June 2021

Shakta Dharma and their Acharyas

Shakta Dharma And Their Acharyas - Anshul Pandey

Śhākta or shakti or devi puja is not a new upasana. It is being carried out right from the time of Vedic period. Puran’s tell us that rishi Vashishth would worship Tara devi. Parshuram ji worshipped Tripura devi, Agastya learned the secrets of Shri Vidya from Vishnu ji in Hayagriva avtaar. Bhagwan Ram, Laxman and Krishna too learned the tantrik vidya. Even Rig Ved 7.103.5 Sayan Bhasya also mentions about Śhākta/शाक्त(शाक्तस्येव शक्तिमतः).
Then we find that in the Harrappan excavations many figurines depicting Shakti were found. So in that age too, which was supposedly an urban city shakti was being worshipped. So naturally this tradition would be prevalent in rural areas too.
It is wrong to say that shakti puja originated from Bengal although it was popular there. Matsyendranath received this vidya from Maheshwari herself in Kamrup. We know that Shakti pooja is practised all over India. Not much is known about the Śhākta saints in other parts of India in the middle ages. 
Adi Shankaracharya wrote Pramanech saar named book on tantra and Anand lahri book on Devi strotras. Then there were Acharya Shankar, Bhaskar Rai, Laxman, Deshikendra, Raghav Bhatt, Krishnand, Purnanand, Vijay Gupt, Mukundram, Bharat Chandra and Kamlakant. Laxman wrote Sharda tilak and Tara Pradip which is popular amongst tantriks. Raghav bhatt wrote the analysis of Sharda tilak. Bhaskar rai worshipped Shri Vidya and was a Sidhha purush. Bengali purohits still refer to Tantra saar written by Krishna nand. Then there is Shankar Agamacharya who is known as Shankaracharya of Bengal. He wrote Tara Rahasya Vritikar.
Shakti was worshipped as Chandi, Mansa, and Kali. Mukund ram, Bharat chandra and Vijay Gupt wrote Chandi mangal, Mansa mangal and Kalika mangal.
Music is also associated with shakti puja as most of the poetry could be sung. Popular to write songs amongst them is Ram Prasad. The above mentioned names were all sidhha purush their dedication to mata total.
Then there is Sarvadanand from Tripura who was first thought to be lunatic but after a turn of events he became a shakti pujak and wrote Sarv Vidya. Today also he is remembered by his bhakts every year on paush sankranti.
In the Śhākta tradition there is a woman saint named Jaydurga whose half body was fair and other half dark. Her followers, now mostly in Bangladesh believe her to be an avtar of Parmeshwari.
Then there is Gosai Bhattacharya who too had many siddhis. He had many magical powers. Then there was Vamacharan whom people thought him to be lunatic initially as he left his house and stayed in a samshaan. He was an avid bhakt of Taradevi. But later people had to change their opinion after they discovered that he had many siddhis.
The most famous name is of Ramkrishna Paramhans. His teachings published through Ramkrishna mission are read world wide. He took diksha from Bhairavi. He was a pujari of Dakshineshwar Kali mandir, but his tantra vidya supervised by his guru Bhairavi gave him world wide fame. Besides these there must be umpteen number of Śhākta or Shakti upasaks away from the limelight.

Twitter link : https://twitter.com/Anshulspiritual/status/1398601043009626114?s=1
Source – Gita press, Sant Ank & Shakti sampraday.
Image Credit – prohitarts (Instagram handle)

The Pandemic Covid-19: Life, Society and Culture

The Pandemic Covid-19: Life, Society And Culture - Sudeb Sarkar & Dr. Md. Habibur Rahman

|| The Pandemic Covid-19: Life, Society and Culture ||
Editors: Sudeb Sarkar & Md. Habibur Rahman
ISBN: 978-93-90588-98-5
Publisher: Authors Press (New Delhi)

About the Book

The book entitled The Pandemic Covid-19: Life, Society and Culture has focused on the pandemic COVID-19 which has strayed human lives and the ways of living has been marked by the shadows of ominous poverty, restlessness, scarcity, ill mental health, violence etc. Even after entering upon the process of unlock throughout the country people are being routed to lead a regulated lifestyle. The proposed contents of our book have highlighted the peevish impacts of this pandemic upon the folks and their lives, culture, occupations, economy, morality, society, religions, rituals, creativity etc. This book is going to be a factum of people’s grappling against Covid-19 as well as lockdown. The contents highlight how various classes of our society have restored to various ways of tackling life during this pandemic.
About the Editors
Sudeb Sarkar is a faculty member of English Department, Samsi College, Malda. He is doing Ph.D. on Folk Theatre and Performance Studies in the Department of English, Jadavpur University. He has published an Edited Volume entitled Samaj O Loksanskriti by Books Heaven Publication, Kolkata in 2018. He has published 11 Research Articles in various platforms. He has a great initiative in setting up Indo-Bangla Researchers’ Forum for Cultural Exchange (IBRFCE) where he is the chief representative of India.
Dr. Md. Habibur Rahman is an Associate Professor in the Department of Folklore at the University of Rajshahi, Bangladesh. His areas of research interest include Applied Folklore, Cultural Heritage, Social Development, Indigenous Knowledge, Ecological Conservation, Aboriginal Studies, Gender and Film Studies. In 2016, Bangladesh has presented by him in an international programme at National Institute of Rural Development (NIRD), Hyderabad, Telengana, India.
An article on yoga by Tirthendu Ganguly (Tirtha), our Editor-in-Chief, is also published in the edited volume:

