিরোধিতার ভয় ছিল শুধু নয়, এখনও ভয় আছে।
 
তীর্থ: যতদূর আমি তোমার লেখা পড়েছি তাতে বুঝেছি যে তুমি বাংলা, হিন্দী, ও ইংরেজি এই তিন ভাষাতেই পারদর্শী। তাহলে, ইংরেজি বা হিন্দী ছেড়ে শুধু বাংলায় কেনো?
 
দেবযানী: হ্যাঁ তিনটে ভাষাতেই লিখতে পারলেও বাংলায় লিখি কারণ আমি যে ধরনের বিষয় নিয়ে লেখালেখি করি, বাংলা ভাষায় তা খুব কম চোখে পড়ে।
 
তীর্থ: একটা কথা বলো, তুমি কবে থেকে লেখা শুরু করলে বইটা? শীর্ষ আদালতের রায় বেরোনোর পর, নাকি তার আগে থেকেই?
 
দেবযানী: লেখার ইচ্ছে ছিল বহুদিন থেকে। তবে সুপ্রীম কোর্টের রায় ঘোষণার পর মনস্থির করি। কিন্তু কাজ শুরু করেছি ২০২০ এর এপ্রিল মাস থেকে।
 
তীর্থ: এই বিষয়ে কিভাবে গবেষণা করলে একটু বলো।
 
দেবযানী: এই বিষয়ে বাংলায় কোন তথ্য আমি পাই নি। করোনা মহামারীর সময়ে লেখা বলে সবটাই অনলাইন সোর্সের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। এখন আর্কাইভে অনেক কিছু পাওয়া যায়। পুরানো সংবাদপত্র থেকে অনেক তথ্য পেয়েছি। কিছু বইপত্র ছিল, কিছু কিনেছি। এক্ষেত্রে আমাজন কিন্ডেল খুব কাজে লেগেছে। আর সুপ্রীম কোর্টের সম্পূর্ণ রায় খুব ভাল করে পড়েছি একাধিকবার।
 
তীর্থ: “তোমার গবেষণায় ভ্রান্তি আছে” — যদি কেউ এই অভিযোগ করে, তাহলে তাকে কি উত্তর দেবে?
 
দেবযানী: আগে সে প্রমাণ করুক। তারপর আমি তথ্য তুলে ধরবো। সুপ্রীম কোর্টের বক্তব্য ভুল বলার জায়গা আছে কি?
 
তীর্থ: শ্রী রাম কে কি তুমি একজন শিক্ষিতা নারী হিসেবে “মর্যাদা পুরুষোত্তম” মনে করো?
 
দেবযানী: শ্রীরাম অবশ্যই “মর্যাদা পুরুষোত্তম”। এখানে আমার একটু আপত্তি আছে। আমার মনে করায় শ্রীরামের মাহাত্ম্য কমবেশি হয়ে যাবে না। তিনি শাশ্বত। নিজের ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য না দিয়ে রাজধর্ম পালন করে গেছেন। এই চরম ত্যাগের নিদর্শনকে অস্বীকার করি কি করে? নারী বলে আমার আলাদা কোন বক্তব্য কখনো নেই। আমি সমান অধিকারের পক্ষে। একজন মানুষ হিসেবে শ্রীরাম “মর্যাদা পুরুষোত্তম”।
 
তীর্থ: নারীবাদীদের একাংশ শ্রী রামকে ঘৃণা করেন। সীতার প্রসঙ্গ টেনে এনে ওনারা শ্রী রামের অপমান করেন। তোমার কি মত এই ব্যাপারে?
 
দেবযানী: নারীবাদ কি পাশ্চাত্য ধারণা? আমার আপত্তি ঠিক এখানেই। যে দেশে পঞ্চসতী পুজিতা, সেখানে নারীবাদের নতুন সংজ্ঞা চাই নাকি? ভিক্টোরিয়ান মরালিটি দিয়ে সব কিছুর বিচার করা কতখানি প্রাসঙ্গিক? আসলে এটা এত বড় একটা বিষয় যে এই ক্ষুদ্র পরিসরে ঠিক মত ব্যক্ত করা অসম্ভব। পরে বিশদে আলোচনা হবে।
 
তীর্থ: “বাবরি মসজিদ” — তুমি কি দৃষ্টিতে দেখো?
 
দেবযানী: আমি ওই অসম্পূর্ণ কাঠামোকে মসজিদ বলে মনে করি না। সুপ্রীম কোর্টের বক্তব্য সমর্থন করি। কারণ একদিনের জন্য এখানে হিন্দুরা পুজোর অধিকার ছেড়ে দেয় নি। অন্যদিকে মসজিদ শিয়া না সুন্নী, তাই নিয়েও মামলা হয়েছে। নামাজ পড়ার প্রমাণও পাওয়া যায় না বিশেষ। কাজেই কেউ মন্দির ভেঙ্গে দিলেই মন্দিরের চরিত্র বদলে যায় না।
 
তীর্থ: “রাম বহিরাগত (উত্তরপ্রদেশের)। বাঙালির সংস্কৃতিতে রাম নেই” — এমন দাবি করেন অনেকে। কি বলবে?
 
দেবযানী: রাম বহিরাগত মানে বঙ্গদেশের মানুষ নন। অর্থাৎ এখানকার ভূমিপুত্র নন, তাই তো! ব্রাহ্মণরা কোথাকার? বিক্ষিপ্ত, বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হয়েছে। মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে। এই দেশ বরাবর এক ছিল। বহিরাগতর ধারণা আসলে বিভেদ সৃষ্টিকারী।
 
তীর্থ: বামপন্থীরা তোমায় বরাবর আক্রমণ করেন। কি বলবে এই বিষয়ে?
 
দেবযানী: আমি ভীষণ উপভোগ করি বলতে পারো। কোথাও গিয়ে যেন মনে হয়, যাক আমি একদম সঠিক পথেই যাচ্ছি।
 
(হেসে ফেললেন দুজনেই)
 
তীর্থ: সাহিত্য, শিল্প, ও গণমাধ্যমের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বামপন্থীদের দখল। এক্ষেত্রে লেখালিখির জগতে তোমায় কোণঠাসা করে দেওয়ার চেষ্টা হলে কি করবে?
 
দেবযানী: সে তো করাই হয়। আমার লেখা কোন সংবাদপত্রে ছাপা হয় না। লেখা চলবে যতক্ষণ না সব ইতিহাস শুধরে নেওয়া যায়।
 
তীর্থ: সনাতনী সমাজের সাহিত্য, শিল্প, বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যমে এগিয়ে আসাটা কতটা জরুরী? এর জন্য তুমি কি করছো?
 
দেবযানী: ভীষণ জরুরী। লোককে বোঝাতে হবে যে এই দেশের টিকে থাকার আধার সনাতন ধর্ম। আমি লেখার সাথে সাথে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত আছি। কাজ করছি। একদিন নিশ্চয়ই আমরা জয়ী হব।
 
তীর্থ: নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে বাঙালি হিন্দুদের উদাসীনতা নিয়ে কি বলবে?
 
দেবযানী: এর কারণ একটা নয়, অনেক। তবে ফল হয়েছে ভয়ঙ্কর। আমরা এত পরানুকরণ প্রিয় যে নিজেদের বিশাল ঐতিহ্যের খনি চোখে পড়ে নি। ফলে কোথাও যেন সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। আসলে নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতি না জানলে, কুপমণ্ডুকতা, আত্মবিশ্বাসহীনতা আসবে।
 
তীর্থ: এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে আসি। দেবযানী রাজনৈতিক লেখিকা এতে দ্বিমত নেই। কিন্তু কোনদিন কি প্রত্যক্ষ রাজনীতি করবে? ভোটে দাঁড়াবে?
 
দেবযানী: আমি রাজনৈতিক লেখিকা, এটা বোধহয় ঠিক নয়। আমি কবিতা লেখার চেষ্টা করি। কিছু গল্প লেখার ইচ্ছা থাকলেও সময় নেই। আর প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে এক সময় ছিলাম। যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করে সংগঠন, অবশ্যই দেশহিতে যে কোন প্লাটফর্মে কাজ করতে আগ্রহী।
 
তীর্থ: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা RSS সম্পর্কে যে ভুল ধারণা আছে সে বিষয়ে তোমার পরবর্তী বই। একটু বলো।
 
দেবযানী: বইটা এখনও লেখা শেষ হয় নি। এখনি কিছু বলার সময় আসে নি।
 
তীর্থ: একটু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে বলছি। মাফ করো, কিন্তু তুমি স্বামী পরিত্যক্তা, একক মাতৃত্বের ভার তোমার ওপর। দুই সন্তান, তারাও বড় হচ্ছে। সবকিছু সামলিয়ে কিভাবে লেখালিখি করছো?
 
দেবযানী: আমি খুব আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে একা দুই ছেলেকে বড় করছি। এই নিয়ে আমার কোন দ্বিধা বা দ্বন্দ্ব নেই। গ্যাংগ্রিন হলে সেই অঙ্গ কেটে ফেলে না দিলে বাঁচা সম্ভব নয়। ছেলেরা সুস্থ পরিবেশে বড় হোক, মানুষ হোক এবং অতি অবশ্যই দেশ ও তার সংস্কৃতি ভালবেসে বড় হোক। অসুবিধা হয়। ওদের সময় দিতে পারি না। তবে প্রচুর ভাল সময় কাটাই। রান্না, ওদের পড়ানো সব করি। এবং দিনের শেষে যখন বড় ছেলে বলে যে ওরা খুব ভাল আছে, ব্যস, ওটাই তৃপ্তি।
 
তীর্থ: নিজের ব্যক্তিগত পরিবার ও রাজনৈতিক পরিবারের মধ্যে কোনটি বেশি প্রিয়?
 
দেবযানী: খুব কঠিন প্রশ্ন। দুটোর ক্ষেত্র আলাদা, দুটোই আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ, দুটোই খুব প্রিয়। দুটোকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ।
 
তীর্থ: পরিশেষে, আর প্রশ্ন করবো না। তুমি বর্তমান সময়ের নারীদের উদ্দেশ্যে কি বার্তা দিতে চাও সেটা প্রকাশ করো।
 
দেবযানী: নিজের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখা খুব দরকারী। নিজের বাবা মা সব থেকে আপন। তেমনি নিজের সংস্কৃতি। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, খোলা মনে আগে জানুক সবাই। না জেনে সমালোচনা করে বোকারা। প্রকৃত সত্য জানুন। আধুনিকতা আর সনাতন ধর্ম একে অপরের শত্রু নয়, বরঞ্চ পরম মিত্র। দরকার শুধু সঠিক জ্ঞানচর্চার। ততটা উদার কি আমরা নই?
Ram Janmbhoomi Book Cover- Debjani Halder
Ram Janmbhoomi Book Cover- Debjani Halder

January 2021: Poetry

Poetry is “the spontaneous overflow of powerful feelings: it takes its origin from emotion recollected in tranquility”, says one of the greatest English romantic poets, William Wordsworth. The Indian Rover cannot agree more than this definition of poetry. We believe in publishing new voices — voices which perhaps would lose their echoes unless we provide them a platform. Here are the selected poets & their mesmerizing verses:

Environment - E Shona Armstrong

Environment
Green sheet over the ozone
Like a lady dressed in green saree
What a beautiful greenery
Named as Environment
One cannot live without the green colour
Green Revolution has made a great Evolution
What a lovely morning one can see in green colour
Like a green blanket covers the ozone
The sky too covers in blue
But no blue in the mind of the admirer
Because the green in the surrounding soothes the mind and flushes the dirt from the heart of the
onlookers
I don’t know the rhythm or meter but I enjoy the Nature in it’s own colour
Environment is our precious gift from God Almighty
Try not to harm it but Cherish it like A Jewel
Natures beauty is counted as a bounty
Air,Water,Soil,Fire everything comes under Natures self
Everything has it’s own uniqueness
Love Nature Live one with the Environment
Environment and Nature never betray anyone
It has it’s own healing Nature
It heals itself and other living organisms

 

About E Shona Armstrong:

E Shona Armstrong is a Ph.D scholar at Holy Cross College (Autonomou), Nagercoil

A Cocktail - Artha Perla

Wandering in this seamless world,
timeless, vast
yet sinking in the quagmire –
I stray.
Chrysanthemum’s variety,
skyscraper’s charm –
savouring all at once.
Hit by sensuous street foods;
I starve.
Pungent onion, stinking rose and suffocating vinegar;
fracturing my skill to discern.
Senses abandoning me –
I’m left craving for more.
Wading through the dense dubious denizens;
rummaging across excess
human stench,
treating the eyes with art’s abundance –
men, women, stalls, malls –
memorials –
and adding flavour;
the graffiti.
Meandering in the body –
Almost sapless; reviving with elixirs 
the gushing spirit of life.
Munching one chips at a time,
in company of a bright
fizzy red wine spritzer 
I raise a toast

 

About Artha Perla:

Ms. Artha Perla is an alumnus of Mangalore University and has a Post Graduate Diploma in English Language Teaching from the Regional Institute of English, Bengaluru. Currently, she is a doctoral student and a guest faculty at the Department of English, Mangalore University, Karnataka. She writes art reviews in regional newspapers and magazines and also has a collection of poetry titled “Nanna Putta Tamma”, in the Kannada language to her credit. She has presented papers and rendered self-composed poetry in All India Radio, Mangalore, and also has the experience of participating at various symposiums. Many of her English language poems have seen publication in much-reputed print and online magazines. Few poems are part of a few multilingual poetry anthologies. As a Doordarshan graded classical Bharatanatyam dancer and student of Carnatic Classical music, she is doing her bit in contributing to art, literature, and culture.

Reminiscences - Aadil Zeffer

Reminiscences

Beside the Wular’s berge,
The willows stretch in a ceaseless line,
Which are inconceivable at a glance,
And dancing to the tunes of air.
The cattle graze in the meadows,
Where the green kingdom enwreathe,
And through the trees, mortal miss,
Through marshy and on the cotton bed.
The memories, the sightseeing,
Sleek, sublime and soulful, as said!
And upon such sights, we wake.
In my place, where often I lie
These flashes take my rapt attention
Sporting with nature’s treasure,
Which more often make friends,
With its ever increasing warmth
The passion of which is never dead,
And its beholding fragrance ceasing never.
In the vigor of joy and delight,
Firm must be the one, who saunters by my side
Enjoin and we move to the lake

The breath is lost, reminiscing of you
And from this strife, we move.

About Aadil Zeffer:

Aadil Zeffer is a Ph.D. Scholar in the department of english at Lovely Professional University. He has pursued CELTA from University of Cambridge, UK, CiF from CEBP, Paris France and CiS from ELE, Estepona, Spain.

Janaki’s Disgrace - Sutanuka Mondal

Janaki’s Disgrace

When Dharma couldn’t shelter her
The assertion of fidelity spurned
The warmth of the Earth did protect-
The princess of Janaka, wife of Ram.

When her chastity was challenged
Claimed to be blemished by Ravana
Although, he never violated her chaste
The womb of Earth did embrace.

Even though devoted she was
In her bosom, only Ram was planted.
And her soul never lose supremacy
Verse-maker Valmiki penned her sadness.

Ram honored, praised as bold and brave
Was incapable to cognize his own wife’s faith
His harsh words pierced Sita’s chest-
“There’s no bond for you in my heart,
You may go wherever you want”.

Her soft eyes burned with sorrows,
Milky skin flamed with uneasiness
She approached the blazing fire
Smitten by the false reproaches.

The whole world went off to fix
Four Vedas and Dharma wailed
Truth and honor couldn’t shield her
Fire scorched by her raging faithfulness.

A Lotus from the flood of water did come
Thus, her mother Earth attained
Relieved and defied her daughter
From the trial of disgrace.

 

About Sutanuka Mondal:

Sutanuka Mondal is from Durgapur, a city in West Bengal. Having finished her M.A. in English and Culture Studies, she is now pursuing B.ed from Institute of Education (P.G) for Women, Chandernagore. An avid reader, a budding writer and poet she also enjoys listening to music, her poem got featured in Afrobizgermany.

A Subtle Shade - Leema Dhar

Love is lavender.
It soothes the heart as a mother would breastfeed to soothe her baby’s hunger.
I inhaled her as if she was oxygen.
She wore printed florals and had the aura of summer.
I never looked at the stars.
Possibly because her eyes were a constellation.
With each ticking of the clock my breathing got heavier
But I did smell her, on the porch swing.
She wore a rosy fragrance-the sheer colour of delight.
Until the men made her cry in pain.
Ages passed.
They say the world has ended.
But why do I still stand here with rotten leaves and droopy stems?
They say they need more of me to survive.
But my heart is impotent. I can no longer bear offsprings.
But they won’t let me die.
They don’t feel my pain possibly because my blood is white.
And even in my dying hours I think of her.
I wish to offer her my last lavender.
They chopped her to pieces. And I saw a different meaning of red lying before me.
Her blood merged with mine and a subtle shade of the pinkish spring sky hovered over me.
Is it winter disguised as spring?
Who knows?
I only have ears. I was forbidden to speak.
I am a tree, they say. But are they human?
I drooled until I reached the soil.
And I offered her my soul.
This chopped-girl-in-red, she liked lavender
And eventually became one.

 

About Leema Dhar: 

Novelist/Bilingual Poet/Columnist/Motivational speaker Leema Dhar is currently pursuing her research in English Literature from the Department of English and MEL, Central University of Allahabad. She is currently working on her eighth book.  She has written seven books, including five novels in the arena of modern English literature (three national best sellers) and two anthologies of poetry in Hindi & English respectively. She was one of the keynote speakers in ABP national news channel live telecast on 29th December 2019.

The Crux - Rajesh Chowdhury

The Crux

They run in the temple.
They pray, they beg
With full of fruits and sweets
Unsatisfied souls they have.
They have no penurity although,
But want more and more,
Living in a civilised world,
Believing the give and take policy.

Some blind and some lame footed beings,
Looking like half man, untouchable,
With some old torn clothes
Beg outside, having no permission
To enter in that marvelled palace
For being from another world.

The appearance separates them
From the civilized creatures because
They teach their children day and night
“He prayeth best who loveth best.”

 

About Rajesh Chowdhury:

Rajesh Chowdhury is an academic writer and a bilingual poet, writes in Bengali and English. He was born in 1996 in Bankura, West Bengal. His poems have been published in several journals, anthologies and web magazines like Aulos: An Anthology of Poems, Caravan, Sangshaptak etc. His creative compass includes poetry, micro-story, essay. He has completed his post-graduation in English Literature in 2018 from Bankura University, West Bengal. India. Beside writing he likes to spend his leisure hours by painting and gardening. 

Salvation - Sourish Dey

Said the lonely mother,
Hey Buddha!
You are the ultimate supreme power,
The entire world is within you;
You are the creator.
Almost speechless today to express my dolor,
Because, my offspring no more.
The only resource in this entire existence,
That was my only ray of assurance.
Losing my part, my lovely child,
I’m utterly unaccompanied.
Hearing all these with calmness;
Buddha told her,
Death is inevitable in each essence.
But there is only one way,
This may remove your sorrow away;
Bring some grain from a home,
Where death has never come.
Realize the reality of the world,
Helpless mother started shedding tears with folded hand.
Buddha then said to the mother,

“Jara-Vyadhi-Marana” is in everywhere,
Bondage comes from the time of birth;
When ignorance (Avidya) refute by you own,
You will reach the path of salvation.

 

About Sourish Dey: 

Sourish Dey was born in Burdwan, West Bengal and attends high school there. He completed his Masters and M.Phil in Philosophy from Burdwan University. He qualified UGC-NET in 2013. He was former Guest Lecturer in Burdwan M.U.C. Women’s College and Syamsundar College. At present he is in Gushkara Mahavidyalaya as a State Aided College Teacher (Category I). Many of his Writings have been published in various Books and Journals. In 2020 his three writings publish in ISBN edited book.

Incarnation - Soumik Kumar De

Incarnation
I saw her
Wearing a snow white crown
Emerging out of the sapphire sea.
Her saffron saree
matched with the green blouse.
The more I approached to her
The more I got dazzled
The wheeled halo behind her
Fused, transfused and infused me.
I looked and looked
There was a grave whimpering all around.
Sounding Om.
She passed by me
I smelt her
All motherly it was
I stared at her steps
They left deeper impression
All red on the golden sand dunes.
Her footsteps echoed
Till I last saw her shadow
Holding the hands of her child
The old boy with bullet marks.

 

About Mr. Soumik Kumar De:

Mr. Soumik Kumar De is a teacher by profession and a poet by passion. He was born in 1977 in Bankura, West Bengal. An M.A. and M.Phil in English literature Mr. De has several bilingual poems to his credit. His first anthology Adrikake Niye was published in 2005. It was a collection of Bengali creative poems. His poems have been included in several journals, anthologies and web magazines like Aulos:An Anthology of Poems, Caravan, Sangshaptak, Borderless Journal etc. Besides he has several academic and non- academic writings. He is also a writer of short story and flash fiction. He has a penchant for travelling and so far covered almost all the states of India. Beside writing he likes to spend his leisure hours by painting and playing guitar.

An Anecdote Of Soldiers - Sonia Ghosh

An Anecdote Of Soldiers:
The memorable forty seven returned her as gold,
Since some shoulders far from their thresholds.
Homesickness, bidding scenes,
All are in them but not sleepy with bins.
Some unfolded letters, some remarkable snaps,
Always shower strength to fill Her gaps.
Snowy path, rainy night, scorching ray,
At first hostile, now more than crony.
When oneness comes, moments Peep,
Sudden call make them strict.
For the affectionate mother they spread their wings,
To save the Tiranga they can wear heavenly rings.
Some tears of agony, some tears of trust,
Some tears of joy, some tears of blast.
Torn limbs of friends left in the way,
Still emotional souls aim and walk away.
Weary eyes know no bound,
To give countrymen a peaceful ground.
Fear of losing love crushes them often,
But the butt glues their hearts without pain.
Many new brides,new mothers, innocent souls,
Have seen their heroes in colours for same goals.
The old mothers are the bravest warriors,
Who send them to protect and cure.
They redden the battlefield with own shade,
But never dye the Tri-colour as they bleed.

 

About Sonia Ghosh:

Sonia Ghosh is from Puinan, Hooghly in West Bengal. After finishing her M.A in English literature she is pursuing B.Ed from Beta College Of Education under University Of Burdwan. she enjoys reading poetry,story books and colours her imaginations through pen.

Why am I? - Siya Samant

One early morning, I thought where am I standing?
For a second or a more, I thought what is happening?
Then the thought was that, arise in my mind
Is this my life which I am here to find?
The past, the present and the future are the background
But life is a beautiful gift, which makes us spellbound
Then the thought was confusing, actually a question to me
That, what is this life? Why is this life?
Is it an exciting, interesting, a trusting or a gusting journey! Ahh
Or is it a difficult, typical, miracle or critical,
Or a journey which end, with happening and cheerful friend.

One early morning, I thought where am I standing?
For a second or a more, I thought what is happening?

About Siya Samant: 

Siya Parag Pooja Samant is a student reading in 9th grade. Her hobbies are writing articles and poems, dancing, travelling, listening to songs, acting and also she is a good speaker. Since 5 years she has been learning Kathak. Her mother tongue is Marathi, so many of her articles and poems are in Marathi language.

The Inversed Alter - Milan Mondal

The Inversed Alter

Serenity is the way to reach you.
Meditation in silence
Can be the only connector.
Incense gives the aura to be connected
Along with some specific mantras.

They don’t know mantras
They don’t have any serene corner,
Yet they can be united
And can lead to be united with you
Through their magical voices
With a one-stringed instrument.
The akhdas are the best altars for them
To meditate you
In your unique form of the moner manush 

1 Chanting of God
2 The gathering place of the bauls
3 The presiding deity of the bauls

About Mr. Milan Mondal:  

Mr. Milan Mondal, an Assistant professor in English of a general degree college at Narajole, West Bengal, India, takes pleasure in writing poetry. He has widely been published in national and international level. Though he is just in the threshold of crossing 26 years, he has already been able to get a place among the luminous stars of creative writings in Shimmer Spring (Ed. Kiriti Sengupta). Recently, his poems have been selected for publication from U. S. A.

