fbpx

September 2021

Philosophy of Kama in Sanatana Dharma- Kaushiki Shukla

Philosophy of Kama in Sanatana Dharma- Kaushiki Shukla

There are four types of srishti in the shastras Yagyik, Sankalpik, Mansik, Maithuni. At this time the Maithuni srishti is present on earth. There are four Purusharth Dharma, Karma, Kama & Moksha. All the 8.4 million Yonis procreate by Maithun That’s why kaam is important.

The magnitude of kaam in men and women is different. The outcome of grain is described by Saptdhatu which is Rasa(liquid), Rakta(Blood), Maans(Flesh), Meda(Fat), Asthi(Bones), Majja(Bone marrow) & Shukra(Semen) sequentially. The Kama of man is created by the eighth Dhatu(Root) of Grain. But the Kama of women starts with menstrual cycle mean Rakta(Blood). When Grain become Rasa and then Rakta, it originates the Kama in women. But the Shukra(Semen) is at 8th position from the Grain. This is why it is called that the Kama(desire) of Women is 8th times of men.

According to Rigveda 1.164 Men and Women are not different. The Shukra(Semen) of Men is mild even after men are Agneya. Women are Mild but the Rakta(Blood) of women is Agneya. That’s why both have desire of each other to complete each other. That’s why the vaginal area of women is warm on the day of conception. It is stated in Vrahadaranyaka Upanishada that Kama(Desire) originates in Mann(mind) which affects reproduction organs. Here the Kama is Diety the woman is Rishi and the reproduction organs are Bhokta(Consumer). The mind gets pleasure.

In Ramacharitra manas when Shivji was in Samadhi and the Tarkasur slaughter was just about to happen, who had boon from Brahma that he can only killed by the son of Shiva. To make this possible it was necessary to bring Shivji out of Samadhi. This responsibility was given to Manoj(Kamadeva) so he shot the arrow towards Shiva. Shiva Destroyed Kama but the magic of kama worked on him, He got out from samadhi and then married to Parvati. And the same time Goswami baba says that there is no one who is not tormented by Kama.

In Mahabharta Yudhistira asks Vasudeva that Who get more pleasure from Kama? Vasudeva says this question will be answered by Bhishma. The point to be noted here is that The knowledge of Kama is given to grandson by the grandfather. With help of a story, Bheeshm explains the answer to Yuddhisthir. In the story a king had turned to female due to a Curse. His all son were killed. He did penance of Lord Indra. Indra agreed to revive one son of his choice. King selected his first son after he turned into female.

When Indra asked the reason for the choice, he said that he got more pleasure during conception of this son when he was female. So Our Scriptures tell us that pleasure of female is of more importance. The thought of Kama remain along with the human because it is the product of Kama. There is no thought stable than this on this earth. The man who’s Kama is unsatisfied is considered to make blunders. The matter of thought is that the Man and Woman become whole only by Kama this Kama brings melody between both of them. If there was no Kama How would have been relations between men and women.

Why Vatsayan sage had to think so deeply about Kama? in the form of Kamasutra? The only answer to this is that he told about the psychology of men so the disorder can be overcome. Kamasutra contains all information related to Kama, In the today’s time 70% crimes are related to Kama disorders in which Rape, Sexual harassment, molestation, running away with girls and extra marital affairs comes.

Why the Lustful sculptures are there in our temples? which starts from Ellora Temples and expands to khajuraho. The Kama of our culture is different from the Lust here the Kama represents all types of desires, In which Lokeshna(desire for Fame), Vitteshna(desire for money), Pttreshna(desire for son) are included. Kama was presented in temples so that human can overcome themselves from Kama. Indian scriptures contain the information about Kama like the other topics. Seeing Kama as weirdly is in the phylosophy of Yahudi, Christian and Muslim. where screaming, forceful acts and rape are considers Men satisfaction.

আমার প্রাণের ভাষা – সৌভিক রাজ

আমার প্রাণের ভাষা - সৌভিক রাজ

কবিতার শিরোনাম- আমার প্রানের ভাষা
কলমে- সৌভিক রাজ

আমি সেই বাংলা ভাষা-
বেঁচে আছি আজও বিবেকানন্দের শিক্ষায়,
আমার চেতনা জাগ্রত হয় মহামন্ত্রের দীক্ষায়।
আমি হেঁটে গেছি সহস্র পথ হাজার ছায়ার মাঝে,
সালাম, রফিক অমর হয়ে আছে বাঙালীর মন মাঝে।
আমার বাংলা শিশুর মুখে প্রথম মা এর বুলি,
আমার বাংলা একুশের ভোরে রক্তমাখা ধূলি।
আমার ভাষা মধুর অতি প্রেমকে করেছে দান,
আমার ভাষা বাংলা গানে জাগায় নব প্রান।
আমার ভাষা বাঙালীর প্রানে ছিন্নবীণায় তোলে সুর,
আমার ভাষা ক্লান্ত পথে হেঁটে চলে বহুদূর।
আমার ভাষা চণ্ডীদাসের সুরে গেয়ে ওঠে প্রেমগান,
আমার ভাষা একই বৃন্তে থাকা দুই কুসুমের প্রান।
আমার ভাষা নীল অঞ্জনে বর্ষিত মেঘ রাশি,
আমার ভাষা ভাটিয়ালী সুরে মাঝির মুখের হাসি।
আমার ভাষা বাউলের হাতে দোতারায় আনে সুখ,
আমার ভাষা মেঠো পথ ধরে আশায় বাঁধে বুক।
আমার ভাষা আশাবরী সুরে মায়ের চোখের জল,
আমার ভাষা রক্তে রাঙানো তবু বাড়ায় বুকের বল।
আমার ভাষা মাতৃদুগ্ধ মায়ের স্নেহের কোল,
আমার ভাষা অহংকার মোদের বাংলা মায়ের বোল।
আমার ভাষা বীর শহীদের রক্তে রাঙানো দিন,
আমার ভাষা শোধ করেছে জমানো যত ঋণ।
আমার ভাষা বাংলা গানে রঙিন ফাগে মাতে,
আমার ভাষা বাহু ডোরে বাঁধে সূর্যোদয়ের প্রাতে।
আমার ভাষা আজানের সুরে কবরে পেতেছে কান,
আমার ভাষা ভজনের মন্ত্রে প্রেমকে করেছে দান।
বাংলা আমার মাতৃভাষা বাংলা যে আমার মা,
বাংলায় আমি প্রকাশ করি মনের হাজার যন্ত্রণা।
বাংলা আমার প্রানের ভাষা তুলনা যে তার নাই
এসো আর্য এসো অনার্য সকলে মিলে বাংলার গান গাই।
সমাপ্ত