যোগ সাধনা

যোগ সাধনা - জয়দীপ গোস্বামী

যোগ শব্দের সাধারণ অর্থ হলো “যুক্ত করা”। গাণিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যোগ শব্দের অর্থ হলো দুটি সংখ্যাকে একত্রে যুক্ত করে সংখ্যার মান বৃদ্ধি করার পক্রিয়া। যথা ❝১+১=২❞। এক্ষেত্রে “১” সংখ্যার থেকে এদের দুটির যোগ ফলের মান বেশি।  যোগ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত “ যুজ ” ধাতু থেকে। যার অর্থ  “ নিয়ন্ত্রণ করা ”, যুক্তকরা বা ঐক্যবদ্ধ করা। সম্ভবত সংস্কৃত শব্দ ❝ যুজির্সমাধৌ ❞ শব্দটি থেকে যোগ শব্দটি এসেছে। যার অর্থ চিন্তন বা সম্মিলন। যোগ শাস্ত্রের অন্যতম শাখা দ্বৈতবাদী রাজযোগের ক্ষেত্রে এই অনুবাদটি যথাযত। কারণ রাজযোগে নিহিত রয়েছে চিন্তনের মাধ্যমে প্রকৃতি ও পুরুষের মধ্যে ভেদজ্ঞানের জন্মলাভ।  আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে যোগ শব্দের অর্থ হলো জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন সাধনের এক উপায়। এই যোগ সাধনের ফলে মানুষ তাদের পার্থিব চিন্তা ধারা থেকে মুক্তি লাভ করে ইশ্বরের চিন্তায় মনোনিবেশ করতে পারে। নিজের অন্তরের কলুষিত পদার্থ গুলিকে দুরিভূত করে মনকে স্বচ্ছ করার মাধ্যম যোগ। যোগ সাধনার ক্ষেত্রে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে যে, খালি পেটে যোগ সাধনা হয়া না। হ্যাঁ এই কথা সত্য যে যোগ সাধনা পরিমিত আহার বা খালি পেটেই করতে হয়। কিন্তু এই Theory টাও অবান্তর নয় যে খালি পেটে যোগ সাধনা হয় না। মানুষ যেই পর্বে গুহাতে বসবাস করতো সেই পর্বে তাদের প্রধান ধর্ম ছিলো খাদ্য সংগ্রহ করে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। সেই খাদ্য সংগ্রহ করাই ছিল তাদের কাছে ইশ্বর সাধনা করার থেকেও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাদের মাথায় যোগ সাধনা করার মানসিকতা জাগরিত হয়নি। মানুষ সেই পরিস্থিতিতেই যোগ সাধনা করার কথা চিন্তা করে যখন তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের সুবন্দোবস্ত চিলো। বেঁচে থাকার সমস্ত প্রকার রসদ তাদের ছিলো তার পরেই তারা ইশ্বর চিন্তা, যোগ সাধনা, বিশ্ব কে আয়ত্ব করতে মনোনিবেশ করে।  তার পর থেকেই যোগের চিন্তাধারা মানুষের মনে যোগ চিন্তার উন্মেষ ঘটতে থাকে। এই পর্বের সূচনা হয় বৈদিক যুগে। যোগ চর্চার ক্রমধারাবাহিক সূচি ঃ যোগ শব্দটির সঙ্গে ভারত অতি প্রাচিন কাল থেকেই সম্পর্ক যুক্ত। যোগ হলো একপ্রকার ঐতিহ্যবাহী, শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক সাধন প্রনালী যা সাধনে মানসিক শান্তি লাভিত হয়। মানুষের মনের কলুষতাকে দূরিভুত করে মনকে স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছ করার পক্রিয়া।  হিন্দুধর্মে অনেক প্রাচিন কাল থেকেই যোগ সাধনার উল্লেখ আছে। সনাতন দর্শনের প্রধান ৬টি শাখার অন্যতম এই যোগ দর্শন। হিন্দু শাস্ত্রে প্রচলিত আছে যে ভগবান পিনাকপাণি প্রাধান ৭টি ঋষিকে এই যোগের জ্ঞান দেন। এই সপ্ত ঋষি ব্রহ্মান্ডে যোগ সাধনার প্রচার করেন। একমাত্র ভারতেই যোগ সাধনা ব্যপক আকারে দেখা পালিত হয়েছিল   । যার প্রমাণ আমরা এখনও ধর্মগ্রন্থ গুলিতে লাভ করি। সনাতন ধর্মের সব থেকে প্রাচিন গ্রন্থ হলো বেদ। বেদ যে ঠিক কবে লেখা হয়েছিল তানিয়েও গবেষকদের মধ্যে মতপার্থক্যের অন্ত নেই। আমরা সবাই জানি বেদ প্রথমে শ্রবণের মাধ্যমে মনে রাখা হতো লেখার প্রচলন ছিলো। গুরুকূল গুলিতে এই সমস্ত শ্লোক গুলি গুরুর মাধ্যমে শিষ্যদের কাছে প্রচারিত হতো। এবং শিষ্যরাও তা মনে রাখতো। এই ধারা একপ্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মের স্থানান্তরিত হতো। তাই বেদের সঠিক রচনা কাল অনুধাবন করা দূরহ ব্যাপার। বেদে আমরা যোগ এর উল্লেখ পাই। তাই যোগ সাধনার উৎপত্তি সঠিক করে বলা সম্ভব নয়। প্রাচিন ধর্ম গ্রন্থ বেদের প্রধান চারটি ভাগ। যথা-  ঋগবেদ, সামবেদ, যর্জুবেদ, অথর্ববেদ । ঋগবেদ সবথেকে প্রাচিন। এই বেদে আমরা যোগের উল্লেখ পাই। অর্থাৎ যতদিন এই বিশ্বে ঋগবেদ এর অস্তিত্ব আছে ততোদিন যোগ বর্তমান। বেদ আবার ৪টি ভাগেও ভাগ করা যায়। যথা মন্ত্র বা সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক এবং উপনিষদ।  তবে আধুনিক ঐতিহাসিক দের মতে বেদের রচনা কাল হিসেবে ধরা হয় ১৫০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ থেকে ১০০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দ এর মধ্যে। বেদ কে কেন্দ্র করে পরবর্তি কালে অনেক টীক টিপ্পুনি, গ্রন্থ রচিত হয়েছে। টীকাকার, গবেষকদের মতে বেদে এমন কয়েকটি শ্লোক পাওয়া গেছে যার আয়ু প্রায় ১০,০০০ বছর। সবথেকে প্রাচিন যে বেদের খণ্ড পাওয়া গেছে তা প্রায় ৭৫০০ বছর পুরোনো। বেদ হলো একটি সংগ্রহ যেখানে অন্তর্নিহিত রয়েছে ধরিত্রীর নানা গুঢ় তত্ত্ব, কৃষিবিজ্ঞান, গাণিতিক সুত্র, সামাজিক জ্ঞান বিজ্ঞান, আয়ুর্বেদ শাস্ত্র, নানা শিল্প, কলা, গান, নৃত্যশৈলী ইত্যাদি। সামবেদের শ্লোক, স্তব, স্তুতি গুলি পরবর্তী কালে নানা ভক্তিগীতি রূপে প্রচারিত হয়।  বেদের এই উপনিষদে স্পষ্ট ভাবে যোগ এর উল্লেখ পাওয়া যায়। মানবিক চিন্তা প্রত্যাহার করার ধারণা, মনকে সংযত করার ধারণা আমরা উপনিষদের মধ্যে দেখতে পাই। যোগের মাধ্যমে পরিমোক্ষ লাভের পন্থাই হলো যোগের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় । বৈদিক পর্বেই মানুষ যোগ সাধনা করতো তার প্রমান মেলে তখনকার সাধূ সন্নাসীদের দেখে। ওনারা যে তপস্যা করতেন সেটাই যোগ। তাই বেদের সাথে যোগ সাধনা অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জড়িত। রামায়ণ পর্বে যোগ সাধনা ঃ যোগ পৃথিবীতে ঠিক ততোদিন বর্তমান, যতোদিন মানুষ ইশ্বরের আরাধনা করা শুরু করেছে। আর সেই সময় থেকেই যোগের অভ্যাস প্রতি যুগে যুগে চলে আসছে। যদি আমরা রামায়ণ কে নিছক কল্পকাহিনির আখ্যা না দিয়ে থাকি তাহলে ওই রামায়ণে বর্ণিত যোগ সত্য।  আজথেকে প্রায় ৭০০০ বছর আগে এই ভারতের রঙ্গমঞ্চে অভিনিত হয়েছিলো সত্যিকারের রামায়ণ। যেখানে স্বয়ং রাম এই ধরাধামে অবতির্ণ হয়েছিলেন। আধুনিক গবেষকের মতে ১৫০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দে রামায়ণ রচিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যে সমস্ত নির্দশন আবিষ্কৃত হয়েছে সেগুলো রাময়ণের সময়কাল প্রায় ৭৫০০ বছর পুরোনো কে নির্দেশ করছে।  রামায়ণের সঙ্গে যোগ অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জড়িত। রামায়ণের প্রায় ২৪০০০ শ্লোকে অযোধ্যার রাজা পুরুষোত্তম রামের উল্লেখ পাওয়া যায়, যাঁর জীবন সুখকর ছিলো না। তাঁর জীবন অতিবাহিত হয়েছে নিরলস পরিশ্রম এবং অসহনীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, সেগুলিকে তিনি তাঁর রাজকীয় দৃঢ়তা এবং মানসিক সংযমের মাধ্যমে জয় করেছিলেন যা যোগ চর্চার প্রধান অঙ্গ কে নির্দেশ করে। তিনি তার সারা জীবন ধরে নিজের কর্তব্যের পালন করে গেছেন। তিনি তার কর্তব্যপরায়ণতা থেকে বিচলিত হননি। ওনাকে ভারতের শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ যোগী। শুধু তাই নয় আমরা রামায়ণ যুড়ে দেখতে পাই সীতার প্রেম, ভ্রাতার লক্ষণের আনুগত্য, হনুমানের প্রভুর প্রতি স্নেহ। এই সব গুলি সেইসময়কার যোগ চর্চার পরিচায়ক। যোগ হলো এমন এক জিনিস যা মানুষের মধ্যেকার সমস্ত প্রকার কলূষতা কে দূরিভুত করে মানুষের মনকে সংযত রাখে। যোগ কার্যনির্বাহ এবং দায়িত্ববোধ জাগরণের মহরত গড়ে তোলে। মানুষকে মানসিক সংযমের সহিত জীবন পালন, মানুষকে নিঃস্বার্থ জীবন যাপনে উদ্বুদ্ধ করে। এটাই যোগ সাধনার প্রকৃত সংজ্ঞা।মহাভারত পর্বে যোগ সাধনা ঃ  মহাভারতের সঙ্গে যোগ সাধনার অতি নিবিড় সম্পর্ক। ভারতের সবথেকে বৃহৎ মহাকাব্য মহাভারতে আমরা নানা প্রকার যোগ এবং যোগীর বর্ননা পাই। মহাভারতে স্থান লাভ করেছে বিভিন্ন প্রকার যোগী, সিদ্ধি ব্যাক্তিদের যোগ সাধনা , জীবনি, তাদের যোগ শিক্ষার পক্রিয়া, যোগ প্রাপ্তির মার্গ, যোগ সাধনের কঠোর নিয়ম নিষ্ঠা, যোগীর প্রকারভেদ যোগ সাধনের ফলে যোগীর সিদ্ধিলাভের বর্ণনা, যোগের মাধ্যমে আত্মসাক্ষাৎকার, মোক্ষপ্রাপ্তি, যোগীদের মৃত্যু বর্ণনা, ভগবান বিষ্ণু দ্বারা নির্মিত মায়াযোগের বর্ননা পাওয়া যায়। যোগের দ্বারা কিভাবে জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনের প্রমান মেলে এই গ্রন্থে।  মহাভারতের প্রতিটি ছন্দে যোগের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। মহাভারতের চরিত্র গুলোর মধ্যেও যোগসাধনা, মনন, চিন্তনের প্রমান পাওয়া পাওয়া যায়। মহাভারতে আমরা এমন কতোগুলো যোগীর উল্লেখ পাই যাদের যোগ সাধনা এখনও প্রভাবিত করে৷ এই মহাভারতের সময়েই আবির্ভূত হয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর থেকে শ্রেষ্ঠ যোগী আর নেই। তিনি তার জীবন যুড়ে লিলা করে গেছেন কখনও অষ্টসখী সমাবিষ্ট হয়ে আবার কখনো গাভীদের সঙ্গে। তিনি মহাভারতের যুদ্ধের পূর্বে যুদ্ধে উদাসীন অর্জুনকে যুদ্ধে মনোনিবেশ করানোর জন্য তিনি অর্জুনকে নীতিশিক্ষা দিয়েছিলেন যা শ্রীমদ্ভাগবত গীতা নামে পরিচিত।  গীতা একটা যোগ সাধনার গ্রন্থ। যেখানে তিনি অর্জুন কে জীবনের গুড় রহস্য গুলির সঙ্গে অবগত করিয়েছিলেন। গীতার অধ্যায় গুলিতেও যোগ এর উল্লেখ পাওয়া যায়। গীতার মোট শ্লোক সংখ্যা ৭০০ তাই গীতাকে সপ্তসতী গ্রন্থও বলা হয়। এই পর্বে তিনি অর্জুনের মনের জড়তা তে দূরিভুত করেছিলেন। গীতার অধ্যায় গুলো হলো নিম্নরূপ — অর্জুন বিষাদ যোগ  সাংখ্য যোগ  কর্ম যোগ  জ্ঞান যোগ  কর্ম সন্যাস যোগ  ধ্যান যোগ  বিজ্ঞান যোগ  অক্ষর ব্রহ্ম যোগ  রাজগুহ্য যোগ  বিভূতি যোগ  বিশ্বরূপ দর্শন যোগ  ভক্তিযোগ  প্রকৃতি পুরুষ যোগ  গুণত্রয় বিভাগ যোগ  পুরুষোত্তম যোগ  দৈবাসুর-বিভাগ যোগ শুদ্ধাত্রয় বিভাগ যোগ  মোক্ষ যোগ  ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেহের সাথে মানসিক চিন্তার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যোগের জ্ঞান দিয়েছিলেন। উনি যে পরিস্থিতিতে এই বাণী দিয়েছিলেন সেই সময়ের প্রেক্ষাপট বিচার করলে দেখা যাবে যে, মহাভারতের যুদ্ধে প্রতিপক্ষ নিজের পিতামহ, শিক্ষাগুরু, ভ্রাতা, পরিবার কে দেখে যখন অর্জুন যুদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেই সময় তিনি অর্জুনকে নিজের মনকে দৃঢ় করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করানোর জন্য যোগ এর জ্ঞান দিয়েছিলেন। তিনি অর্জুনের মানসিক অবিচলিত মনকে শান্ত করার জন্য তিনি সংসারের সব রহস্যের সাথে অবগত করিয়েছিলেন। এর ফলে অর্জুন যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয় এবং ধর্মস্থাপনার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। হরপ্পা সভ্যতাতে যোগ সাধনা ঃ যোগ, যার উল্লেখ আমরা বেদ, সনাতন ধর্মগ্রন্থ, মুনি ঋষিদের উপাখ্যান, শাস্ত্র, রাময়ণ, মহাভারতের মতো প্রাচিন গ্রন্থ গুলোতে পেয়েছি। এই সব গ্রন্থের রচনাকাল নিয়ে অনেক মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই পর্বে প্রাপ্ত নিদর্শন গুলো কতোটা পুরোনো তা নিয়ে বিভেদের অন্ত নেই। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর পুর্বে সিন্ধু ও তার অববাহিকা অঞ্চল জুড়ে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সেই সভত্যাতে খনন কার্যের ফলে অনেক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছিলো তাদের মধ্যে যোগ সাধনার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রায় ২৫০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে হরপ্পা সভ্যতার সূচনা হয়েছিলো, ভারতের প্রথম শহরকেন্দ্রিক সভ্যতা গুলির মধ্যে অন্যতম, ১৯২১-২২ সালে রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় এবং দয়ারাম সাহানি হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারোতে খনন কার্য চালিয়ে এই সভ্যতা আবিষ্কার করেন। সিন্ধু সভ্যতার বেশিরভাগ নিদর্শন হরপ্পা থেকে আবিষ্কার হয়েছিলো বলে এই সভ্যতাকে হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়। এই সভ্যতায় খনন কার্যের ফলে এমন কিছু কিছু পুরাবস্তু আবিষ্কৃত হয়েছে যা সেই সময়কার যোগ সাধনা কে নির্দেশ করে। ওই সভ্যতায় এমন কিছু সিলমোহর পাওয়া গেছে যেগুলি স্পষ্ট ভাবে ইঙ্গিত করে যে সেই সময় যোগ সাধনার প্রচলন ছিলো ।  হরপ্পা সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র মহেঞ্জোদারো তে একটি অতি উতকৃষ্ট মানের সিলমোহর পাওয়া গেছে যাকে ঐতিহাসিকেরা আদিযোগী বা পশুপতি শিবের সঙ্গে তুলনা করেছেন। উক্ত সিলমোহরে লক্ষ্য করা যায় একজন যোগী পদ্মাসনে উপবিষ্ট হয়ে তপস্যা করছেন। যোগী পুরুষটির দেহের বিবরণ কোনো কোনো সিলমোহরে ত্রিমুখ অঙ্কিত হয়েছে আবার কোথাও একমুখ  বিশিষ্ট যোগী। ওনাকে ধ্যানরত যোগী রূপে দেখানো হয়েছে। তিনি পদ্মাসনে বসে আছেন, নাগ্রাসে তাঁর দৃষ্টি, তিনি উর্দ্ধলিঙ্গ। তাঁর মাথায় শিং ও মুকুট, কোমোরে আবরণ। তাঁর চারিপাশে চারটি পশু, যথা- হাতি, বাঘ, গন্ডার ও মহিষ। তাঁর পায়ের কাছে একটা পশু হরিণ। এই যোগী পুরুষের আরও যে সমস্ত সিলমোহর আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে যোগীর পতিকৃতি আছে কিন্তু পশু নেই, আছে একগুচ্ছ ফল, ফুল বা পাতা, যেনো যোগীর মাথা থেকে তারা উদ্গত হচ্ছে। এই যোগীর কয়েকটি বৈশিষ্ট হলো কোথাও তিনি ত্রিমুখ বিশিষ্ট আবার কোথাও একমুখ বিশিষ্ট। তিনি পশুপরিবৃত অবস্থায় যোগ সাধনা করছেন। হিন্দু ধর্মের শিবের সাথে ওই যোগী পুরুষের মিল পাওয়া যায়। শিবও হলেন পরমযোগী, পশুপতি। এই সব কারনের জন্য ওই যোগী কে পশুপতি শিব বা আদিযোগীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পুরাণে শিবকে কিরাত বা বাধ্যরূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই সিলমোহরেও হয়তো শিবের কিরাতরূপের উল্লেখ আছে। ওই সিলমোহর টির বিবরণ হলো মোহরটি আকারে বর্গাকার, talc জাতীয় পদার্থাবৃত, সিলমোহরটির দৈর্ঘ্য ৩.৫৬ সেমি., প্রস্থ ৩.৫৩ সেমি., আর পুরুত্ব ০.৭৬ সেমি., জন মার্শাল এটিকে পশুপতি শিব বলে আখ্যা দিয়েছেন। যেই সভ্যতায় পরমযোগী ভগবান শিবের উপাসনা করা হয় সেই সভ্যতায় যোগের চর্চা হবেনা সেটা অবান্তর। যোগ সাধনা মানুষের মনের উদ্যমতাতে বৃদ্ধি করে তাই প্রতিটি সভ্যতায় যোগ সাধনা হতো।  ওই আদিযোগীর সিলমোহর ছাড়াও আরও অনেক নিদর্শন পাওয়া গেছে। যেগুলি তে দেখা গেছে মানুষ যোগের বিভিন্ন নিয়ম এবং আসন করছে দেহকে সুঠাম বানানোর জন্য। আবারও কিছু কিছু নির্দশন পাওয়া গেছে যেখানে যোগ চর্চার অঙ্গ সূর্য নমস্কার করতে দেখা গেছে। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে ওই সভ্যতায় যোগ কতোখানি গ্রহনযোগ্য ছিল। পতঞ্জলির যোগ সূত্র ঃ হিন্দু দর্শনে মোট ৬য় টি সাখা বিদ্যমান। যোগ ওই দর্শন শাস্ত্রের এক অঙ্গ। যোগ সাংখ্য দর্শন সাখার সঙ্গে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত। আধুনিক কালে যে সমস্ত যোগ আমরা জানি তার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়েছেন ঋষি পতঞ্জলি। পতঞ্জলি তাঁর সাংখ্য দর্শনের অন্যতম যোগ শাস্ত্র গ্রন্থে যোগের বিবরণ নিরূপণ করেছেন। তাঁর এই সাখা সাংখ্য দর্শনের থেকে অনেকটা ইশ্বরমুখী ছিলো। ম্যাক্স মুলারের মতে, ❝ The two philosophies were in popular distinguished from each other as Sankhya without a lord ❞। পতঞ্জলি কে আনুষ্ঠানিক যোগ দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা রূপে গণ্য করা হয়। পতঞ্জলির যোগ শাস্ত্রে মন কে নিয়ন্ত্রন করার  একটা পন্থার কথা বলা রয়েছে, যা রাজযোগ নামে পরিচিত। পতঞ্জলি তাঁর যোগসূত্র গ্রন্থের দ্বিতীয় অধ্যায়ে যোগের যে সংজ্ঞা দিয়েছেন সেটিকেই তাঁর সমগ্র গ্রন্থের সংজ্ঞামূলক সূত্র রূপে চিহ্নিত করা হয়। “योगः चित्तवृत्ति निरोधः ” যোগ সূত্র ১.২ ঃ  পতঞ্জলি রচিত যোগসূত্র গ্রন্থের একটি সূত্র হলো ❝ যোগঃ চিত্তবৃত্তি নিরোধঃ ❞। এই সংজ্ঞার মধ্যে তিনটি সংস্কৃত শব্দের অর্থ্য নিহিত রয়েছে। আই.কে তৈমিনির অনুবাদ অনুসারে যোগ শব্দের অর্থ হলো ‘ চিত্ত ’ পরিবর্তন ‘ বৃত্তি ’, নিবৃত্তি ‘ নিরোধঃ ’। সংজ্ঞায় নিরোধ  শব্দের যোগ সূত্রে বৌদ্ধ ব্যবহারিক পরিভাষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাটির নির্দেশক। এই শব্দটি থেকে প্রমানিত হয় যে পতঞ্জলির বৌদ্ধ ধ্যানধারনার সম্যক অবগত ছিলেন এবং তা নিজের প্রবর্তিত কাব্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। স্বামী বিবেকানন্দ এই সূত্র টির ইংরেজি অনুবাদ করেন।  পতঞ্জলি রচিত যোগ অষ্টাঙ্গ যোগ নামে পরিচিত। এটি যোগ চর্চার প্রচলিত বিধি। এই অষ্টাঙ্গ যোগের ধারণাটি পাওয়া যায় যোগসূত্রের ২য় খন্ডের ২৯তম সূত্রে। রাজযোগের প্রচলিত প্রধান ৮টি অঙ্গ অষ্টাঙ্গ যোগ নামে পরিচিত। এই অষ্টাঙ্গ যোগ হলো —1. যম – পতঞ্জলি রচিত অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম অঙ্গ হলো যম। এই অঙ্গে তিনি মানুষ কে অহিংস, সত্যবাদিতা, অস্ত্র না ধরা, ব্রহ্মচর্য পালন এবং অপরের জিনিস অধিগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। 2. নিয়ম – পতঞ্জলি রচিত যোগসূত্র গ্রন্থের ২য় অঙ্গ হলো নিয়ম। এই নিয়মে তিনি কতোগুলো কর্তব্য নিয়ম পালনের কথা বলেছেন। তিনি এই অঙ্গে মানুষ কে পবিত্রতা, আত্মসন্তুষ্টি, তপস্যা, সাধূ সঙ্গ লাভ, ইশ্বরে মনোনিবেশ করার কথা বলেছেন। তিনি এই নিয়ম গুলি পালন করার কথা বলেছেন। যম ও নিয়ম এই দুই অঙ্গের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইন্দ্রিয় এবং চিত্তবৃত্তি গুলিকে দমন করা এবং এগুলির অর্থ অন্তর্মুখী করে ইশ্বরের সঙ্গে যুক্ত করা। 3. আসন – পতঞ্জলি তাঁর এই অঙ্গে যোগ অভ্যাস করার জন্য যে ভঙ্গিমায় শরীরকে রাখলে শরীর স্থীর থাকে অথচ কোনোরূপ কষ্টের কারণ ঘটেনা, শরীর সুখজনকভাবে অবস্থান করার পক্রিয়াই হলো আসন। এই আসন গুলির দৈনিক অভ্যাস করলে দেহের নানা রোগ দূরিভুত হয়। ঔউজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। প্রাণশক্তি বৃদ্ধি পায়। 4. প্রাণায়াম – প্রাণায়াম হলো যোগের মাধ্যমে প্রাণ বায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছেন। তিনি এই পক্রিয়ার মাধ্যমে জীবন শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছেন। 5. প্রত্যাহার – যে সমস্ত বিষয় মানুষের মনকে বিচলিত করে সেই সকল বিষয় কে তিনি বর্জন করতে বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন আসন ও প্রাণায়ামের মাধ্যমে মানুষের অবিচল মনকে সংযত করে মনোসংযোগ করা, তিনি ষড় রিপু কে বর্জন করতে বলেছেন। এরূপ অবস্থায় ইন্দ্রিয় গুলোকে বাহ্যবিষয় থেকে প্রতিনিবৃত্তি করে চিত্তের অনুগত করাই হলো প্রত্যাহার। 6. ধারণা ঃ কোন একটি নিদৃষ্ট বিষয়ে মনকে স্থির করার পক্রিয়া, কোন বিশেষ বস্তুতে, জিনিসে, আধারে চিত্তকে মনোনিবেশ করার পক্রিয়াকে ধারণা বলে। 7. ধ্যান ঃ- শুদ্ধ অর্থে মনকে ধ্যেয় বিষয়ে বিলিন করা, যে বিষয়ে চিত্ত নিবিষ্ট হয়, যে বিষয় মানবচিত্তে একাত্মতার জন্ম দেয় তাহলে সেই বিষয় কে যোগ ধ্যান বলে। এই একাত্মতার অর্থ অবিরতভাবে চিন্তা করাকে ধ্যান বলে। প্রাচিন মুনি ঋষিরা এই ধ্যানে সারাক্ষন নিমগ্ন থাকতেন। এই ধ্যানের মাধ্যমে তারা তাদের ইষ্ট দেবতার সংস্পর্শে থাকতো। এবং তারা সিদ্ধিলাভ করতেন। 8. সমাধি ঃ- ধ্যানের মাধ্যমে চৈতন্য বিলোপ সাধন। ধ্যান যখন গাঢ় হয় তখন ধ্যানের বিষয়ে চিত্ত এমনভাবে নিবিষ্ট হয়ে পড়ে যে, চিত্ত ধ্যানের বিষয়ে লীন হয়ে যায়। এই অবস্থায় ধ্যান রূপ পক্রিয়া ও ধ্যানের বিষয় উভয়ের প্রভেদ লুপ্ত হয়ে যায়। চিত্তের এই প্রকার অবসস্থাকে সমাধি বলে। সমাধি ২য় প্রকার সবিকল্প এবং নির্বিকল্প সাধকের ধ্যানের বস্তু ও নিজের মধ্যে পার্থক্যের অনুভূতি থাকলে তাকে নির্বিকল্প সমাধি বলা হয়। তখন তার মনে চিন্তার কোনো লেশ মাত্র থাকে না। এই সমাধি লাভ যোগের সর্বচ্চ স্তর। যা যোগীর পরম প্রাপ্তি।  এই শাখার মতে মানুষ যদি এই পক্রিয়ার চরমে উঠতে পারে তাহলে এই সমগ্র সংসার তার কাছে মায়া বলে মনে হয় না। প্রতিদিনের জহতকে সত্য বলে মনে করা হয়। এই অবস্থা ব্যাক্তি আত্ম জ্ঞান লাভ করে। তার আমিত্ব রহিত হয়।  প্রাচিন ঋষি মুনিরা বছরের পর বছর এই সমাধি অবস্থায় লীন থাকতো।  ববহির্জগতের সমগ্র চিন্তা ভাবনা থেকে কয়েক যোজন দূরে থাকতেন। ওনারা প্রকৃত যোগী। যোগের প্রকারভেদ : – পতঞ্জলি তাঁর যোগসূত্র গ্রন্থে যোগের প্রকারভেদ নিয়ে বর্ণনা করেছেন। যোগ প্রধানত ২য় প্রকার, রাজযোগ এবং হঠযোগ। হঠযোগের উদ্দেশ্য হলো শরীরকে সুস্থ, সবল ও দীর্ঘায়ু করা। হঠযোগীয় ধারণা কোনোরূপ শক্তিকে আরও করতে হলেই নিজের শরীরকে নিজের আয়ত্তে আনতে হবে। সাধারণ মানুষ যোগ বলতে হঠযোগের ব্যায়াম গুলিকে বোঝায়। রাজযোগের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন সাধন। এই পরমাত্মার সাথে মিলনের ফলে জীবের মোক্ষলাভ হয়।  