रुग्ण समाज - आरती झा

रुग्ण समाज 

गुलदस्ते में भाँति भाँति के फूलों सा समाज हमारा
कभी बिखरा कभी एकजुट होता समाज हमारा
सुगंधित समरसता फैलाने की भावना हो मन में
मानवता से अनजान नहीं होता समाज हमारा

रंग रूप को गुण के ऊपर तरजीह देता समाज हमारा
धन दौलत को हुनर के ऊपर तरजीह देता समाज हमारा
गले घुले बीमार चिन्ताएँ सरेआम चौराहे पर शातिर होता
निर्दोष सज्जनता का दम घोंटे काला बनता समाज हमारा

अशांति को शांति समझने की भूल करता समाज हमारा
सवाल नहीं उठाने में माहिर होता चुप्पी साधे समाज हमारा
हर ओर कारावास सी दीवार बना खुद को ही हथकड़ी लगा
दीवार में महफूज़ समझ कौतूहल वाला बनता समाज हमारा

अचिन्हित आँखों से सबको भय से देखता समाज हमारा
हर आँखों में वेदना की व्यथा पढ़ मौन होता समाज हमारा
जिद्दी प्राचीर को तोड़ने आतुर कुछ होते हैं साहसी सशक्त हाथ
बढ़ने दें बदलाव की बयार को,क्या ऐसा सोचता समाज हमारा

 

आरती झा:

आरती झा दिल्ली की एक गृहिणी हैं। इन्होंने भूगोल में स्नातक तक की शिक्षा ग्रहण की है। आप पूर्व में एनसीसी कि कैडेट भी रह चुकी हैं। आप साहित्यिक रचनाएं पढ़ने लिखने, नृत्य, संस्कृति तथा खेल कूद में बैडमिंटन तथा कबड्डी में रुचि रखती हैं। आपकी रचना “मुश्किल दिन” प्रकाशित भी हो चुकी है।

 

 

काशी की कथा - प्रभंजन कुमार

काशी की कथा


शब्दों को पिरो मोती में नव नव छंद सुनाऊंगा
अस्फुटित स्वरों को सजा के गीत गुनगुनाऊँ

वन्दन से अभिनंदन तक सत सत शीश झुकाऊंगा
प्रकृति छटा की अनुपम झोली शब्दों में ले आऊँगा,
कल कल बहती गंगा धारा अनुपम दृश्य दिखाऊंगा ,
मंदिर की घंटी की टनटन सुन्दर तान बजाऊंगा।

शिक्षा की है राजधानी आओ यहाँ घुमाऊंगा,
प्राचीरों के अनुपम छटा को जीभर तुम्हे जिलाऊंगा,
फक्कड़ अल्हड़ मदमस्ती भाव जी जाऊंगा ,
देवी मंदिर में भी शिव की अमर घोष दुहराउंगा,

भांग सांढ़ सीढ़ी सन्यासी से भी भेंट कराऊंगा,
औघड़ की विस्मित करने वाले खेल को दिखाऊंगा,
मृत्यु भी सब यहीं पे चाहे अमर कथा कह जाऊँगा ,
बसी हुई है त्रिशूल पर जो नगर वही बतलाऊंगा,
काशी से हुआ बनारस ये रस भी चखाऊंगा
बम भोले महादेब का अमर ध्वनि गाऊंगा।

 

प्रभंजन कुमार: 

प्रभंजन कुमार एक हेल्थकेयर कंपनी में जनरल मैनेजर हैं। इन्होंने बिजनेस, मानव संसाधन, मनोविज्ञान में परास्नातक हैं। वर्तमान में ये मैथिली विषय से परास्नातक कर रहे हैं। आप सामाजिक विषयों पर मुखर हो कर लिखते हैं। सामाजिक कार्यों में भी आपकी विशेष रुचि है। आपकी रचनाएं कैसे हुआ ये प्यार सहित कई मैथिली गीत प्रकाशित हो चुकी है। मैया के आंगन में नामक मैथिली गीत भी आपने लिखा है जिसका एल्बम भी काफी प्रसिद्ध है।

चोर चोर मौसेरे भाई - बबली झा

देश के लिए क्या और क्यों सोचना,
चलो मिल के लूटते खसोटते हैं,
बेबस लाचार जनता को थोड़ा और रुलाते हैं,
थोड़ा तुम खाओ थोड़ा हम खाते हैं।

ना तुम बताना किसी को ना हम बताते हैं,
क्योंकि हम जिस थाली में खाते हैं उसी में छेद करते हैं,
हमारा रिश्ता बहुत ही प्रगाढ़ है,
क्योंकि हम चोर चोर मौसेरे भाई हैं।

किसान करे आत्महत्या तो हमें क्या?
बहन बेटी हो रही बेआबरू तो इससे क्या?
कोई गरीब भूखा सो रहा है तो सोने दो!
सर पे छत नहीं तो हम क्यों दे?

हम तो गरीब के पैसों से अपना महल बनाएंगे,
खूब रंगीनियों में अपना जीवन बिताएंगे,
गरीब होना श्राप है हमें तो है वरदान मिला,
दूसरों के जीवन से खिलवाड़ करने का हमें है अभिमान बड़ा,

गरीब, लाचार,बेबस की रोटी खुद ही हम खाएंगे,
और तुम्हे भी खिलाएंगे, ना तुम बोलो ना हम बोले,
क्योंकि हम दोनों चोर चोर मौसेरे भाई जो ठहरे।

ऐसी सड़क क्यों बनाये जो चले सालों तक,

चलो ऐसा करते हैं जिसमें भरपेट हम मिल के खाएं,
अपनी तो चाँदी ही चाँदी है,
जिधर देखो खाने का जुगाड़ है,
चलो मिल के दावत उड़ाते हैं,
कौन टोकेगा हमें सब यहाँ घूसखोर भरे,
क्योंकि हम और वो चोर चोर मौसेरे भाई जो ठहरे।

बबली झा:

बबली झा भारतीय साहित्य, संस्कृति एवं कला की प्रेमी हैं। इन्होंने स्नातक तक पढ़ाई की है। लेखन कार्य में इनकी विशेष रुचि है। इनकी कुछ प्रकाशित रचनाएं हैं: राधा – कृष्ण, स्त्री मनक व्यथा, अजीबोगरीब लोग यहां पर, एक चुटकी सिंदूर, एक कप चाय और तुम, खुशी, तेरी आंखें। साझा संकलन में इनकी एक किताब दिल कहता है भी प्रकाशित हो चुकी है।

सिया राम परिणय - सुरभि कश्यप

सिया राम परिणय
श्याम सलोना रूप लिए आएं श्री राम
उनकी कीर्ति से ना है कोई अनजान
मिथिला नरेश की सुकुमार थी धिया
सिया राम का मिलन हुआ था मिथिला धाम

त्रिभुवन के स्वामी पहुंचे जनक जी के द्वार
पुष्प वाटिका में जुड़ गए दोनों के मन के तार
सीता जी ने भी रघुवर को स्वीकार लिया मन से
परीक्षा की घड़ी में सभा कर रही थी ये विचार

शिव धनुष की प्रतयंचा तो दूर, हिलाने में भी सब असमर्थ
एक से एक शूरवीर का दंभ भरने वाले ना पूर्ण कर पाए शर्त
फिर जगतनंदिनी सीता जी ने कुलदेवी की मन से लगाई गुहार
रघुवर गुरू आज्ञा लेे प्रत्यंचा चढ़ा पूर्ण किए सब राज व्यवहार

आंनद पसर गया चहुंओर जनक जी हुवे भावविभोर
अद्भुत जोड़ी थी सियाराम की ,निरखते प्रियजन
मंगलगान स्वागत सत्कार से दशरथ जी थे मगन
आशीष और फूल बरसा रहे थे मिथिलावासी तथा देवगण

धन्य हुई आज मिथिला की भूमि ऐसी घडी है अाई
मुदुलभाषी कमलनयन जो थे स्वयं विष्णु भगवान
आज धन्य हो गई ये भूमि युगों युगों तक रहेगा नाम
धन्य हुए वो पावन धरती लक्ष्मी स्वरूपा कुलवधु बढ़ाए मान

आदर्श पति थे श्री राम ,एक पत्नी का वचन दिया रखा मान
अवनी सी सहनशक्ति लेे अाई थी सीते पति में बसे उनके प्राण
लगन हुआ वो शुभ दिन, विवाह पंचमी की मधुर बेला अाई
साक्षी बने मिथिला अवध “सुरभि” प्रकाशपुंज चहुंओर छाई

 

सुरभि कश्यप:

सुरभि कश्यप कम्प्यूटर शिक्षिका तथा ऑनलाइन ट्यूटर हैं। इन्होंने एमसीए की डिग्री प्राप्त की है। लेखन कार्य के साथ पूर्व में आप खेल कूद की अग्रणी भागीदार थीं। कई खेल कूद प्रतियोगिता में आपने अव्वल स्थान प्राप्त किया है। आपकी साझा संकलन दिल कहता है तथा रश्मि अनंत प्रकाशित हो चुकी है। इसके अलावा निम्न रचनाएं भी प्रकाशित हुई है: दोस्ती, भीम राव अंबेडकर, जानकी, अजनबी, समझ, मानसिक रोगी, करवा चौथ, गुरु की महिमा, इत्यादि।

स्वतंत्र - किरण शर्मा

स्वतंत्र

हां मैं स्वतंत्र भारत की स्वतंत्र नारी हूँ।
स्वतंत्र हूँ अपने विचारों से,
अपने फैसले से,
क्यूं कि मुझे यकीन है अपने आप पे!!
जब मैं खुद सही हूँ ,
तो लोगों की बातें क्यूं सुनूं?
मुझे नफरत है उनलोगों से,
जो मूंह पे कुछ और,
पिछे कुछ और बोलते हैं!!
हां इतना हिम्मत जरुर रखतीं हूँ कि,
सामने तो बोलती हूँ,
और सही बोलती हूँ,
अंज़ाम की परवाह नहीं करती हुँ,
क्यों की मैं स्वतंत्र हूँ अपने मन से!!
मुझे नफरत है उनलोगों से जो,
अभी भी औरतों को,
घर की सामान समझते है,
अरे वो भी इंसान है,
उसका भी एक आजाद मन है,
फिर नाड़ी ,पुरुष में भेद भाव कैसा ?
देश तो स्वतंत्र हो गया,
लेकिन लोगों की सोच नहीं,
देखने का नजरिया बदलिए,
सोच खुद ब खुद बदल जाएगा!
एक स्वतंत्र भारत का,
स्वतंत्र समाज होगा !!

किरण शर्मा:

किरण शर्मा एक सामाजिक कार्यकर्ता हैं। इन्होंने स्नातक तक की शिक्षा ग्रहण की है। लेखन कार्य के साथ नृत्य तथा गायन में भी विशेष रुचि रखती हैं। इनकी दो गीत लोग क्या कहेंगे तथा कभी किसी को हरजहां की खुशी नहीं मिलती रिलीज हो चुकी है।

बहुत डरी हूँ मैं - ज्योत्सना झा

बहुत ही डरी हूं मैं,

अनजाने अनहोनी से सहमी हूं मैं,

कल क्या होगा किसे पता?

पर आज के लिए चिंतित हूं मैं।

मैं जब भी कुछ करना चाहती हूं,

हजारों रुकावटें रास्ते में आ जाते है,

एक मुश्किलें खत्म नहीं,

दूजा दरवाजे पर दस्तक दे जाती है,

मंजिल के करीब आकर ,

फिर मंजिल से दूर हो जाती हूं,

थोड़ी सी निफिकर होती हूं,

फिर नई चुनौती आ जाती है,

मां की नजरों में हुं हिम्मती -साहसी

पर मैं डर जाती हूं।

पता नहीं मैंने क्या गलती की है,

राहों में इतने रोड़े आ जाते हैं,

कितना भी बच के चलूं मैं,

मेरे पैरों में कांटे चुभ ही जाते हैं।

हर रोज सोती हूं भगवन से यही प्रार्थना करके,

दिन का उजाला जीवन में सबकी खुशियां लाए,

कोई भी दुख विपत्ति किसी को नहीं सताए ,

पर सुख-दुख तो है भाई भाई,

दुख के बिना सुख की अनुभूति कैसे आए।

 

ज्योत्सना झा:

ज्योत्सना झा हिंदी से परास्नातक हैं। सामाजिक कार्यों तथा ऐतिहासिक धरोहरों में इनकी विशेष रुचि है। समझती हूं अपना अधिकार इनकी एक प्रकाशित रचना है।

 

রূপকথা - স্বর্ণেন্দু গুহরায়

বুরুমান্ডি ঝাড়খন্ডি সেখানেই আদি বাস
সমতলে এল আজ হয়েগেল দু বছর চারমাস।
ছিল দুটো মোষ একটা বাছুর আর ছিল দুটো গরু
একাকী থাকতো পোষ্য নিয়ে মেঠোপথ ছিল সরু।
ঘরের পেছনে বাঁশবন ছিল আর ছিল বটগাছ
সকাল বেলায় মোষ চড়াতো দুপুরে ধরতো মাছ।
পড়লে বেলা বটের ছায়ায় ফুটিয়ে নিত ভাত
সন্ধ্যা হলে রামের গানে নামতো ধীরে রাত।
অলস হাতে বিছিয়ে চাটাই চোখে জড়াতো ঘুম
থমথমে রাত বাঁশের হাওয়ায় হয়ে যেত নিঃঝুম।
বুরুমান্ডির কল্পকথা এভাবেই হল লেখা
রাঙামাটিপথ যেথা ছায়াময় সেখানেই পাবে দেখা।

 

কবি পরিচিতি: স্বর্ণেন্দু গুহরায় নবদ্বীপের একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচক। উনি বিভিন্ন প্রকারের গ্রন্থ পাঠ করতে ভালোবাসেন।

সন্ধান নাকি লীলা? - অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায়

সন্ধান নাকি লীলা ?

অষ্টবক্র গল্প বলেছিল একবার 
সেই ডাকাতের ছেলে
বনের হাওয়া র সুরে বাঁশিতে তুলেছিল
রাগ রাগিণীর উল্লাস ;

কে জানে তা সত্যি কিনা !
আমি কি অত কিছু বুঝি ?
সাত সুরের অগুন্তি শ্রুতির চাদর
সে বলেছিল ।
অনুরাগে আর রাগে
পণ্ডিত ওস্তাদ গায় ।

সেই সুর মুলে এসে
ডাল পালা মেলে আকাশ ছুঁতে চায়;
ধীরে বা গতিতে খুঁজে পায় :
মানিকের আলোর
এক একটা ঝিলিক

একসময়;
হঠাৎ সে ঝাঁপ দিতে চায়
অজানা অমৃত সমুদ্রে
অশ্রুর একটি ফোঁটায়
মরণের সিঁড়ি পার করে আবার জন্ম নেয় ।

নতুন করে পাবে বলে
হাতে বাঁশি তুলে নেয় ,
সুরের লহমা ছড়িয়ে
নিজেকেই ভুলে যায়

সুফিতে বাউল এ আবার ঠিকানা খোঁজে …

 

কবি পরিচিতি: অর্ঘ্য চট্টোপাধ্যায় একজন কবি, সাহিত্যিক, ও সঙ্গীতজ্ঞ। ভারতের প্রাচীন সভ্যতার প্রতি আগ্রহী।

অন‍্য মানুষ - অম্বরীষ চক্রবর্তী

Ambarish

সে এক অন্য মানুষ বটে ।
একলা কেমন আবছায়াতে
আনমনে পথ হাঁটে ।।
হাঁটতে হাঁটতে থামে ।
আবার হাঁটে আবার হাঁটে
পথ ভিজে যায় ঘামে ।।
এ পথ তার একার ।
কেউ  কোথাও নেই কোথাও
কেউ নেই তার ডাকার ।।
পথের শেষে বন ।
গহীন ধূসর  সর্বগ্রাসী 
জানি বিলক্ষণ ।।
ওখানেতেই শেষ ।
ধূসর কালো গিলবে তাকে
গিলবে অবশেষ ।।
আর কোন নেই পথ এটাই আছে মোটে ।
আনমনে সে একলা মানুষ
একলা হাঁটে বটে ।।

 

কবি পরিচিতি: অম্বরীষ চক্রবর্তী পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি অঙ্ক ও আইনে উভয়েই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করিয়াছেন। তিনি ভারতীয় স‍াহিত‍্যের দারুন অনুরাগী। তিনি কবিতা লিখতে ভালবাসেন।ছোট কবিতা যা জীবনের কথা বলে জীবনকে চেনাতে শেখায় এমন কবিতা লিখতে ও পড়তে তিনি দারুন আগ্রহী।

গলি পথে - পবিত্র পাল

আজ মনের অলিন্দে রঙিন  প্রজাপতির মতো 
প্রেমেরা ছুটে চলে উড়ন্ত ফানুসে।
অবিরাম হাঁকে নুইয়ে পরা ইতিহাসে,
মায়াবী রাতে প্রহর কাটে অজানা দেশে।
 
শরতের সকালে ভরে ওঠে শিউলির সৌরভ,
কলমি ফুলে ঢাকা আলি পথে 
বাউলের কণ্ঠে বেজে ওঠে প্রেমের সঙ্গীত।
পাখিদের কাকলির সুরে জেগে ওঠে ঘুমন্ত শহর।
 
মনের মাধুরী নিয়ে 
নতুন পথে এগিয়ে চলে তরুণ তরুণী।
চিন্তার গহ্বরে 
তীব্র কোলাহলে 
জেগে ওঠে অমানবিক রাজনীতি 
আসমুদ্র হিমাচলে।
 
আর ভাঙা নয় —
গড়ে যাও
বাবুই পাখির মতো নব ইন্দ্র প্রস্থ ।
 
জেগে উঠুক আত্মারা —
একদিন যারা নিহত হয়েছিল,
দুর্গম অন্ধকার গলি পথে।
 
হে মহাকাল জাগরিত করো,
শত সহস্র ঘুমন্ত জনতাকে।
আবার কোলাহলে ওরা জেগে উঠুক
আধুনিক নগর সভ্যতার গলি পথে।
 
কবি পরিচিতি: পবিত্র পাল একজন সমাজসেবক ও কবি। উনি সামাজিক বিষয়ে কবিতা লেখেন।

সেই লোকটা না খুবই সাধারণ - শুভজিৎ দাস

লোকটা না একটু সাধারণ ,
  না না খুবই সাধারণ,
  কী আর করে সকালবেলা থেকে 
  কোনোরকমে খবরের কাগজের খুন, জখম, ধর্ষণ,   
 চুরি, ডাকাতি, জমি দখল ইত্যাদি ইত্যাদি দেখেন 
  মনের তাকে এই নিয়ে সামান্য ভীতি জমিয়ে রেখে
 এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে…. এই দেশের কিচ্ছু হবে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ,
ছুটে চলেন বাজারে প্রত্যহের উঠতি চড়া দামের সাথে কিছুটা আপোস করেন ,
‘ও দাদা ওটা আরেকটু কম করুন না ‘ 
‘ ও মাসি কলমি দু-টাকা কম নাও না’
‘ উরিবাবা এর এত দাম বেড়ে গেছে’ বলে 
বিনা রঙ্গমঞ্চে সামান্য অভিনয়ও ভাঁড়িয়ে নেন
ওই দু-চার পয়সা বাঁচানোর উদ্দেশ্যে ।
বাজার সেরে বাজারের চড়া দামের দোহাই দিতে দিতে গিন্নির গজগজানি আর চা খেয়ে 
কোনোরকমে নমঃ নমঃ করে স্নান সেরে 
নাকে-মুখে খাবার বা তথাকথিত টিফিন খেয়ে 
ছুটে চলেন ,
এই সাধারন জীবনের উদ্দেশ্য সফলের জন্য   সাদা- মাটা দশটা – পাঁচটার সাধারন চাকরিতে,
যেই চাকরির উপর গড়ে উঠেছে এক সুখী সংসার ,
যার উপর গড়ে উঠেছে অজস্র স্বপ্ন, 
শখ- আল্লাদ, প্রয়োজন, বেঁচে থাকার অধিকার।
 
এই অজস্র উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এবং 
সহস্র চিন্তা মা- বাবার স্বাস্থ্য থেকে বাড়ির লোন থেকে ছেলের পড়াশুনা বয়ে নিয়ে ছুটে চলেছেন 
নিজের আরও উপার্জনের উদ্দেশ্য , 
তাই শুধু তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছেন 
ট্রেনে- বাসের ভিড়, শহরের ধোঁয়া-ধুলো, 
ঘামের বটকা গন্ধ, বাসের ওঠার লাইনের গাদাগাদি , ইত্যাদি নানা অসহ্যতা।
তবুও তিনি রাস্তার মন্দিরে নিজের পরিবারের শুভকামনা করেন ,
করেন তাড়াতাড়ি অফিসে কাউকে পিছনে ফেলে 
প্রোমোশন যেন আগে-ভাগে পেয়ে যাই।
সহ্য করেন
 অফিসের চাপ, সামান্য দেরীতে বসের দাবড়ানি ,
মাইনে কাটার হুমকি, 
সহস্র চিন্তার জালে জড়িয়ে সামান্য ভুলে  সিনিয়রের চোখ-রাঙানি।
অফিস শেষের ভারাক্রান্ত শরীরে ধরেন একটা বাড়ি ফেরার গন্তব্যগামী ভিড় বাস ,
যা তিনি প্রত্যহে ধরেন এবং প্রত্যহে আশা করেন 
বাসটা একটু খালি হলে ভালো হয় একটু বসার জায়গা থাকলে ভালো হয়,
কিন্তু নিয়তির অদ্ভুত চক্রান্তে ভিড় বাসই পান
 সেটাতে তিনি যান ,
বিপজ্জনক ভাবে যান,
তিনি জানেন হয়তো এইভাবে যেতে একদিন পড়ে 
গিয়ে তার মৃত্যুও ঘটতে পারে ,
 তার দমবন্ধও হয়ে যেতে পারে, 
তার পরিবারকে পথে বসতে হতে পারে,
হয়তো এটাই সাধারণ জীবনের লক্ষন 
শুধু কিছু টাকা সাশ্রয়ের উদ্দেশ্য 
প্রত্যহ এই ঝুঁকি নিয়ে চলেছেন। 
এটাও তিনি জানেন,
তাঁর মৃত্যুর জন্য থমকাবে না পৃথিবী,
মানুষ অসাড়ে তাকে ভুলে যাবে  
কারন তিনি একজন সাধারণ মানুষ 
তিনি তাঁর পরিবারের কাছে পৃথিবী হলেও,
সরকারের হিসেবে তিনি শুধুমাত্র একটি সংখ্যামাএ।
 
তবুও সবই জেনে
 তিনি চলেছেন সাধারন জীবনের
বেঁচে থাকার অদম্য লড়াই লড়ে।
আবারও প্রত্যহ উঠবে গড়ে 
শহরের অজস্র ঘরে 
সাধারণত্বের এই দৈনিক রুটিনের পাতা ।।
 
কবি পরিচিতি: শুভজিৎ দাস হুগলি ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা করেছেন। উনি গান শুনতে, লিখতে, ও পড়তে ভালোবাসেন।

জিজ্ঞাসা - সবিতা পাল

অসমাপ্ত চুম্বনের আবেশ ভরিয়ে রেখেছে বহু ক্ষন।
রিক্ত ডালের কোকিলের ডাকে উদাস হয়েছে বেহায়া মন।
সুখের খোঁজে মরেছি খুঁজে ওলি গলি কত শত; 
বেপরোয়া দিনের অঙ্ক কষে বহু বসন্ত হল গত। 
মায়াবী রাতের মায়াভরা কত উষ্ণ হাতছানি ।
কাজলের লুকানো চাপা কান্না সেদিন সহজে থামেনি। 
একদিন ঘন বরষার দিনে দেখেছি কাক ভেজা শিশু।
রিলিফের লাইনে দেখেছি দাঁড়িয়ে অভুক্ত পিছু পিছু।
দেখেছি একদিন অনভিপ্রেত মরিয়া কৃষকের সংগ্রাম;
অস্তিত্বের লড়াইয়ে কত জন পেল মাওবাদী ডাক নাম ।
 কতজন গেল গলা ফাটিয়ে, সে চিৎকার কি গেল কানে ?
তোমরা তখন মজলে সবাই  মজলিসী কত গানে।
প্রেম পাবে বলে ধর্ণায় দেখি  বসে আজ লোক জন; 
জানিনা এভাবে কী পাওয়া যায় কারো মন ? 
শুধু নিজে ভালো থাকবে বলে গুছিয়ে নিলে আখের খানা। 
ভেবেছ কখনো যাবে কোথায় , দিলে মহা বিপর্যয় হানা ? 
তোমার হাতে জানিনা কত আছে গুপ্তধন ।
মেলাতে পারবে কী, যদি হিসাব চায় প্রতি জন !
আমিতো আছি প্রেমিক মানুষ  প্রেমের ঘোরে মজে;
পারবে তো দিতে জবাব , যদি উত্তর সবাই খোঁজে ?
 
কবি পরিচিতি: সবিতা পাল বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স করেছেন। ওনার লেখা ইতি মধ্যেই একাধিক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

গর্জে ওঠো - সৌরত্য ঘোষ

এখন কি ভোর না মাঝরাত?

ঘড়িটাও বন্ধ হয়েছে বহুক্ষণ
পাগলের কথা শেষ হয়না তবু,
অন্ধ এখনো খুঁজছে আলোর সন্ধিক্ষণ |
 
না না এখন বোধহয় গোধূলি
আকাশটাও কেমন লালচে দেখায় আজকে
লাল চোখটা খুলবে না আর কোনোদিন,
উপেক্ষা নয় ঘৃণা করো এই কাজকে |
 
জিভটাও নাকি কাটা গেছে কুঠারাঘাতে
চিৎকারটাও মিশে গেছে নীরবতায়
অন্ধ তুমি কবে আর দেখবে আলো?
পরিবর্তনটা কবে আর হবে মানসিকতায়?
 
রামরাজ্যে বানর সেনা তুমি
তোমার নাকি অগাধ ভরসা বিচারে
কবির কলম গর্জে উঠবে আবার,
বদল যদি আনতে না পারো আচারে |
 
কবি পরিচিতি: সৌরত্য ঘোষ বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। উনি কবিতার প্রতি বিশেষ আগ্রহী। ওনার লেখা একটি পুস্তক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে।

January 2021: Fiction

Is fiction really fiction? Or is it those powerful imaginations which the world fails to accept? The Indian Rover asks you this question.

The Unanswered Question - Leo Lawrance James

They both, from a long time were waiting to sit together somewhere and talk. Talk to each other, sort out many things, express their emotions and get relieved. Clara and John were friends from a long time. They knew each other more intensely. They were everything else, but not lovers. John liked her and loved her too. But as she was in another relationship, she couldn’t accept John’s love. His sincere and devoted love had to be denied by her, but he never left his hope too. He hoped that someday, she would accept him. John though he had few girls who had approached him for starting a relationship, could never accept them, he could never like them nor could he love them because, it was on Clara whom he was determined into. Being with her, his eyes soothed, his mind settled and his heart comforted. Each time he saw her, he fell in love with her over and over again. They were far more than friends, holding each other’s hands while walking, exchanging with each other the food they were having, drinking a juice with the same straw.

A couple of days ago, Clara had to conclude the relationship she was in. She quit it because she was unable to tolerate her lover’s arrogance and possessiveness.
Since the breakup, Clara had been looking for an ideal time and space to discuss these concerns with John. Before when they used to be together, she would always talk to him about her worries in her relationship, but now she decided to inform him that she was free from all those complications.

Today was a fine day. They had finished their classes early and planned to meet near the chapel in their campus. Both, after their classes walked towards the chapel, reached the spot and found themselves comfortable to sit on a cement bench under a tree. It was around four p.m. in the evening, the scorching heat of the sun had lessened and it was sort of cool. They both sat there and were caressed by the mild, cool evening breeze. Clara untied her hair by removing the hairclip, groomed herself and retied it back. “After a long time, we are sitting together”, said John.

“Yeah” replied Clara with a smile.
John: Are you hungry?
Clara: No, No I feel, I had my lunch a little late today, just two hours ago, and I’m not hungry
yet, but I’m thirsty, do you have some water.

John pulled the bottle from his bag and passed it to her.