About Souvik Raj:-

লেখক পরিচিতি – সৌভিক রাজ বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত, তিনি গবেষণার সাথে যুক্ত তাঁর
গবেষণার বিষয় রবীন্দ্রসাহিত্য। বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সাথে যুক্ত, লোকসাহিত্য বিষয়ে একটি বই
প্রকাশ করেছেন, বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে, একাধিক কবিতার বই
লিখেছেন।বিভিন্ন জার্নালে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যের রস আস্বাদন করাই হল লেখকের মূল
উদ্দেশ্য। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপরে তার লেখা দুটি বই প্রকাশিত হতে চলেছে।
তার লেখা কিছুই বইয়ের নাম যৌথ সংকলনে-
১- লোকসাহিত্যের স্বরূপ
২- শব্দের কথোপকথন
৩-কবিতার ডালি
৪-কোরাস কবিতা
৫-কোরাস গল্প
৬- আগমনীর আগমনে
৭-কাব্য কনিকা ( প্রথম খণ্ড)
৮- কাব্য কনিকা ( দ্বিতীয় খণ্ড)
৯- সেদিন দুজনে
১০- কথাকলি
সৌভিক রাজ ( সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক)
জে সি বোস ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন রিসার্চ
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

আধুনিকতার সাথে প্রাচীনত্বের সহাবস্থান

আধুনিকতার সাথে প্রাচীনত্বের সহাবস্থান - জয়দীপ গোস্বামী

সময়  যখন বহমান আর জীবনের এই গতিতে সময় তারা পাতায় অনেক কথা লিপিবদ্ধ করে রেখেছে আর সেই লেখা গুলোর ওপর ভর করেই আমাদের আগামী দিনের সময় অতিবাহিত হয়। আর সেই স্মৃতিগুলোও কালের মহিমাতে অনেকই তাদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। আর এই অবক্ষয়ের আরও একটা প্রধান কারণ হলো নব প্রজন্মের আধুনিকতার কাছে এই সব প্রাচীনতার গুরুত্ব অনেক কমে গেছে। আধুনকিতা সাথে স্বমহিমায় এঁটে ওঠার ক্ষমতা হারায়নি আধুনিক মনষ্ক মানুষের মনুষত্বের কারণে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অক্ষম হয়ে পড়ছে। ওই সব পুরোনো স্থাপত্য, শিল্প, কলা, প্রাচীন চিত্রকলা নিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করি। আমাদের এই সভ্যতা অতিপ্রাচীন সভ্যতা তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তাই প্রাচীন ভারতীয় এইসব কলাকার দের নির্মিত কলাকৌশল  আজও আমাদের মুগ্ধ করে। আমরা প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার বিবরণ হিসেবে যেই গুলোর ওপর নির্ভর করি তাদের মধ্যে অন্যতম নির্দশন হলো মন্দির, রাজবাড়ী, দূর্গ, নাটমন্দির, মূল মন্দির প্রভৃতি। আবার এই সব মন্দির গুলোর গঠন প্রনালীর-ও নানা প্রভেদ লক্ষ্য করা যায়। যদি আমরা যদি মন্দির গুলির গঠন প্রনালী নিয়ে পর্যালোচনা করি তাহলে দেখতে পাবো যে আমাদের এই উপমহাদেশের মন্দিরগুলির কোনোটির গঠন রথের মতো আবার কোনোটি ঘরের মতো আবার কোনোটি একচালা, দুচালা বিশিষ্ট আবার কোনোটি আটচালা বিশিষ্ট, কোনো মন্দিরের চুড়া একটি আবার কোনো মন্দিরের চুড়া অনেক। এই সব গঠন আর বৈচিত্র ভারতকে আরও সাজিয়ে তুলেছে। প্রাচীন কালের ওই সব মন্দির গুলির নির্মান পদ্ধতি নিয়েও অনেক মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। অনেক স্থপতির মতে আগেকার দিনে মন্দির গুলো নির্মানের জন্য প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হতো বাস্তু, জ্যোতির্বিজ্ঞান, জ্যোতিষশাস্ত্র, রাজারাজড়া বংশতালিকা প্রভৃতির ওপর নির্ভর করে নির্মিত হতো। আমাদের শুধু না যেই দেশে সনাতন ধর্ম বা বহূইশ্বরিকতত্বের প্রচলন আছে সেই সব দেশেই এই মন্দির গুলি দেখা যায়। মন্দির গুলি বিভিন্ন দেবদেবীর হতে পারে। মন্দিরের আকার আকৃতি গঠন নিয়েও অনেক প্রভেব লক্ষ্য করা যায়। যেমন, কোনো কোনো মন্দিরের আকার বড়ো আবার কোনো মন্দিরের গড়ন ছোট। আমাদের এই প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতায় বেশিরভাগ মন্দির কোনোনা কোনো রাজার পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয়েছে। এবং সময়ের সাথে রাজার রাজত্ব আর রাজত্বের পরিবর্তনের সাথে সাথে মন্দির নির্মানকৌশল আর মুর্তি নির্মান প্রনালীর পরিবর্তন হয়েছে। যদি এই ধারণা মিথ্যে হতো তাহলে সব মন্দিরের ধরণ একইরকম হতো তা তো হয়নি। এছাড়া প্রাচীন কালে তো আর সময় নির্ধারণ করার জন্য আধুনিক ক্যালেন্ডার  ছিল না তাই তখনকার স্থপতি রা সময় নির্ধারণ করার জন্য গ্রহ নক্ষত্রের অবস্থান এর ওপর ভিত্তি করে মন্দির শুরুর আর শেষ এর দিনসংখ্যার নির্ধারণ করতো, সময় নির্ধারণ করার জন্য সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্তের সময়কে নির্ধারণ করতো। আর সঠিক স্থান মন্দিরের গঠন আকার আকৃতি নির্ধারণ করার জন্যেও গ্রহনক্ষত্রের অবস্থান নির্নয় করে করতো। মন্দির নির্মানের ক্ষেত্রে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো বাস্তু শাস্ত্র। কারণ মন্দিরটি কোথায় নির্মান করা হবে তা বাস্তুশাস্ত্র-র মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতো। কারণ বাস্তুর ওপর নির্ভর করত মন্দিরের গঠন কেমন হবে, সূর্যের চলাচল কেমন থাকবে, মাটির উপাদান গুলির পরিমাণ, মাটির গঠন প্রনালী, কোনমাটিতে নির্মান কার্য ভালো হবে, ওই বাস্তুতে চাষাবাদ করা হতো কিনা, মাটির উর্বরতা নির্ধারণ করা হতো। আর তখনকার দিনের রাজারা নিজের আত্মকির্তী সময়ের পাতায় লিখে রাখার জন্য অনেক মন্দির নির্মান করতেন, আর ওই মন্দির গুলিকে কেন্দ্র করে নানা জনবসতি, বাজার, লোকালয় গঠিত হতো। রাজারা বা নির্মাতারা মন্দিরকে কেন্দ্র করে নানা রাস্তার নির্মান করতেন যাতে দর্শনার্থীদের মন্দিরে আসতে অসুবিধা না হয়।