হঠযোগ হলো মানব শরীরকে সুস্থ, সবল রোগনিরাময় ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। হঠযোগের মাধ্যমে সিদ্ধিলাভ না হলেও এই যোগ সাধনে মানুষের বাহ্যিক পরিবর্তন করে।  হঠযোগের সাথে রাজযোগের অতি নিবিড় সম্পর্ক যুক্ত। যোগ সাধনার পূর্বসর্ত হলো নিজের  দেহকে সুস্থ রাখা, তামসিক চিন্তা থেকে নিজেকে বিরত রাখা, ষড় রিপু কে নিজের বসে আনা। যার ফলে যোগ সাধনার মার্গ সরল হয়। পতঞ্জলির শ্লোক ধরেই বলা যায় যে — “ शरीरमाद्यां खलु धर्मसाधनम् ” ‌। অর্থ্যাৎ শরীর মন সুস্থ না থাকলে জাগতিক বা পারমার্থিক কোন কাজই সুস্থ ভাবে করা যায় না। শরীর যদি সুস্থ স্বাভাবিক না থাকে তাহলে কার্যসিদ্ধি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই আগে শরীর কে সুস্থ রাখা প্রয়োজন। কুণ্ডলিনী যোগ সাধনা:  যোগ শাস্ত্রে হঠযোগ এবং রাজ যোগ ছাড়াও আরও একপ্রকার যোগ সাধনার উল্লেখ আছে। সেটি সবার থেকে কঠিন যোগ সাধনা ‘ কুণ্ডলিনী যোগ ’। এই যোগ সাধনার উল্লেখ উপঅনিষদে পাওয়া যায়। এই যোগ সাধনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো জীবন প্রদানকারী বুনিয়াদি শক্তির সক্রিয়তা বৃদ্ধি করা।  আমাদের দেহে যে পরিমান শক্তি সঞ্চিত থাকে তার প্রায় ৯৯ ভাগ শক্তি আমাদের মুলাধার চক্রে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকে। এই অবশিষ্ট শক্তিই হলো আমাদের প্রাণ বায়ু।  কঠোর নিয়ম নিষ্ঠা পূর্বক যোগ সাধনা করার ফলে এই ৯৯ ভাগ বুনিয়াদি শক্তি ব্রহ্ম স্তর, বিষ্ণু স্তর অতিক্রম করে সহশ্রার চক্রে গিয়ে পৌঁছোয়। আমাদের মেরুদণ্ডের নিচে এই কার্য কুণ্ডলী আকারে চলতে থাকে। বুনিয়াদি শক্তি তীব্র যোগ সাধনার মাধ্যমে দেহে সঞ্চিত নিস্ক্রিয় শক্তিতে সক্রিয় করে তোলার পক্রিয়া।  এই কুণ্ডলিনী যোগ কে শাস্ত্রে বিষধর সাপ এর তুলনা করা হয়েছে। কুণ্ডলীনি যোগ সাধনায় সিদ্ধিলাভ করার ফলে যোগীর মোক্ষপ্রাপ্তি ঘটে। এই সাধনা অত্যন্ত কষ্টকর। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম পর্বের যোগ সাধনা : যোগ সাধনা মানব সভ্যতার গোড়ার সময়ের থেকে চলে আসছে। যোগ প্রজন্মের পর প্রজন্মে বিবর্তিত হয়ে চলেছে। সেই প্রাক্-বৈদিক পর্বের যোগ সাধনা সেখান থেকে ঋক বৈদিক এবং পরবর্তী বৈদিক যুগের যোগ সাধনা মানুষকে প্রভাবিত করেছে। এই পৃথিবী তে আবির্ভূত হয়েছিলেন রাম কৃষ্ণের মতো যুগপুরুষ রা যাঁরা তাঁদের কর্মের মাধ্যমে মানুষ কে যোগ সাধনায় উদবুদ্ধ করেছিলেন।  পরবর্তী কালে আজ থেকে প্রায় ২৭০০ বছর আগে কপিলাবস্তু নগরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সিদ্ধার্ত। অবশ্য তিনি গৌতম বুদ্ধ নামেই বিশেষ পরিচিত। ওনার জীবনের মূল মন্ত্রই ছিল যোগ আর বৈরাগ্য। তিনি সাধারণ জীবনযাপন করেই যোগ সাধনা করার কথা বলেছিলেন। তিনি মনে করতেন ইশ্বরকে লাভ করার জন্য কঠোর নিয়ম পালন করার কোনো মানে হয়না। তাই তাঁর প্রবর্তিত ধর্ম ‘ বৌদ্ধ ’ ধর্মে যোগ সাধনার এক নতুন ধারা প্রবর্তন করেন যা অনেকটা সহজ সরল এবং সাধারণ মানুষের কাছে অনেক গ্রহণীয়। তাঁর প্রবর্তিত ধর্ম দুটি ভাগে বিভক্ত হিনজান এবং মহাজান।  ওই একই সময়ে বৌদ্ধ ধর্মের মতো আরও একপ্রকার ধর্মমত প্রচারিত হতে শুরু করে। অতি সাধারণ পন্থাতে যোগ সাধনা, ইশ্বর প্রাপ্তির মার্গ, যোগ সাধনার নতুন ধারার প্রচার এই সব কারণে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মহাবীর জৈনের প্রচারিত ধর্ম জৈন ধর্ম। এই ধর্মের নিয়ম গুলি বৌদ্ধ ধর্মের থেকে অপেক্ষাকৃত একটু জটিল। এই দুই ধর্ম মত তৎকালীন রাজা দের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিল। বৌদ্ধ এবং জৈন গ্রন্থ গুলিতে যোগ সাধনার নতুন ধারার প্রমান পাওয়া যায়। আদি শংকরাচার্য প্রবর্তিত যোগ :  পতঞ্জলি রচিত যোগসূত্র গ্রন্থে প্রবর্তিত যোগসাধন প্রনালী অত্যন্ত জটিল এবং সময় সাপেক্ষ। সাধারণ মানুষ যাতে যোগের গুঢ় তত্ত্ব গুলি অনুধাবন করতে পারে এবং যাতে যোগ সাধনায় প্রবৃত্ত হতে পারে তার জন্য আদিগুরু শংকরাচার্য এক নতুন যোগ সাধন প্রনালীর রচনা করেন, যার পন্থা গুলি ছিলো সহজ সরল এবং সাধারণ মানুষের বোধগম্য। তিনি বিভিন্ন গ্রন্থ, শাস্ত্র গুলিতে বর্ণিত যোগ মার্গ গুলিকে একত্রিত করেন। তিনি হঠযোগ পালনের কথা বলেন। তিনি দেহ কে সুস্থ সবল করে ইশ্বরের সাধনায় মনোনিবেশ করার কথা প্রচার করেন। তাঁর এই ভাবধারায় অনেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ সাধনা সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহন করেন। তিনি সন্নাসীদের একত্রিত এক হিন্দু মহাসেনা গঠন করেন যারা হিন্দু ধর্মকে রক্ষার জন্য উদ্যত থাকেন। এই ধারাকে মনে রেখে এখনও কুম্ভমেলা পালিত হয়, যেখানে সব সাধূরা এসে একত্রিত হন আর নিজেদের যোগ প্রদর্শন করেন। ভক্তি যোগ : এখনও পর্যন্ত যতো প্রকার যোগসাধনা, যোগী, ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হলো তার প্রত্যেকটাতেই অতি কঠিন সাধন মার্গের কথা বলা হয়েছে। যম, নিয়ম আসন, প্রাণায়াম প্রভৃতি নিয়ম নিষ্ঠা পালনের মাধ্যমে মোক্ষলাভ করার পন্থা বলা আছে যা সবার কাছে সমান গ্রহণযোগ্য ছিল না।  ১৪দশ শতকে এই গতানুগতিক ধারাকে বর্জন করে মোক্ষপ্রাপ্তির অতি সহজ সরল পন্থার প্রচার করেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। ইনি গৃহি মানুষ দেরও ইশ্বর সাধনার জন্য ভক্তিযোগের কথা বলেন। এই যোগ সাধনায় মানুষকে গৃহত্যাগী, বৈরাগ্য ধারণ করার প্রয়োজন ছিলো না। মানুষ গৃহে বসেই ইশ্বরের নাম কীর্তনের মাধ্যমে ইশ্বর সাধনার কথা বলেন। তিনি ইশ্বর প্রাপ্তির পন্থা হিসেবে ইশ্বরের নাম শ্রবণ, কীর্তন এবং ইশ্বরের চরনে আত্মনিবেদনের কথা বলেন। এই যোগ প্রণালী বহু মানুষের সমর্থন লাভ করে।  মানব সভ্যতা যত উন্নত হতে শুরু করে তত সভ্যতার ভাবধারার অনেক পরিবর্তন দেখা দেয়। এই পরিবর্তিত ভাবধারার ফলে তার প্রভাব যোগ সাধনার ওপর গিয়েও পড়েছিল। খ্রীষ্টিয় ৫ম শতকে মানুষ তন্ত্র সাধনা র দিকে মোনোনিবেশ করতে থাকে। মানুষ হঠযোগ থেকে বিরত থেকে যাগ যজ্ঞে আকৃষ্ট হয়। যোগ সাধনার মাধ্যমে সিদ্ধিলাভ করে মোক্ষপ্রাপ্ত করাতে আকৃষ্ট হয়।  তন্ত্রের মাধ্যমে গোটা বিশ্বের সমস্ত রহস্য কে আয়ত্ব করার প্রবণতা বাড়ে। মন্ত্র, তন্ত্র, প্রাণায়ামের মাধ্যমে এই যোগ সম্পাদন করা হতো। এই তন্ত্র সাধনাতে সিদ্ধি লাভ করলে যোগী অনেক মহাজাগতিক শক্তি লাভ করতো। এর বিবরণ ১০ শতাব্দীর গ্রন্থ গুলি থেকে পাওয়া যায়। এই তান্ত্রিক ধারা ক্রমশ বুদ্ধ এবং জৈন ধর্মে প্রবেশ করে এবং নতুন এক যোগ সাধন মার্গের সূচনা করে। এই সাধনা তে অনেক নতুন দেব দেবীর উপাসনা করা শুরু হয়। এই সাধন প্রনালী জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও সাধারণ মানুষ  তন্ত্র সাধনার থেকে দূরে থাকতো। আধুনিক পর্বের যোগ সাধনা :  প্রাচিন ভারতীয় এই যোগ সাধন প্রনালীটি ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই যোগ বহির্বিশ্বের সমান ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। উদাহরণ স্বরূপ প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিনে এই যোগ ধারা বহুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।  আধুনিক কালেও অনেক যোগীপুরুষ অবতীর্ণ হয়েছিলেন যাদের জীবন প্রনালীর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ছিল যোগ সাধনা। এমনই একজন যোগী হলেন বাবা লোকনাথ। উনি খুব ছোট বয়স থেকেই ইশ্বরচিন্তা এবং যোগ সাধনায় মোনোনিবেশ করেন। উনি যোগ মার্গে সিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তিনি যোগের তত্ত্ব গুলো অনেক সহজ সরল ভাবে বুঝিয়েছিলেন। কথিত আছে নাকি উনি নাকি খালি গায়ে হিমালয়ে উঠতে পারতেন। যোগ সাধনার ফলে লোকনাথ ব্রহ্মচারী ১৪৫ বছর বেঁচে ছিলেন।  এই যোগ সাধনা ব্রিটিশ দেরও প্রভাবিত করতে থাকে। উনবিংশ শতকেও একজন যুগবতারের  আবির্ভাব ঘটেছিল। উনি রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, যিনি তাঁর ভাবরসে গোটা জগৎ কে মাতিয়ে রেছেছিলেন। তিনি তাঁর ভক্তিরসে মা কালীর দর্শন পেয়েছিলেন। তিনি তাঁর ভক্তিভাবে নব প্রজন্মকে প্রভাবিত করেছিল। অনেকে তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহন করেছিলেন। তিনি অনেক সহজ সরল ভাবে বোধগম্য করাতে পারতেন। ওনার ভাব ধারায় প্রভাবিত হয়ে বিবেকানন্দ উনবিংশ শতকের শেষার্ধে ইওরোপে হিন্দু ধর্মের মাহাত্ম্য প্রচার করতে যান। উনিও অনেক সহজ সরল পক্রিয়াতে যোগ সাধনার কথা বর্ণনা করেন। স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৯৭ সালে শিকাগো ধর্ম সম্মেলনে সনাতন ধর্মকে উপস্থাপন করেন। উনি হিন্দু ধর্মকে গোটা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন। তাঁর এই উপস্থাপনার ফলে বহির্বিশ্বের কাছে হিন্দু ধর্ম প্রাধান্য লাভ করেছিল। উপসংহার: যোগ সম্বন্ধে এই সিদ্ধান্তে উপনিত হওয়া হয় যে, যোগ জন্ম মৃত্যুর মধ্যে যে অন্তরায় তার পরিচয়বাহক। অর্থাৎ সুস্থ জীবন যাপনের পরিচায়ক। মানুষের মনে অশান্তি যতদিন মানব সভ্যতার যতদিন মানসিক বিকাশ ঘটেছে ততদিন থেকে বর্তমান। ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের চিন্তা শক্তি উন্নত তর হয়েছে। আর ততদিন থেকেই এই সংসারে মন কে শান্ত করার জন্য যোগ অতীতেও ছিলো, বর্তমানেও আছে আর ভবিষ্যতেও থাকবে। তাই বলাই যায় যোগ সাধনার না আছে আদি না আছে অন্ত শুধু সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হয়েছে।  মানুষের মনকে সংযত করতে, মনে বৈরাগ্যভাব জাগরিত করতে যোগ অবসম্ভাবি। হ্যাঁ বর্তমান কালে মূলত হঠযোগ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার জন্য। বিভিন্ন সংস্থা এতে উদ্যোগী হয়েছে। Meditation এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকার মারণ ব্যাধি নিরাময় হয়। প্রাণায়াম, আসন ইত্যাদির মাধ্যমে অনেক পুরোনো পুরোনো রোগ নিরাময় করা সম্ভব হচ্ছে। আর এই ভাবে যোগ সাধনা গোটা বিশ্ব জুড়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে যাবে।  ~ সমাপ্ত ~