John: You were not to be seen online yesterday, on WhatsApp. What happened? Evening, you spoke casually when I had called you to inquire about the assignments, but then we didn’t
have the usual chat at night, and I didn’t even have your ‘good night’. What’s the matter?
Clara: Ahh. No. Nothing, I slept early. No, my phone was out of charge!
John being very sensitive, knew Clara very well. Even the slightest lies that she said could be noticed by him. John held Clara ‘s hand gently and pinched her on it slightly. She stayed silent and was concentrated on a child that was walking into the chapel.
John: Dear!
Clara: Mm
John: My dear! Tell me, what happened?
John held her hand firmer and moved close to her.
Clara: We broke up!
John: What? Who?
Clara sighed.
Clara: We broke up. me and Nitin broke up. Have I not said you about him?
John: Hmm. Oh, Hmm. Yeah you have. I do know him, through you.
Clara: mmm. Everything is over. I’m free now.
John: But what happened. Why did you break up?
Clara: I don’t know John, we were very close to each other and I loved him so much. Though he was in Trivandrum, distance was not a problem amongst us. I used to call him daily, text him so often and cared him a lot. He was the love of my life and me too, his.
John interrupted in between and asked, “then why did you break up”. Clara continued: There was something conflicting between us, even though we were lovers and loved each other, there was some form of friction in the flow of our love life. He always got frustrated over trivial matters and the relationship didn’t go smoothly in many aspects.

On hearing this, John grew upset, and sighed.


Clara: I too am a reason for this separation. I was not satisfied with the way he loved me; I would always lament over tiny problems and get disappointed. So, the day before yesterday, for some reason, we had a fight. I called him later and tried to resolve the issue. But he was like, looking for a reason to end this relationship, and he easily said, “Let’s end this now itself”. And he also said that four years of his committed life with me was a disaster. More grief-stricken and desperate were all his days with me, he said. He was waiting for a reason to dump me, and saying this, in anger Clara punched on the cement chair they sat.
John moved close to her and put his arms over her shoulder calming her.
Clara felt empty and was going to burst into tears at any moment, but she wasn’t crying.
John: Cool Clara. Everything will be alright.
He didn’t know what to tell her, how to console her and therefore remained confused and dumb.
Clara: Yes, everything is fine now, I am alright. I slept to the fullest on these two days and managing to forget everything and I’m now recovering. Erasing the memories which we create, is a very stressful task.
She put her hand over his neck and came close to him. With tears dripping from her eyes, she smiled at him. He got confused of whether those tears were of happiness or sadness, but then understood that it was a blend of both. He also smiled at her and was confused on seeing her blended expression. He too moved close to her and she could feel his breath on her face.
For some time, they sat in silence, both looking at the pigeons that nested on the roof of the chapel.
“I have something for you”, saying this John broke the silence, took his bag and took out
three toffees from it. Clara was extremely excited and cheerful seeing them.
Clara: hey! Hurray! Choki
It was her favorite toffee. She grabbed it up from him, placed one in her mouth and began to chew.
John: Toffee addict. Don’t eat it alone, pass me one.

Clara: No, I won’t. Saying this she laughed aloud.
John chuckled as he saw her childlike behavior, and then they both laughed. John came close to her again and their arms touched each other’s.
John: I wanted to ask you something Clara.
Clara: Yep ask.
Clara, chewing the toffee was looking at a sweeper sweeping the chapel. John was in a state of uncertainty on whether or not to question her. But she always gave him the freedom to talk
about anything and everything. Bearing this in mind John chose to ask.
Clara: Hey idiot ask, what were you up to. What’s the matter? Will you please ask.
John blushed.
John: Clara, you once told me that you liked me, and you also told me that you would consider my proposal if you were not in another relationship. Now that, you’ve broken up and you’re single and lonely, can’t you now think of having me as you. may not be lover at first, but anything closer to it, can’t you consider my suggestion at least? I’m not asking you to turn yourself on to me now and start loving me. But!
Clara: Hmm!
She said nothing else but remained silent, keenly looking at the chapel and the sweeper sweeping and left John’s question unanswered.

About Leo Lawrance James: 

Leo Lawrance James has pursued Masters in English Literature. Currently, he is into writing short fictions and poems and making short films. He is also interested in travelling. His areas of interest in literature are fantasy, mystery, and thrillers. He publishes his writings on his personal blogs and he is the author of a collection of short stories titled, Anthology of Popular Stories and Poems.

Tale of a Crisis - Shaon Mal

That was really a flickering fire encroaching India. After Aurangzeb’s death in the year 1707 Whole country had become furious. That fire could never be diminished. After that when Nadir Shah pierced his dagger in the heart of Delhi. Mughal Empire started panting from then only. It was almost finished then. In the southern region the two vast lands Karnat and Southern tip got their thrones occupied with hereditary ownership. Bangladesh was also not an exception of the same rule. It literally meant if you have the power land is yours. Everyone started sharpening their weapon. All waited eagerly to loot and prosper. Even people were afraid of loosing their beautiful females from their homes.

Nawab Sirajudallah whose birth was in the year of 1730 had just crossed 26 autumns on earth then. All powerful East India Company’s officials were supposed to be vexed in fear to utter his name. He had driven out all English people from Alinagar (now kolkata) and treated all renowned traders of that time furiously. But even after that he could not reign in peace. For another naughty English boy namely Robert Clive who was born in 1725, five years prior to him just sailed down at Madras and threatened him of war.

It was that time when Nawab being mentally disturbed wanted some peace of mind. His grandma offered him a new Begum. That desired night Nawab approached his Khas Mahal. He had attachment with his Lutfullnissa Begum for many years. But he was rude enough to forget all memories. Lutfullnissa sighed and shared his grief while she made the new Begum attired for that night. The new Begum was very introvert. She did not find it easy to speak her mind with Lutfullnissa. Gradually Lutfullnissa disornamented herself and put on all sparkling ornaments upon the New Begum. When she finished, she gave a friendly kiss on new begum’s forehead and asked her name.

She stammered and tears meant no bound for her eyes. She remembered it was her family dinner time when her husband was some chitchat with Nawab’s peyada. She served him dinner and as a habit worshipped Lord Shiva before going to sleep. She could not remember the exact time. Probably it was midnight. Two strong men broke out in her room and lifted her up from beside her husband who was then busy counting mohor with a chuckled face. And here she is today. Lutfulnissa only spelled one word “Allah”. 

She advised her to say her heart out to Mirja. She consoled her that Nawab is a very kind hearted person. If she can please him. He will make her a separate Mahal with maids and all luxuries. Suddenly in between their conversation, one of his maid came to announce Nawab’s arrival.

New begum became stoic, undecided for a moment. With a wink of an eye she broke the glass bottle of atar ( perfume) and pierced in her stomach. A sheer fear choked Lutfulnissa. Nawab could not resist himself. He became very morosed and an instant heal to his wound were immediately arranged from a nearby village.

The New Begum.

About Shaon Mal: 

Shaon Mal is a postgraduate in comparative literature from Jadavpur University. Previously, she pursued English Honours (Graduation) from Calcutta University. She is a language teacher & her areas of interest are reading and writing.

January 2021: Non-fiction

“It is easy in the world to live after the world’s opinion; it is easy in solitude to live after our own; but the great man is he who in the midst of the crowd keeps with perfect sweetness the independence of solitude.”

— Ralph Waldo Emerson

Ruchir Kumar Kaul: The man who stood between Bhadrakashi and its conversion into Kashmir

Nitya Vijay Rajpurohit

Indian history is full of brave, courageous and valiant men who took an initiative which touched the lives of the masses for decades. Be it Shivaji Maharaj, Maharana Pratap, Raja Dahir, Shaheed Bhagat Singh, other brave warriors and millions of our rock ribbed soldiers on the frontiers, each one of them is the reason for the perseverance of our Sanskriti to this day.

There was a radical Islamic pandemonium in Kashmir back in the 90’s and everything which was in discord with Islam was being attacked in the valley. This mayhem had chased the aboriginal Kashmiri Pandit community out of the valley. There were promulgations like “Ralive, Tsalive ya Galive”, “Asi gachi paanai Pakistan, Battan rostai Batneiv saan”, etc. For those who can’t comprehend the Kashmiri language, the first one means, “Either become a Muslim, or flee Kashmir, or perish” and the other one, “We are going to be Pakistan, without the Pandit men and surely with their women”. Seeing the positive entropy change in the state, radical Islamic elements of the Chandrabhaga region of the peaceful Jammu region decide to commit themselves to the similar cause. Terrorist groups hastened their radicalization and recruitments in the region because the thick canopy cover and nasty terrain was tailor made for guerrilla warfare. Soon the whole region was ablaze. The nationalist people were being attacked and villages were being set on fire by the terrorists. These people tried to destabilize Bhadarwah for they were au fait with the fiercely nationalist Bhadarwahis and the fact that once Bhadarwah was axed, the way forward was going to be a cakewalk.

But little did they know about the indefatigable spirit of the masses, who chose to resist instead of giving in. There were many men who stood up against this new enemy; all revered equally even to this day. But there was one person in particular, who was a class apart. His name, ladies and gentlemen, was Shri Ruchir Kumar Koul. He created a force out of the nobodies of the valley, such were his leadership qualities. He organised the farmers, shopkeepers and other villagers of the countryside into a militia, who fought the automatic and semi automatics and grenades of the Pakistan sponsored marauders with their indigenous made guns, double barrels and ‘Kattas’. In the town, parallel to the villagers, the nationalist town dwellers became the eyes and ears and noses of the security forces. He galvanized both the men and the women alike, to resist and not give in. He once had called a strike for 41 days in Bhadarwah, with which all the nationalist people complied, to awaken the government which was too ignorant to discern the state of affairs in Bhadarwah. His reverence in the masses is unmatched, even to this day. The intelligence inputs to the security forces started bearing fruits, imparting lethal thwacks to the terrorism syndicate with its roots on the other side of the border. The brigands could not withstand the nationalistic fervour of the masses, and were clearly on the receiving end. Countless encounters, CT ops and the cooperative Bhadarwahis working shoulder to shoulder with the army saw the fading of the umbra of terrorism in the Bhadarwah valley.

 Eleven attempts were made by the curs and corsairs, to eliminate the one man, standing in the path of their vile aspirations and all of them failed until the blighted day of 7th June 1994. He was working in his fields near his ancestral house alongwith his wife. He was shot dead by the scumbags, using the cover of stealth. Whole Bhadarwah went into mourning. The situation was so volatile that LK Advani had to come to Bhadarwah to pacify the vengeful masses.

Ruchir Kumar Koul was born in a middle class family on 4th July 1958. He was a Swayamsevak from his childhood, which was the reason for his unflinching devotion to Maa Bharti. The place where he attained martyrdom has a Bharat Mata temple dedicated to his name. Nationalist masses from across the town, come to pay their tributes to the great soul on his Punyatithi on 7th June every year, which is celebrated as Shaheedi Divas in Bhadarwah. Schools kids recite patriotic poems and sing patriotic songs and a Yajna is performed at his memorial in Bhadarwah. He was a visionary, both in conflict and concord. He may not be here with us but his legacy continues to live in the folklores and Bodhkathas. He continues to be a source of inspiration to the nationalist youth of the valley.

 

About Nitya Vijay Rajpurohit: 

To the mountains of Bhadrakashi, the land of Bhagwan Vasuki Naaga, he and his soul belongs. Lingo junkie, working on Tamil, Sanskritam and Spanish right now besides medicine! Rajma Chawal freak, vegetarian and Dharmik, never misses his Sandhyavandana come what may. 

Impact of Modernization on Tribal Livelihood- A Study of Sema-Naga Tribe

Dr. Janaki Prasad Debnath & Dr. Madhumita Deb

Dr. Janaki Prasad Debnath – Asst. Professor, Margherita College

Dr. Madhumita Deb – Dept. of Economics, Margerita College

Margherita sub-division is situated in eastern most part of NER of India. Like other parts of NER, Margherita sub-division is a “paradise for travelers”. It is one of the most significant regions of South Asia, in terms of availability of natural resources, scenic beauty and rich culture and tradition and setting ground for many civilizations. Time to time many tribes came to this peripheral sub-division of Assam from south East Asian countries. They brought with them different lifestyles and according to their convenience settled down in different hills and plan areas of Margherita sub-division. Most of the tribal people ( ST) found in this sub-division are Singpho, Tai-khamti, Sema-naga, Tai-Khamyang, Tai-Turung, Tangsa, Nokte etc.  

Sema Naga tribes are of Mongoloid origin and are the inhabitants of the upper region of Assam. They are primarily the inhabitants of Zuhneboto of Nagaland. In the year 1904, it was the British Rulers who brought about 400 young people of Sema-Naga  to upper Assam mainly at Sadiya . These tribesmen were brought to work as   guard, some of them were engaged as cooks and the rest were sent to Digboi for forest cleaning works etc. 

Eventually, these tribal people were brought to Margherita for using their labour in the construction of the historic Stillwell road from Ledo to Pasngsau pass. Some of these tribes died and the rest who survived never returned to their native land i.e. Nagaland and some of them settled down under Margherita subdivision of Tinsukia district.

Presently, they reside in two beautiful villages of the Tinsukia District of Assam like Longton and Lalpahar village.

This paper attempts to highlight the lifestyle of Sema-Naga at Lal Pahar village under Margherita sub-division of Tinsukia District of Assam. 

Objectives of the study:

  • To analyze the existing housing and sanitation system in the study area.
  • To assess the changing life style of this tribe. 
  • To assess the facilities provided by the government to improve and also to protect their unique lifestyle.

Methodology: 

The paper is primarily based on field survey and descriptive in nature.  Data were collected during the month of November 2012 at Lalpahar village under Margherita Sub-division of Tinsukia District. Altogether fifty (50) households were taken for collection of primary data. A structured interview schedule was prepared and canvassed for the collection of the first hand information.  

Main findings:

The distribution of surveyed households according to the types of family as shown in table  1.

Table.  1

FAMILY SIZE

Size of family (no.of members)

Total no.

Single

Nil

2-4

29(58%)

5-7

18(36%)

8-10

3(.06%)

11-above

Nil

Total

50(100%)

Source: Field Survey 

 As evident from the table 1 ,that about  58%   households reported  2-4 members in the family, while 5-7 member-family constituted 36%. Migration of the youth for education, govt. jobs particularly in police department/ home guard, etc might have been responsible for reporting relatively smaller families by a large number of respondents.

OCCUPATIONAL BACKGROUND 

 The   occupational patterns of the Sema –Naga tribes is shown  in Table  2.

  Table  2

Occupation  wise breakup of the  Sema –Naga tribes residing at Lal Pahar

Primary Occupation

No. of households

Agriculture

6(12%)

Tea-Garden/ planters

21(42%)

Daily Wage earner (tea plucking, etc)

6(12%)

Business

4(8%)

Govt. service

2 (4%)

Pvt. Service

3(6%)

Non-agricultural wage earners

4(8%)

Others ( coal collection/priest/forest products collectors, etc)

4(8%)

Total 

50(100%)

Source: Field Survey

It is apparent from the table 2 that the categories of tea garden planters has occupied the maximum per cent(42%) of workers in the served  households followed by agriculture and daily wage earner which constitute  12% each.

MONTHLY INCOME OF THE HOUSEHOLD

The study reveals the monthly income of the surveyed  households is  shown the table 3

Table 3

Break of household according to their Monthly Income

Range 

No. of households

Below 1000

Nil

1000-5000

10 (20%)

5000-10000

16 (32%)

10000-15000

12 (24%)

15000-20000

3 (6%)

20000-above

9 (18%)

Total

50(100%)

 

The table 3 reveals that the majority 32% of the household are tied up in the monthly income range of Rs. 5000- 10000 while 24% are in the monthly income range of Rs.10000 -15000. The monthly income of Rs. 20000 and above per month constitute only 9.0%.

Types of Dwelling House:

Table 4

                                        Types of Dwelling House (at present)  

Type

No

Chang Ghar

1(02%)

Kachha

22(44%)

Semi Pucca

9(18%)

Pucca( Assam Type)

18(36%)

Pucca (RCC)

Nil

Total

50(100%)

It apparent from table 4 that at present majority (44%) households live in kachha houses . This is flowed by pucca Assam type and Semi pucca  houses.It should be noted that more than 90% of households live in their own houses . It is also found that 96%  households were connected with electricity power supplied by Assam State Electricity Board. But they were unsatisfied with the irregular supply of electricity

 Sources of water: (Drinking & household purposes)

Table No. 5 Sources of water

Sources 

Respondents

Well

34 (68%)

Tube Well

2 (4%)

Spring

3 (6%)

River 

2 (4%)

Community water supply

9 (18%)

Total 

50 (100%)

It appears form the table 5 that the 68% of households   respondents of the study area regularly use well water for drinking and other household purposes. Only 18% of respondents use tap water supplied  by Govt.under   “Community Development Programme

Sanitation:

The availability of sanitation facilities is an important indicator of health and hygiene .Access of safe sanitation reduces the incidence of   water borne diseases.  

The concept of health and hygiene among the Sema –Naga is not very high order. The village is devoid of any sceptic dumping place for refused materials. The drainage system is extremely poor and every house drains let off its waste at the rear portion. Houses are designed to have a particular place to be used as latrine and the latrine is cleared through natural process. 

Table  no. 6 The modes of sanitation

 

Modes of Sanitation

No(%)

1.

Toilet with sceptic tank

22(44%)

2.

Kuchha toilet

27(54%)

3.

Open space

01(02%)

4.

Community toilet 

Nil

5

Total

50(100%)

The survey reveals in table that out of total surveyed households 98% of houses are designed to have a particular place be used as  latrine . Only 44% expressed satisfaction with the system of sanitation in their houses. 90% of the respondents wanted better system of Sanitation and were willing to give space and money for construction of toilets in their houses. No respondents were willing to contribute to build pucca toilets in public place. It is very interesting to report that they use water after nature’s call and when they go to the cultivation field they use leaves for such purpose.

Change  in the life style of Sema -Naga Tribal community .

Like other tribal societies, changes in Sema-Nagatribal community have taken place with the passage of time. Since the time of British rule, the process responsible for changes in Sema-Naga tribal societies is Christianization, westernization and modernization. These processes of change have affected the tribal way of life positively as well as negatively in the following ways: 

1) In our study area 100 per cent of Sema Naga respondents’ family belongs to Christian religion. Christianity has influenced the  life style of this  tribes by inculcating faiths in Churches , Christian festivals , beliefs and practices and modern thinking.

 2)From the above findings it can be said that our respondents have given up most of their  tribal  ways of life and have incorporated modern ways of life viz use of LPG for cooking, modern appliances , and dependents on marketed consumers goods.

3) The  occupational shifting of Sema Naga people from agricultural occupation to commercial occupation was facilitated by rapid expansion of other sectors and increasing demands for tea ,spread of education  which led to the emergence of a class of business men among them. They opined that adoption of different  types of occupation not only assured to were  modern clothes but also offer them high prestige and opportunity to approach and reach within the modern changing world. 

4) In our study area  98% of total households have own private sanitation facilities  within their campus which provides them privacy, dignity and a sense of security to family members specially women.      

5) Traditionally, this tribe was found living in houses made up of mud, wood, bamboo and thatched without ventilation and windows. But the impact of modernization has brought the houses made up of cements, bricks with windows, ventilations, doors, kitchens  etc. the modern means of communication have also a deliberate force to change the life style of this tribe.

6)Our study reveals that the irregular supply of electricity remains a major hurdle in the development prospects of the village at particular and the region at large.  

After independence for the improvement of rural as well as tribal people, dozens of programmes related to rural development and poverty alleviation have been launched together in different states of our country . In these programmes of development, Central Government, State Government, Corporate Sector. NGOs are investing money . But in our study area the various governmental programmes related with basic amenities of life have  not actually implemented.

CONCLUSION:

It can be concluded that this tribe is  very much influenced by dynamic changes of the modern world. But due to lack of proper education ,awareness, belongingness ,passive role of Govt. Corporate sector  are the major hindrances in the path of proper development of the community. So more attention and research works need to be taken up in these area for proper upliftments of this tribe.

.

Assertive Thaaru Women of the Tarai Region - Subhrajyoti Parida

Let’s learn about a lesser known incident from the annals of Medieval Indian History characterised by romance and twist of fate and circumstances that led to union of high class beautiful Rajput princesses with the brave warrior Bhils of Tarai region (lowland region in northern India covering Indo-Gangetic plains, from Yāmuna river eastward across present day Haryana, UP, Uttarakhand, Bihar till West Bengal).

As recorded in history of Tarai, once upon a time in the midst of a ruthless attack by Islamic forces in Tarai region, a loving and brave Sisodia clan Raja decided to spirit out his beautiful daughters from his kingdom.Though he was very much prepared to fight till last drop of blood and die honourably in the battlefield, he could not bear the thought of his beautiful, charming daughters dying in the fiery self immolation pit of Jauhar or being captured by the barbaric Islamic forces to end up as sex slaves in the Muslim Harems.

Thus, he summoned some of his old bravest Rajput retainers and assigned them with the task of protecting his beautiful daughters and attached a troop of Bhil warriors with them, who were to escort his daughters till they reach the safety of remote Himalayan kingdoms with whom he had ties of blood.

Unfortunately, during their arduous, gruelling journey through the difficult terrains, the old Rajput retainers succumbed to malaria and other debilitating diseases that were common in Tarai area. Eventually, when the last of the Rajput retainers died, the princesses realised that they could no further continue the difficult journey on their own, for neither they nor the troop of Bhil warriors knew the exact way to reach upto their safe havens in Himalayas.

Their old Rajput retainers, while gravely ill, were hallucinating so much that they could not even speak coherently. 

The princesses were young and full of life. They did not want to die on account of some deadly disease in the middle of countryside. 

Hence, they made an agreement with their accompanying Bhils warriors that they would settle down there in a fertile clearing of Tarai region by marrying them, but ONLY on one condition. 

The condition was, from that day onwards their female descendants would always be superior to their males. They and their female descendants would cook food for themselves and as a matter of tradition, for their men too but won’t serve them. 

Those princesses seem to have agreed to discharge all other responsibilities of a wife except the above, for this union has been a peaceful one so far.

Since then, Thaaru women (descendants of those fleeing beautiful Sisodia Rajput princesses) cook their men’s food and then they place an empty thali on the floor and kick it towards their men, indicating them to serve the cooked food themselves.

Such Thaaru women have distinguished high cheek bones and almond eyes. But the most striking feature of these women is the extraordinarily bright, embroidered skirts and backless cholis they wear. Also, as an indication of their Rajput ancestry, they carry columns of metal bangles on their arms and ankles. 

Thaaru women, upto present times, are found to be usually NOT docile or subservient type, as in case of many married women in villages of north India. These women are proud of their ancestry and fiercely independent.

Sources:

1)Muslim Slave System in Medieval India by Prof. K S Lal, pp. 64-65; Aditya Prakashan, New Delhi, First published in 1994, First reprint 2016.

2)Hugh and Colleen Gantzer writings published in Sunday Magazine, Indian Express, 19th January, 1992.

 

About Subhrajyoti Parida: 

Subhrajyoti Parida is a Mechanical Engineer with MBA in Supply Chain & Operations Management From National Institute of Industrial Engg. (NITIE), Mumbai. He is currently employed in the Aerospace Industry. His inclination towards Indian History makes him an avid reader of well researched books by nationalist, honest historians like Prof. KS Lal, Dr. Sita Ram Goel, Dr. Ram Swarup, Dr Ram Gopal Mishra, Dr P N Oak, Dr Sandhya Jain, Dr Meenakshi Jain etc. , which unfortunately do not make it to the history text books in academia, often.  Besides history, he has a deep interest towards Vedic literature and smritis which forms the foundation of our Sanatan Dharma. 

 

Some important seals of Eastern India during ancient times - Sanghita Chatterjee

Some important seals of Eastern India during ancient times

Seals of ancient India are a great source for reconstructing the parts. Actually they were used to give authentication to various products. In ancient India we had seals being attached with copper plate grants and also many were available in loose condition also. Now let’s discuss the fact that what information a seal with a limited size gives us.

Actually we should remember that for reconstructing Ancient Indian history historians do not get help from proper literary sources. They have to depend on epics or books on religion. So to provide adequate support to this information archaeological evidence is required. Now under archaeological evidence we have inscriptions, coins, sculptures, architectures, paintings, seals etc. Seals, though small in size, contain much vital information. Like they bear symbols related to different dynasties of clans. they may contain legends which gives information as well as depicts the various scripts and languages of that time period. Along with this it must be mentioned that all seals were not issued only by ruling authorities. There are seals issued by guilds or monasteries or by individual persons also.

Now seals have been discovered from various excavated sites all over India. But it’s not possible to deal with all of them in a single article. Various sites of eastern India have produced several seals of great importance., So now we are going to discuss some significant seals of eastern India and its impact on various sections of the society.

Seals which have economical significance-

From Chandraketugarh  and Tamralipti excavations we have received many clay seals which have surprisingly given us Kharosti script .The script is interesting because Kharosti was a prevalent script of North Western India during the time period of 1st century BC to 4rth century AD. Moreover on the seal we get depiction of ships or boats carrying grains. In addition we notice conch also which is regarded as a symbol of prosperity. These seals clearly proves that Bengal had trade relation with North western India based on agricultural products.

Several seals excavated from the site of Vaishali were issued by guild members and the symbols used on these seals are very interesting. Its like a money bag with coins and an attendant of Goddess Laxmi throws coins from it. The attendant has been identified as Kubera. Seals issued by merchants or bankers also were available in abundance.

From the site of Basarh,we receive seals of Chandragupta II where its written in the legend that he had a son named Govindagupta who was given the title of Maharaja, different from his father who had the title Maharajadhiraj

Seals which have political significance-

Some more seals having political significance have been derived from the site of Nalanda in Bihar. From a clay sealing of Kumaragupta III ,we get the information that Purugupta was the son of Kumaragupta-I and Anantadevi. This information is also supported by a copper -silver seal excavated from Bhitari in Uttar Pradesh. This type of information helps the historians to frame the genealogy of the royal dynasties.

Another important seal having political influence was the seal of King Shasanka discovered from Rohtasgarh. Shasanka was the first independent king of Bengal but on the seal the title used was Mahasamanta which indicates that he was also a feudatory ruler under the Guptas and later achieved independence after the decline of Gupta dynasty.

An interesting seal of the sixth century has been excavated from the site of Deka Bichkunda in Murshidabad district of present West Bengal. The speciality of this seal is that it was not issued by any King,but rather it was used by a businessman named Vijaychandra for his personal use just as we use visiting cards in modern times. The orthographic features of the script used for writing the name Vijay Chandra was Brahmi, the parent script of North India. 

Seals having religious significance-

A monastic sealing with clear legend stating the name of Buddhist Vihar has been discovered from excavations of Jagjivanpur.This seal also contains the Dharmachakra motif. This legend states that the name of the monastery is Nanda Dirghi Vihara founded by Shri Vajradeva. On account of the palaeographic features of the legend the seal has been dated as 9th century.