আমাদের ভারতে মূলত ২প্রকারের মন্দির নির্মান পদ্ধতির প্রচলন রয়েছে, উত্তর ভারতীয় আর দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতিতে। মন্দির গুলির সাধারণতঃ যে ধরণের নির্মান করা হয় তাতে মূলত একটা গর্ভগৃহ থাকে, যেখানে ভগবান অধিষ্ঠিত হন। যেখানে ঘড়ির ঘুর্ণনের দিকে ঘুরে ঘুরে প্রদক্ষিন করার প্রথা হয়ে আসছে। গর্ভগৃহের উপর শিখর আর শিখরে কলস। শিখরকে দক্ষিন ভারতে ভিমানা নামে পরিচিত। এই শিখরের গায়ে নানা পাথরের কারুকার্য করা হতো। মন্দিরের ভেতরে উত্তরণ নির্মান করা হতো। কোথাও মহাভারত রামায়ণের যুদ্ধের বর্ণনা, সমুদ্র মন্থনের ঘটনা, এছাড়াও যেই রাজা মন্দির নির্মান করছে সেই রাজার যুদ্ধের ছবি এখানে ব্যাবহৃত হতো। আবার চৈতন্য পরবর্তী তথা বিষ্ণু শিব কৃষ্ণ মন্দির গুলিতে চৈতন্যদেবের নাম সংকীর্তন প্রচারের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। ওখানে দেখা যায় নিমাই পণ্ডিত তাঁর পারিষদ সঙ্গ নিয়ে হরিনাম বিলি করছেন। তার থেকে আমরা তখনকার সময় সম্পর্কে জানতে পারি। এবার আসা যাক iconography বা মুর্তি নির্মান পদ্ধতির ব্যাপারে। প্রাচীন দেবদেবীর মুর্তি আরও খোলসা করে বলতে হলে বলতে হয় পাথরের বিগ্রহ গুলির নির্মানপ্রনালীর মধ্যেও অনেক রহস্য আছে। অনুমান করা যায় যে, এই সব মুর্তি গুলোর নির্মান প্রনালীও সময় রাজা অঞ্চলভেদে পরিবর্তন হয়ে থাকে। উধারণ স্বরূপ বলা যায় যে প্রাচীন কালে যেই সব কালী মন্দির নির্মিত হয়েছে তাদের প্রত্যেকের গঠন প্রনালী আলাদা। আবার প্রচলিত ধারা সাবেকি পূজো গুলিরও যে মুর্তি প্রস্তুত করা হয় সেই গুলির মধ্যেও বিচিত্রতা পরিলক্ষিত হয়। আবার অনেক বংশের বংশ পরম্পরায় একই ধারায় মুর্তি নির্মান করার ধারা প্রচলিত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে সাবর্ণ রায় চৌধুরি বাড়ির কালী পুজোতে যবে থেকে পুজোর প্রচলন শুরু হয়েছে তবে থেকে একই ধরণের ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। আবার আসা যাক মন্দির গুলির গঠন প্রনালী নিয়ে। এই সব স্থাপত্য মূলত Synthesis of arts, মানুষের ধার্মিক দিক, হিন্দু ধর্মে প্রভাব। আমাদের দেহ যেমন পঞ্চভূত দ্বারা নির্মির হয়েছে তেমনই মন্দির গুলিও এই পঞ্চভূত দ্বারা নির্মিত হয়েছে তেমনই মন্দির গুলিও ওই পঞ্চভূতের প্রতীক। বার প্রচলিত যে মন্দির গুলিতে অর্থ কাম দূরিভুত হয় আর মোক্ষপ্রাপ্ত ঘটে। প্রাচীন কালে এই স্থাপত্য নির্মান কেন্দ্রিক অনেক গ্রন্থ রচিত হতো সেই গুলি শিল্প শাস্ত্র নামে পরিচিত। হিন্দু সংস্কৃতি তে  শিল্পিদের উৎসাহিত করা হতো মন্দির নির্মান আর নিত্যনতুন কারুকাজ নির্মান করার জন্য, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই তথ্য বিকৃত হয়েছে। কারণ যে যে শিল্পি এই মন্দির স্থাপত্য, ভাস্কর্য নির্মান করতো কর্তৃপক্ষ তাদেরওপর নানা জুলুম চালাতো পারিশ্রমিক দিতোনা। 