“যোগ ” – শান্তিক্ষেত্র

“যোগ ” – শান্তিক্ষেত্র - শ্রীরূপ বিট

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম ভরসা যেমন মাস্ক, তেমনি মানসিক বা শারীরিক যাই হোক না কেন! রোগময় পরিস্থিতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম অবলম্বন হল “যোগ”। বলতে গেলে যোগ হলো শরীর ও মনের এক প্রকার মাস্ক। আমরা প্রায় সকল ভারতবাসী তথা বিশ্ববাসী “যোগ” শব্দের সাথে এখন ভালোই পরিচিত বললেই চলে। তবে “যোগ” বলতে প্রথমেই যোগাসন এবং প্রাণায়াম অভ্যাসকে সচরাচর ধরা হয়, কারণ যোগের অর্থ হলো শরীর ও মন ভালো ও সুস্থ রাখা।

গাণিতিক দৃষ্টিকোণ দিয়ে দেখতে গেলে “যোগ” অর্থে আমরা “+” এই চিহ্নকে বুঝে থাকি। রক্তের শ্রেণীতে এই চিহ্নটিকে বলা হয় “পজিটিভ” অর্থাৎ “ইতিবাচক”। সকলের রক্তের শ্রেণী আলাদা হতে পারে, যেমন – “এ- পজিটিভ”, “ও- পজিটিভ”, “ও- নেগেটিভ” ইত্যাদি ; কিন্তু মনের শ্রেণী অনুযায়ী সকলের গ্রুপ একটাই হওয়া উচিত; আর সেটা হলো – “বি- পজিটিভ” (Be positive)। যা করতে যোগ আমাদের শেখায়।

জন্ম থেকে পথ চলা শুরু হবার সাথে সাথে যে দড়ির সঙ্গে আমরা পুরোপুরি বাঁধা পড়ে যায়, সেই দড়িটা হলো – “সম্পর্ক”। আর সেই প্রত্যেক সম্পর্কের দড়িতে যে যে নিজেদের সাথে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে, তাদের সাথে সেই দড়ির বন্ধনকে অক্ষত রাখার কর্তব্য মৃত্যু পর্যন্ত পালন করে যেতেই হয়। বাস্তব সমাজে এই সম্পর্ক রক্ষার্থে কেউ হীনমন্যতা, কেউ নৈরাশ্যতা এবং কেউ হত্যা পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়। যদি গীতার আঠারোটি অধ্যায় পর্যবেক্ষণ করা হয়, তবে প্রতি অধ্যায়ে সকল উপদেশের মাঝে শ্রীকৃষ্ণ একটাই বার্তা অর্জুনকে প্রদান করছেন। আর সেই বার্তাটি হলো : “হে অর্জুন! তুমি যোগযুক্ত হও।” যদি সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই বার্তা প্রয়োগ করা হয়, তবে কেমন হয়?

আমাদের হিন্দু শাস্ত্রে অন্যতম বিশেষ তিন ধরনের যোগের পন্থা উল্লেখ রয়েছে। যথা – জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ এবং কর্মযোগ। একটু স্থিরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, এই তিনটি যোগ পন্থার ভিত মনের প্রধান তিন শক্তি, যথা- জ্ঞানযোগের ভিত চিন্তাশক্তি, ভক্তিযোগের অনুভূতিশক্তি এবং কর্মযোগের ইচ্ছাশক্তি। সমগ্র বিশ্বে প্রত্যেকেই এই তিন শক্তির ভিত্তিতে জীবন পথে এগিয়ে চলে। এই তিন বিনা সবকিছুই অচল। এককথায় বলা চলে, রক্ত মাংসের দেহের ভিতরে এই তিন শক্তি দিয়ে গঠিত রয়েছে আরেকটি দেহ, যা হলো আমাদের সূক্ষ্ম দেহ। আসলে এই তিনশক্তি যখন ব্রহ্মজ্যোতির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় তখন তা হয়ে যায় যোগ, যার বিবরণ হিন্দু দর্শন দেয়। তাহলে সামাজিক জীবনে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায় কীভাবে?

বর্তমানে অধিকাংশ সম্পর্ক ছিন্ন হবার মূল কারণ যে বোঝাপড়া বা সমন্বয় সাধনের অভাব, তার উদাহরণ হিসেবে বলা যায় – একটি দীর্ঘ ব্যস্ততম রাস্তার একপ্রান্তে থাকা একটি মানুষ ঠিক তার অপর প্রান্তে থাকা আরেকটি মানুষকে চিৎকার করে ডাকা সত্ত্বেও সে শুনতে পেলো না, আবার সেই মানুষটি যখন পূর্বের মানুষটিকে দেখতে পেয়ে ডাকলো তখন পূর্বের মানুষটিও শুনতে অক্ষম হলো। ফলে দুজনের মনে একপ্রকার ধারণা সৃষ্টি হলো যে, এতো করে ডাকা সত্ত্বেও যেহেতু ও ইচ্ছে করে সাড়া দিল না, সেহেতু আজ থেকে আর কোনোদিনও ওকে ডাকবো না। ব্যাস! উভয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে গেল এক বিচ্ছিন্নতার প্রাচীর। যদি ওই রাস্তাটি সম্পর্ক হয়, তাহলে ঐ মানুষ দুটি হলো সম্পর্কের দুই মেরু অর্থাৎ যে দুজনকে নিয়ে সম্পর্ক। আর বেশিরভাগ সম্পর্ক এভাবেই ভুলবোঝা পড়াতেই ছিন্ন হয়।

এবার আসি, উপরিক্ত তিন শক্তি অর্থাৎ চিন্তা, অনুভূতি এবং ইচ্ছা – এদের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে কিভাবে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব তা ব্যাখ্যা করলে বলতে হয় – উপরিক্ত উদাহরণে শুরুতেই বলা হয়েছে যে, রাস্তাটি ছিল দীর্ঘ এবং ব্যস্ততম। অর্থাৎ, উভয় প্রান্তের মধ্যে একটি ব্যক্তিও অপর ব্যক্তির সাড়া না পাবার পর যদি প্রথমে চিন্তাশক্তিকে প্রয়োগ করতো, তবে সে তার না শোনার পিছনে নিশ্চয় কারণগুলি অনুসন্ধান করতো, সেটা রাস্তার দীর্ঘতা হোক বা যানবাহনের শব্দ। এরপরে সে তার অনুভূতি শক্তি যদি প্রয়োগ করতো, তবে অনুভব করতো যে, যদি তাকেও অপরদিক থেকে এই পরিস্থিতিতে ডাকা হয় তবে না শোনাটাই স্বাভাবিক। পরিশেষে সে ইচ্ছাশক্তি যদি প্রয়োগ করতো, তাহলে পরবর্তীকালে সে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার পরিবর্তে যুক্ত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করতো।

সুতরাং , সম্পর্কের বিরোধক্ষণে চিন্তা বিরোধের মূল কারণ ধরতে, অনুভূতি অপরকে কঠোর আচরণে আঘাত দেওয়ার পূর্বে নিজেকে দিয়ে বিচার করতে এবং ইচ্ছা পুনরায় আগের মতো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রধান সহায় হয়ে ওঠে। আর এই তিনের প্রয়োগ হলে সেই ব্যক্তি অজান্তে তার নিম্নমানের অহংকে (Ego) ত্যাগ করে নিজের এবং অপরের মানসিক শান্তি আনতে সক্ষম হয়। কারণ বিচ্ছিন্নতা বা “বিয়োগ” আর যাই হোক কখনও শান্তি লাভে সক্ষম হয় না। তাই বাস্তব জীবনে সকলের সাথে যোগ রেখে চলাই যেহেতু ধর্ম তাই সঠিক সময়ে এই তিনের প্রয়োগ করাও একপ্রকার যোগ বটে। কারণ “যোগ” শুধু শারীরিক নয়, মানসিক শান্তিরও এক মোক্ষম উপায় অর্থাৎ যোগই স্বয়ং ‘শান্তিক্ষেত্র’। তাই সমাপ্তি জুড়ে থাক বেদান্তের সেই শান্তির বাণী:

ওঁ সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।
সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তু মা কশ্চিৎ দুঃখভাগ্ভবেৎ।।

ওঁ শান্তি শান্তি শান্তি।।

লেখক : শ্রীরূপ বিট
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : 
লেখক নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতক ( সংস্কৃত অনার্স)। লেখালেখি করা একপ্রকার শখ। রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ ভাব প্রচার পরিষদ (পশ্চিম মেদিনীপুর) থেকে পূর্বে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় কিছু পত্রিকায় লেখা বেশ কয়েকবার প্রকাশিত হয়েছে। লেখা ছাড়াও বই এক অন্যতম সঙ্গী। ভবিষ্যতে জগতকে আপন দৃষ্টিকোণ ও ভঙ্গিমায় কলমের মাধ্যমে তুলে ধরতে প্রচণ্ড আগ্রহী।

The Yoga Darshana: A Soteriological Epistemology

The Yoga Darshana: A Soteriological Epistemology - Souhardya De

Way back in time when man had not yet cultivated the senses of religion as they are today, and philosophy was but barred to the study of the Vedic hymns and other such venerated but secondary (to the Vedas) scriptures (the Upavedas, the Puranas, the Upanishads, Brahmans, Aranyakas and Samhitas), Indian seers had derived distinct sayings on  life (from what they had primarily been shown in the Vedas)  and how living was to be formulated. It is from this difference in interpretation of the Vedic hymns and a parallel analysis of the pseudoscientific karmic manifestation in a human, that the Shad Darshana schools of ancient Indian philosophy gradually stemmed out.