A very interesting seal has been discovered from the village of Benisagar in present Jharkhand state.The seal is circular in shape with a linear border and there is a horizontal line dividing the seals in two parts.The motif has ‘Kamandalu’ and ‘Danda’ symbols and the legend states that the seal was issued by Brahmanas who were well versed in Four Vedas. The script is related with 5th century Brahmi characters and the language is Sanskrit. The time period to which the seal and other excavated materials of this site belongs is related to the Gupta dynasty but the seal is a private seal. Along with that it should be mentioned that during Gupta dynasty Brahmanical religion was quite affluent throughout the empire. According to the archaeologists the seal indicates that the excavated area was treated as a seat of learning of Brahmanical studies.

The site of Paharpur in the Rajshahi district of Bangladesh is another important archaeological site which has given us the evidence of Sompura Mahavira.The seals were issued by Dharmapala and seal depicts the Dharmachakra motifs with two antelopes on both the sides. This motif is a very common Buddhist symbol representing the first sermon of Buddha in Sarnath.The legend of the seal clearly states that it was issued by the monks of Sompura Vihara which was founded by Shri Dharmapala Deva.

Another interesting seal has been discovered from the ancient site of Vaishali, located in present Bihar. Though several seals belonging from various dynasties have been recovered from the area, still I will discuss here about a rare brass seal discovered during excavation. The seal bears legend in Bhaiksukhi script which was used by Buddhist monks of eastern India. This script derived from Brahmi and its special feature is that the letters have arrow headed marks at the top.The time period assigned to this script is 10th -12th century A.D that is during the rule of Pala dynasty over Bengal and Bihar. The seal indicates that Buddhism quite strongly spread over Vaishali as this script is available only in very few areas.The shape of the seal is rectangular.

Bibliography-

1.Thaplyal,Kiran Kumar-Studies in Ancient Indian Seals

2.Roy,Niharranjan-Bangalir Itihash

3.Mookerjee ,Radhakumud-Local government in Ancient India.

4.Corpus Inscriptionum Indicarum-Vol-3

5.Sarkar, Sebanti-The Telegraph

6.Prefacing History:Text and Context

 

About Sanghita Chatterjee: 

Sanghita Chatterjee is working as a teacher in Kendriya Vidyalaya, Bolpur. She has done her Post Graduation and M.Phil from Visva Bharati University. Her subject was Ancient Indian History, Culture and Archaeology and she has real passion over these matters.

ত্রিপুরি লোকনৃত্য গড়িয়া : সুর ও তালের যুগলবন্দী - ড. অনুপম সরকার

 “ নৃতত্ত্ববিদদের মতে প্রস্তর যুগে মানুষের আদিম উল্লাস প্রকাশের মাধ্যম ছিল নৃত্য । কিন্তু  সেই নৃত্যে কোন তাল, লয়ের অনুভূতি ছিল না । শুধু ছন্দে ছন্দে প্রাণের উল্লাস ও আশঙ্খাগুলো প্রকাশ পেত । তখন ছিলনা কোন ভাষা । ছিল শুধু অভিব্যক্তি । আদিম যুগের মানুষ নৃত্যের ভিতর দিয়ে তাদের মনোবৃত্তিকে প্রকাশ করত । এই ছিল নৃত্যের আদিম পর্যায় । “ (১)

উপজাতীয় নৃত্য  শিল্পমাত্রই জীবনাশ্রয়ী। তাই যে-কোনো শিল্পকলায় সংশ্লিষ্ট মানবগোষ্ঠীর জীবনাচরণ কমবেশি প্রতিফলিত হয়। উপজাতীয়দের গোষ্ঠীবদ্ধ কর্মকান্ডও তাদের শিল্পকলায় প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। মূলত তাদের জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করেই উপজাতীয় নৃত্যের উদ্ভব ঘটেছে। সে আদিকাল থেকে হিংস্র জন্তু-জানোয়ারের সঙ্গে তাদের লড়াই করতে হয়েছে; বনবাদাড় থেকে পশুপাখি শিকার করে খাদ্য আহরণ করতে হয়েছে। শিকারে যাওয়ার আগে পশুর ছবি এঁকে তারা দলবদ্ধভাবে শিকারের নকল করে নৃত্য করেছে। রুষ্ট দেবতাকে তুষ্ট করা, জ্বরা-ব্যাধি দূর করা, ফসল উদ্গমনের আকাঙ্ক্ষায় বৃষ্টি কামনা করা কিংবা মারি-মড়ক থেকে বাঁচার জন্য তারা নানারকম আচার-অনুষ্ঠানের জন্ম দিয়েছে এবং সে সূত্রেই সৃষ্টি হয়েছে নৃত্যেরও। যুগের পরিবর্তন ও সমাজবিকাশের কারণে মানুষের কাজের পদ্ধতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নৃত্যের ভঙ্গিমাও পরিবর্তিত হয়েছে। নৃত্যে হিংস্রতা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার পরিবর্তে স্থান পেয়েছে নান্দনিকতা। এভাবে আদি মানবগোষ্ঠীর সে আদিম নৃত্যধারা রূপান্তরের মাধ্যমে আজও প্রবহমান। আদিম মানুষ প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে করে নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে । বন্যপ্রানী শিকারে সফলতা , খাদ্য আহরণের আনন্দ , যুদ্ধ জয়ের সফলতা প্রকাশ করতে গিয়ে যে শারিরীক অভিব্যক্তি থেকেই নৃত্যের জন্ম হয় । আদিম  মানুষের জীবনযাত্রাকে লক্ষ্য রেখেই গবেষকরা আদিম যুগের নৃত্যকলাকে তিনভাগে ভাগ করে

প্রাচীন প্রস্তর যুগের শিকারজীবী মানুষদের থেকেই শুরু হল শিকারভিত্তিক নাচ । এরপর শুরু হল মানুষের পশুপালনভিত্তিক জীবন । মানুষ এবার পশু – পাখি ইত্যাদির চলার ভঙ্গি আনুকরণের চেষ্টা করতে শুরু করল নৃত্যের মাধ্যমে । নৃত্যকলা রূপ নিয়েছে পশুপালনভিত্তিক । এরপর তাম্র যুগে কৃষির আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে কৃষিভিত্তিক নাচ এর প্রচলন শুরু হয় । এই প্রসঙ্গে সমালোচক বলেছেন – 

        “ উপজাতীয় বা লোকনৃত্যের ক্ষেত্রে একটি কথা মনে রাখা দরকার – জীবিকাই হল মানুষের সমাজ ও সংস্কৃতির প্রধান ভিত্তি । নৃত্যের আদিতে শিকারভিত্তিক নাচ, পশুপালক ভিত্তিক নাচ বা কৃষিভিত্তিক নাচ নিয়ে যত কিছুই বলি কি না কেন , সব কিছুই রয়ে গেছে জীবন জীবিকা ভিত্তিক তথা খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত । অবসর বিনোদনের জন্য নৃত্য অনেক পরে এসেছে । তাই নৃত্যের উৎসের প্রথম শীর্ষবিন্দুতে রয়ে গেছে জীবিকা তথা খাদ্য উৎপাদন , এরপর অনুকরণ এবং সবার শেষে বিনোদন । “  (৩)  

 বিনোদন  (৪) 

ত্রিপুরায় মূলত ১১ টি উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর লোক দেখা যায় । এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে আবার ভিন্ন ভিন্ন নৃত্য রীতি প্রচলিত আছে । এই আদিম উপজাতিরা প্রাচীন মঙ্গোলীয় গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত । আদিম জনগোষ্ঠীর  স্বকীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তাদের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে । যেমন অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত সিংহলের বন্নম নাচে পশুপালন ভিত্তিক বৈশিষ্ট্য আছে তেমনি ত্রিপুরার মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর উপজাতিদের মধ্যেও মোরগ , বাঁদর , টিয়াপাখি , পায়রা , ব্যাঙ ইত্যাদির অনুকরণে নৃত্যের ভঙ্গি দেখতে পাওয়া যায় । 

প্রতিবছর বৈশাখ মাসের প্রথম দিন থেকে গড়িয়া দেবতাকে নিয়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ঘোরেন একদল লোক। গড়িয়া দেবতা বাড়িতে আসছেন দেখে বাড়ির নারীরা উঠানে জল ছিটিয়ে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন করে একটি পিঁড়ি বসান। গড়িয়া মূর্তিকে এ পিঁড়িতে বাসনো হয়। পরিবারের কর্তা, গৃহিণীসহ সব সদস্য ধূপ দেখিয়ে বরণ করে প্রণাম করেন। একই সঙ্গে চালসহ অন্য ফসল ও নগদ রুপি চাঁদা হিসেবে দেন।দেবতাকে উঠানে পিঁড়িতে বসানোর পরিক্রমার সঙ্গে আসা নারী-পুরুষ বাবা গাড়িয়াকে ঘিরে গান করতে করতে নৃত্য করেন। একই ভাবে পহেলা বৈশাখ থেকে ৭ বৈশাখ পর্যন্ত এভাবে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে পরিক্রমা করা হয়। বৈশাখ মাসের সপ্তম দিনে হয় গড়িয়া পূজা। এদিন গ্রাম ঘুরে যে চাঁদা সংগৃহীত হয় তা দিয়ে পূজার আয়োজন করা হয়। হিন্দুদের অন্য সব মূর্তি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। গড়িয়া মূর্তি তৈরি হয় বাঁশ, আদিবাসীদের হস্ততাঁতে তৈরি কাপড় ও জুমের চাল দিয়ে। গড়িয়া পূজার জায়গাও তৈরি করা হয় বাঁশ দিয়ে। পূজার দিন মোরগ, কবুতর ও পাঠা বলি দেওয়া হয়। আবার কেউ কেউ কবুতর বলি না দিয়ে গড়িয়ার কাছে উৎসর্গ করে ছেড়ে দেন। মূলত গ্রামের মানুষের মঙ্গল কামনা করে ও জুমে অধিক ফসল ফলনের প্রার্থনার আশায় গড়িয়া দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে যুগ যুগ ধরে ত্রিপুরার সনাতন আদিবাসীরা এ পূজার আয়োজন করে আসছেন। ভারতীয় লোকনৃত্যগুলোর উৎপত্তি হয়েছে খাদ্য উৎপাদন , অনুকরণ , যাদুবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে । ত্রিপুরীদের লোকনৃত্যেও এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রতিফলিত হয়েছে কারণ এর মূল উৎস একই ভাবনা থেকে । গড়িয়া নৃত্য ককবরক ভাষা গোষ্ঠীর প্রধান নৃত্য । এছাড়াও অন্যান্য উপজাতিদের মধ্যে এই নৃত্য প্রচলিত আছে তা হলো – 

উপজাতি

সামাজিক উৎসব কেন্দ্রিক নৃত্য

পশুপাখির অনুকরন মূলক নৃত্য

আচার অনুষ্ঠান মূলক নাচ

ধর্ম ও দেবতা কেন্দ্রিক নাচ

ত্রিপুরী

গড়িয়া

গড়িয়া

গড়িয়া নৃত্যের আচার অনুষ্ঠান

গড়িয়া প্রতীক পূজা বাঁশ

জমাতিয়া

গড়িয়া

 

গড়িয়া প্রতীক বাঁশ নির্বাচনের  কিছু কিছু আচার অনুষ্ঠানের আশ্রয় নেওয়া হয়

গড়িয়া মূর্তির শুধুমাত্র মাথা পূজা

নোয়াতিয়া কলই

গড়িয়া

পশুপাখির অনুকরণ মূলক নৃত্য

গড়িয়া নৃত্যের পূর্বে আচার অনুষ্ঠান

 

রূপিণী

গড়িয়া

পশুপাখির অনুকরণ মূলক নৃত্য

গড়িয়া নৃত্যের শুরুর পূর্বে আচার অনুষ্ঠান

 

চৈত্রসংক্রান্তি থেকে বৈশাখের সাতদিন ধরে এই পূজা হয় । একটি বাঁশকে নতুন রিয়া বা রিসা পড়িয়ে পূজার আয়োজন করা হয় । পূজার পর রাতে ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে গড়িয়া দেবতার সামনে নাচে ।  গড়িয়া দেবতার নামানুসারে এই নৃত্যটির নাম গড়িয়া । গড়িয়া পূজাতে এই নৃত্যটি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে । গড়িয়া নৃত্যটি  অনেকগুলো পর্বে ভাগ করা হয়েছে। ত্রিপুরী উপজাতিরা বলেন যে গড়িয়া নৃত্যে ১০৮টি পর্ব প্রচলিত ছিল কিন্তু বর্তমানে ২৪ বা ২৫ টি পর্বই রয়ে গেছে । বৈশাখ শুরু হয় বর্ষবরণের আগের দিন থেকে। আর শুরুর এক সপ্তাহ আগেই সাধারণত গড়িয়া নৃত্যের দল বেরিয়ে পড়ে পাহাড়ের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। গড়িয়া নৃত্য ত্রিপুরাদের জনজীবনে বিজয় স্মারক হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। বৈশাখ এর অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে কমপক্ষে ১৬ জন ত্রিপুরা নারী-পুরুষের দল বেরিয়ে পড়েন পাহাড়ি পল্লীতে। প্রতিটি ঘরের উঠোনে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের গড়িয়া নৃত্য পরিবেশন করেন। শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বয়সী একজনের কাঁধে থাকে শুল। পতাকার মতো করে শুলে বাঁধা থাকে একটি খাদি। শুলটি যে ঘরের আঙিনায় বসানো হবে, সেখানেই চলে বিচিত্র ও আনন্দঘন পরিবেশে নৃত্য।  জানা যায়, নৃত্যের উল্লেখযোগ্য অন্তত ২২টি মুদ্রার মধ্যে চাংখা কানাই, খলাপালনাই, মাইকিসিল নাই, তাকরু তাই নাই, তুলা কানাই, খুল খুক নাই, রিসু নাই, মাতাই খুলুমনাই প্রভৃতি পরিবেশন করা হয়। মেয়েরা রিনাই রিচাই, গলায় মুদ্রার মালা এবং ছেলেরা ধুতি মাথায় গামছা বাঁধেন।

সিপাহীজলা ত্রিপুরার বিধানসভা ‘রংমালা’ গ্রামে ত্রিপুরী উপজাতিদের মধ্যে প্রচলিত গড়িয়া নৃত্যটিকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এখানে ১৫টি পর্ব উপস্থাপিত হয়েছে – 

১) খুলমনি – নমস্কার

২) খুমখলমানি – ফুল পাড়া

   তাই – এবং

   খুমসার মানি – কানে ফুল দেওয়া

৩) মাইসার মানি – জমিতে ধান ছড়ানো

৪) মাইকাই মানি – ধান রোপণ করা

৫) মুখবারুক মানি – বাঁদর তাড়ানো

৬) মাইনাকমা – ধান মাড়ানো

৭) খিচু মুসুমা – বাচ্চাদের জামা কাপড় ধোওয়া

৮) খুনজু – কানে কানে কথা বলা

৯) তুকুমা – স্নান করা

১০) ইয়াথাবুমানি – হাতে তালি দেওয়া

১১) খাকলাপ ফেহালালাম – কাঁধ এবং বক্ষ আন্দোলন করা

১২) ইয়াকুং বাই ইয়াকুং – হাতীর পা তোলা

১৩) মাসুনদাই খিংবপুরামা – সজারু ডান দিক এবং বাঁদিক ফিরে লেজ নাড়ান

১৪) হরসমনি – বাঁশে বাঁশ ঘর্ষণ করে আগুণ জ্বালানো

১৫) তকবীর মানি – পাখির উড়ে যাওয়া 

১ নং ভঙ্গি – খুলমনি

যুবক – যুবতিরা নৃত্যের মাধ্যমে গড়িয়া দেবতাকে প্রনাম জানান ।

২ নং ভঙ্গি – খুমখলমানি তাই খুমসার মানি

একহাত দিয়ে একপাশে ঝুঁকে নীচু হয়ে ফুল তুলে কানে ফুল দেওয়া ।

৩ নং ভঙ্গি – মাইসার মানি

যুবক – যুবতিরা ডান পা পয়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগে রেখে বা হাত কোমরে রেখে , দান হাত উপরে তুলে সূচিমুখ মুদ্রা করে  বাঁদিক থেকে ডান দিকে ঘেরে । 

৪ নং ভঙ্গি – মাইকাই মানি

ছেলেমেয়েরা বৃত্তের মধ্যেই বা হাত মুকুল মুদ্রায় রেখে ডান হাত দিয়ে বাঁ হাত থেকে ধানের চারা নিয়ে রূপন করতে করতে এগিয়ে যায় । আবার একই ভঙ্গিতে পিছিয়ে আসে । 

৫ নং ভঙ্গি – মুখবারুক মানি

এই ভঙ্গিতে ছেলেরা দুহাত সামনে পতাকা মুদ্রায় পাশাপাশি রেখে সামনে পিছনে  আন্দোলন করাতে করাতে ডান পা দিয়ে বা পা পাশাপাশি টেনে নিয়ে যায় ।

৬ নং ভঙ্গি – মাইনাকমা

 যুবক-যুবতীরা মিলে কোমরে ধরে বাঁ পা দিয়ে জাম্প করে ডান পা উপরে তুলে আস্তে আস্তে সামনে পেছনে করতে করতে এক থেকে সাত মাত্রা পর্যন্ত যাবে । ঘুরে বাঁ দিকে একই প্রকার করে । 

৭ নং ভঙ্গি – খিচু মুসুমা

ছেলেমেয়েরা বাঁ পা উঠিয়ে তিন মাত্রার মধ্যে ডান পাশে ঘুরে দুটো হাত নিচুতে জুড়ে নাড়ানো 

৮ নং ভঙ্গি – খুনজু

ছেলেমেয়েরা পূর্বের মতনই তিন মাত্রার মধ্যে একবার ডান পাশে ঘুরে ডান হাত দিয়ে বাঁ হাতের উপর থেকে জল ঝারার ভঙ্গি করা ।

৯ নং ভঙ্গি – তুকুমা

ছেলে মেয়েরা একবার ডান পাশে ফিরে কানে কানে কথা বলার ভঙ্গি করে । আবার বা পাশে ফিরে একই ভঙ্গি করে ।

১০ নং ভঙ্গি – ইয়াথাবুমানি

যুবক-যুবতীরা প্রত্যেকে মুখোমুখি হয়ে প্রত্যেকে প্রত্যেকের হাত একবার ডানহাত দিয়ে তালি দেওয়া আবার বাঁ হাত দিয়ে তালি দেওয়া ।

১১ নং ভঙ্গি – খাকলাপ ফেহালালাম

ছেলেমেয়েরা মুখোমুখি হয়ে হাত কোমরে রেখে  একবার সামনে এগিয়ে কাঁধ এবং বক্ষ আন্দোলন করা । আবার নিজেদের দেহকে পিছন দিকে বাঁকিয়ে বক্ষ আন্দোলন করা । 

১২ নং ভঙ্গি – ইয়াকুং বাই ইয়াকুং

প্রথমবার ডানপাশে ঘুরে  পা তুলে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে হাঁটুতে লাগান । আবার বাঁ পাশে  একই পা  তুলার অনুকরণে এই ভঙ্গিটি করা হয় । 

১৩ নং ভঙ্গি – মাসুনদাই খিংবপুরামা

ছেলেমেয়েরা কোমরে ধরে পর্যায়ক্রমে লাফিয়ে লাফিয়ে কোমর বাঁকানো । 

১৪ নং ভঙ্গি – হরসমনি

ছেলেমেয়েরা নিচু হয়ে মুষ্টি মুদ্রা করে দুই হাত পর্যায় ক্রমে সামনে-পিছনে দেওয়া । 

১৫ নং ভঙ্গি – তকবীর মানি

শরীরকে একপাশে বাঁকিয়ে দুই হাত দুপাশে মেলে দিয়ে অল্প অল্প আন্দোলন করে ।

       গড়িয়া নাচের প্রত্যেকটি পর্বের শেষে দাঁড়িয়ে দুই মাত্রার মধ্যে শরীর এবং হাত আন্দোলন করে দুবার ঘুরে এসে পরবর্তী পর্ব শুরু করে । গড়িয়া নৃত্যে ত্রিপুরী উপজাতিদের চিরাচরিত পোশাক অর্থাৎ ছেলেরা পড়ে রি – বরক ও কাংচুলুই এবং মেয়েরা রিগনাইও রিসা । এই নৃত্যে প্রধান বাধ্য হচ্ছে খাম । এছাড়া সুমু , চংপ্রেং ব্যবহার করা হয় । গড়িয়া নৃত্যের প্রধান তালটি হল –

“ঘিন ঘিনি চন চন

ঘিঘিনি ঘিচন চন

ঘিচন চন ঘিচন চন

ঘিঘিনি ঘিচন চন”

গড়িয়া নৃত্যের বৈশিষ্ট্য :-

১) গড়িয়া দেবতা প্রায় ত্রিপুরার সব উপজাতিদের উপস্য ,  নৃত্যই তা  প্রকাশিত ।  

২) এই নাচের প্রতিটি পর্বের আলাদা নাম রয়েছে এবং নির্দিষ্ট পর্ব বা স্তরের মধ্যে এই নাচটি সীমাবদ্ধ রয়েছে

৩) এই নাচের বাদ্যের তালের  বোল রয়েছে  । 

৪) বর্তমানে এই নৃত্যে কিছুটা পরিবর্তনের ছোঁয়া দেখা গেলেও সনাতনতা বজায় রয়েছে  । 

        বাঙালিদের ধামাইল  এর নৃত্যের সাথে গড়িয়া নৃত্যের কিছুটা মিল দেখা যায় । দুটো নৃত্যই সামাজিক এবং গতিসম্পন্ন।  দুটোতেই উলম্ফন ও হাতের তালুর ব্যবহার দেখা যায়।  ত্রিপুরার উপজাতীয় নৃত্য  গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সমৃদ্ধশালী নৃত্য । বিভিন্ন  গবেষণা ও প্রচার এর মধ্যে সবার সামনে উঠে এসেছে এবং ভারত প্রচলিত লোকনৃত্যগুলোর মধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছে বিভিন্ন এলাকার উপজাতীয় নৃত্যের মধ্যে কমবেশি সাদৃশ্য রয়েছে। এ সাদৃশ্য দেখা যায় নাচের ধরন ও পরিবেশনায়। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়েও সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। ফসল কাটা, নবান্ন, জন্মমৃত্যু, বিবাহ ইত্যাদি নৃত্যানুষ্ঠানে প্রায়শই কোনো ভিন্নতা দৃষ্ট হয় না। জ্বরা-ব্যাধি দূর করা, দেবতাকে তুষ্ট করা, খরায় বৃষ্টি কামনা এসব উপজাতীয় নাচগানের সাধারণ বিষয়। তাদের নাচে বীররসের প্রাধান্য খুবই কম এবং বেশির ভাগ নাচই ধীরলয়ের ও একঘেয়ে। উপজাতীয় নৃত্যে সাধারণত মঞ্চ দরকার হয় না; সাজসজ্জা, আলোকসম্পাত বা শব্দনিয়ন্ত্রণেরও কোনো প্রয়োজন নেই। সুরেবেসুরে সবাই মিলেই গান গায়। যন্ত্রের ব্যবহারও অনুরূপ। তবে এসব নৃত্য যখন মঞ্চে পরিবেশিত হয় তখন বিশুদ্ধ সঙ্গীত, আলোকসম্পাত, সাজসজ্জা ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। টেলিভিশন প্রযুক্তির কারণে বর্তমানে উপজাতীয় নৃত্যের প্রচার বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তথ্যসূত্র :-

১) ড. বিলকীস বেগম , নৃত্যের একাল – সেকাল , চন্দনা পাবলিকেশনস , ২০০৩ , ঢাকা , পৃষ্ঠা :- ৩০ ।

২) গড়িয়া নৃত্য , ড. পদ্মিনী চক্রবর্তী , মানবী সাহিত্য পত্র ,মানবী প্রকাশন ২০০১ , আগারতলা , পৃষ্ঠা :- ২৬ । 

৩) তদেব , পৃষ্ঠা :- ২৭ ।

৪) ড. বিলকীস বেগম , নৃত্যের একাল – সেকাল , চন্দনা পাবলিকেশনস , ২০০৩ , ঢাকা , পৃষ্ঠা :- ৩৫৫ ।

৫) তদেব , পৃষ্ঠা :- ২৯ ।

রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা - সোমা বসুমল্লিক

তারিখ : ২৫শে শ্রাবণ ১৪২৭

হিন্দুধর্মে রাধাকৃষ্ণ হলেন ঈশ্বরের পুরুষ সত্ত্বা বা প্রেমিকসত্ত্বা এবং প্রকৃতি বা নারী বা প্রেয়সীসত্ত্বার যুগলরূপ। কৃষ্ণ তাঁর অপার মায়ায় জগৎসংসারকে মোহিত করেন, কিন্তু রাধিকা নিজের প্রেমের মাধ্যমে কৃষ্ণকে মোহিত করে তাঁর নিয়ন্ত্রণে রাখেন। 

রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলন বলা হয়ে থাকে।

হিন্দু পুরাণে রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনী সবাই জানে। স্বামী থাকা সত্ত্বেও রাধিকা কৃষ্ণের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আর সেই প্রেমকথা চিরকালীন অমরত্ব লাভ করে। হিন্দু লোকাচার যেখানে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে মান্যতা দেয় না, সেখানে এই সম্পর্ক কী করে অমর প্রেমকাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেল, তা সত্যিই অবাক করার মতো দৃষ্টান্ত।

তবে এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে শ্রীরাধিকা কেন শ্রীকৃষ্ণকে ছেড়ে আয়ান ঘোষকে বিয়ে করেছিলেন? 