ভারতীয় এই স্থাপত্য এর ইতিহাস সময়ের অতি গভীরে প্রথিত রয়েছে। আমার যেই সব স্থাপত্য এর নিদর্শন লক্ষ্য করি তার বেশিরভাগই গুপ্তযুগের। তার থেকেও অনেক পুরোনো নিদর্শন রয়েছে যেমন উদয়গিরি এবং খণ্ডগিরির গুহা, মহাবলীপুরম, সাঁচিস্তুপ, অশোকের শিলালেখ, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসস্তুপ, বিভিন্ন বৌদ্ধ গুম্ফা প্রভৃতি। সবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা সবাই জানি ১২০০ খ্রীস্টাব্দে মুশলিমদের ভারতে আগমন আর ১২০৬ সালে দাস বংশের প্রতিষ্ঠা। এবং ১৫২৬ এ সুলতানি সাম্রাজ্যের শেষ রাজা ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে বাবর মোঘল সাম্রাজ্যের পত্তন করেন। এই সব বাদ দিলে সেই সময় কিন্তু ভারতীয় স্থাপত্যেও এর ছাপ পড়ে। Indian Architecture এর সাথে Turkish Architecture এর collaboration ঘটে এবং এক মিশ্র সংস্কৃতি গড়ে ওঠে এবং এক নতুন ধারার জন্ম হয়। মন্দির নির্মান পদ্ধতি মূলত প্রজন্মভিত্তিক ভাবে চালিত হতো। মন্দির গুলি নির্মান করা হতো কোনো এক architect এর তত্বাবধানে, মুর্তিকার, চিত্রকর, শ্রমিক প্রভৃতি বিভাগ থাকতো যে যার নির্দিষ্ট কাজ করতেন, পুরো আধুনিক সভ্যতার মতো। প্রাচীন স্থাপত্য কলার অনেক গুলি ধারা প্রচলিত ছিল। ব্রহ্মসংহিতা অনুসারে মন্দির গুলিকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় তাদের গঠন প্রনালী কে কেন্দ্র করে, যথা- নাগাড়া, দ্রাবিড়, ভেসর, উপবৃত্তাকার এবং আয়তাকার। মন্দিরের খসড়া বা কাঠামো মূলত চৌকো, আটকৌণিক বা অপ্সিডাল আকারের হয়। দক্ষিন ভারতে মূলত দ্রাবিড় বা নাগাড় গোষ্ঠীর মন্দির বেশি দেখা যায়। বর্ষাঞ্চল, ভেজা এলাকাতে মূলত এই প্রকার মন্দির দেখা যায়। আর নাগাড়া মন্দির শৈলী বংলাতে দেখতে পাওয়া যায়। মধ্যভারতীয় মন্দির গুলির গঠন রথের মতো। আবার কোথাও মন্দির ঘরের মতো, আবার কোথাও খিলান বা গম্বুজের মতো। মন্দির গুলি বিশেষ কয়েকটি বিভাগ দ্বারা নির্মিত। মন্দিরের এই গঠন গুলি প্রাচীন শাস্ত্রে নির্দিষ্ট নামের উল্লেখ আছে। অধিষ্ঠান, মন্দিরের পিলার গুলো দাঁড়িয়ে থাকে ,  পঞ্চদশ মানসরা, কামিকাগামা ৩৫, সুপ্রভবদেগামা ৩১ এর উল্লেখ আছে। মন্দিরের সাথে প্রকৃতির সহাবস্থান সেই প্রাচীন কাল থেকে সেটা আগেই আলোচিত হয়েছে। মন্দিরের সাথে প্রকৃতির এক বিচিত্র উদাহরণ আমলকি ফলের সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। মন্দিরের শিখরের আকৃতি আমলকি ফলের সাথে সাদৃশ্য রেখে নির্মিত হতো, তাই মন্দিরের এই ভাগকে অমালক বলা হয়। মন্দিরের অন্তরলা হলো মন্দিরের সেই ফাঁপা অংশ যেখানে সব ভক্তরা সমাবেশ করে। মন্দিরে অর্ধমন্ডপ নামে একটা হল নির্মান করা হতো যা মন্দিরের রিসেপশন ও বলা চলে। মন্দিরে সমাবেশ হলও নির্মান করা হতো যেখানে দর্শনার্থীদের সমাবেশ হতো, যা শিল্পশাস্ত্রে আয়তন নামে পরিচিত। এই আয়তন গুলিতে নানা জ্ঞান ও ধর্মের সমাবেশ হতো, গুরু শিষ্যকে শিক্ষাদান করতেন। মন্দিরে আরও একটি অংশ হলো গন, গন হলো মন্দিরের নির্মিত এমন এক মুর্তি যার গঠন বামন আকৃতির, মাথা বড়ো আর বাকি দেহ ছোট। আরেকটি অংশ এবং প্রধান অংশ গর্ভগৃহ। এই গর্ভগৃহেই দেবতা অধীষ্ঠান করেন। একে কেন্দ্র করে পরিক্রমা করা হয়, এই গর্ভগৃহের মধ্যে সর্বদা শান্তি বিরাজ করে মনে অন্য কোনো চিন্তা ভাবনা কাজ করেনা। একটা প্রচলিত ধারণা পূরী মন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রচলিত আছে- পূরীর মন্দিরে ভগবানের দর্শন পাওয়ার আগে চারটে চরণ অতিক্রম করতে হয়। মন্দিরে প্রবেশ করা মাত্র অর্থ্যাৎ প্রথম চরণে কাম দূরিভুত হয়, ২য় চরণে ক্রোধের করালগ্রাস থেকে মানব মন মুক্তি পায়, তৃতীয় চরণে লোভ দূরীভূত হয় আর অন্তিম চরণে মোক্ষ্য প্রাপ্তি ঘটে। এবার আসা যাক গর্ভগৃহের নামের পশ্চাতে কারণ হিসেবে, কোনো জীব যখন তার মাতৃগর্ভে থাকে তখন কোনো মহাজাগতিক পার্থীব জাগতীক কোনো কিছুই স্পর্শ করতে পারেনা এবং সন্তান নিরাপদে থাকে। সেই সূত্রেই গর্ভগৃহ নাম করা হয়েছে। মন্দিরের খিলানের নকশা গুলির মধ্যে ঘোড়ার নালের ন্যায় আকৃতি বিশিষ্ট পাথরের দ্বারা নির্মিত একপ্রকার মুর্তি বা ভাস্কর্য যার দ্বারা মন্দিরের জানালা, স্পিয়ার এবং পিলার গুলি সজ্জিত হতো। গোপূরম হলো মন্দিরের প্রবেশের একটি রাস্তা যেটি মন্দিরের দুটি ভীতকে যুক্ত করেছে। এই গোপূরম এর আকৃতি দক্ষিন ভারতীয় মন্দির গুলিতে অনেক বড়ো বড়ো হয়ে থাকে। গোপূরম শব্দটি ভারতীয় মঠমন্দির গুলির সাথে জড়িত এবং গোপূরম শব্দটি সংস্কৃত শব্দ গোমতীপুর থেকে এসেছে। মন্দিরের হার নামে একটি অংশ নির্মান করা হয়। যা মেয়েদের গলার হারের সমানুপাতিক। ৬ঠ শতাব্দীতে