It is important to note however, that Hinduism, as we see it today, is but an evolutionary theosophical conglomeration of almost every interpretation or saying, propounded by these enlightened seers, and not simply based upon a definite code of conduct penned down in one single doctrinal text, as in the case of Islam and Christianity, two of the other most widely followed religions on earth. What is meant by the aforesaid statement is that, Hinduism is flexible in the way dharma is to be led and karma is to be undertaken. Its sages have, for time immemorial, had different perspectives with respect to divinity but at the same time, two underlying features bind the varied threads of the Hindu preachings together: belief in the supremacy of the Vedas and placing full faith in the existence of God, the reason why these six schools of philosophy have collectively been called the Shad Darshana or as is better made clear, the orthodox schools of life.

The earliest among the six was the Samkhya (propounded in his work ‘Samkhya Sutra’ by Kapila Muni), following which originated the Yoga (Patanjali), Nyaya (Rishi Gautama), the Vaisheshika (Rishi Kannad), Purva Mimansa (Rishi Jamini) and Vedanta or Uttar Mimansa (first propounded by Badrayana and later popularised by Shankaracharya, Ramanuja and their trains). The ultimate aim of life however, as agreed upon by each of these six schools, is the attainment of mukti (moksha or salvation, in whatever terms one would like to generalise it as). Mukti refers to the liberation of a soul from the continual cycle of deaths and rebirths and thus, embodies the ending of all desires and suffering, a goal that many a Hindu seer has espoused in the past. The only major difference among these schools hence, is the path to be led, in order to attain salvation. While, for illustration, Samkhya philosophers propagate that it’s all about acquiring real knowledge (through Pratyaksha (perception), Anumana (inference) and Shabda (hearing from a trusted source)), the Yoga school believes in self restraints and Yamas to lead one to the attainment of salvation (though it also includes acquiring real knowledge through the Samkhya epistemology detailed above, a salient similarity that led Adi Shankara and various modern scholars, in the likes of Lloyd Pflueger and Mike Burley, to mock the Yoga school as a “Shamkhya school with God”).

Although the earliest usage of the word ‘Yoga’ (in the context of “yogically controlling… minds and…intelligence” as a reverence to the solar deity Savitri) first appears in the Rig Vedic hymn 5.81.1, it is dubitable as to whether the term ‘yoga’ was originally extant in the earliest revelations (shruti) of the Rig Veda or if it had been interpolated later, in the likes of the Purushasukta (a contradictory opinion to which however was presented by Indian scholar B. V. Kamesvara Aiyar).

The earliest consentient (to which scholars almost unanimously agree) definition of Yoga, as has been found in the Katha Upanishad (hymns 2.6.10-11), which when translated by Orientalist WD Whitney of the American Philological Association with modifications or certain changes based on the definition given by scholar Paul Deussen, reads somewhat like, “Only when Manas (mind) with thoughts and the five senses stand still,and when Buddhi (intellect, power to reason) does not waver, that they call the highest path.That is what one calls Yoga, the stillness of the senses, concentration of the mind,It is not thoughtless heedless sluggishness, Yoga is creation and dissolution.”

As has been further observed by yogic Indologist Gerald James Larson in his work entitled, ‘Classical Sāṃkhya: An Interpretation of Its History and Meaning’, “the fundamental notions of Samkhya, namely prakrti, purusa, buddhi, ahamkara, manas and the three gunas (sattva (goodness), rajas (passion), and tamas (ignorance)), provided the conceptual framework in which much of Indian philosophizing occurred, and the classical formulations of Yoga and Vedanta together with many traditions of Buddhist philosophy and meditation developed vis-a-vis the intellectual perspective of the Samkhya.”

It would be incorrect to state however, that the entire Samkhya philosophy owed its existence to the pillared fundamentals, Prakriti and Purusha. In reality, Purusha was non existent in the early Samkhya view and only appeared to represent the ‘spiritual elements’ (that came together with Prakriti or the ‘creative agencies of nature’ to create the universe) in the later Samkhya philosophy, propagated by theorists in around  4th century AD.

In the Yogic school, the final phase of the asanas, where this Purusha liberated itself from the Prakriti, is termed as the ‘samadhi’. It’ll be interesting to note that ‘samadhi’ is not an independent stage all by itself but is reached through a six fold axiology that encompasses yama (self restraint and further include, as stated by Patanjali in the Yogasutra 2.30, the later Jain principles of Ahimsa, Asateya, Satya, Aparigraha and Brahmacharya), niyama (regulations that bring under the umbrella, sauca, santosha, tapasa, svadhaya and ishwarapranidhana), pratyahara (first mentioned in the hymn 8.5 of the Chandogya upanishad), dharna (focussing the mind over the chosen object in pratyahara) and dhyana (that consists of pranayama, first mentioned in hymn 1.5.23 of the Brihadaranyaka Upanishad, asanas (that popularly include but are not limited to Konasana, Hastapadasana, Ardha Chakrasana, Trikonasana, Virabhadrasana, Garudasana, Ardha Matsyendrasana and Padmasana) and meditation).

The Vaisheshika Sutra by Rishi Kannad, in the verse 5.2.17 states that, “Pleasure and pain results from contact of soul, sense, mind and object. Non-origination of that follows when the mind becomes steady in the soul. After it, there is non-existence of pain in the embodied soul. This is that Yoga.”

After attaining the ultimate irreversible knowledge, having followed all the six procedures, the Yoga soteriology distinguishes between the first three phases and the ultimate three, grouping the latter together as the ‘sanyama’. They believe that the sanyama is reached when a person has perfected himself in controlling his mind, body and pancha-indriyas (the consequent term for which in Jainism would be jitendriya), he attains a state where God acts as his spiritual mentor and guide, leading him away from his worldly thoughts, desires, pleasures and pain to the otherworldly realm, hence bestowing him with salvation and eventually freeing the yogi’s soul from the cycle of birth, death and rebirth.

In the twenty first century today, as the entire world stretches itself in perfection with the postures of the ‘yoga’, it is crucial that they realise yoga is not only about asanas and the fitness regime, especially when aligning this fallacious thought to the land to which it belongs. Yoga, being an entire theosophical way of life in itself, bears a much greater legacy than that. It is climacteric that we realise the underlying expressiveness of the loose translation from the verse 6.20 of the Bhagvad Gita, that states, “Yoga is the journey of the self, through the self, to the self.”


Souhardya De is a Fellow of the Royal Asiatic Society of London, an author, columnist and podcaster. He is the recipient of the 2021 Rashtriya Bal Shakti Puraskar, the nation’s highest honour for civilians under 18, for his contributions to art and culture.De can be reached at hello@souhardyade.co.in


The Priest

The Priest - Soumik Kumar De

Adore the temple

The deity is there

Not an invisible one

But whom you can touch and feel.

The deity of your own

Whom you worshiped 

With your own labour

From dawn to dusk

The temple of your own

Whom you built

Not with vain red bricks

But with your nerve and sinew

Then one day 

You find it there

So strong and stout

Structured with muscles.

It gives you

A fresh breath and energy 

And one behind it all

The yogi, the yoga.


Mr. Soumik Kumar De is a teacher by profession and a poet by passion. He was born in 1977 in Bankura, West Bengal. An M.A. and M.Phil. in English literature Mr. De has several bilingual poems to his credit.  His first anthology Adrikake Niye was published in 2005. It was a collection of Bengali creative poems. His poems have been included in several journals, anthologies and web magazines like Aulos: An Anthology of Poems, Caravan, Sangshaptak, Borderless Journal etc. Besides he has several academic and non- academic writings. He also has edited a bilingual (English to Bengali) dictionary for little kids. He is also a writer of short story and flash fictions. He has a penchant for travelling and so far covered almost all the states of India. Beside writing he likes to spend his leisure hours by painting and playing guitar.

International Yoga Day

International Yoga Day - Muskan Srivastava

International Yoga Day is celebrated every year on June 21. It was first started by our Prime Minister, Shri Narendra Modi. He celebrated Yoga day for the first time on June 21 in 2015, after which Yoga Day started being celebrated all over the world on June 21 and turned into International Yoga Day. The festival of Yoga Day is celebrated every year by the Ministry of AYUSH in India. 

The word Yoga means a Hindu spiritual and ascetic  discipline, a part of which including breathe control, simple  mediation and the adaptation of specific body posture is  widely practiced bodily postures, is widely practiced for  health and relaxation which originated in ancient India. Yoga is the most effective way of connecting your soul to God. It balances our mind and body and connects us to the natural world and helps us appreciate the world in a healthier approach. Yoga is a discipline to improve or develop one’s inherent power in a balanced manner. It offers the means to attain complete self-realization.  

Yoga is performed as part of an exercise program to increase general health, reduce stress, improve flexibility and muscle strength, and alleviate certain physical symptoms; it is commonly used as part of physical therapy and rehabilitation of injuries. In addition to exercise and stress reduction, yoga is also used therapeutically to help children and adolescents with medical conditions. Yoga is a great way to work on your flexibility and strength. Some types of yoga are about relaxation. In others, you move more. Most types focus on learning poses, called asanas. They also usually include attention to breathing. 

Meditation a form of yoga helps us think about life and the Supreme power God which makes us a better person and help to make better decisions about life. Meditation is the most favorable method of balancing the psychological level of a person. It gives immense serenity and peace to the person and helps to undertake daily struggles in a healthy manner. 

Yoga for Flexibility:-

Yoga poses work by stretching your muscles. They can help you move better and feel less stiff or tired. At any level of yoga, you’ll probably start to notice benefits soon.  

Strike a Pose for Strength:-

Some styles of yoga, such as ashtanga and power yoga are very physical. Practicing one of these styles will help you improve muscle tone. But even less vigorous styles of yoga, such as Iyengar or hatha, can provide strength and endurance benefits. Many of the poses, such as downward dog, upward dog, and the plank pose, build upper-body strength. The standing poses, especially if you hold them for  several long breaths, build strength in your hamstrings,  quadriceps, and abs. Poses that strengthen the lower back  include upward dog and the chair pose. When done right, nearly all poses build core strength in the deep abdominal muscles. 

Better Posture from Yoga:-

When you’re stronger and more flexible, your posture improves. Most standing and sitting poses develop core strength, since you need your core muscles to support and maintain each pose.  

With a stronger core, you’re more likely to sit and stand “tall.” Yoga also helps your body awareness. That helps you notice more quickly if you’re slouching or slumping, so you can adjust your posture. 

Breathing Benefits:-

Yoga usually involves paying attention to your breath, which can help you relax. It may also call for specific breathing techniques. But yoga typically isn’t aerobic, like running or cycling, unless it’s an intense type of yoga. 

Less Stress, More Calm:-

You may feel less stressed and more relaxed after doing some yoga. Some yoga styles use meditation techniques that help calm the mind. Focusing on your breathing during yoga can do that, too. 

Good for Your Heart:-

Yoga has long been known to lower blood pressure and slow the heart rate. A slower heart rate can benefit people with high blood pressure or heart disease, and people who’ve had a stroke. Yoga has also been linked to lower cholesterol and triglyceride levels, and better immune system function.

Chhatrapati Sambaji Maharaj

Chhatrapati Sambaji Maharaj - Malhar Heramb Pandey

Chhatrapati Sambaji Maharaj, a name that every Hindu takes with utmost pride for his courage, brilliance, bravery and the ultimate sacrifice he gave for the protection of the Hindu Dharma. 332 years ago today, the Hindavi Swarajya lost its second Chhatrapati, when the Islamic Tyrant Aurangzeb killed Sambhaji Maharaj after a month of horrendous torture.

The distorians like Audrey and others have tried to portray Aurangzeb as some kind of benevolent ruler, but we Hindus will never forget what he did to our King. In the authentic Islamic biography of Aurangzeb by Muḥammad Sāqī Mustaʻidd Khān, he has written a chapter dedicated to the capture and death of Sambhaji Maharaj.

 ‘ Capture and execution of Sambha ‘ a chapter that describes the fanatic nature of Aurangzeb and how desperately he wished to humiliate the Hindu King. Here in this chapter, in the very beginning it is written
” A news fell on the ears of Muslims that they were waiting for years, finally Sambha has been captured ” .  