উপকথায় পাওয়া যায় যে কৃষ্ণের পালিকা মা যশোদার তুতো ভাই ছিলেন আয়ান। 

আয়ান ঘোষ  পূর্বজন্মে কঠোর সাধনা করে নারায়ণের কাছে বর পেয়েছিলেন যে পরের জন্মে তিনি রাধা-রূপী লক্ষ্মীকে স্ত্রী হিসেবে পাবেন কিন্তু তিনি নিজে নপুংসক হবেন। 

কথিত আছে যে যশোদার স্বামী এবং কৃষ্ণের পালকপিতা নন্দকুমারের প্রস্তাব অনুযায়ী আয়ান ঘোষের সাথে শ্রীরাধার বিবাহ সম্পন্ন হয়।

স্ত্রী হিসাবে একজন নারীর যা যা কর্তব্য, দায়িত্ব রাধা তা নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন আজীবন তবে তাঁর হৃদয় সবসময়ই কৃষ্ণের জন্যই সমর্পিত ছিল।

শ্রীকৃষ্ণের কাছে দুটি জিনিস সবচেয়ে প্রিয় ছিল যা হলো তাঁর বাঁশি এবং রাধা। শ্রীকৃষ্ণের এই বাঁশির শব্দ শুনেই শ্রীরাধিকা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে চলে আসতেন।

এই কারনেই শ্রীকৃষ্ণ তার বাঁশিটিকে সব সময় নিজের কাছেই রাখতেন।

বৃন্দাবন থেকে চলে যাওয়ার আগে শ্রীকৃষ্ণকে শ্রীরাধা শেষবারের মতো বলেছিলেন যে যদিও শ্রীকৃষ্ণ তাঁর কাছ থেকে বহু দূরে চলে যাচ্ছে তবুও শ্রীকৃষ্ণ তাঁর হৃদয়ে সর্বদা বিরাজমান থাকবে।

অন্যদিকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে মহান কারণের জন্য পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার জন্য শ্রীরাধিকাকে ছেড়ে তাঁকে তো চলে যেতেই হত! তাঁর জন্য তখন অপেক্ষা করছে সন্ত্রস্ত ধরা। তিনি তাঁর সময়ের একমাত্র পুরুষ, সারা ভারত যাকে পাশে চাইছিলো। সেই আকুতি কাটিয়ে ঈশ্বরের কি কোনো এক নারীর বাহুবন্ধনে ধরা দেওয়া মানায়? 

তাই রাধার প্রেমে বিচ্ছেদ নেমে আসে! পরবর্তীকালে কৃষ্ণের জীবনে নারীর অভাব হয়নি, তিনিও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।  কিন্তু, মথুরা নগরপতির কি কোনও দিনই প্রথম প্রেমের কথা মনে পড়েনি?

এরপর শ্রীকৃষ্ণ মথুরায় গিয়ে তাঁর মামা কংস ও অন্যান্য দানবদের হত্যা করেছিলেন। তারপর, শ্রীকৃষ্ণ সেখানকার প্রজাদের রক্ষা করার জন্য দ্বারকায় চলে গিয়েছিলেন এবং দ্বারকীহিত নামে জনপ্রিয় হয়েছিলেন। 

সেই কাজের মাঝে মাঝে বৃন্দাবনের কান্না-হাসির দোলা কি প্রেমিক পুরুষ কৃষ্ণকে উচাটন করে যেত না? 

প্রথম প্রেম তো ভুলে যাওয়া সহজ নয়! বিশেষ করে, যে তুমুল সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে কৃষ্ণ আদায় করেছিলেন রাধার প্রেম, তা বড় সহজ কথা ছিলোনা। রাধা তো তাঁকে প্রথমে কাছে ঘেঁষতেই দেননি! ছলে, বলে, কৌশলে কৃষ্ণ ঠিক ভেঙে ফেলেছিলেন রাধার মনের আগল।

 সেটা যেমন মুখের কথা নয়, তেমনই সহজ নয়, সব বাধা উপেক্ষা করে বয়সে অনেকটা বড় নারীর প্রিয় পুরুষ হয়ে ওঠাটাও! আরও সহজ নয়, সেই প্রেমকে এক কথায় ফেলে বেরিয়ে যাওয়া! 

শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সব কার্যক্রম তো বিধির বিধান অনুযায়ী মিটলো! কি রাধার কি হলো? তাঁর পরবর্তী জীবনে কি ঘটলো? 

শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবন ছাড়ার পর শ্রীরাধার জীবন এক অন্যখাতে বয়ে যায়। প্রিয় পুরুষটির বিরহে রাধারানি তখন সারা বৃন্দাবন আঁধার দেখছেন। দাম্পত্য জীবনে সব কাজ করেও সারাদিন তাঁর একলা কাটে। কৃষ্ণের কথা ভেবে ভেবে তাঁর নিত্যদিনের সময় কাটে ঘোরের মধ্যে। আর, রাতে? তখনই কৃষ্ণ আসেন রোজ তাঁর কাছে, স্বপ্নে। সেই মিলন অনন্ত হয়ে ধরা দেয় রাধার জগতে। প্রতি রাতে যমুনার তীরে, কদম গাছের তলায়, প্রদীপ নিয়ে কৃষ্ণের জন্য অপেক্ষা করেন রাধা। রাত যায়, কিন্তু তাঁর আশা যায় না!

এভাবে দিনের পর দিন কারও জন্য অপেক্ষা করা কতটা সম্ভব? অপেক্ষা যেমন ভালবাসা বাড়িয়ে তোলে, তেমনই দীর্ঘ হলে অসহনীয়ও তো হয়ে ওঠে! রাধার সঙ্গেও সেটাই হল।

 এইভাবে বিরহের আগুণের জ্বলেপুড়ে থাকতে না পেরে তিনি যাত্রা করলেন কৃষ্ণের প্রাসাদে। জরাসন্ধের অত্যাচারে কৃষ্ণ তখন রাজধানী পেতেছিলেন দ্বারকায়। রাধা তাঁর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন গোপনে সবার চোখের আড়ালে। দ্বারকায় পৌঁছে, কৃষ্ণের সাথে রুক্মিনী ও সত্যভামার বিয়ের কথা শুনেও রাধা দুঃখ পাননি। কারণ তিনি জানতেন যে কৃষ্ণ কেবলমাত্র তাঁরই। রাধাকে দেখে কৃষ্ণ খুব খুশিও হন। দুজনের দেখা হয়, কথা হয়, মিলন হয়! যদিও মধুযামিনীতে নয়। এক সময়ে বিবাহিতা রাধা যে কারণে লুকিয়ে আসতেন কৃষ্ণের কাছে, এবার বিবাহিত কৃষ্ণকেও যেতে হল সেই পথে। রাধাকে তিনি লুকিয়ে রাখলেন তাঁর প্রসাদে। রাধাও থেকে গেলেন সামান্য দাসীর ছদ্মবেশে, শুধুমাত্র কৃষ্ণকে কাছ থেকে দুচোখ ভরে দেখার আশায়! 

প্রেম মানে বোধহয় দাসত্বই! যে টানে বৃন্দাবনে প্রতিদিন উতলা হয়েছিলেন রাধা, সেটাই বা দাসত্ব ছাড়া কী! তাঁর মন তো আর তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রণে ছিলোনা। অতএব, শুধুমাত্র রোজ প্রেমিককে কাছে পাওয়ার আশাতেই দাসী হিসেবে থেকে গেলেন রাধা দ্বারকাপুরীতে। কৃষ্ণ তাঁর সামনেই ছিলেন, অথচ তাঁর জন্য কৃষ্ণের কাছে কোনো সময় ছিলোনা, রাজ্যপাট সংসার সামলাতে কৃষ্ণ একেবারে হিমশিম। এমনকী, তাঁদের গোপন আলিঙ্গনেও জড়িয়ে থাকতো কুণ্ঠা। যদি কেউ দেখে ফেলে? তাই, একসময় কৃষ্ণের প্রাসাদ ছাড়লেন রাধা। ফিরে গেলেন তাঁর বৃন্দাবনেই। সেখানে কৃষ্ণ নেই, তবুও তাঁর জন্য অপেক্ষা করা রাধার পক্ষে অনেক সহজ। কিন্তু, দ্বারকায় কৃষ্ণ চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও রাধার অন্তহীন অসহনীয় অপেক্ষা ফুরাতোনা, সেই ব্যাথা শ্রীরাধার সহ্য হয় কী করে? এরপরে শ্রীরাধা বহুবছর বৃন্দাবনে কাটালেন শ্রীকৃষ্ণের বিরহ প্রেমকে আগলে একাকী।

বহুবছর পরে রাধা যখন লোকমুখে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কথা শুনলেন তখন তিনি শ্রীকৃষ্ণের দুশ্চিন্তায আবার বেরোলেন পথে। এবার কুরুক্ষেত্রের দিকে।

 তিনি এও শুনলেন যে, কৃষ্ণ যুদ্ধ করছেননা, একথা ঠিক। কিন্তু আগাগোড়াই রয়েছেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাণ্ডবদের পাশে। তাই যুদ্ধে তাঁর প্রিয় পুরুষটির কোনও ক্ষতি হল কি না, সেই ভাবনা থেকেই সম্ভবত কৃষ্ণদর্শনের আকাঙ্ক্ষা দমন করতে পারেননি শ্রীরাধা! যুদ্ধক্ষেত্রে যখন দুজনার আবার দেখা হল, তার মাঝে কেটে গিয় ছে অনেকটা সময়। রাধা তখন বৃদ্ধা! কৃষ্ণেরও বয়স কিছু কম নয়। অথচ, দেখা গেলো যে তাঁদের প্রেম তখনও বিন্দুমাত্র ফুরায়নি। দিনে দিনে কেবল তা বেড়েই গেছে। 

লোকগাথা থেকে জানা যায় যে কৃষ্ণকে দেখার পরে তাঁর বাঁশীর সুর শুনতে শুনতে রাধা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তাঁর কোলে। তিনি জ্যোতিরূপে বিলীন হয়ে যান কৃষ্ণের শরীরে। রাধার প্রেম মর্মন্তুদ, একথা সন্দেহ নেই! যদিও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জানতেন যে তাঁর প্রেম অমর, তিনি রাধার মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে তাঁদের প্রেমের প্রতীকী হিসাবে বাঁশিটিকে ভেঙ্গে জঙ্গলের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দেন। তারপর শ্রীকৃষ্ণ যতোদিন বেঁচে ছিলেন আর কোনদিনও তিনি বাঁশি বাজাননি। কিন্তু, কথিত আছে যে রাধার মৃত্যুর পরে কৃষ্ণ দিন সাতেক আর বেঁচে ছিলেন। একটি গাছের তলায় শ্রীকৃষ্ণ যখন পা ছড়িয়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন হরিণের কান ভেবে ভুল করে এক ব্যাধ তীর মারে তাঁর পায়ে। সেই তীরের আঘাতে শ্রীকৃষ্ণ প্রাণত্যাগ করেন। অন্যমনস্কভাবে, সেই মৃত্যুমুহূর্তে শ্রীকৃষ্ণ তখন কী ভাবছিলেন? শ্রীরাধার কথা? এভাবেই শেষ হয় একটি যুগের অমরপ্রেমের কাহিনী। 

সারাজীবন দুজনে যতই দূরে থাকুন না কেন, রাধা এবং কৃষ্ণ কেউ কখনো নিজেদেরকে আলাদা করে ভাবেননি! আজকের দিনেও রাধাকৃষ্ণ নাম উচ্চারণের সাথেই তো তাঁদের প্রেমের মহিমা ও গভীরতার প্মা ণ মেলে!

কৃষ্ণকে কখনওই রাধা ছাড়া কল্পনা করতে পারা যায় না। রাধা-কৃষ্ণের মধ্যে কোনও বৈবাহিক সম্পর্ক না থাকলেও তাঁদের অতুলনীয় প্রেমকাহিনীর জন্য তাঁরা আজও সকলের কাছে আলোচিত ও পূজিত।

 কোনো অবস্থাতেই রাধা আর কৃষ্ণকে কখনও একে অপরের থেকে আলাদা সত্ত্বা হিসেবে ভাবা যায়না, সে কোনো মন্দির হোক বা কোনো সাহিত্য, ধর্মগ্রন্থেই হোক বা ক্যালেন্ডারে বা ক্যানভাসেই হোক। সর্বদা তাঁরা একসাথে লিখিত, গ্রন্থিত, অঙ্কিত, বর্ণিত ও চর্চিত। মানুষ চিরকাল রাধার পাশে কৃষ্ণকে আর কৃষ্ণের পাশে রাধাকেই দেখে এসেছে। প্রেমের উদাহরণ হিসেবে এখনও রাধা – কৃষ্ণ –কেই ধরা হয়।

আমার মতে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমে শ্রীরাধিকা কোনোদিনও বঞ্চিত হননি এটা হলফ করে বলা যায়। যদিও শারীরিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হতে পারার জন্য সমাজের চোখে তাঁদের প্রেম আজো কলঙ্কিত, তবুও নিজগুণে অলঙ্কৃত ও সমাদৃত। শ্রীরাধিকা এই প্রেম ভালোবাসার গুপ্ত বিষ নিজে জেনেশুনে পান করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণও হাজারো রমণীর সাথে লীলাখেলায় ব্যস্ত থাকলেও শ্রীরাধা ছিলো তাঁর প্রাণের স্পন্দনে ও নয়নের মণিকোঠায়। তাই শ্রীরাধার প্রেমের আগুণে শ্রীকৃষ্ণও আজীবন হাবুডুবু খেয়েছেন, মুহূর্তেও ভুলতে পারেননি শ্রীরাধার সাথে তাঁর মিলনসুখের আনন্দ। তাই তাঁদের প্রেমলীলায় শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীরাধিকা দুজনেই সম দোষে দোষী ও সম গুণে গুণান্বিত। সেইকারণে দু’জনার প্রেমলীলা অবিনশ্বর ও চিরন্তন। 

[জন্মাষ্টমীর পুণ্যলগ্নে আমার এই লেখনী সম্পূর্ণ নিজের ভাবাবেগ থেকে লেখা। এর দায় সম্পূর্ণ আমার। কাউকে দুঃখ দিয়ে থাকলে আমি আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী। সুধী পাঠকদের জানাই অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা]

 

সোমা বসুমল্লিক:

সোমা বসুমল্লিক জন্মসূত্রে ভারতবর্ষ, পশ্চিমবঙ্গের (অধুনা) কোলকাতার বাসিন্দা। মাতা মমতারাণী (যশোর) ও পিতা সুশীল বসু ( খুলনা)। জ্যেষ্ঠভ্রাতা সাহিত্যঅনুরাগী। পরবর্তীজীবনে সমাজকল্যাণের গবেষক শমিত বসুমল্লিকের সহধর্মিণী। এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জননী। কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতকডিগ্রি ও সমাজকল্যাণে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবিষয়ক পড়াশোনা শেষ করেন। দেশ-বিদেশের সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও পরামর্শদাতা হিসেবে নারী-শিশু অধিকার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে আদিবাসী, দলিত, তফসিলি জাতি ও অনুন্নত সম্প্রদায়ের সাথে একাধিক গবেষণা সম্পাদনায় এবং নানাবিধ সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিযুক্ত। অবসরযাপনে বাংলাভাষা সাহিত্যের আলো ঝলমল বারান্দায় ছোটোগল্প, প্রবন্ধ লেখালেখির সাথে কবিতাচর্চায় অনুরাগ বেশী। মৈত্রী ও ভালোবাসার বন্ধনে বাংলাভাষাকে বিশ্বের দরবারে প্রতিষ্ঠিত করাই জীবনের লক্ষ্য।

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু র অন্তর্ধান রহস্য - জয়দীপ গোস্বামী

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু যাঁকে কলি কালের ভগবানের অবতার রূপে অর্থ্যাৎ কলি কালে রাধা এবং রাধারলমণ এর জোড়া তনু বলে মনে করা হয়েছে। আবার অনেক বিদ্বান ব্যাক্তির মতে শ্রীধাম বৃন্দাবন এ কৃষ্ণ প্রেমে জর্জরিত হয়ে শ্রী রাধিকা শ্রী কৃষ্ণের প্রতিক্ষা তে দিন অতিবাহিত করেছেন, তাই ভগবান কেও মর্মাহত অবস্থা তে দেখার জন্য তিনি বলেছিলেন আমি যেমন সারা জীবনভোর হা কৃষ্ণ হা কৃষ্ণ করে অতিবাহিত করলাম তুমিও তেমন পর জনমে রাধা ভাব নিয়ে অবতির্ন হবে।  তাই কলি যুগে ভগবান রাধা এর প্রেম ভাব নিয়ে জন্ম গ্রহণ করলেন। 
  এই বিষয়ে নানা পদকর্তা এবং বৈষ্ণবজীবনিকার দের বিবরণী থেকে অনেক তথ্য লাভ করা যায়। চৈতন্য মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেন শ্রীধাম নবদ্বীপ এ ১৪৮৬ খ্রীস্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারিতে পিতা জগন্নাথ মিশ্র এবং মাতা সচী দেবীর গৃহ আলো করে ইনি জন্মগ্রহণ করেন। বৈষ্ণব সাহিত্য অনুসারে তিথিটা ছিল দোল পূর্নিমা এবং ছিল পুর্নগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। তিনি পপরিপূর্ণ রূপে কৃষ্ণভাবাবেগ নিয়ে জন্মেছিলেন। এবং বাংলা সহ গোটা ভারত কে ভক্তিভাবে প্রেমময় করে তুলেছিলেন। তিনি তাঁর প্রেম ভক্তি প্রচারের জন্য নানা স্থান পরিভ্রমণ করেন।
এই ছিল এই মহান ব্যক্তিত্বের সংখিপ্ত জীবনী। এইগুলো বিভিন্ন সাহিত্য চৈতন্য সমসাময়িক কবিদের রচনা এবং  চৈতন্য পরবর্তি যুগের জীবনিকার দের রচনা থেকে গৃহীত। তিনি প্রায় ১৫০৮ খ্রীস্টাব্দে মাতৃ আজ্ঞা পালনের জন্য পুরী ধামে গমন করেন এবং জীবনের বাকি সময় টুকু ওখানেই অতিবাহিত করেন। এবং সেখানে গিয়েও তিনি তাঁর ভক্তিরস বিতরণ করেন এবং কিছুকালের মধ্যেই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। অনেকেই তাঁর কাছে শিষত্ব গ্রহণ করে অবতার রূপে পুজো করা শুরু করেন কিন্তু তার সেখানে শত্রুর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বিরোধের কারন হিসেবে বলতে গেলে বলতে হয় তিনি বিখ্যাত জগন্নাথ দেবের রথ্যাত্রা তে নীচ জাতির অধিকার কায়েম করেন, তাই বিরোধিতা বাড়তে থাকে। এবং জগন্নাথ দেবের প্রসাদে সবার সমানাধিকরণ এর কথা বলেন। তাই পান্ডা মহলে তাঁর প্রতি বিরোধিতা গড়ে উঠতে থাকে। 
প্রতক্ষ্য ভাবে বিরোধ ঃ 
কলিঙ্গরাজ প্রতাপরুদ্র চৈতন্য দেব এর কাছে শরনাপন্ন হন। দির্ঘ ১৮ বছর পর তিনি রাজা প্রতাপরুদ্র কে দিক্ষা দেন। এবং তিনিও চৈতন্য ভাবাবেগ এ পড়ে রাজ কার্য থেকে বিরত হতে শুরু করেন। এই খবর দ্রুত চারি দিকে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলার মুশলিম শাসক হুমায়ুন পুরী আক্রমণ করলে রাজা প্রতাপরুদ্র কে নিরস্ত্র অবস্থাতে থাকার কথা জানা যায়। ফলস্বরূপ রাজা এবং চৈতন্য দেবের ওপর ক্ষোভের বর্ষন শুরু হয়। রাজার এই যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের কারণে অস্ত্রপ্রস্তুতকারী সঙ্গে রাজার বিরোধ শুরু হয়। চৈতন্য বিরোধী গোষ্টীর নেতৃত্ব দেন রাজার প্রধান মন্ত্রি গোবিন্দ বিদ্যাধর। এবং তারা চৈতন্যদেব কে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। নানান কারণে পুরীর পান্ডাদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। 
অন্তর্ধান সম্পর্কিত রহস্য ঃ
চৈতন্য দেবের অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে অনেক ধারনা লাভ করা যায়। আসল সত্য ঘটনা গুলোকে জনসমক্ষে না আনার জন্য অনেক ভ্রান্ত ধারনাকে তিক্ত ওষুধের মতো গেলানো হয়েছে যাতে কেও পরবর্তি সময়ে কেও প্রশ্ন না করতে পারে। চৈতন্য সমসাময়িক এবং চৈতন্য পরবর্তী আমলের বৈষ্ণব কবিদের রচিত জীবনী থেকে তাঁর অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। 
চৈতন্যা সমসাময়িক কবি কৃষ্ণদাস কবিরাজ এর “ চৈতন্য চরিতামৃত ” গ্রন্থে চৈতন্যদেবর অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে প্রথম অন্তর্ধান শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। কিন্তু তা সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা একখনও লাভ করা সম্ভব হয়নি।
চৈতন্য বিদ্বষী গোবিন্দ বিদ্যাধর এর মতে চৈতন্যদেব বিদ্যুৎ এর মতো সমুদ্রের দিকে ধাবিত হয়ে সমুদ্রের জলে বিলীন হয়ে যান। অনেকে এটাও বলেন যে তিনি ভগবান কে অনুসরণ করতে করতে সমুদ্র এর দিকে ধাবিত হয়ে সমুদ্রে বিলীন হয়ে যান। এবং তাঁর সলীল সমাধী ঘটে। 
কিন্তু সমুদ্র তো কোনোদিনও কারোর দান গ্রহন করেন না, তো চৈতন্যের দেহ কেও লক্ষ করলোনা কেনো। তা নিয়ে কোনো ব্যখ্যা আজও পাওয়া সম্ভব হয়নি। 
চৈতন্য মহাপ্রভু এর সমসাময়িক অনেক কবি ও অনেক ঔপনাস্যিকের রচনা থেকে অনেক কিছু জানা যায় কিন্তু কেও তাঁর অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে সঠিক ব্যখ্যা কেনো দিতে পারেননা। কোনো কবি তাঁর অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পর্কে লিখে যাননি। তাহলে তাঁর দেহের কী হলো হাওয়া তে মিলিয়ে গেলো নাকি। 
চৈতন্য সমসাময়িক কবি “ জয় নন্দ ” র চরিত্র মঙ্গল গ্রন্থে বলা আছে যে চৈতন্যদেব রথের সময় পায়ে হয় কাঠের টুকরো কিম্বা পাথরের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিলেন। যার ফলস্বরূপ পায়ে “ Septicemia ” রোগে আক্রান্ত হন এবং তাঁর মৃত্যু ঘটে। অনেকে এটার সাথে দ্বাপর যুগে ঘটে যাওয়া শ্রী কৃষ্ণের পায়ে ব্যাস দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবর্তন হিসেবে মনে করেছেন। কিন্তু এটাও কী আদেও সত্য তা নিয়েও অনেক জল্পনা আছে। 
বৃন্দাবন দাসের দ্বারা বিরচিত “চৈতন্য ভাগবত ” গ্রন্থে বলেছেন যে চৈতন্য দেব নাকি ছদ্মবেশ নিয়ে পুরী ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কি এমন হলো যার জন্য চৈতন্য দেব পুরী ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন। তাও আজও মানুষের কাছে ধোঁয়াশাবৃত। 
লোচন দাসের চৈতন্য মঙ্গল গ্রন্থে বলা আছে যে ২৯ জুন ১৫৩৩ খ্রীস্টাব্দে বিকেল ৪ ঘটিকা তে শ্রী চৈতন্য দেব এবং তাঁর প্রিয় শিষ্য গদাধর পন্ডিত কে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন।  সেইদিন মন্দিরের দ্বার নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যায় তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। তাঁর বাকি শিষ্য গুলো তার সাথে যেতে পারেননি। তাই লোচন দাস তাঁর রচনা তে উল্লেখ করছেন –
“ আচম্বিতে দ্বার নিজ লাগিলো কপাট ” 
রাত্রি ১১ টার সময় মন্দিরের একজন সেবায়েত মন্দিরের দ্বার খুলে বাইরে অপেক্ষারত ভক্ত দের বলেন, শ্রী চৈতন্য দারু ব্রহ্মে লীন হয়ে গেছেন। তাঁর এই বিলীন হওয়ার দৃশ্য তাঁর বাকি শিষ্য রা দেখে যেতে পারলেননা। কিন্তু তাঁর প্রানহীন দেহের কী হলো তা কেও বলতে পারলোনা। 
বৈষ্ণব দাস তাঁর পুঁথি তে বলছেন যে, তিনি নাকি রাত্রি ১০ দন্ডে চৈতন্য দেবের দেহ গড়ূর স্তম্ভ্যের কাছে দেখেছেন। কিন্তু মন্দির থেকে দেহ বাইরে কী করে আনা সম্ভব হলো অথচ কারোর দৃষ্টিগোচর হলোনা এটা অসম্ভব। 
 বৃন্দাবন দাসের অপ্রকাশিত চৈতন্যভাগবত গ্রন্থে বলা আছে “ আচম্বিতে গদাধর হইলা অন্তর্ধান ”।  এখানে একটা প্রশ্ন ওঠে যে,  চৈতন্যের দেহ যদি দারু ব্রহ্মে লীন ও হয়ে যায় তাহলে তাঁর শিষ্য গদাধর পন্ডিতের কী হলো ? তিনিও কী দারু ব্রহ্মে লীন হলেন?  তো তার দেহের কী হলো?  এই সব প্রশ্নের উত্তর আজও অধরা, আর চির কাল কালের গর্ভে অন্তর্নিহিত থাকবে। 
 কতোগুলো প্রশ্ন মাথার মধ্যে ঘোরা ঘুরি করছে যেই প্রশ্ন গুলো শ্রী  চৈতন্যের অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে প্রচলিত মত গুলোকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা, নাকি মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। একজন মহান মানবের অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে এতো ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে যে তার শেষ কোথায় তা আজও অধরা। 
মন্দিরের দ্বার নিজ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া, দেহের কোনো অস্তিত্ব না পাওয়া, রাত্রি ১০ দন্ডে নিথর দেহ গড়ূর স্তম্ভের কাছে পড়ে থাকা এগুলো কী সত্যি না মানুষের কল্পনা মাত্র না সত্যকে গোপন করার চেষ্টা?  এই সব প্রশ্নের সৃষ্টি গোটা বিষয় টাকে রহস্যাবৃত করে রেখেছে। 
 সুপ্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ডঃ নিহার রঞ্জন রায় ১৯৭৫ খ্রীস্টাব্দের ৫ই আগষ্ট ডঃ জয়দেব মুখার্জি কে একটা চিঠির উত্তরে লেখেন যে, চৈতন্য দেব কে খুন করা হয়, আর একজনের বা একদিনের plan নয় সম্মিলিত ভাবে অনেক দিনের পরিকল্পনা করে খুন করা হয়। কিন্তু কে বা কারা খুনের সাথে জড়িত তা জানলেও স্পষ্ট কোনো ব্যখ্যা দেননি। 
 বাংলার তথা ভারতের এক স্বনামধন্য প্রত্নতাত্ত্বিক  ডঃ জয়দেব মুখার্জি তাঁর রচিত গ্রন্থে স্পষ্ট দাবি করেছেন শ্রী চৈতন্যদেব কে খুন করা হয়। তিনি বলেন ৪টে তে চৈতন্যদেব মন্দিরে প্রবেশ করেন। কিন্তু যেই সময়ের কথা বলা হচ্ছে সেই সময়টা রথযাত্রা এবং উল্টো রথের মধ্যবর্তী সময়ের কথা তো বিগ্রহ গুলো গুন্ডীচা মন্দিরে থাকার কথা তো চৈতন্য দেব কী তা অবগত ছিলেননা? তো তিনি প্রবেশ করলেন কেনো! আর কীকরেইবা দারু ব্রম্ভে বিলীন হয়ে গেলেন তো এই দারু অঙ্গে বিলীন হওয়ার তত্ত্বটি খারিজ করা দরকার। 
 একটা মানুষের কতোবার মৃত্যু ঘটতে পারে, একবার সমুদ্রের জলে বিলীন হয়ে একবার দারু অঙ্গে বিলীন হয়ে! একবার  septicemia রোগে আক্রান্ত হয়ে! এগুলো কী?  নিজের মন গড়া তত্ত্ব চাপিয়ে এতোদিন একটা খুনকে সবার দৃষ্টিগোচরে না আসতে দেওয়া। 
 ডঃ জয়দেব মুখার্জি তাঁর চৈতন্য অন্তর্ধান সম্পর্কিত গ্রন্থ “ কাঁহা গেলে তোমা পাই ” বলেন চৈতন্য বিরোধী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন রাজা প্রতাপরুদ্রের মন্ত্রী গোবিন্দ বিদ্যাধর। এবং বহু পপরিকল্পনার পর স্থির হয় যে কীভাবে চৈতন্যদেব কে হত্যা করা হবে। চৈতন্যদেব কে হত্যা করার দায়িত্ব পান মন্দিরের দ্বাররক্ষী দের দলপতি এবং চৈতন্যবিদ্বেষী গোষ্ঠীর অপর নেতা দিনবন্ধু পতিহারি। তিনি আরও বলেন যে এতোক্ষন পর দ্বার খোলার কারণ মৃতদেহ গুলো কে মাটিতে পুঁতে মন্দির গাত্র আগের মতো ফিরিয়ে আনতে সময় লাগে এতখন। তিনি আরও বিস্তারিত ধারণা দেন যে, শ্রী  চৈতন্যদেব কে পেছন থেকে স্বাসরোধ করে মারা হয়। আর তার শিষ্য গদাধর এরও পরিনতি একই হয়। অকালেই চলে যেতে হয় দুইজন মহান মানব কে।  
 ডঃ জয়দেব মুখার্জি এর এই তত্ত্ব বাইরে প্রকাশ হওয়া মাত্রই বাইরে চর্চার সৃষ্টি হয়। চৈতন্য অন্তর্ধান রহস্য আবারও মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে শুরু করে। তাই হয়তো কোনো একগোষ্ঠী তার এই মত কে মেনে নিতে পারেননি তাই হয়তো এই খ্যাতনামা ঐতিহাসিক কেও ১৯৯৫ খ্রীস্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল  অকালে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে হয়। তার মৃত্যু রহস্য আজও অধরা। তাঁকেও মরতে হয়েছে একপক্ষের সাজানো  পাপের রাজত্বে অনিষ্ট সৃষ্টি করার জন্য। 
ডঃ নিহার রঞ্জন রায় প্রথম এই গুম খুন তত্ত্বের কথা বলেন, শুধু তাই নয় খদেন্দ্রনাথ মিত্র, গিরিজা শংকর রায়চৌধুরী, ডঃ অমুল্যচন্দ্র সেন, ঔপন্যাসিক সমরেশ বসু প্রমুখ এই গুম খুন তত্ত্বকে সমর্থন করেন। এবং এই তত্ত্ব নিয়ে কাজ করতে চাইলে ডঃ সুণিতী কুমার চট্টোপাধ্যায়  কে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। 
 