পাথরের দ্বারা ছিদ্র যুক্ত একপ্রকার জানালা নির্মান করা হতো যা আধুনিক কালের লোহার গ্রিলের মতো, একে জালা বলা হতো। জাগতি হলো মন্দিরের উত্থিত পৃষ্ঠ বা টেরেস যার ওপর সমগ্র মন্দির দাঁড়িয়ে থাকে। জাগতিকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করা হয়। কলশ হলো মন্দিরের অতি পবিত্র একটি অংশ। প্রাচীন কালে এই কলশ মূলত সোনা বা রূপো দ্বারা নির্মান করা হতো আর হিন্দু মন্দিরের একটা বৈশিষ্ট্য। তাজমহলের ওপরে এমনই একটা কলশ লক্ষ্য করা যায়। মন্দিরে একটি জলাশয় নির্মান করা হতো, দেবপূজার যাবতীয় জল ওইখান থেকে সংগ্রহ করা হতো। দৈবকাজে ব্যাবহার করা হতো বলে এই কুন্ডকে পবিত্র শুদ্ধ বলে মনে করা হতো। একনও মন্দির গুলির নিজস্ব কুন্ড আছে। আমাদের এই প্রকৃতিতে কতোইনা প্রানী আছে যাদেরকে হয়তো আমরা এখনও চিনিনা, কতো প্রানী বিলুপ্ত হয়ে গেছে আবার কেও টিকে আছে। এমনই এক পৌরাণিক প্রানী হলো মকর যার গড়ন কুমির আর মাছের মিশ্রণে গঠিত আর মুখে হাতির ন্যায় শূড়। এই প্রাণীকে অনেক পবিত্র মনে করা হয়, মকর হলো দেবী গঙ্গার বাহন তাই মন্দিরগাত্রে অনেক মকরের অবয়ব নির্মান করা হতো। মন্ডপ হিন্দু মন্দির গুলিতে দেখা যায়। মন্দিরের মন্ডপ মুক্ত বা বদ্ধ দুই হয়ে থাকে, যা মন্দিরের গঠনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। মন্ডপ হলো মন্দিরের দরজাথেকে মূল দেব বিগ্রহের সামনে পর্যন্ত ফাঁকা অংশ। বড়ো মন্দিরের মন্ডপের আয়তন বড়ো হয়। মন্দিরের আরেকটা অংশ হলো প্রাকার। মন্দির চত্বর কে প্রাকার বলা হয়। যেখানে মূলত পার্থনা গৃহ নির্মান করা হতো। ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে রথ হলো অতি গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়। মন্দির নির্মান করার সময় মন্দিরের যে নকশা তৈরি করা হতো ওই নকশাতে এই রথের বর্নণা লক্ষ্য করা যায়। মন্দিরের রথ হলো মন্দিরের বিভাগ। এই রথ তিন প্রকার হয় ত্রিরথ, পঞ্চরথ আর সপ্তরথ। ত্রিরথে মন্দিরের যেই দিক থেকেই ধাপ বা বিভাগ সংখ্যা গণনা করা যাক না কেনো এক্ষেত্রে ৩টি ধাপ লক্ষ্য করা যায়। আর পঞ্চরথে পাঁচটা আর সপ্তরথে সাতটা। বাংলাতে যেই সমস্ত প্রাচীন মন্দির দেখা যায় তার মধ্যে পঞ্চরথ বেশি দেখা যায়। আর এই রথের ওপরেই মন্দিরের শিখর অবস্থান করতো। কোনারকের সূর্য্য মন্দিরে এই রথের ধারণাটি ভালো ভাবে পরিলক্ষিত হয়। মন্দিরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্তম্ভ। মন্দিরের নির্মান করার সময় শান্তির প্রতীক হিসেবে স্তম্ভ নির্মান করা হতো, এই স্তম্ভ গুলো মন্দিরের মাহাত্ম আরও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল। এমন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্তম্ভ হলো অরুন স্তম্ভ, গোড়ুঢ় স্তম্ভ। মন্দির চত্বরের সবথেকে বড়ো ফটককে তোরণ বলা হতো। মন্দিরের গঠন প্রনালী বর্ণনা করার পর এবার মন্দির তৈরির পক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। এই মন্দির নির্মান নিয়েও অনেক মত সামনে এসেছে। মতপার্থক্য অস্বাভাবিক নয় কারণ তখনতো আর আধুনিক সময়ের মতো উন্নত যন্ত্রপাতি ছিলো না, না ছিলো ভারী জীনিস তোলার জন্য ক্রেন, আর নির্মান শিল্পে ব্যাবহৃত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। প্রচলিত ধারণা অনুসারে মন্দির গুলি নির্মান হতো ছেনি হাতুড়ি দিয়ে। আর হ্যাঁ প্রায় সব মন্দিরই নির্মান করা হতো পাথর দিয়ে। কোথাও আস্ত পাহাড় কেটে, আবার কোথাও পাথরের চাঁইকে একটার ওপর আরেকটা চাপিয়ে গুড়, বালি আর চুনাপাথরের মিশর্ন অর্থ্যাৎ আঁঠা জাতীয় কোনো জিনিস দিয়ে জোড়া হতো, তখনতো আর সিমেন্টের আবিষ্কার হয়নি। পাহড় কেটে যে সমস্ত মন্দির নির্মান করা হয়েছে সেই নির্মান শিল্পেরও অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। কোথাও Monolithic structure আবার কোথাও  অনেক গুলো পাথরকে কেটে নির্মান করা হতো। Monolithic structure এ একটি মাত্র পাথরকে কেটে মন্দির নির্মান করা হতো। যেমন রাষ্ট্রকূট রাজা প্রথম কৃষ্ণের সময় নির্মিত একটি মাত্র পাথর দ্বারা নির্মিত কৈশাল মন্দির। মাত্র ২০ বছর সময়ের মধ্যে নির্মান করা হয়েছিল। কিন্তু কেবলমাত্র ছেনি হাতুড়ি দিয়ে এতো বিশাল বিশাল মন্দির আর মন্দিরে কারুকার্য নির্মান করা হতো। পাথর তোলার জন্য কাঠের চাকা দেওয়া গাড়ি আর গাড়ি টানার জন্য হাতি ব্যাবহার করা হতো। আবার অনেক স্থপতির মতে মন্দির নির্মান করার সময় বালির ব্যাবহার করা হতো অর্থাৎ মন্দির ধাপে ধাপে নির্মান করা হতো। প্রথম ধাপে নির্মান কার্য সম্পন্ন হওয়ার পর বালি দিয়ে ওই অংশটাতে বালি ভরাট করা হয়। বালি ভরাট করার ফলে মন্দির নির্মান কাজ অনেক সহজ হতো। আবার নতুন করে নির্মান কাজ শেষ হলো আবার বালি ফেলা হতো। আর শিখর বা চূড়া আগে নির্মান করা হতো পরে তা ওপরে তোলা হতো। আবার অনেকের মতে বড়ো বড়ো পাথর তোলার জন্য জলের ব্যাবহার করা হতো। আর্কিমিডিসের সূত্রানুসারে জলে নিমজ্জিত কোন ভারী বস্তু তার ওজনের সমান জল অপসারণ করে। এক্ষেত্রেও একই  তত্ত্ব কাজ করে। তাই পাথর গুলো ওপরে তোলার জন্য জল ব্যাবহার করা হতো।  