Further he mentions the general who was sent to capture Sambhaji Maharaj. He says, ” the Shirkes had given Mukarab Khan the information that Sambaji Maharaj was staying in Sangameshwar along with Kavi Kalash, his dear friend. Shirke gave him this information as a result of family feud. “

” Mukarabh Khan’s son Ikhlas khan went inside the Haveli and dragged Sambhaji Maharaj and Kavi Kalash by their hair and 25 of Maharaj’s chief followers and their wives were made prisoners ” . He further writes.

This news reached empror who was staying in Akluj, after hearing this he ordered Hamduddin Khan, to bring the captives ( Sambhaji Maharaj and Kavi Kalash ) in chains and manacled. The writer further mentions that ” Emperors devotion to ISLAM ordered that Sambhaji Maharaj should be made to wear a wooden cap ( sign of a criminal ) and as he enters the camp, there should be drum beating and trumpets pealing so that ” Muslims ” might be heartened and infedels ( HINDUS ) will be disheartened. ” ! Look at the cruelty !

Sambhaji Maharaj along with Kavi Kalash were taken in this avatar around the entire camp so that young and old MUSLIMS will be happy to see the infedels being captured. As Sambhaji Maharaj was brought in front of Auragzeb, Badshah Kneeled on the carpet, facing towards the sky, posing for prayer, thanking ‘ GOD ‘ for this act.

Sambhaji Maharaj and Kavi Kalash were put in dungeons of Bahadurgad the same day.  All though the King and his friend were humiliated the fire in their eyes did not seem to be deprived. Ruhilla Khan, who was sent to get information from Sambhaji Maharaj related to Marhatta treasures , mentions that Sambhaji Maharaj said, ” He will die but will never give information of the Hindavi Swarajya to this vile person . ” Shambhu Raje was furious and Ruhilla Khan was surprised after seeing this.

He didn’t say a word and went to Aurangzeb. Badshah asked him to narrate what happened, but Ruhilla didn’t muster up the courage to mutter the exact words Raje said regarding Aurangzeb.
On the next day of captivity, the tounge of Kavi Kalash was cut out.
In the following few days, Sambhaji Raje was asked to surrender to ISLAM but he never accpeted.

The eyes of both these men were gouged out. They were introduced to the tortures of the worst forms as suggested by the holy books  to be done against Infidels! After suffering lot of torture, Sambhaji Maharaj and Kavi Kalash were hacked to death limb by limb. Aurangzeb, was not able to make Sambhaji Maharaj bow before him in his entire lifetime.

The news that the prince of Maratha Swarajya is dead reached the Maratha Camp. This angered the Marathas even more and they made sure that Auranzgeb never won the Deccan. 27 years, the mad fanatic man Aurangzeb fought the Marathas and died like an insect in Ahmednagar.

Every Hindu needs to know this history and the sacrifice that their King made to save the Hindu Dharma, the Maratha Swarajya and should also remember the fanaticism of Aurangzeb in the name of religion !

Today on 332nd Punyatithi of the Great Chhatrapati Sambhaji Maharaj, I pay my sincerest homage to the great Hindu King. His spirit remains alive in the heart of every proud Hindu.

– Malhar Heramb Pandey

Almost 40 years of Hare Krishna Iskcon

Almost 40 years of Hare Krishna Iskcon - Jahnu Das

The path of the classical yoga system described in the Vedic tradition is long and severe. This system is called astanga yoga, or the eightfold yoga system, and was conceived by the ancient sage, Patanjali. It is a scientific, psychic method to gradually raise the consciousness to higher levels of awareness, culminating in Samadhi, which is the stage where the self, realizing its own true nature, leaves its mortal shell and enters its liberated state.

The eight progressive steps of the astanga yoga system are called yama, niyama, asana, pranayama, pratyahara, dharana, dhyana, and samadhi, and in the following I will loosely describe each one, and then contrast it to bhakti-yoga. The first two principles, yama and niyama, are the do’s and the don’ts, and they are applicable not only in yoga but in all conditions of life, for regardless of whether one aims at success in material or spiritual life the key-word is renunciation. No one can have their wishes fulfilled or reach their life’s goal without being to some degree renounced.

Our practical lives confirm this. I remember as a child I had a friend who would save up his pocket money. Instead of spending it all on sweets and cinema trips, like the rest of us would invariably do, he would hold back and eventually had saved up enough money to buy a stereo equipment. I was most impressed by this. As far as I was concerned it was an almost unfathomable feat, because I could never save my money. I always spent everything I had at once.

Later in life this same friend went on to make a successful career and become a doctor. While his friends were out partying and having fun, he would remain at home to study and prepare for exams. I realized then, that if one wants to obtain success in the long run, he will have to renounce many short-term pleasures.

To work towards a better position in adult life one has to forego many of the immediate pleasures one is often pushed to pursue in youthful life. In other words, one has to be renounced. One has to be able to control one’s senses. Without sense control there is no possibility of success neither in material nor spiritual life.

To control the senses is the preliminary aim of any genuine yoga system, and in astanga yoga this is accomplished in a very diligent and systematic way. Yama, the first step, refers to the things one should avoid that would hinder attainment of the goal.

Niyama, the second step, refers to the beneficial undertakings one has to undergo to reach the higher goal, Niyama, which constitutes the positive things to be done like daily meditations, rituals, and exercise, contributes to attaining the ultimate goal of yoga, which is union with the Supreme.

And yama is the things one must avoid as unbeneficial for one’s advancement on the path of yoga. Illicit sex, TV, movies, intoxication, and certain foodstuffs like meat, fish and eggs, pollute the consciousness and distract the attention away from the self and places it instead on the bodily demands and other externals.

One of the crucial things that a yogi must avoid at all costs in astanga yoga is sex. It is not possible to advance in this system unless one practices complete abstinence.

In ordinary mundane life pleasures are mostly pursued outside of ourselves. We search for happiness in the body or mind by connecting the senses with objects outside of ourselves like things or other bodies, or we seek mental gratification in the form of name, fame, distinction, and power.

The astanga yoga system, however, gives entrance to the deeper pleasures that lies within the soul. But before one can access this hidden pleasure one has to restrain the senses from their engagement in the external world.

In other words, in the yoga system, the happiness sought after is not the happiness that arises from sense gratification. Sense gratification is not considered genuine happiness, because it invariably leads to suffering.

Krishna says:

“An intelligent person does not take part in the sources of misery, which are due to contact with the material senses. O son of Kunti, such pleasures have a beginning and an end, and so the wise man does not delight in them.”
(Bg 5.22)

This brings us to the next and third step – asana, also known to most westerners as Hatha-yoga. This is the discipline that prepares the body to remain in different postures for long periods of time. The side-effects of this discipline is a healthy and a slim body, but the real purpose is to gradually train up the body to enable it to remain in the same position for hours or days and eventually even months and years.

Before one can sit in the lotus position for hours and days without shifting and being uncomfortable, there is for instance no possibility of a successful rising of the kundalini. The concept of kundalini we will come back to later, as it is an integral part of the astanga yoga system.

After the yogi has trained the body to master the asanas or the hatha-yoga system, which will take years and years of practice, he will begin to work on his breathing. This next step is called pranayama.

The aim of pranayama is, simply speaking, to gradually lower the breathing cycle. It is said in the Vedic tradition that the life span of all living entities is measured out in number of breaths.

By lowering the breathing cycle the yogi can, according to how accomplished he becomes in this discipline, prolong his life span significantly with years or even decades or centuries. This is necessary as it takes a long time to become adept in the different disciplines of the astanga yoga system.

There is a story in the Srimad Bhagavatam of a kshatriya prince named Dhruva Maharaja who went to the forest and took to this practice in order to meet Vishnu. He was practicing yoga very determinedly minimizing his food intake, so that at one point he was eating only leaves. Then he was standing on one leg and practicing pranayama, gradually lowering his breathing cycle to the point of inhaling and exhaling only once in 6 months.

To ordinary folks this may seem fantastic, but considering that Maha-Vishnu is breathing in and out once, as He is exhaling and then inhaling all the universes, over a period of 311.04 trillion years (which is the total lifespan of the universe), it is an insignificant span of time. As always Krishna reigns supreme and shows the way, even in pranayama.

If a yogi should ever become proud of his ability to maintain his breathing cycle at extremely long spans of time, he may refer to Maha-vishnu’s breathing cycle of 311.04 trillion years, and have his pride curbed.

The aim of pranayama, however, is not to prolong one’s lifespan. The real aim is to be able to sit in trance and meditate, first on the life airs and chakras, then on the inner self and finally on the Supersoul within the heart. By gradually extending the breathing cycle one can subdue the actions of the body and mind.

When the mind becomes still one can turn it from being engaged in the external world to being focused within. We all know the expression, take a deep breath, to calm the mind. It actually works.

After the yogi has mastered his breathing by being able to offer the outgoing breath into the incoming, he is ready to proceed to the next step  in the astanga yoga process called pratyahara – the stage where the senses are being withdrawn from all external engagements. What happens at that point is that the awareness of the self, who is usually observing the physical world through the senses, is being diverted to the inner world of the mind. The senses which are absorbed in the objects and relationships of the physical world are being forced to retract and instead focus on the inner, psychic world. The world of the mind is very fine and subtle. Some people call it the astral plane. In pratyahara the consciousness of the self goes from being absorbed in the external physical plane to being absorbed in the internal psychic plane. Transcendental to or above both these planes is the plane of pure consciousness, and it is towards that the yogi is striving.

Through further hard practice, when the yogi is able to maintain the focus of his consciousness on the inner world of the mind, he progresses to the state of dharana. This is the state where the senses have been completely withdrawn from the physical world and is totally fixed on the inner, subtle world of the mind. On this platform all sensual engagements have ceased, and one is only perceiving the mind.

There is no more any sound, touch, form, taste or smell. Any awareness of the external world has ceased to exist. When one can maintain this state of inner focus it is called dharana. It is not until one reaches the dharana state, ie. Is able to maintain complete inner focus and has ceased all awareness of the external world, that dhyana, or meditation arises.

In the modern world we use the word meditation cheaply to describe almost any kind of mental state. Some people even think that to just sit down and relax and let the mind wander is meditation, or if they are a little more advanced they think that focusing on a flame or a ring on the wall for five minutes is meditation, but we should note that in the classical yoga system described in the Vedic tradition meditation does not take place before one is able to completely cease all external sensual engagements and focus the consciousness on the self. Then and only then can one progress to the state of dhyana or meditation.

Now the yogi begins to meditate. It is then that he discovers his soul. The soul is the real observer within, and now the soul finally observes its own self as an illuminating particle of consciousness.

The yogi now understands that this is his real self, and further more, besides himself situated in his heart, he sees the Supersoul, Sri Krishna Who lives in the heart of all living entities. Sometimes due to insufficient knowledge or pride the yogi will mistake the Supersoul for his own self, thus thinking that he, the yogi, is the Supreme self. If he makes that mistake he will not reach Vaikuntha but will go no further than impersonal Brahman.

Thus when the yogi discovers God in his heart he can either maintain a humble position and surrender to Him, or he can reach any goal he desires within his mind up to liberation from the material world.

This is the final test of the yogi – he can either become a god, or merge with Brahman, or he can become God’s servant. What ever he chooses at that point he will attain. This state is called Samadhi, the final goal of his meditation.

It is then the yogi is ready to leave his body. Some people call this the rising of the kundalini. At this point the yogi with violent force pushes his soul out through the top of his cranium, and whatever his consciousness is fixed on at precisely that moment, that is where the soul will go. The energy that is released at this point is so immense that the body combusts into fire.

It is not until one has reached the state of Samadhi, in which the consciosness is totally withdrawn from the external world, that one can begin to raise the kundalini.