পরবর্তী কালের একজন কবি ডঃ দীনেশ চন্দ্র সেন তার রচনা “ Chaitnya and his age ”  গ্রন্থে জয়দেব মুখার্জি কে লেখা নিহার রঞ্জন রায় এর চিঠির উল্লেখ করেছেন। তিনি তার গ্রন্থে জয়দেব মুখার্জি এবং নিহার রঞ্জন  রায় এর কথোপকথন এর একটা উধৃতি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লেখেন যে, অনেক পরিকল্পিত এবং পরিমার্জিত রূপের পরিনতি হলো এই গুপ্ত হত্যা,  দিনবন্ধু পতিহারি নামক এক দ্বাররক্ষী দের দলপতি কে দায়িত্ব দেওয়া হয় এই গুপ্ত হত্যা সম্পন্ন করার জন্য। ১৫ই আগষ্ট ১৫৩৩ বা ২৯ এ আগষ্ট ১৫৩৪ খ্রীঃ এ বিকেল ৪ ঘটিকাতে শিষ্য গদাধর কে নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন এবং ৪ ঘটিকা  থেকে রাত্রি ১১ ঘটিকার মধ্যে এই খুন টি করা হয়। আমি এ বিষয়ে তোমাকে বিশেষ সাহায্য করতে পারবো না আমি এখনও কয়েকদিন বাঁচতে চাই এই বলে তিনি পত্র সমাপ্ত করেন। তিনি চাইলে প্রকাশ করতে পারতেন কিন্তু তিনি কেনো এই তথ্য প্রকাশ করলেননা তা আজও জানা সম্ভব হয়নি।  
গুম খুন তত্ত্বের সত্যতা বিচার করতে গেলে বলতে হয় যে কিছু বছর আগে  ১৯৯৯ সালে  Archeological survey of India মন্দিরে খনন কাজ চালানোর ফলে  জগন্নাথ দেবের এর মন্দির সংস্কার করার সময় মন্দির গাত্র থেকে একটা মরদেহ আবিষ্কার করা হয়, যার উচ্চতা ছিলো কমপক্ষে ৬ ফুটের কাছাকাছি। মাথায় এবং পায়ে তীব্র আঘতের চিহ্ন আছে। আঘাত গুলোর কারনেই যে মৃত্যু সেটা নিশ্চিত। এবার প্রশ্ন মরদেহ টা কার সে নিয়ে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। কেও মনে করছেন এটা শ্রী চৈতন্যদেব এর! আবার কেও বলছেন এটা তাঁর শিষ্য গদাধরের। মরদেহটা কার তা আজও জানা যায়নি। মরদেহ টার DNA পরিক্ষার মাধ্যমে জানা সম্ভব হবে ওটা কার। কিন্তু তা এখনও করা সম্ভব হয়নি।
আবার এটা বলা যায় কোথাও স্পষ্ট করে এটা বলা নেই যে শ্রীচৈতন্য দেব কোন মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন যদি তিনি সিংহদ্বার এর ভেতরে প্রবেশ করেন আর অকস্মাৎ দরজা বন্ধ হয়ে যায় তো শ্রীচৈতন্য দেব কে অনায়াসে অন্য কোনো দ্বার দিয়ে বাইরে নিয়ে গিয়ে বা মন্দিরের ভেতরেই অন্য কোনো স্থানে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আবার যদি মুল মন্দিরে প্রবেশ করেন তার পর দরজা বন্ধ করা হয় তো মরদেহ বাইরে কীকরে নিয়ে আসা হলো তা আজও রহস্যাবৃত। 
শ্রীচৈতন্য দেবের অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পর্কে অনেকেই তাঁদের মত প্রকাশ করেছেন। ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রাক্তন সচিব স্বামী অভিভানন্দজী র মতে দারু বিগ্রহের রত্ন সিংহাসনের নীচে সমাহিত করা হয় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রানহীন দেহ। দীনেশচন্দ্র সেন এরও একই বক্তব্য। জয়দেব মুখার্জি বলেন তোতা গোপিনাথ মন্দিরে সমাহিত করা হয় তাদের দেহ। * উল্লেখ্য যদি দ্বার বন্ধই থাকে তো দেহ বাইরে বের করা সম্ভব হলো কীকরে বা কারোর নজরেই কেনো পড়লোনা। অধ্যাপক সদাশিব শর্মা এর মতে গোপিনাথ মন্দিরের বাঁধানো উঠোনের পাশে  দুটি তুলসীমন্ডপের মধ্যে অপেক্ষাকৃত পুরোনোটি শ্রীচৈতন্যদেব এর সমাধি মন্দির। 
কিন্তু হায় যুগাবতার প্রেমের ঠাকুর প্রানের ঠাকুর শ্রীচৈতন্য দেব এর অন্তিম পরিণতি সম্পর্কে সঠিক ব্যখ্যা আজও পাওয়া যায়না সবই পরিক্ষা সাপেক্ষ। যতোদিন না পরিক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে সঠিক তথ্য বাইরে প্রকাশিত না হচ্ছে ততোদিন এই ধোঁয়াশা মিটবে না। 

অথ সিদ্ধলক্ষ্মী তন্ত্র কথা - ইন্দ্রনীল ব্যানার্জী

অথ সিদ্ধলক্ষ্মী তন্ত্র কথা:


প্রাচীন ভারতের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই সুদূর বৈদিক যুগ থেকেই মাতৃ উপাসনা ভারতীয় সভ্যতার অন্যতম অঙ্গ রূপে বিবেচিত। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর পোড়ামাটির বহু মাতৃমূর্তি এর সাক্ষ্য বহন করে চলে। ঊষা, অদিতি, গায়ত্রী এবং সাবিত্রীর মতোই দেবী লক্ষ্মীও স্থান পেয়েছিলেন ঋগ্বেদীয় সাহিত্যে। হিন্দুশাস্ত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় দেবী কমলা তথা লক্ষ্মী নানা রূপে পূজিতা হয়ে আসেন তান্ত্রিক, বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মে। আজকের লেখার প্রধান বিষয় বস্তু দেবী লক্ষ্মীর এক তান্ত্রিক রূপ যা বৌদ্ধ বজ্রযান শাখার অন্যতম শক্তিরূপিনী দেবী। ঋগবেদীয় শ্রীসূক্তে উল্লেখ আছে – 
 
सिद्धलक्ष्मी मोक्षःलक्ष्मी जयःलक्ष्मी सरस्वती।
श्रीलक्ष्मीः वरलक्ष्मी च प्रसन्ना मम् सर्वदा।।
 
দেবী লক্ষ্মীর যেরূপ আজ আমাদের শাস্ত্রে বিস্তৃতপ্রায় তিনি হলেন দেবী সিদ্ধলক্ষ্মী। আদিশক্তির এই রূপে দেবী অগাধ ঐশ্বর্য্য ও সম্পদ তার উপাসককে প্রদান করে থাকে। বজ্রযান শাখার এই দেবীর সঙ্গে দেবী ললিতা বা মহাত্রিপুরসুন্দরী দেবীকে অভিন্ন বলে মনে করা হয়। শাস্ত্রমতে, দেবী মহাসরস্বতী সাত্ত্বিক, দেবী মহালক্ষ্মী রাজসিক এবং পার্বতী তথা দেবী মহাকালী তামসিক গুণসম্পন্না হলেও দেবী সিদ্ধলক্ষ্মী তার আপন মায়ায় ত্রিগুণাতীতা অর্থাৎ তিনি এই ত্রিগুণের অনেক ঊর্দ্ধে অবস্থান করেন। প্রাচীন বৌদ্ধ বজ্রযান শাখায় সিদ্ধলক্ষ্মীতন্ত্র তান্ত্রিক বিদ্যার সর্বাপেক্ষা উচ্চতন্ত্র রূপে পরিগণিত হয়। 
 
নাম-মাহাত্ম্য :  
বজ্রযান শাখার এই তান্ত্রিক দেবীর নামটিকে বিশ্লেষণ করলে আমরা দুটি প্রধান অংশ পাই – সিদ্ধি এবং লক্ষ্মী। সিদ্ধি এই শব্দটি থেকে যেকোনো শাখার উপাসকদের উপাসনার চরম সফলতার নির্দিষ্ট হয় তথা লক্ষ্মী এই শব্দটি থেকে বোঝা যায় যে জাগতিক যেকোনো সুখ এবং ঐশ্বর্য্য দেবী অনায়াসেই প্রদান করতে সক্ষম। সুতরাং, নামের এই অর্থ থেকে বোঝা যায় এই দেবী তান্ত্রিক উপাসকদের কাছে কল্পবৃক্ষসম।
 
মূর্তিতত্ত্ব ও রহস্য :
প্রাচীন বজ্রযান শাখার তান্ত্রিক পুঁথিগুলির বিশেষ কিছু পৃষ্ঠাতে এই দেবীর ধ্যান ও মন্ত্রের উল্লেখ আছে। দেবীর স্বীয় চরণতলে বিরাজমান আকাশভৈরব এবং বজ্রভৈরব প্রকারান্তরে মহাকাল এবং সদাশিবরূপী বিষ্ণু। দেবীর পাঁচটি মস্তক যথাক্রমে: সাত্ত্বিক, রাজসিক, তামসিক, ত্রিগুণাতীতা এবং অজ্ঞাতশক্তির প্রতীক। দেবী দশভূজা। দেবীর বাম হস্তগুলিতে বিদ্যমান – পাশ, ত্রিশূল, খড়্গ, নরমুণ্ড এবং বিন্দুকপাল মুদ্রা। তাঁর দক্ষিণ হস্তগুলিতে বিদ্যমান – তরবারি, বজ্রকীলক, ঘণ্টা, অভয় মুদ্রা এবং করোটি পাত্র। দেবীর শীর্ষে শোভা পায় অর্ধচন্দ্র এবং গলায় শোভা পায় বহু রত্নখচিত অলংকারের সাথে করোটি মালা। আকাশভৈরব দেবীর দুই চরণকে আপন হস্তে ধারণ করে বজ্রভৈরবের ওপরে বিদ্যমান। 
 
পুরাণকথা :
কৌলসিদ্ধতন্ত্রে দেবী মহালক্ষ্মী দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে কৈলাশে দেবী পার্বতীর কাছে আসেন। তিনি দেবীকে প্রশ্ন করেন – আমরা সবাই এক মহাপ্রকৃতির অংশ হলেও স্বয়ং রূপে কেন পরিপূর্ণ নই? ঠিক একই প্রশ্ন নিয়ে সেইস্থানে উপস্থিত হন দেবী মহাসরস্বতী। দুই দেবীর প্রশ্নের দেবী পার্বতী হেসে উত্তর দেন – আমরা সকলেই এই গোটা বিশ্বের পরিপালন কার্য হেতু তিনটি গুণের রূপক মাত্র। এই ত্রিগুণের সম্মিলিত মায়াশক্তি যোগমায়া নামে এই ব্রহ্মাণ্ডে পরিব্যাপ্ত। আমরা শুধু এই মায়ার অংশ বিশেষ। এই মায়ায় ত্রিধা বিভক্ত হয়ে ব্রহ্মমায়া, বিষ্ণুমায়া এবং রুদ্রমায়াতে পরিণত হয়। সমগ্র বিশ্বের পরিপালন হেতু এই মায়ায় সৃজন, পরিপালন এবং সংহার করে থাকেন। ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বর এই মায়াশক্তিকেই অবলম্বন করে ত্রিদেব রূপে জগতে আপন কার্য সম্পাদন করেন। এই মায়া আমাদের সবাইকে জানলেও আমরা এই মায়ার সম্পূর্ণ অংশ সম্পর্কে অবগত নই। দেবী তাই পঞ্চাননা। তার প্রথম তিনটি আনন দিয়ে তিনি আমাদের তিনজনকে প্রকাশ করেন, চতুর্থ আননে তিনি ত্রিগুণাতীতা অর্থাৎ সকল মায়ার ঊর্দ্ধে এবং পঞ্চম আননে তিনি অজ্ঞাত শক্তির পরিচায়ক রূপে পরিচিতা হন। এই ত্রিগুণাতীতা মায়াশক্তির ঊর্দ্ধে বিচরণকারী যোগমায়া সর্বদা তাঁর ভৈরবগণ দ্বারা ছেদিতা এবং পরিবেষ্টিতা। স্থিতিকাল এবং সংহারকাল রূপে স্বয়ং সদাশিব এবং মহাকাল দেবীর চরণে বিরাজিত। ইনি আমাদের পরমজননী মূল প্রকৃতি। এই দেবীর ইচ্ছাতেই আমরা আমাদের স্বীয় কার্য সম্পাদন করি এবং আমরা প্রত্যেকেই স্বীয় স্বীয় ক্ষেত্রে স্বয়ং এবং সম্পূর্ণ। 
 
বজ্রযান এবং সিদ্ধলক্ষ্মীতন্ত্র: 
বজ্রযান শাখার উপাসকগণ সিদ্ধলক্ষ্মী সাধনায় মূলত তিনটি ক্রমে উত্তীর্ণ হন। সর্বনিম্ন ক্রমটি মহালক্ষ্মী সাধনা রূপে পরিচিত। এক্ষেত্রে দেবী সাধককে বিশুদ্ধ ঐশ্বর্য্য দান করেন। পরবর্তী ক্রমে সাধকগণ শ্রীবিদ্যার উপাসনা করেন। এই ক্রমের প্রধান দুই শক্তি দেবী ললিতা এবং দেবী কমলা সাধককে করে তোলে আত্মশক্তিতে পরিপূর্ণ। এই দুই ক্রমের সাধনা সম্পূর্ণ হলে সাধক তৃতীয় ক্রমে যাবার অনুমতি পায়। এইখানে সাধক তার আপন চিত্তের ভাব অনুসারে দেবীকে রাজরাজেশ্বরী সিদ্ধলক্ষ্মী অথবা সিদ্ধলক্ষ্মী ডাকিনী রূপে আরাধনা করেন। এই সর্বশেষ স্তরে অন্তিম সাধনায় সাধক এই ত্রিগুণাতীত মায়ার বন্ধন ত্যাগ করে দেবীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান। মূলত শাক্ত এবং শৈব তীর্থের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা নেপালে আমরা এই সিদ্ধলক্ষ্মী ট্র্যাডিশন লক্ষ্য করে থাকি। নেপালের এই পবিত্র ভূখণ্ডে একাধারে পশুপতিনাথ এবং দেবী গুহ্যেশ্বরীর আরাধনার সাথে সাথে বহু প্রাচীনকাল থেকেই বজ্রযানের তান্ত্রিক শাখায় সিদ্ধলক্ষ্মীর উপাসনা আজও সমভাবে বিদ্যমান।
 
 
 
Laxmi Tantra - The Indian Rover
Laxmi Tantra

ভক্তি-সংজ্ঞান - শ্রীরূপ বিট

জীবন মানেই সমস্যা সমাধানরূপ গণিতের খাতা, যার হিসাব রাখাও এক কঠিন কর্ম ব্যতীত আর কিছুই নয়। তাই এই সমস্যা সমাধানের মেলবন্ধনের ভারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে গতকাল প্রাত ভ্রমণে বেড়িয়েছিলাম। ঘুরতে ঘুরতে নিজের চতুর্দিকের ব্যস্ত সমাজের ভিন্ন ভিন্ন কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করতে লাগলাম। হঠাৎ করে নিকটবর্তী একটি কালী মন্দির আমার নয়নগোচর হলো। দেখলাম সেখানে অনেক ভক্তের সমাগম ঘটেছে। মন্দিরের নিকটে থাকা একটি বটবৃক্ষে তাদের মাঝে অনেকেই নিজ নিজ মানসিক ইচ্ছা পূরণের কামনার্থে একপ্রকার সুতো বাঁধছে। আমি তাদের মাঝে একজনকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলাম যে, মন্দির মধ্যস্থ দেবী খুবই জাগ্রত তাই তার নিকট যা চাই, তাই পাওয়া সম্ভব। সেই ব্যক্তির কথা শুনে আমিও মন্দিরস্থ মায়ের সম্মুখে দন্ডায়মান হলাম এবং তাকে একখানি প্রশ্ন আমি মন থেকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, “হে মা! শয়ে শয়ে ভক্ত তোমার নিকট আসে কিছু না কিছু কামনার্থে, তাদের মধ্যে আমিও একজন। কিন্তু আমার কামনা শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর মাত্র,আর সেই প্রশ্নটি হলো যে, এতো ভক্ত সমাগমে সকলের ইচ্ছাই দেখি তুমি পূর্ণ করো, তবে কি সকলেই তোমার পরম ভক্ত? সকলের হৃদয় কি তোমার প্রতি পরম ভক্তি দ্বারা সিক্ত? কৃপাপূর্বক উত্তরখানি আমায় দাও মা!” এরূপ ইচ্ছা জ্ঞাপনের সহিত আমি যেই আদ্যাশক্তির মৃন্ময়ী রূপকে শ্রদ্ধাপূর্বক প্রণাম করতে লাগলাম, তখনই এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গেলো। আমার মনে মহাভারতের কাহিনীর এক ক্ষুদ্র অংশ হঠাৎ করে ভেসে উঠলো।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কিছুদিন পূর্বে যখন সবার পক্ষ নির্বাচন সমাপ্ত হয়েছিল, তখন শুধুমাত্র একজনেরই পক্ষ নির্বাচন করা বাকি ছিল, আর তিনি ছিলেন যাদবশ্রেষ্ঠ বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ। যেহেতু সমগ্র আর্যাবর্তে অলৌকিকতা, রণনীতি তথা চতুরতার জন্যে তিনি সম্মানের এক উচ্চ আসনে আসীন ছিলেন সেহেতু উভয়পক্ষই তাঁকে পাবার জন্য উদ্যোগী হয়ে উঠেছিল। ঠিক সেইকারণেই একদা যখন বাসুদেব নিজ কক্ষে শয়নরত অবস্থায় যোগনিদ্রায় মগ্ন ছিলেন, সেইক্ষণে কৌরবদের হয়ে দুর্যোধন এবং পাণ্ডবদের হয়ে অর্জুন তাঁকে পাবার কামনার্থে সেই কক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন। যদিও বা অর্জুন পূর্বেই এসে দেখেন যে, তাঁর ভ্রাতা দুর্যোধন বাসুদেবের মস্তকের নিকটে রাখা আসনে বসে অপেক্ষা করছিলেন। যদিও সেই আসনের পাশে আরেকটি আসন রাখা ছিল তবুও অর্জুন বাসুদেবের চরণের নিকটে নিজ আসন গ্রহণ করলেন। নিদ্রাভঙ্গ করে বাসুদেবের প্রথম নয়নগোচর হয়েছিলেন অর্জুন যার কারণে তিনি তাঁকে ইচ্ছা প্রকাশ করার প্রথম সুযোগ দিয়েছিলেন। যদিও বা বাসুদেব নিজেকে একদিকে আর অপরদিকে নিজের এক অক্ষৌহিনী নারায়ণী সেনা(যার প্রতিটি সেনা ছিল এক একজন মহারথী সমতুল্য যোদ্ধা) রেখেছিলেন, যাতে উভয় পক্ষ খালি হাতে না ফেরে। অর্জুন সুযোগ পেয়ে বাসুদেবকেই নির্বাচন করেছিলেন যদিও বাসুদেব এই যুদ্ধে নিরস্ত্র থাকার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। অপরদিকে দুর্যোধন নারায়ণী সেনা পেয়ে হতাশ হবার পরিবর্তে দ্বিগুণ আনন্দিত হয়েছিলেন। 
 
এই ছিল সেই কাহিনীর অংশ। কিন্তু এর মাঝে তৎক্ষণাৎ এক সুন্দর বার্তা আমি উপলব্ধি করেছিলাম যা ছিল আমার প্রশ্নের উত্তর। আমি অনুভব করলাম যে,
দুর্যোধন ও অর্জুন উভয়েই বাসুদেবের কাছে এসেছিলেন এক প্রার্থনা নিয়ে, কিন্তু উভয়ের প্রার্থনা এক হলেও তাদের ভিত্তি ছিল সম্পূর্ণরূপে পৃথক। দুর্যোধনের অন্তরে ছিল যতটা যুদ্ধে পরাজয়ের ভীতি ততটাই ছিল জয়লাভের লালসা যার কারণে বাসুদেবকে না পেয়েও তিনি নারায়ণী সেনা পেয়ে দ্বিগুণ আনন্দিত হয়েছিলেন। ঠিক একইরকমভাবে, সমাজেও বহুজনেই ঈশ্বরের নিকট আসেন ঠিকই, কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকের অন্তরে থাকে কিছু হারাবার ভীতি অথবা কিছু পাবার লালসা ঠিক দুর্যোধনের ন্যায়। আর এই ভীতি ও লালসার উৎসই হলো দম্ভ বা “অহং”ভাব যা ছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মাথার নিকটে রাখা সেই আসনের প্রতীক, যে আসন দুর্যোধন নিজের জন্য নির্বাচন করেছিলেন। আর সেই আসন নির্বাচনের ফলে মনের মাঝে নিজ স্বার্থের জন্যে উৎপন্ন হয়েছিল যেসকল বিভিন্ন ইচ্ছা, তার প্রতীক ছিল ওই এক অক্ষৌহিনী নারায়ণী সেনা। কিন্তু অপরদিকে, অর্জুন মাথার নিকটে রাখা অন্য আসন না গ্রহণ করে তিনি বাসুদেবের চরণের নিকটে নিজ আসন গ্রহণ করলেন অর্থাৎ, তিনি আপন দম্ভ বা “অহং” ভাবকে ত্যাগ করে যে আসন চরণের নিকট গ্রহণ করলেন সেই আসনই ছিল সমর্পণের প্রতীক, যা ছিল ভক্তির মূল স্তম্ভ। এককথায়, তিনি এই সুন্দর শিক্ষা প্রদান করলেন যে, নিজের দম্ভ ত্যাগ হতে নিজেকে সমর্পণ আর সেখান হতেই ভক্তির সূত্রপাত। যেকারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রথম নয়নগোচর হলেন অর্জুন, দুর্যোধন নয়। তদ্রূপ, বিপুল আগত ভক্তদের মাঝে খুব কম ভক্তই থাকেন যারা আপন দম্ভ ত্যাগের মাধ্যমে নিজেকে সেই সমর্পণের আসনে বসাতে সক্ষম হন ঠিক অর্জুনের মতো।এককথায় বলা যায়, দম্ভের আসনে বসা ভক্তদের ঈশ্বর তাদের ঈপ্সিত বস্তু দিয়ে দুর্যোধনের ন্যায় প্রসন্ন করে দেন ঠিকই, কিন্তু নিজেকে ধরা দেন সেই সমর্পণের আসনে অধিষ্ঠিত অর্জুনের ন্যায় ভক্তদের নিকট, আর তখনই তিনি হয়ে ওঠেন ভক্তের ভগবান। সাথে সাথেই শ্রীমদ্ভগবদগীতার সেই শ্লোকার্থ বোধগম্য হলো:
 
“যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম।
মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।
      ( গীতা-৪র্থ অধ্যায় শ্লোক নং-১১.)
 