কিন্তু শুধু মাত্র এই পন্থা অবলম্বন করেই এতো সুন্দর সুন্দর মন্দির নির্মান করা হতো নাকি তখনও বিশেষ কোনো প্রযুক্তির প্রয়োগ করা হতো। এই সম্পর্কে জানার কোনো অবকাশ নেই সবই গবেষণা সাপেক্ষ। অনেক মন্দিরেরই কালের মহিমায় ধ্বংস ঘটেছে। আবার ভারতে যখন অন্য সংস্কৃতির প্রবেশ ঘটে তখন তাদের প্রভাবেও অনেক মন্দির স্থাপত্যের বিনাশ ঘটেছে।  ভারতীয় ইতিহাস তার প্রতিটি পৃষ্ঠাতে ফুটিয়ে তুলেছে রোমাঞ্চ, বিস্ময়, নৃশংসতা এবং বর্বরতা। এই প্রতিটি পৃষ্ঠা আমাদের মানবপটে প্রতি কোনো না কোনো বিস্ময়কর চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। যার এক একটা কাহিনি এত মর্মান্তিক যে তা এক সম্রদায়ের পক্ষে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তেমনই এক ঘটনা হলো মুসলিম কর্তৃক হিন্দু মন্দির লুন্ঠন।  
ভারত নানা সময়ে নানা বৈদেশিক হানাদার দের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল। যার ফলে ভারতের প্রচুর সম্পদ ভারত থেকে লুন্ঠিত সামগ্রী রূপে অন্য স্থানে স্থানান্তর হয়ে গেছল। এই লুঠতরাজ পর্বের সূচনা হয় মুসলিম হানাদার দের ভারতে হানা দেওয়ার পর থেকে। যার ফলে বিপুল পরিমাণে ভারতীয় ধনসম্পদ আরব, পারস্য, ইরাক, গজনির মতো মুসলিম প্রধান অঞ্চল গুলিতে স্থানান্তরিত হয়। বিগত ১ম খ্রীস্টাব্দ থেকে ১০০০ খ্রীস্টাব্দ পর্যন্ত ভারতের অর্থনীতি বাকি দেশ গুলোর থেকে অনেক উন্নত ছিলো। এই মুসলিম আগ্রাসনের পর থেকে ভারত তার গৌরব হারায়। 
ভারতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাক্তির আগমন ঘটেছিলো। যাদের কারো উদ্দেশ্য ছিলো শিক্ষা, আবার কারোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে ভারত ভ্রমণ। তারা এই ভ্রমণ সম্পর্কে প্রতিবেদন রচনা করেন। ভারতে প্রায় বহির্বিশ্বের সব স্থান থেকেই পর্যটন, পরিভ্রমণ করতে আসেন। তারা তাদের ভ্রমণ বৃত্তান্তে ভারতের রূপমহিমা বর্ণনা করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে ভারতের মাটিতে সোনা আর জলে রূপোর চাষ হয়, অর্থাৎ ভারত চিরকালই শস্যশ্যামলা দ্বারা পরিবৃত। এই সব বিবরণ এর পর থেকে বহির্বিশ্বের কাছে ভারত সম্পর্কে কৌতুহল বাড়তে থাকে, যার ফল স্বরূপ হানাদার রা ভারতের বুকে পা রাখে।  এই পর্বের সূচনা হয় মুসলিম দের ভারত আগমনের পর থেকে। ভারতে প্রথম মুসলিম আগমন ঘটে ৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দে মহম্মদ বিন কাশিম এর নেতৃত্বে। এই সময় মুসলিম বাহিনী সিন্ধ অঞ্চলে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিল। এই সময় তারা বেশ কিছু ধনসম্পদ লুঠ করে। এর পর আফগানিস্তানের পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে ক্রমাগত মুসলিম দের আগমন ঘটতে থাকে। 
সব থেকে নৃশংস লুঠতরাজ হয়েছিল মুসলিম দের দ্বারা। চিরাচরিত হিন্দু রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে মুসলিম আগ্রাসন। প্রথম দিকে এই মুসলিম রা স্বাধীন ভাবে বসবাস করার জন্য ভারতে আসেনি। তারা কেবল ধনভাণ্ডার লুঠ করার জন্য ভারতে আসত। এই আগ্রাসনের তীব্রতার ফলে ভারতীয় ঐতিহ্য লুন্ঠিত হয়েছিল। 
এই রকমই একজন হানাদার হলেন গজনির সুলতান মামুদ। ১০০০ খ্রীস্টাব্দ থেকে ১০২৭ খ্রীঃ এর মধ্যে ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন। তার এই আগমনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো ভারতের সম্পদ লুঠ করা স্থায়ী ভাবে বাস করা না। তিনি উত্তর ভারতের অনেক জায়গা তে হানা দেন। তিনি ভারত থেকে প্রচুর সম্পদ লুঠ করে নিজের দেশে নিয়ে যান। তাঁর এই নৃশংসতার একটু ধারণা দেওয়া যাক— 
তুর্কিস্তান এর অন্যতম প্রধান জনপদ হলো এই গজনি। এই গজনি তে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজা শাসন করেছেন। উল্লেখযোগ্য সুলতান হলেন আলপ্তগিন, এবং এই আলপ্তগীনের মৃত্যুর পর ৯৭৭ সালে গজনির সিংহাসনে বসেন সবুক্তগীন। 
৯৯৮ সালে গজনির সিংহাসনে মামুদ আরোহন করেন। তিনি গজনিকে তার সাম্রাজ্যের রাজধানী করেছিলেন। মামুদ ২৭ বছর বয়সে সুলতান উপাধি গ্রহন করেন। এরই পর থেকে সুলতান উপাধি গ্রহনের ধারা শুরু হয়। 