What happens is that the yogi pushes the life-airs up from the mula-chakra, the lowest chakra, gradually up through the other chakras of the body until it reaches the heart chakra.

Here the soul is picked up from its seat there and is pushed further up to the top chakra at the top of ones head. This pushing of the life-airs, the prana, up through the different chakras of the body is what constitutes a kundalini rising.

As the kundalini is rising the pressure inside the body becomes so great that the yogi now must use the asana and pranayama techniques he practiced and learned at an earlier stage to block all holes in body lest the soul should escape through any one of them. In the Vedas the body has been called the city of nine gates.

There are nine holes in the body – anus, genital, two nostrils, two ear holes, and two eyes. Already at the asana step the yogi learns to block all these holes from within as he raises the kundalini.

As we can see, this type of yoga is very hard to practice in the modern age. One can only imagine what could happen if this is practiced in an apartment in the city. One might very well burn down the whole apartment. Therefore the yogis of yore would go to the forest to practice astanga yoga and leave their bodies.

We learn from the Srimad Bhagavatam that when King Dhritarastha went to the forest to leave his body in this way, he started a whole forest fire. It was into this fire that his wife Gandhari and the mother of the Pandavas, queen Kunti, entered together to gain release from their mortal bodies.

Contrary to this severe practice, which is not recommended for the people of Kali-yuga, we find the simple sublime method of chanting the Hare Krishna maha mantra, which will yield exactly the same if not greater results, and which can be practiced anywhere, even in an apartment down town.

In fact, a person can benefit more from chanting the holy names of the Lord sitting in an inner city apartment than he can gain from sitting in the Himalayas practicing astanga yoga for 100.000 years, which was the general lifespan of people in satya-yuga, when this practice was the norm. Krishna says in the Bhagavad Gita that all results that can be obtained from practicing any kind of yoga or dharma automatically befall one who practices bhakti-yoga.

Krishna says:

“A person who accepts the path of devotional service is not bereft of the results derived from studying the Vedas, performing sacrifices, undergoing austerities, giving charity or pursuing philosophical and fruitive activities. Simply by performing devotional service, he attains all these, and at the end he reaches the supreme eternal abode.” (Bg 8.28)

It is further stated in the Srimad Bhagavatam that the results of the astanga yoga process practiced millions of years ago in satya-yuga can very easily be obtained in this present age of Kali simply by chanting the hole names of Krishna:

“Whatever result was obtained in Satya-yuga by meditating on Visnu, in Treta-yuga by performing sacrifices, and in Dvapara-yuga by serving the Lord’s lotus feet can be obtained in Kali-yuga simply by chanting the Hare Krsna maha-mantra.” (SB 12.3.52)

In this present age of Kali people are simply too disturbed to sit down and practice the ancient yoga system. Maybe a few yogis can still go into the Himalyas and sit in seclusion in a mountain cave and practice this system, but for the people in general it is not possible, nor are there any qualified teachers who can guide a serious student in this yoga process.

The fundamental difference between the astanga yoga system and the bhakti-yoga system is that in the first, the yogi is trying to elevate himself by his own mental and intellectual endeavors. In bhakti-yoga we ask Krishna to pick us up and carry us back to Him.

Srila Prabhupada has likened it to the cat and monkey. The baby monkey holds on to its mother by its own strength. When the female monkey jumps around from tree to tree it happens quite often that her baby looses its grip and falls to the ground. The baby kitten, on the other hand, is carried to safety by its mother, depending solely on her strength.

In the same way, the bhakti-yogi depends solely on Krishna. He knows very well he is powerless without the mercy of Krishna. The astanga yogi is struggling to cross over the materiel ocean of suffering by his own powers, and even then he is not guaranteed success. But someone who surrenders to Krishna can very easily cross over nescience.

Krishna says:

“This divine energy of Mine, consisting of the three modes of material nature, is difficult to overcome. But those who have surrendered unto me can easily cross beyond it.” (Bg 7.14)

Krishna helps his devotee to reach the final goal, and that it infinitely more easy and secure than manipulating the life airs and chakras of the body to press out the soul of the top of the head at the final moment.

Life of shri Adi Shankaracharya

Life Of Shri Adi Shankaracharya - Praveen

Adi Shankaracharya wad one of the greatest mahatmas lived in Bharat. He was considered as amsa of shiva came to uplift mankind. He travelled country south to north 3 times and East to West 2 times within 32 years of age.


He was born in kaladi village in Kerala. Sivaguru and aryamba were devout couples. They were childless they prayed to vadakkunathar for child earnestly. Shiva said in dream whether he need atma Gyani of 16 year or dull son of 100 years. Sivaguru chosed former one.


Child was born on vaishaka Panchami and tiruvadira nakshatra. They named him Shankara. siva guru died when Shankara was aged 3. Her mother did his upanayanam with help of relatives. Shankara did mastered all Vedas within young childhood itself. All were suprised

Poorna river changed its course

Once Shankaracharya saw mother struggling to took bath in Poorna river due to old age. Shankara prayed and river changed its course and came near Shankara house. Next day mother was suprised to see this. Now too we can see river Poorna in kaladi



Once Shankaracharya went to Bhiksha poor couple offered only Amla left in their house to brahmachari boy. Shankaracharya moved by this gesture immediately sang Kanakadhara stotra glorifying Mahalakshmi and rain of golden amla fall in that place.


Shankaracharya decided to take sanyas. Her mother refused. Shankaracharya once while bathing in river crocodile catches him and her mother doesn’t know what to do. Shankara said once she gave permission crocodile will leave him. She gave permission and crocodile left him

 Search of guru

Shankara said to mother he will come in her last moment to liberate her and he went in search of guru. He saw govinda bhagavad pada shisya of gaudapada in cave and prostrated before him. When guru asked who he was. Shankara composed dasa shloki. Guru realised about who he was and said I know by samadhi you are shiva himself taken form as human on Earth. He said he will take part in Leela of shiva by enacting role if his guru. Sankara did guru pooja to govinda bhagavad pada. His guru was gaudapada whose guru was sukha maharishi himself

Narmada flood control.

Once Narmada flooded and flood enter caves. Shisya don’t know what to do.shankara prayed and showed kamandala and all flood entered it. All shisyas were happy. Guru told only he is eligible to write bhasya on Upanishad and Brahma sutras

Shankara at Varanasi

Adi Shankaracharya reached Varanasi as magnet he attracted huge followers. Adi Shankaracharya got first monastic disciple Sunanda who took sanyasa. He travelled to badari had discussed with sages and wrote commentary on prasnatrayi. He won many debates.

Shiva Leela at kashi

Once Adi Shankaracharya was taking bath in river chandala came with four dogs and dead calf on his back. Adi Shankaracharya said him to move away. He said whether he addressed him or his body. Shankara fell at his feet and composed manasi pabchakam. Then Chandala disappear and shiva with parvati and four Vedas standing there. Shankara bowed before shiva. Shiva blessed Shankara told him to spread Advaita and disappear. At age 16 vyasa gave darshan as old Brahmin and tested Shankara. Later showed his form and blessed him.

Meeting with shri vyasa

Vyasa said only he can write true meaning of Upanishad and blessed him with 16 more years of life as many things he needs to be done. At kashi he composed famous bhaja govindam when he saw old man teaching importance of grammar.


All disciples though Shankara favouring sunanda more. Seeing this once sunanda on other side of river Shankaracharya called him. Immediately sunanda walked on river reaching other side. His every step Lotus came on river so he was called padmapada


He was totally devout to Adi Shankaracharya. But he couldn’t grasp anything Shankaracharya told. With his Manasa Diksha Shankara enlightened him who wrote famous totakashtakam on Adi Shankaracharya


He was yogi who done parakaya pravesham of child to allievate suffering of mother. He need not thought anything as he grasped through mind. Shankara named hastakamala. Shankara met kumarila Bhatta who was into Agni samadhi. He directed Shankara to meet mandana mishra

Mandana mishra

Adi Shankaracharya went to mandana Mishra house. Door was locked hence he went inside through his Siddhi. Fierce arguments and debate followed. when his wife ubaya bharati saw husband losing debate she came to husband rescue she asked about third purushartha kama

Parakaya pravesha

Shankara asked for time and he went to cave and using parakaya pravesha entered into body of king. After learning about grihasta ashrama he decided to move again to his body. But minister anyhow smelled it and decided to burn Shankara body.


With Shankara moving to his body he saw fire lit outside cave. Hence he prayed to narashima and extinguish fire. Then he defeated ubaya Bharati. Husband mandana Mishra accept sanyasa and he became sureshwaracharya. Shankara installed Devi Sharda at sringeriSringeri

Adi Shankaracharya was on traveling. He saw preganat frog given shadow by snake. He decided to establish a mutt on sringeri. he spent considerable amount of his life in sringeri. He established 4 mutts along 4 corners of country with 4 of his main disciples

4 muttts

He established 4 mutts at sringeri Dwarka Puri and Badrinath. He formulated rules for dashanami Sanyasa set. He established authorities of each mutts and how should each mutt function with 4 main disciple as head.

Kapalika wants Shankara head

Once kapalika came and asked Adi Shankaracharya head for his pooja of Bhairava. Shankara being ocean of mercy immediately accepted it. He came to them at their place in night. Padmapada saw this and think of narashima. With his grace he killed them

Getting shivling from shiva

He got shivling and some murtis from shiva in kailash which were worshipped by shankara mutts even till today. At srishaila in panchadara once he was thirsty shiva gave water from head which Is called panchadara falls. He wrote Soundarya lahari here.

Soundarya Lahari and sivananda Lahari

While Kailash with grace of Mahalakshmi and Ganesh Shankaracharya got Soundarya Lahari. Nandi snatched it from Shankara. He got only 41 verses. Shiva told to complete rest 59 on his own. Hence he completed it. At thiruvidaimaruthur Shankar

Badrinath renovation

Came and saw shivling. He was so happy that he wrote sivananda Lahari here. he got shiva darshan in form of jyoti at Badrinath hence it was called joshimutt.With orders of vishnu he consecrated Badrinath and renovated it. He renovated Pashupati nath too.


He want to consecrate Devi in chottanikara hence he requested maa Durga. She said he should not turn back if he turn back she will stay there itself. Adi Shankara didn’t heard sound of Devi’s salangai in kolluru. He turned back and she stayed there.

Various consecration

He later consecrated chottanikara with grace of Devi too. He reduced anger of Devi in akhilandeshwari temple at thiruvanaikkaval. He consecrated dhana akarasana yantra at Tirupati. He sang verses of Sri skanda at Tiruchendur. He almost covered entire kshetras.


Adi Shankaracharya favorite place was Kanchipuram. He spent considerable amount of time there. He wrote Sri chakra himself and pacified anger of Kamakshi. He established his mutt in kanchi and formulated Devi worship. He talked directly to Devi maa kamakshi.

Mother death bed

Mothers final time came. Shankara travel in sky and reached mother. He called shiva. Mother terrified at shiva. Hence Shankara said both shiva & Narayana same and composed stotra. She had darshan of vishnu and got Mukti. He performed last rites of mother himself

His works

He wrote his magnum opus Viveka chudamani. He wrote atma boddha tatvabodha and many works on Upanishad. He wrote commentary on Gita Brahma sutra and vishnu sahasaranama. 

Almost every diety he composed stotras. He was ocean of mercy himself. He composed bhujangams too

Ascension to sarvagna peetha and disappearnce

Sarvagna peetha Shankara defeated every other opponent and ascended sarvagna peetha and became first Jagadguru. He then went to Kedarnath and disappear in a light. Another version is he merged with Kamakshi in Kanchipuram.


From his mutts various mahatmas thrived and saved sanatan dharma time to time.

SrutismrtipurANAnAm Alayam karuNAlayam

NamAmi bhagavdpAdam shankaram lokashankaram

shankaram shankarAchAryam keshavam bAdarAyaNam

SUtrabASykrtau vande bhagavantau punah punaha

Har har mahadev