অনুবাদঃ- যিনি যে ফললাভের জন্য আমার উপাসনা করেন,আমি তাকে সেই ফল দিয়েই তুষ্ট করি-
অর্থাৎ সকামকে তার কাম্যফল, নিষ্কামকে মুক্তি দান করি। হে পার্থ মনুষ্যগণ সর্বতোভাবে আমার পথেরই অনুসরণ করে।।”
 
ধীরে ধীরে বুঝলাম, ভক্ত সমাগম প্রচুর হলেও ভক্তির সমাগম হয় অত্যন্ত কিঞ্চিৎ। অধিকাংশ অন্তরে চাওয়া পাওয়ার টানাপোড়েনে সমর্পণের ভাবখানির বড়ই অভাব পড়ে যায়। আর যে অন্তরে এই বিশেষ মহাভাবখানির আতিশয্য ঘটে সেই অন্তর সিংহাসনেই স্বয়ং ঈশ্বর ভক্তিরসে অভিষিক্ত হয়ে বিরাজিত হন। আর পরিণামে উপলব্ধ হয় গীতার অমৃত বাণী:
 
“ময্যেব মন আধত্স্ব ময়ি বুদ্ধিং নিবেশয়৷
নিবসিষ্যসি ময্যেব অত ঊর্ধ্বং ন সংশয়ঃ৷৷
          ( অধ্যায় – ১২ ; শ্লোক – ৮ )
 
অর্থ:  অতএব আমাতেই তুমি মন সমাহিত কর, আমাতেই বুদ্ধি নিবিষ্ট কর। তার কারণ তুমি নিশ্চয়ই আমাকে প্রাপ্ত হবে। সে সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নাই।”
 
পাপের ভার বৃদ্ধির ভয় বা পুণ্যের ভার বৃদ্ধির লোভে তার সম্মুখে মাথা নত করা এবং পাপ ও পুণ্যের বিচার উপেক্ষা করে ভালোবাসার জন্য ভালোবাসি বলে তার প্রতি হৃদয় নত করার মাঝে যে বিস্তর পার্থক্য – ইহাই আমায় ইঙ্গিতের মাধ্যমে জগজ্জননী মাতা বোধগম্য করালেন। আমি প্রফুল্ল চিত্তে পুনরায় মাকে প্রণামের মাধ্যমে নিজের শ্রদ্ধা অর্পণ করে মন্দির থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আসার সময় মন্দির সংলগ্ন এলাকায় একটা অটো ধরে বাড়ির পথে আসতে লাগলাম। আর অটোতে সেই মুহূর্তে বাজছিল এক বিখ্যাত শ্যামা সঙ্গীত, যা ছিল আশ্চর্যভাবে আমার ভাবনার সাথে সম্পূর্ণরূপে মিলিত। তারই মাঝে বিশেষ কিছু লাইন ছিল :
 
“আমার তাইতো লাগে ভয়..
 প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে.. 
 হই বুঝি বা ক্ষয়..
 ওরে যেন ভুলিস না..
 তোর দয়াময়ী মা..
 তার রক্তমাখা কালো রূপে..
 ঘুচায় কালিমা..
 ও মন তাই বলি আয়..
 ঐ রাঙা পায় করি আত্মসমর্পণ..
 মায়ের পায়ের জবা হয়ে ওঠনা ফুটে মন..”
 
 
 
লেখক : শ্রীরূপ বিট
 
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : 
লেখক নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতক ( সংস্কৃত অনার্স)। লেখালেখি করা একপ্রকার শখ। রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ ভাব প্রচার পরিষদ (পশ্চিম মেদিনীপুর) থেকে পূর্বে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় কিছু পত্রিকায় লেখা বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে। লেখা ছাড়াও বই এক অন্যতম সঙ্গী। ভবিষ্যতে জগতকে আপন দৃষ্টিকোণ ও ভঙ্গিমায় কলমের মাধ্যমে তুলে ধরতে প্রচণ্ড আগ্রহী।

মহাভারত ও তিনজন বাঙালি লেখক - সুমন ব্যানার্জি

১.
  পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক সাহিত্য হল মহাভারত। মহাভারতের অনন্যতা এখানেই যে এটি নিছক মহাকাব্য নয়, সুপ্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির সমস্ত পরম্পরার চিহ্ন রয়েছে এই সুবিপুল গ্রন্থে।বৈদিক,ঔপনিষদিক, পৌরাণিক – ভারতীয় সাহিত্যের এই প্রধান তিনটি স্রোত এক তরঙ্গ দৈর্ঘ্যে এসে মিশেছে মহাভারতের মধ্যে।
     বাংলা সারস্বত সমাজে ঊনবিংশ শতক থেকেই  মহাভারত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চর্চা শুরু হয়।এর অনেক আগে কাশীরাম দাস মহাভারতের অনুবাদ (এর অনেকটাই ভাবানুবাদ।যার নাম ”ভারত পাঁচালী” এবং তিনি সম্পূর্ণ অনুবাদ করেননি।) করেছিলেন।এরপর কালীপ্রসন্ন সিংহ মহাভারতের অনুবাদ করেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারত নিয়ে সৃষ্টিশীল সাহিত্যে অনেক কিছু লেখেন।আসলে ঊনবিংশ শতকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির হাত ধরে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যাচর্চা শুরু হয়েছিল।ফলে মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সমাজের পরিমন্ডলে অতীত সংস্কৃতির প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়। এঁদের মধ্যে উনিশ শতকের দু’জন পুরোধা প্রতিম ব্যক্তি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিংশ শতকের বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক বুদ্ধদেব বসু’র মহাভারত চিন্তা নিয়ে আমরা এই প্রবন্ধে আলোকপাত করব।

২.
   বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত “কৃষ্ণচরিত্র” ১৯ শতকের জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের একটি স্বর্ণফলকের মত।বঙ্কিমের মুখ্য উদ্দেশ্য হল কৃষ্ণ’কে একজন আদর্শ জাতীয় চরিত্র হিসাবে উপস্থাপিত করা। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে আলোচনা এই প্রবন্ধের অন্বিষ্ট নয়।এই গ্রন্থেই তিনি মহাভারতের ঐতিহাসিকতা নিয়ে দু’টি নিবন্ধ লেখেন। পাশাপাশি পান্ডব, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ ও কৃষ্ণের ঐতিহাসিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।তিনি লিখেছেন যে প্রাচীনকালে একমাত্র মহাভারত ও রামায়ণ ই ইতিহাসের মর্যাদা পেয়েছে।তবে ইতিহাস বলতে কি শুধুই পশ্চিমী ছকে হিস্ট্রি ? মহাভারতে এমন অনেক কাহিনী আছে যেগুলি আপাতভাবে অলীক, অবাস্তব,অনৈসর্গিক তাই একটা দৃষ্টিতে অনৈতিহাসিকও।এই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন যে –
“রোমক ইতিহাসবেত্তা লিবি প্রভৃতি, যবন ইতিহাসবেত্তা হেরোডোটাস্ প্রভৃতি, মুসলমান ইতিহাসবেত্তা ফেরেশতা প্রভৃতি এইরূপ ঐতিহাসিক বৃত্তান্তের সঙ্গে অনৈসর্গিক এবং অনৈতিহাসিক বৃত্তান্ত মিশাইয়াছেন।তাঁহাদিগের গ্রন্থ সকল ইতিহাস বলিয়া গৃহীত হইয়া থাকে — মহাভারতই অনৈতিহাসিক বলিয়া একেবারে পরিত্যক্ত হইবে কেন ?”

     আসলে বঙ্কিম প্রশ্ন করেছেন ইউরোপীয় ইতিহাসের আলোকে ভারতের সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে দেখার সীমাবদ্ধতা। তিনি দেখিয়েছেন যে ইউরোপের অনেক উপন্যাসে অলীক,অনৈসর্গিক কাহিনী আছে কিন্তু সেগুলি ইতিহাস হিসাবে পরিগণিত হয় অথচ মহাভারতের বহু শ্লোকে তা নেই।তা সত্ত্বেও মহাভারত নিছক কাব্য কেন ? আসলে সবদেশেরই ইতিহাস কাল্পনিকতা দোষে দুষ্ট হয়েছে। মহাভারতও তার ব্যতিক্রম নয়।কারণ মহাভারতের লেখক অনেক জনশ্রুতির ওপর নির্ভর করে অনেক কাহিনীকে একত্রিত করেছেন।তাই অলীক কল্প কাহিনীর অনুপ্রবেশ ঘটেছে। তাঁর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণটি হল যে – ভারতবর্ষ কখনই ব্যক্তি লেখককে নয় গুরুত্ব দিয়েছে লেখক সংঘকে। তিনি লিখেছেন যে –
“অন্য দেশের লেখকেরা আপনার যশ বা তাদৃশ অন্য কোন কামনার বশীভূত হইয়া গ্রন্থ প্রণয়ন করিতেন।কাজেই আপনার নামে আপনার রচনা প্রচার করাই তাঁহাদিগের উদ্দেশ্য ছিল, পরের রচনার মধ্যে আপনার রচনা ডুবাইয়া দিয়া আপনার নাম লোপ করিবার অভিপ্রায় তাঁহাদের কখনও ঘটিত না। কিন্তু ভারতবর্ষের ব্রাহ্মণেরা নিঃস্বার্থ ও নিষ্কাম হইয়া রচনা করিতেন।লোকহিত ভিন্ন আপনাদিগের যশ তাঁহাদিগের অভিপ্রেত ছিল না।”

     মহাভারত’কে শুধুই কাব্য বলেছেন ইউরোপীয়রা।আসলে এটা অংশত সত্য। সর্বপ্রকার সংস্কৃত গ্রন্থই তো পদ্যে লেখা। ইউরোপীয়রা সে সৌন্দর্যকে এপিকের লক্ষণ হিসাবে তুলে ধরেন সেই রকমের সৌন্দর্য ইউরোপের বহু ইতিহাসেও পাওয়া যায়। মানবচরিত্রের বর্ণনা করতে গেলে সৌন্দর্য দর্শনের প্রয়োজন সেই অনুষঙ্গ কাব্যে ও ইতিহাস উভয়তেই পাওয়া যায়।যেমন – ইংরেজের মধ্যে মেকলে, কার্লাইল,ফ্রুদ ; ফরাসিদের মধ্যে লামার্তিন,মিশালা প্রমুখের লেখায় তা আছে।কাজেই এগুলি যদি অনৈতিহাসিক না হয় তবে মহাভারত হবে কেন ? বস্তুত ইউরোপীয়দের উদ্দেশ্যই হল ভারতীয় সংস্কৃতিকে অর্বাচীন প্রমাণ করা।তাই তাঁরা দাবী করেন আদিম মহাভারত একটি আলাদা গ্রন্থ আর বাকি অংশ প্রক্ষিপ্ত। বঙ্কিমচন্দ্র বিস্তৃত তথ্যবহুল আলোচনা করে দেখিয়েছেন প্রতীচ্যের পন্ডিতদের আলোচনা কতখানি ভ্রান্তি পূর্ণ।তিনি প্রাচ্য সাহিত্য ও প্রতীচ্যের পন্ডিতদের মতকে তুলে ধরেছেন।

৩.
    মহাভারত কেন রবীন্দ্রনাথ’কে আকৃষ্ট করেছিল তার কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে মহাভারতে উল্লিখিত একটি উপকাহিনী নল ও দময়ন্তীর প্রণয় আখ্যান। তাঁর “ছেলেবেলা” গ্রন্থে নল ও দময়ন্তী পালার উল্লেখ আছে। স্বয়ম্বরসভায় ছদ্মবেশী দেবতাদের মধ্যে প্রকৃত প্রেমিক নল’কে চিনে নিতে দময়ন্তীর অসুবিধা হয়নি।কারণ নল ছিল মানুষ তাই তাঁর ছায়া পড়েছিল। কিন্তু দময়ন্তীর প্রতি আসক্ত দেবতারা কেউ মানব ছিলেন না।এই কাহিনী অন্তর্নিহিত ব্যঞ্জানাঋদ্ধ।আসলে রূপ-রস-গন্ধ স্পর্শ এই বিপুল বৈচিত্র্যময় মানববিশ্বেই সম্ভব।সুখ- দুঃখ,বিরহ-মিলন প্রেম সবই এই মানববিশ্বকে কেন্দ্র করে।কোন অলৌকিক দেবলোকে তা সম্ভব নয়।সেখানে তো চিরসুখ,চিরমিলন।আর যেখানে দুঃখ বা বিরহবোধ নেই সেখানে প্রেমের সর্বাঙ্গীণ অভিব্যক্তি কীভাবে সম্ভব ! কবি তাই সর্বদাই সংসক্ত থাকতে চান মানববিশ্বে,থাকতে চান মানুষের অন্তরঙ্গ বৃত্তে।কবি এই ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে তাঁর সাহিত্যতত্ত্বে –

“সংসারে বিদ্বান, বুদ্ধিমান, দেশহিতৈষী, লোকহিতৈষী প্রভৃতি নানা প্রকারের ভালো ভালো লোক আছেন কিন্তু দময়ন্তী যেমন সকল দেবতাকে ছাড়িয়া নলের গলায় মালা দিয়েছিলেন তেমনি রসভারতী স্বয়ম্বরসভায় আর সকলেই বাদ দিয়া কেবল রসিকের সন্ধান করিয়া থাকেন।”

“মহুয়া” কাব্যের ‘বরণ’ কবিতায় তিনি লিখেছেন যে – “পুরাণ বলেছে / একদিন নিয়েছিল বেছে / স্বয়ম্বরসভাঙ্গনে দময়ন্তী সতী / নল-নরপতি / ছদ্মবেশি দেবতার মাঝে।/ অর্ঘ্যহারা দেবতারা চলে গেল লাজে।/ দেবমূর্তি চিনেছে সেদিন, / তারা যে ফেলে না ছায়া , তারা অমলিন।/ সেদিন স্বর্গের ধৈর্যের গেল টুটি, / ইন্দ্রলোক করিল ভ্রূকুটি।”

মহাভারত নিয়ে রবীন্দ্রনাথের আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল লেখার কথা উল্লেখ করব যথা – ক. বিদায় অভিশাপ, খ. গান্ধারীর আবেদন (কাহিনী কাব্যগ্রন্থ) , গ. কর্ণকুন্তীসংবাদ (কাহিনী কাব্যগ্রন্থ), ঘ. চিত্রাঙ্গদা।

     মহাভারত নিয়ে তাঁর অলোকসামান্য পর্যবেক্ষণগুলি লিপিবদ্ধ আছে “ভারতবর্ষের ইতিহাসের ধারা” শীর্ষক প্রবন্ধে –

“আর্যসমাজে যত কিছু জনশ্রুতি ছড়াইয়া পড়িয়াছিল তাহাদিগকে তিনি (ব্যাস) এক করিলেন। জনশ্রুতি নহে, আর্যসমাজে প্রচলিত সমস্ত বিশ্বাস, তর্কবিতর্ক ও চারিত্রনীতিকেও তিনি এই সঙ্গে এক করিয়া একটি জাতির সমগ্রতার এক বিরাট মূর্তি এক জায়গায় খাড়া করিলেন।ইহার নাম দিলেন মহাভারত।… ইহা কোনও ব্যক্তি বিশেষের রচিত ইতিহাস নহে, ইহা একটি জাতির স্বরচিত স্বাভাবিক ইতিহাস।”

তাঁর আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দিক তুলে ধরা হল –

ক. ভারতে ভক্তিবাদী ভাবান্দোলনের যে জোয়ার এসেছিল তার কেন্দ্রে ছিলেন শ্রী কৃষ্ণ।যিনি বৈদিক যাগযজ্ঞ কেন্দ্রিক জটিল ধর্মাচরণের বিরুদ্ধে ভক্তি আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল যে প্রেম ও সমার্পণ দিয়েই ভগবানকে পাওয়া যায়।যা সমস্ত মানুষকে এক ছাতার তলায় আনতে পেরেছিল।

খ. মহাভারতের মূল বিষয়টি ছিল সমাজ বিপ্লব।এই সমাজ পরিবর্তনের একটি অংশ ছিল ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের দ্বন্দ্ব।কৃষ্ণ পান্ডবদের সাহায্য নিয়ে জরাসন্ধ’কে বধ করেন। তিনি ক্ষত্রিয়ের শত্রুপক্ষ ছিলেন।বহু ক্ষত্রিয়কে বন্দি করেন।ভীমার্জুন’কে নিয়ে কৃষ্ণ যখন পুর মধ্যে প্রবেশ করেন তখন তিনি ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ ধরেন।শিশুপাল কৃষ্ণকে অপমান করেন যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞে। কিন্তু সেখানে কৃষ্ণ’কেই সবাই শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য করেন। কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গণেও কৌরব পক্ষে ছিলেন ব্রাহ্মণ দ্রোণ,কৃপাচার্য। অর্থাৎ ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়ের দ্বন্দ্ব এখানে প্রকট।

গ. আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির সংঘাত ভারতেতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।যা মহাভারতেও ফুটে উঠেছে।অনার্য দেবতা শিবের সঙ্গে আর্যদের দ্বন্দ্বে কখন আর্য কখন অনার্য শক্তি জয়ী হয়েছে।অর্জুন কিরাতদের দেবতা শিবের কাছে হার মানলেন। মহাভারতে রুদ্রের সঙ্গে বিষ্ণুর সংগ্রামের উল্লেখ আছে।শিবভক্ত বাণাসুরের কন্যা ঊষাকে হরণ করেন কৃষ্ণের পৌত্র অনিরুদ্ধ। সেখানে জয়ী হন কৃষ্ণ।

ঘ. আতস কাঁচের একদিকে ব্যাপ্ত সূর্যালোক ও অন্যদিকে সংহত সূর্যরশ্মি।তেমনই একদিকে  মহাভারতে বিপুল জনশ্রুতি অন্যদিকে সংহত রশ্মি গীতা।জ্ঞানযোগ,রাজযোগ, কর্মযোগ ও ভক্তিযোগের এমন আশ্চর্য সমন্বয় ঘটেছে গীতার মধ্যে।এমন অসামান্য দার্শনিক গ্রন্থ বিশ্বের ইতিহাসে অদ্বিতীয়।

ঙ. যাগযজ্ঞ নির্ভর ধর্মাচরণের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে উপনিষদই প্রথম সর্ব মানবের মুক্তির কথা বলল।যজ্ঞ শব্দটি তার সংকীর্ণ অর্থ থেকে বেরিয়ে ব্যাপকতা পেল।আর এই ঔপনিষদিক দর্শনেরই সংহত পরিশীলিত রূপ হল গীতা।কবি লিখছেন যে –
“যে সকল ক্রিয়াকলাপে মানুষ আত্মশক্তির দ্বারা বিশ্বশক্তিকে উদ্বোধিত করিয়া তোলে তাহাই মানুষের যজ্ঞ।…গীতায় ভূমার সঙ্গে মানুষের সকল প্রকার যোগকেই সম্পূর্ণ করিয়া দেখাইয়াছেন…”।


৪.
   বাংলা সাহিত্যের অতুলনীয় প্রতিভা বুদ্ধদেব বসু আমৃত্যু যে সাহিত্য সৃষ্টির নজির রেখেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল কীর্তি স্তম্ভটি হল ”মহাভারতের কথা”। বাংলা সমালোচনা সাহিত্যের অনন্য গ্রন্থ এটি।এই গ্রন্থের অনন্যতা কোথায় ?

প্রথমত, বুদ্ধদেব বসু এখানে তাঁর কবিসত্তা থেকে অনেকটাই দূরে। এখানে তিনি সমালোচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ।যিনি  সাবজেক্টিভিটির থেকে অবজেক্টিভিটির দিকে বেশি করে ঝুঁকেছেন।এমন সুঠাম গদ্যরীতি, প্রাঞ্জল ভাষা, সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি, অসামান্য বিশ্লেষণী শক্তি ও রচনায় নাটকীয়তা  — বাংলা গদ্য সাহিত্যে বিরল।

দ্বিতীয়ত, তিনি অতুলনীয় ভারতবোধে উদ্ধুদ্ধ।এত সুবিপুল গ্রন্থ , যা বস্তুত একটি বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পরম্পরা , তার গভীরে অবগাহন করা সম্ভব হত না।তথ্য ও চরিত্রের অরণ্যে প্রবেশ করে একটুও পথভ্রষ্ট হননি।

তৃতীয়ত, যাকে পাশ্চাত্য রীতিতে আমরা অভ্যস্ত প্রক্ষেপ বলতে তাকে ভারতীয় রীতিতে নিছকই প্রক্ষেপ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।এটা তিনি যথার্থই বুঝে ছিলেন। মহাভারতের জন্মকথা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের বক্তব্যকেই তিনি মান্যতা দিয়েছিলেন।বৌদ্ধধর্মের উত্থান,বিকাশ ও অবক্ষয়ের সময়কালটি ছিল কয়েক শতাব্দীব্যাপী।এরপরে হিন্দুরা তাঁদের সনাতন অতিবিচিত্র ঐতিহ্য ও কাহিনীগুলিকে সংরক্ষণে উদ্যোগী হয়েছিলেন।বিক্ষিপ্ত এই কাহিনীগুলি লিপিবদ্ধ হবার কার্যক্রম শুরু হয়। বুদ্ধদেব বসু’র অননুকরণীয় কথাগুলিকেই উদ্ধৃত করলাম –
“কোনো-একটি অস্পষ্ট-স্মৃত ইতিহাসবিন্দুকে ঘিরে-ঘিরে যুগ-যুগ ধ’রে সেই গ্রন্থ রচিত বা নির্মিত বা সম্পাদিত হয়েছিলো, প্রাচীনেরা যার নাম দিয়েছিলেন ভারতসংহিতা।এখানে ‘ভারত’ শব্দে যুগপৎ ভরতবংশ ও ভৌগোলিক ভারতবর্ষ সূচিত হচ্ছে, এবং ‘সংহতি’রও অর্থ সংগ্রহ। আত্মরক্ষার তাড়নায় ব্রাহ্মণেরা এই সংহিতাটিকে এক সর্বগ্রাহী নির্বিচার ভান্ডার ক’রে তুলেছিলেন, সেই জন্যেই আধুনিক দৃষ্টিতে তা এত সমস্যাকীর্ণ ও বিভ্রান্তিজনক।”

চতুর্থত, খন্ডিত ভাবে নয় মহাভারতকে সামগ্রিক টেক্সট হিসাবে তিনি দেখেছেন। মহাভারতকারের(গণ) মূল উদ্দেশ্য তিনি বুঝেছিলেন – ভারতভূমিতে উদ্ভূত সমস্ত চিন্তাধারার পদচিহ্ন প্রতীয়মান এখানে।কোন গোষ্ঠীর দ্বারা এটি নিয়ন্ত্রিত নয়।স্ত্রীশূদ্রনির্বিশেষে যে-কোন ‘পুণ্যবান’-কেই এই অধিকার ব্রাহ্মণরা প্রদান করেন।কাজেই ‘পঞ্চম বেদ’-কে বুঝতে হলে খন্ডিত ভাবে বুঝলে চলবে না।
   
      মহাভারত প্রথম বিচারে মহাকাব্য নির্দ্বিধায়। কিন্তু শুধু কাব্য বললে তা অব্যাপ্তিদোষে দুষ্ট হয়।মহাভারতের বহুলাংশে গদ্যে লেখা।সৌতির অনুসরণে আলংকারিকরা এই গ্রন্থকে ইতিহাস আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু সংস্কৃত ভাষায় ঠিক ‘হিস্ট্রি’ নয়, কিংবদন্তি।ইতিহাসের এক বিরাট ও অস্পষ্ট তথ্যভান্ডার যেখানে অজস্র ধূসর ও ধূসরতর স্মৃতিসমূহ কল্পনার রঞ্জিত হয়েছে।এক কথায় মহাভারত হল কল্পনায় আচ্ছন্ন ইতিহাস। তিনি লিখছেন –
“পুরাণ-কথায় ধর্মই এই যে তা একই বীজ থেকে — শতাব্দী পেরিয়ে ভৌগোলিক সীমান্ত ছাড়িয়ে — বহু বিভিন্ন ফুল ফোটায়, অনেক ভিন্ন-ভিন্ন ফল ফলিয়ে তোলে।এখন কথাটা এই যে মহাভারতের মতো একটি সৃষ্টিছাড়া গ্রন্থ, যাতে যুগযুগান্তরব্যাপী ভারতপুরাণ সঞ্চিত আছে।”

      তুলনামূলক সাহিত্যের বোদ্ধা বুদ্ধদেব বসু এই গ্রন্থে কী আশ্চর্য মুন্সীয়ানায় অর্জুন ও যুধিষ্ঠিরের তুলনামূলক আলোচনা করেছেন।এটি এই গ্রন্থের সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিক।এই প্রসঙ্গে আমরা তিনটি অধ্যায়কে খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করব – ‘মূল কাহিনী’, ‘আগুন-জলের গল্প’ এবং ‘ঐশ্বর্যের দারিদ্র্য : দারিদ্র্যের ঐশ্বর্য’।তিনি ‘মূল কাহিনী’ অংশে লিখছেন যে – মহাভারতে একদিক বিস্ময়,আপাত বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমাহার থাকলেও এগিয়ে চলে এক অবিস্মরণীয় পরিণামের দিকে এবং গোটা কাহিনী  শেষ হচ্ছে এক মন্ডলাকার সম্পূর্ণতা নিয়ে।এই ঐক্য সাধনের প্রধান অবলম্বন হল ‘বহুযুদ্ধজয়ী বহুনারীসেবিত শ্রুতকীর্তি’ অর্জুন নন , ‘সর্বতোমুখী প্রতিভাসম্পন্ন লোকোত্তর বাসুদেব’ও নন, তিনি ‘ধীর মৃদু লজ্জাশীল অস্থিরমতি মানুষ’ তিনি যুধিষ্ঠির। বুদ্ধদেব বসু যুধিষ্ঠিরকেই নায়ক হিসাবে গণ্য করেছেন।