মামুদের এই ভারতে হানা দেওয়ার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে ঐতিহাসিক ও অর্থনীতিবিদ দের মতে —
 ভারতের বিপুল ধনসম্পদ লুঠ করাই ছিল তার এক মাত্র উদ্দেশ্য। 
 তিনি ইসলাম ধর্মের সম্প্রসারণ এর উদ্দেশ্যে ভারতের মাটিতে পা দিয়েছিলেন। 
 পশ্চিম ভারতের শক্তিশালী রাজপুতদের মধ্যে ঐক্যের অভাব দেখা দিয়েছিল। তারা পরস্পর বিবাদে নিমজ্জ থাকত এই সুযোগে গজনি ভারতে প্রবেশ করেন ।
ভারতে মামুদের কর্মকাণ্ডের একটা তালিকা দেওয়া যাক— 
 মামুদ ১০০০ খ্রীঃ থেকে ১০২৭ খ্রীঃ পর্যন্ত ১৭ বার ভারত আক্রমণ করে। 
 ১০০০ খ্রীঃ প্রথম বার আক্রমণ করে বর্তমানে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান অঞ্চলে। 
 ১০০৫ খ্রীঃ হানা দেয় ভাটিয়া অঞ্চলে। 
 ১০০৬ খ্রীঃ মুলতানে আক্রমণ করেন। 
 ১০০৭ সালে ভাতিন্ডাতে হানা দেন। 
 ১০১১ সালে পাঞ্জাব পার্বত্য অঞ্চলে লুঠপাট চালান। 
 ১০১৩ সালে পাকিস্তান এবং পূর্ব আফগানিস্তানের বেশ কিছু অঞ্চলে। 
 ১০১৪ খ্রীস্টাব্দে থানেশ্বর শিব মন্দিরে লুঠ করে প্রায় ধংস করেন। 
 ১০১৫ সালে কাশ্মিরে আক্রমণ করেন। 
 ১০১৮ সালে মথুরা লুঠ করেন। এই সময় মথুরা উজাড় হয়ে গেছিল। 
 ১০২১ সালে কনৌজ আক্রমণ করেন। 
 ১০২৩ গোয়ালিয়র এর লুঠপাট চালান। 
 ১০২৭ সালে শেষবারের মতো আক্রমণ করেন সোমনাথ মন্দিরে। বাকি সব লুন্ঠনের থেকে এর ভয়াবহতা অনেক বেশি। সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করেন তিনি। মন্দিরের সব ধনভাণ্ডার আত্মসাৎ করেন। সোমনাথ মন্দির তার এই বিপুল ধনসম্পদের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। 
 ৩দিন ধরে তিনি এই মন্দিরে লুঠ চালান। মন্দিরের সব সম্পদ লুঠ করেন। রাজপুত শক্তি তার বিরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তারা সক্ষম হননি। প্রায় ৫হাজার হিন্দু এই বর্বরতার কারণে মারা গিয়েছিলেন। 
 তার এই লুঠ এর পরিমাণ ছিলো প্রায় ২০ মিলিয়ন দিনার, যা বাকি সব লুঠপাটের ৮গুন। তিনি শুধু লুঠ করেই ক্ষান্ত থাকতেন না। তিনি মন্দিরে কারুকার্য ধ্বংস করেন। লিঙ্গ ধ্বংস করেন। 
তিনি ভারতবাসী দের কাছে লুঠেরা হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন তার রাজ্যের এক আদর্শ রাজা। তিনি এই লুন্ঠিত সম্পদ দিয়ে তার রাজধানীকে ঢেলে সাজিয়েছিলেন। গজনির শ্রী বৃদ্ধি করেছিলেন। তিনি যে শুধু ধনভাণ্ডার লুঠ করতেই ভারতে এসেছিলেন তা কিন্তু নয়। তিনি ভারতের মহল শিল্প কর্ম স্থাপত্য ভাষ্কর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাই তিনি ভারত থেকে নানা উন্নত মানের শিল্পী দের অপহরণ করে নিজের রাজ্যে নিয়ে যান নিজের রাজ্যে মহল নির্মাণ হেতু। 
 ১২০৬ সালে মহম্মদ ঘুরির নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ভারতে বিজয় লাভ করে তরাইনের ২য় যুদ্ধে। মহম্মদ ঘুরিও প্রচুর পরিমানে সম্পদ লুঠ করেন। পরবর্তী কালে কুতুবউদ্দিন আইবকের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত দাস বংস হিন্দু দের ওপর অত্যাচার চালায়। ।
ভারতে লুঠতরাজ শুরু হয় ভারতে মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার পর থেকে। মোঘল সাম্রাজ্য হলো ভারতের ইতিহাসে সবথেকে দীর্ঘদিন ধরে চলা এক মুসলিম বংস। ইব্রাহিম লোদি কে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সিংহাসন চ্যুত করার পর তিনি ভারতের রাজকোষের চাবি হাতে পান। এর পর তিনি এই সম্পদের অপব্যবহার শুরু করেন। তিনি কেবল এই সম্পদ মুসলিম দের জন্য ব্যবহার করেন। বাবর তাঁর আত্মজীবনী বাবার নামাতে উল্লেখ করেন তিনি ছিলে ভগবানের দ্বারা প্রেরিত খোরসান, সমরখন্দ, মক্কার মধ্যে সবথেকে ধার্মিক ব্যাক্তি। তিনি তার সম্পত্তি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিনিয়োগ করেন যার ফলে তার সেনাবাহিনী তে যোগ দেবার জন্য উতসাহ চরমে পৌছেছিল। 
এই সময় মন্দির গুলিকে ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ নির্মান করার প্রবনতা দেখা দেয়। এই ক্ষেত্রে ঔরঙ্গজেব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি মথুরার মন্দির গুলি ধ্বংস করে সেখানে মসজিদ নির্মান করেন। তিনি মথুরার সম্পদ লুঠ করেন। 
এক দেশের সম্পদ লুঠ করে অন্য জায়গাতে স্থানান্তর এর পক্রিয়া মর্মান্তিক। এই লুঠ এর ফলে মোঘল সরকারের ওপর সাধারণ মানুষ আস্থা হারায়। 
এক দেশের সম্পদ লুঠ করে অন্য এক দেশ কে সমৃদ্ধ করা ফলে কি সত্যি কি সেই দেশ সমৃদ্ধ হয়? ভারতের যে পরিমান সম্পদ লুন্ঠিত হয়েছে, ওই সম্পদ যদি ভারতে থাকতো তাহলে ভারত আরও সমৃদ্ধ হতো। এছাড়াও আরও অনেক সময় হিন্দুদের বহূ মন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ভারতের বহূ  ঐতিহ্য।