     ‘আগুন-জলের গল্প’-তে যুধিষ্ঠির দ্রৌপদীর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।রৌদ্র(আগুন) ও বৃষ্টি(জল)-র সমন্বয়েই প্রকৃতি গঠিত।উভয়ের সংযোগেই খাদ্য স্বাদু ও সুপাচ্য হয়।জড় প্রকৃতির এই স্বাভাবিক নিয়ম কি মানব জীবনে প্রযুক্ত হতে পারে ? যুধিষ্ঠির নিজেই ব্যবহারিক জীবনে স্খলিত হয়েছেন এই নীতি থেকে।বনপর্বের পর থেকেই তাঁর মধ্যে চিন্তাহীন অস্থৈর্য কাজ করে। বুদ্ধদেব বসু চমৎকার লিখেছেন যে – যুধিষ্ঠিরের ‘মীমাংসাহীন আত্মজিজ্ঞাসা’র থেকে অর্জুনের ‘নিঃসংশয় যুদ্ধনীতি’ বা নীতিহীনতা অনেক বেশি ফলপ্রদ। যুধিষ্ঠির ইতিহাসের একটি সম্ভাবনা অন্যদিকে অর্জুন ইতিহাসের স্রষ্টা।

        অর্জুন জয়ী হয়েছিলেন কুরুক্ষেত্রের কঠিন যুদ্ধে।আর তাঁর এই জয়ের নেপথ্য শক্তি হিসাবে কাজ করেছেন কৃষ্ণ। কিন্তু সেই অর্জুনের অন্তিম পরিণতি কি সুখকর হয়েছিল বা বলা ভালো বীরোচিত মৃত্যু কি তখন বরণ করেছিলেন কর্ণের মত ? এই প্রসঙ্গে বুদ্ধদেব বসু লিখছেন যে ‘ঐশ্বর্যের দারিদ্র্য : দারিদ্র্যের ঐশ্বর্য’ অংশে – অর্জুনের ‘মেফিস্টোফেলেস’ তাঁকে পতনের দিকে এগিয়ে দিল।কোন ঈশ্বর স্বর্গের দ্বার খুলে দিলেন না তাঁর জন্য। দারিদ্র্য তাঁর ঐশ্বর্যের মধ্যেই নিহিত ছিল।কৃষ্ণ তাঁকে শেষ শিক্ষা দিয়ে গেলেন।অর্জুনের ‘মরণশীলতায় রেখাঙ্কিত এক মুখমন্ডল’ দেখবে মহাভারতের পাঠক।

     সবশেষে এ কথা বলা যেতে পারে যে মহাভারত হল এমন একটি গ্রন্থ যা সুদূরবর্তী কোন ধূসর স্থবির উপাখ্যান নয়, আবহমান মানবজীবনের মধ্যে প্রবহমান।এই গ্রন্থ নিয়ে বাঙালি লেখক ও পন্ডিতরা নানান দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছেন। এবং আজও এই ধারা আবর্তিত হচ্ছে। সাহিত্য, ইতিহাস, সমাজনীতি, রাজনীতি,মনস্তত্ত্ব,নৈতিকতা, দার্শনিক জীবনজিঞ্জাসা,ধর্মনীতির এত স্তর ও স্তরায়ন এই গ্রন্থে রয়েছে এবং এমন কিছু শাশ্বত ও বাস্তবানুগ প্রশ্নকে আমাদের সামনে হাজির করে যাকে এড়িয়ে যাবার উপায় নেই।কখন জ্ঞানের প্রোজ্জ্বল রশ্মিরেখা,অতি ধীরে গড়া ওঠা উপলব্ধির হীরকবিন্দু,কখন বেদনায় অন্তর্নিহিত কোন আনন্দবোধ আমাদের মধ্যে এমন এক আস্বাদ ছড়িয়ে দেয় যা শান্ত, পবিত্র ও সুখদুঃখ বিস্ময়ের অতীত।ঠিক এই কারণেই বিশ্ব সাহিত্যে মহাভারত অনন্য, অনির্বচনীয় ও তুলনাহীন এক নিঃসঙ্গতা নিয়ে বিরাজ করে।।

তথ্যসূত্র ও গ্রন্থপঞ্জী :
১. বঙ্কিম রচনাবলী (সাহিত্য সমগ্র), তুলি-কলম প্রকাশনী, নূতন সংস্করণ – অক্টোবর, ২০০৪, পৃষ্ঠা – ৪০৭-৪৪৩ ।

২. ভারতবর্ষের ইতিহাসের ধারা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, www.tagoreweb.in

৩. মহাভারতের কথা, বুদ্ধদেব বসু, সিগনেট প্রেস, দ্বিতীয় সংস্করণ – জানুয়ারি, ২০১৯ , পৃষ্ঠা – ৯-১১, ৬২, ১৯৮-১৯৯, ২১৪ ।

৪. আলোচনা চক্র (৩১ বর্ষ ২য় সংখ্যা সংকলন ৪৩ অগস্ট ২০১৭), সম্পাদক – চিরঞ্জীব শূর, পৃষ্ঠা – ৭-১২ ।

January 2021: Art

What is art? There can be a thousand definitions. But The Indian Rover says, it is that which cannot be defined.

The Crying Monk & A Sanātanī Girl - Ojo Moses

The Crying Monk - Ojo Moses - The Indian Rover
The Crying Monk - Ojo Moses
A Sanatani Girl - Ojo Moses - The Indian Rover
A Sanātanī Girl - Ojo Moses

About Ojo Moses: 

Moses Ojo is a young Nigerian artist & art enthusiast. He expresses the vista of his mind with the help of his brushes & colors.

The Brain of a Genetic Biologist - Dattatreya Mukherjee

The Brain of a Genetic Biologist - Dattatreya Mukherjee - The Indian Rover
The Brain of a Genetic Biologist - Dattatreya Mukherjee

About Dattatreya Mukherjee: 

Dattatreya Mukherjee is MBBS student in Jinan University (China). He is also an International Student Researcher and Research Assistant. His field of research is Human Anatomy, Hematology, Oncology and Mental Health, COVID19. Dattatreya has published several papers in several international journals. Dattatreya had got BEST YOUNG SCIENTIST award by IOSRD in New-Delhi in 2018. He is a China Govt Scholar and Received e innovation award 2020 from innovation society of India. His first work was accepted as a poster in HAPS INTERNATIONAL ANATOMY CONFERENCE, OHIO, USA in 2018. He is a youngest poster presenter in AACR conference. He is also the associate student member of Royal College of Physicians, Royal College of Surgery, American society of clinical Oncology and European Society of Cardiology and many others prestigious society. In 2019, July he had presented his work on KRAS inhibitor AMG 510 in International Stem-cell conference, Amsterdam, The Netherlands. He is also in the scientific review board of Yale medical Journal, BMJ student, JSAMR and ACTA Scientific Oncology journal. He is also a writer on mental health in YOUTH KI AWAZ e-Magazine.

Shakthi & Mooladhara - Dr. Srilatha Bhargava

Shakthi - Dr. Srilatha Bhargava - The Indian Rover
Shakthi - Dr. Srilatha Bhargava
Mooladhara - Dr. Srilatha Bhargava - The Indian Rover
Mooladhara - Dr. Srilatha Bhargava

About Dr. Srilatha Bhargava:

Dr. Srilatha Bhargava, a qualified Dental Surgeon from India has completed her PhD from Tokyo Medical and Dental University. Being a creative personality and passionate about Bharath, she loves to bring alive its traditions and culture by means of artistic doodling, dot painting and acrylic canvas painting. Covid times has energized her and given ample time to explore this creativity by experimenting on various themes and genres. Based on the outcome of this creative pursuit and encouraged by family, she is now undertaking commissioned orders based on various concepts and themes.

January 2021: Miscellaneous

Bishnupur – The Town of Terracotta Temples - Sourav Laha

West Bengal Tourism has a lot of underrated gems to offer to World Travelers. West Bengal, also known as Paschimbanga in local dialect Bengali, is a state in the eastern region of India along the Bay of Bengal. Bengal has a lot to offer in terms of Culture and Tourism. These places are still underrated compared to other popular tourist destinations of India. I would like to highlight one such place in West Bengal named Bishnupur. Bishnupur is a small town in the Bankura District of Bengal.

About the place: It was the kingdom of Mallabhum dynasty and is famous for its Terracotta (baked earth) and stone work. All the temples are maintained by the Archeological Survey of India.

Bishnupur is well connected from Kolkata; you may reach there by Train (201 km) or by Road (155 km). On an average it takes 4-5 hours to reach there from Kolkata. The best time to visit is Nov-March. The local sightseeing can be covered in a day. A 2N/3D tour is sufficient to cover Bishnupur and nearby places. As part of the local sightseeing, the following are to be covered :

  • Rasmancha
  • Madan Mohan Temple
  • Shyam Rai Temple
  • Jor Bangla Temple
  • Radha Laljiu Temple
  • Mrinmoyee Temple
  • Gum Ghar
  • Stone Chariot
  • Stone Gateway
  • Dol Madal Cannon
  • Chinnmasta Temple
  • Lal Bandh & Sarba Mangala Temple
  • Radha Shyam Temple

Among the nearby places one must cover Susunia or Mukutmanipur, both are around 30-40 kms from Bishnupur.

bishnupur travelogue
Bishnupur

Bishnupur is famous for silk sarees specially the handcrafted Balucharies, Terracotta Horses, Dokra Art, Stone & Terracotta Sculptures.

Places to stay: At Bishnupur there are a handful of hotels and lodges for stay, among which I felt the Bishnupur Tourist Lodge of West Bengal Tourism is the best option. Apart from the tourist lodge there are other decent stays like Hotel Annapurna, Banalata Resort etc.

Travel Tips: 

  • Bishnupur can be covered easily in 2 days. So if you have one more day you can consider Mukutmanipur in your itinerary.
  • If one has more days in hand the entire district of Bankura has a lot to offer in terms of tourism, You can visit to Jayrambati, the birthplace of Rama Krishna Paramhansa.
  • Assuming you are going from Kolkata by train, on an average a 2N/3D trip to Bishnupur will cost Rs 6000-7000 INR (approx.) for 2 people.
  • If visiting in months other than Nov-Mar, carry shades, sunscreen, umbrella to save yourself from Sun.
  • Do carry a pair of sneakers in case you plan for Susunia.
  • In case you are planning to go during the winters, just check if you can manage to see the Santhali Dance. Every year from 23rd to 27th December there is a fare “Bishnupur Mela.” So try to cover that also. (Due to the Pandemic of Covid-19, the fare may not be available)

Bishnupur is a jewel and spending a day here is blasphemy ! With 7 major temples (which I could not cover due to lack of time) not done, Bishnupur had scores of other places and sights to see. The Terracotta Handicraft Industry of Bishnupur is huge with exports to foreign locales. The Bishnupur terracotta horses are world famous. Places like Madan Mohan Pur, Jagannathpur, Dihar have similar historical temples and monuments.

It would be sad affair to come to Bishnupur and leave without doing the above mentioned untouched places. They are all in the Bankura District.

The best suggestion? Go to Bankura for a week! Leave enchanted !

P.S.  All the pictures have been clicked by me.

bishnupur 4
bishnupur 5
bishnupur 3

Book Review of Vision and Creations by Nandalal Bose - Sruthi V S

Nandalal Bose’s Vision and Creation is a well structured book about art and the process of creating it.

Nandalal Bose was one of the pioneers of modern Indian art. He was passionate about his own artistic style and open to different art traditions. The significance of his work is that it’s aim is to make different artistic style, its logic, and knowledge accessible to a new generation of Indian artists. But he did this so quietly and without self-assertive fanfare that the significance of his work is yet to be fully grasped even in India. He was profoundly influenced by the murals of the Ajanta Caves. He loved to paint scenes from Indian mythologies, women and village life. His creation of black on white linocut depicting Mahatma Gandhi’s Dandi march is recognised as the symbol for non-violence movement. He has also sketched the emblems for the Govt. of India’s awards like the Bharat Ratna, the Padma Shri, etc. 

As the title of the book, Vision and Creation, thematically Bose does the same in this book. The book has been divided into two parts, the first one titled, ‘Speaking of Art’ where he highlights ideas regarding the vision of the artist. He defines art as, “Art is imagination; it is the expression of aesthetic experience in line and colour. It fulfills itself, too, in evoking such an experience.” The second part titled, ‘The Practice of Art’, where he has recorded observations for various art practises, so that it helps art students to learn new techniques. Hence, justifying the title, Vision and Creation. Using simple words, the idea gets shared across to the reader about his own passion with art.

The first chapter on ‘The Place of Art in Education’, he convinces his readers to the need of education and training in art for purposeful education. He argues that the lack of art education has deprived not only aesthetic experience but created a disconnect with our own rich art heritage while as he wrote, “gape in amazement at Japanese dolls as if they are great specimens of art.” As his own book contributes as a resource material to students, the need for well qualified teachers and specimens of art In his essay, ‘Speaking of Art’, he points out three basic concerns of the art discipline- Originality, Nature and Tradition. He promotes and takes the readers further into the discipline by introducing classifications of paintings. His simple writing complimented by makes it easy for a novice to understand classifications of art practices. He argues heavily on the inspiration from nature and the potential for its creative inspiration for young artists. Moreover, he structures his argument in such a way it becomes easy to understand.

There are various references to Upanishads, Sanskrit sayings, expressions of Japanese poets, Chinese sayings, etc. Art having universal appeal and the universality of the aesthetic pleasure one draws is the main idea projected through most of these references and adds to what each of them lacks. For example, he writes in his book, “ You cannot locate the essence of a landscape among the nine emotional essences (rasas); its spirit may be said to be one of ‘peace’ or empathy. The Chinese probably inherited it from the teachings of Lao-Tzu.” So, the source of locating the essence of the landscape is located in the Chinese teachings.

An interesting read is the chapter on “Ornamental Art’. Initially, I associated it with jewellery making but after reading I came to know that jewellery, carpet making, floor decoration, embroidery, illumination as examples of Ornamental Art. The principles of ornament art draw inspiration from nature and the observations of various forms and shapes. However, ornamentation is described to be simpler than complex forms of nature, this has been illustrated with diagrams. As any art must have balance, the author discusses the importance of balance and pause here as well. It is well described how symmetry, spacing, combinations of colors and tonal shades makes the piece come out alive and gives the aesthetic pleasure which we derive from it.

Bose is also very meticulous in his writing. One can make out from the elaborate description he has given on the materials used. These tried and tested methods make it convenient for art students to follow these and find their own working module rather than needlessly go about on their own after various techniques and materials. He even encourages artists to share their innovative tools and techniques and be wary of recipients of it. One understands the point further when he explains  that creative men must be wary of unfit recipients who are selfish, who would earn name and fame through misuse rather than to put them into creative use. I appreciate the whole section on ‘Mud Wall and Mud Fibre Coat (Uluti)’. In this chapter, Bose shares information which he has collected from the Radh region of using and making clay. I believe this kind of information is shared for the first time in writing. Art practises such as those whose knowledge is limited to being passed over generations and certain geographical regions finds a place in written literary text which can be accessed to anyone. Thus, substantiating his argument for the need of writing about various art practices.

This book proves his analytical power thoroughly. His sincerity to the discipline of art and the passion of taking it to the future generation is evident. The illustrations used in the book makes it possible to interpret various methods, especially the natural form and structures, which he himself has drawn. These illustrations provide aid to visualising the nature of materials used, how they are used and the process of creation to its readers. As he wrote, indeed through his book he attempted to possibly remedy the crisis of art education of his time which is still of value for the current and forthcoming generations as well. It would have been more useful for readers if he mentioned possible revenue avenues for the art practises he has described in his book.  Recommending to read the first part of the book for everyone!

About Sruthi V S: 

Sruthi V S is an independent researcher and has previously taught as Assistant Professor in Journalism and Mass Communication at the University of Delhi. Her background includes Masters in Arts & Aesthetics from Jawaharlal Nehru University and Bachelors in Humanities and Social Sciences from the University of Delhi. Coming from an interdisciplinary background, her research interest includes art, culture, world, media and politics.

নবদ্বীপে মহাপ্রভুর নবরূপে আবির্ভাব: তুমি আছো আমি আছি তাই - বিপ্লব ঘোষ

আমি বিপ্লব ঘোষ, নবদ্বীপের উত্তরে প্রতাপনগরে এমন একটা জায়গায় থাকি আজ থেকে ৫০০ এর কিছু বেশি বছর পূর্বে যার খুব কাছেই মহাপ্রভুর বাড়ি ছিল। হয়তো মহাপ্রভু আমার বাড়ির উঠোন দিয়েই গিয়েছেন। বাড়ির মাটির গন্ধে মহাপ্রভুর চরণের ছোঁয়া পাই। মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়। সদা মনে হয়, কাঁহা গেলে তোমা পাই। একটা পাগল পাগল বিভোর করা ভাব। আমি বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলাম। সবাইকে ভালোবেসে আপন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কেউ আপন হয় নি বরং আপন হয়েছে পর। আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম ধর্মজগতে। কিন্তু সেখানেও অসাধু ভন্ড লোকের ভিড়। ঈদের চক্রান্ত যখন আমি মৃত্যুর দরজায় পৌঁছে গিয়েছিলাম তখন আমি ভগবানের অহৈতুকী কৃপায় নবদ্বীপের মহাপ্রভু পাড়ার বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী সেবিত  ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দিরে এসেছিলাম।১৪২০ বঙ্গাব্দে রাস পূর্ণিমার দিন পড়ন্ত বিকেলে গোধূলি বেলায় খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে ধামেশ্বর মহাপ্রভুর শ্রীবিগ্রহ দর্শন করছিলাম। হঠাৎ দেখি ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মুখমন্ডলের চারপাশে সহস্র পূর্ণিমার মিলিত চাঁদের আলোর জ্যোতি। আর মহাপ্রভু যেন প্রেমময় তেজময় দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন আমার পানে। সে দৃষ্টি যেন আমার মর্মে গিয়ে বিঁধলো। আমার মনে পড়ে গেল চৈতন্য ভাগবতের,
      ” অদ্যপিও নিত্য লীলা করে গোরা রায় ।
       কোনো কোনো ভাগ্যবানে দেখিবারে পায়।।”
নিতান্ত অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও মহাপ্রভুর কৃপায় পায় আমি সম্পূর্ণ ভগবান ও পূর্ণব্রহ্ম মহাপ্রভুকে দেখলাম। এরপর থেকে যতবার হই আমি ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মন্দিরে যাই ততবারই আমি মহাপ্রভু বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীকে যেন সাক্ষাৎ দর্শন করি।অপূর্ব আমাকে ,আমার পরিবারকে ও প্রিয়জনদের সদা বিপদ থেকে বাঁচান ,ভবিষ্যতেও বাঁচাবেন। আজ মহাপ্রভুর সাথে আমার প্রেমের সম্পর্ক। জীবনে কোনো কষ্টকেই  আজ আর কষ্ট বলে মনে হয় না। মহাপ্রভু আমার গুরু। অনেক কিছু শিখিয়েছেন তিনি আমায়। আমি জেনেছি সৃষ্টিতত্ত্ব। সৃষ্টির আদিতে ভগবান অব্যক্ত ছিলেন। তাঁর ইচ্ছা হল।তিনি অব্যক্ত থেকে ব্যক্ত হয়ে রূপ নিয়ে বহু হলেন। একদিকে হলেন ঐশ্বর্য্যপূর্ণ লক্ষীনারায়ণ। প্রেম যে ঐশ্বর্যের চেয়ে বড় এটা বোঝাতেই অন্যদিকে হলেন প্রেমময়  রাধা কৃষ্ণ। রাধারাণী কৃষ্ণকে ভালবেসে কষ্ট পেয়ে কি সুখ পেয়েছেন সেটা শ্রীকৃষ্ণ আস্বাদন করতে চেয়ে ছিলেন।এছাড়া রাধারাণী শ্রীকৃষ্ণকে অভিসম্পাত করেছিলেন প্রচন্ড কষ্টে যে পরজন্মে শ্রীকৃষ্ণ রাধারাণী হয়ে বুঝবেন রাধারাণীর কষ্ট। এছাড়া কলির পতিত জীবদের কষ্ট থেকে উদ্ধার করতে চেয়ে ছিলেন ভগবান। এইসব কারণে রাধাকৃষ্ণ মিলিত তনু মহাপ্রভু আবির্ভূত হলেন গঙ্গার বুকে পলি জমে গড়ে ওঠা নতুন দ্বীপ প্রেমভূমি শ্রীধাম নবদ্বীপে। মহাপ্রভুর বাইরে রাধা ,অন্তরে কৃষ্ণ। মহাপ্রভু প্রচন্ড পন্ডিত ছিলেন।তিনি ইচ্ছা করলে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে সুখী জীবনযাপন করতে পারতেন। ঘরে ছিলেন অপ্রাকৃত সৌন্দর্য্যে সুন্দরী স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী ও অসীম স্নেহময়ী শচীমাতা। তিনি চাইলে সুখের সাগরে ভেসে যেতে পারতেন। কিন্তু পতিত আমাদেরকে উদ্ধার করার জন্য তিনি নিজে কষ্টের সাগরে ভাঁসলেন, বিষ্ণুপ্রিয়াদেবী ও শচীমাতাকেও কষ্টের সাগরে ভাঁসালেন। বর্তমানে ঘোর কলিযুগ চলছে। পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী , ভাই বোন সমস্ত সম্পর্কই আজ বিপন্ন। আমরা পাপের চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছি।আমাদের উদ্ধার করতে পারেন একমাত্র চোরাবালি বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা পতিত পাবন গৌর হরি।আমাদের উদ্ধার করার জন্যই গৌর হরির আবির্ভাব ,অবতার গ্রহণ নবদ্বীপ ধামে। এত প্রেম তার তাই তাঁর অপর নাম পতিত পাবন গৌর হরি। প্রেমের ঠাকুর শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু। তিনি প্রচ্ছন্ন অবতার। তেমনি প্রচ্ছন্ন তাঁর ধাম নবদ্বীপ। তিনি নিজে না চেনালে কেউ বুঝতে পারবে না তাঁকে বা তাঁর ধামকে। তাঁর সময়ে নবদ্বীপে অনেকে তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন। পড়ে নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁকে অবতার বলে মানতে চাননি। পরে মণিপুরের রাজা শাস্ত্র থেকে যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করে দেন কৃষ্ণচন্দ্রকে যে মহাপ্রভু সম্পূর্ণ ভগবান পূর্ণব্রহ্ম অবতার। সিদ্ধ বৈষ্ণব তোতারাম দাস বাবাজি এই কাজে সাহায্য করেছিলেন। নবদ্বীপের বড় আখড়ায় সিদ্ধ বৈষ্ণব তোতারাম দাস বাবাজির সমাধি আছে আজও। উড়িষ্যাতেও রাজা প্রতাপরুদ্রের অমর্ত্যরা মহাপ্রভুকে অবতার বলে মানতে চাননি চক্রান্ত করেছিলেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত মহাপ্রভুর বিরুদ্ধে বহু অসম্মান চক্রান্ত হয়ে চলেছে। তার অন্তলীলা অপ্রকট কাহিনী নিয়ে মিথ্যা কথা কুৎসা রটিয়ে তাঁকে অসম্মান করে আজও এই বাঙ্গালীদের অনেকে।সংসারে যারা সত্যি করে বড় হয় তারা নিজেদেরকে বড় বলে প্রচার করে না তাদেরকে চিনে নিতে হয়।মহাপ্রভু যে সম্পূর্ণ ভগবান পূর্ণব্রহ্ম তিনি সবাইকে বলে বেড়াবেন না। তাঁকে চিনে নিতে হবে। যারা বিশ্বাস করে তাদের কাছে তিনি ধরা দেন প্রকাশিত হন। যেমন দিয়েছিলেন বাসুদেব সার্বভৌমকে। ষড়ভূজ রূপে দর্শন দিয়েছিলেন তাকে। অনেকেই তাঁর দর্শন পেয়েছেন। এই অধম শ্রীমান বিপ্লব ঘোষও নিতান্ত অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁর দর্শন পেয়ে ধন্য হয়েছে। কলিযুগের ত্রিতাপ জ্বালায় আমরা জ্বলে পুড়ে মরছি। ভগবানের সন্তান আমরা, আমাদের কষ্ট সহ্য করতে পারেন না ভগবান। আমাদের উদ্ধারের জন্যই মহাপ্রভুর অবতার গ্রহণ করে নবদ্বীপে আগমন। এত প্রেম তাঁর প্রেমের ঠাকুর তিনি। আসুন আমরা সবাই তাঁর পথে চলে জীবনে চরম সুখী হই, আমাদের মানবজীবন সার্থক করি। মহাপ্রভু যে সম্পূর্ণ ভগবান ও পূর্ণব্রহ্ম এই নিয়ে যদি কারোর কোনো সন্দেহ থাকে, যদি কেউ মহাপ্রভুর পথে চলে সুখী হতে চায় তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। শাস্ত্রে আছে মহাজনরা যে-পথে গেছেন সেই পথই পথ। তাঁরাই অপরকে পথ দেখাতে পারেন।আমি মহাজন নই কিন্তু মহাপ্রভুর কৃপায় মহাজনরা যে পথে গেছেন সে পথ দিয়ে আমাকে মহাপ্রভু নিয়ে গেছেন। তাই মহাপ্রভুর কৃপায় আমি অপরকে পথ দেখাতে পারব। মহাপ্রভুই আমাকে দিয়ে অপরকে পথ দেখাবেন। মহাপ্রভু আমায় যা শিখিয়েছ আমি তা আপনাদের শিখিয়ে দেবো। আপনারা পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে আসুন মহাপ্রভুই আপনাদের করিয়ে দেবেন সব। কোনো সন্দেহ নেই এতে আমি নিজেই এর প্রমাণ। একটা কথা মনে রাখবেন মহাপ্রভু হচ্ছেন ভজন জগতের শেষ কথা আর নবদ্বীপ ধাম হচ্ছে ভজন জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ধাম।জয় রাধে।জয় গৌর বিষ্ণুপ্রিয়া।
 
Biplab Ghosh Image