মন্দির গুলি সর্বদা সম্পদে পরিপূর্ণ থাকতো। এখানে সম্পদ বলতে হীরে মানিক ধণ দৌলত মণী মাণিক্য এই ছাড়াও সমৃদ্ধ ছিল নানা কারুকার্যের জন্য। মন্দির গুলিতে বেশি নৃত্য ভঙ্গিমায় নারী মুর্তী খোদাই করা হতো। নর্তক নর্তকী দের ছিত্র, দেবী দেবতার ছবি খোদাই করা হতো। আবার সেখানে রাজার দানশীলতা চিত্র অঙ্কিত করা হতো। আবার রাজার বীরত্বের প্রতীকী হিসেবে যুদ্ধাভিজান, রাজার মৃগয়ার চিত্র খোদাই করা হতো ছেনি হাতুড়ির সাহায্যে। এই মন্দির গুলোতে অনেক চিত্র অঙ্কিত হতো। জীবনের সাথে সামঞ্জস্য পূর্ন অনেক বিষয়ই ফুটে উঠেছে। মন্দির নির্মানের সময় দেশ বিদেশের বহূ চিত্রকর কে এনে মন্দিরে চিত্র খোদাই করা হতো। আবার যেই দেবতার মন্দির সেই দেবতার ও নানা কর্মকাণ্ড ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই গুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো প্রজারা রাজার বিদ্রোহী না হয়ে ওঠে এর জন্যেই অনেক মন্দির নির্মান করা হতো। যদি Time table অনুযায়ী বিচার করব যায় তাহলে দেখা যাবে ১৫০০ খ্রীস্টাব্দের আগে বাংলা জুড়ে যেহারে শিব আর শক্তির আরাধনা করা হতো তখন বৈষ্ণব উপাসনার প্রসার সেই ভাবে ঘটেনি । শ্রী চৈতন্যদেবের ভক্তি আন্দোলনের পর থেকে বাংলায় এই বৈষ্ণব উপাসনার প্রসার ঘটে। তাই মন্দির গুলিতেও এই বিশেষ পার্থক্য গুলি লক্ষ্য করা যায়। তার থেকেও বিভিন্ন রাজা রাজড়ার সময়কাল পরিবর্তনেরব ছাপ লক্ষ্য করা যায়। এই রকমই একটা কলা লক্ষ্য করা যায় বিষ্ণুপুরের মন্দির গুলিতে। ওই মন্দির গুলিতে মাটির ওপর অঙ্কিত বিভিন্ন কারুকার্য খোদাই করা হতো ।একে টেরাকোটা বলে। এই টেরাকোটা শিল্পের জন্য বিষ্ণুপুর সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ। ভারতের চিত্রাঙ্কন শিল্পটিও বহূ প্রাচীন। যখন মানুষের মনের বিকাশ ঘটতে শুরু করে, মানুষ যখন বুঝতে শুরু করে সেই সময় থেকেই মানুষ এই আঁকাআঁকি শুরু করে। তখন মানুষ গুহার গায়ে নানা ধরণের পশু পাখি মানুষের ছবি অঙ্কিত করতো এইভাবেই চিত্রকলার বিকাশ ঘটে এবং এর দ্বারাই বাকি সব সংস্কৃতি পরিব্যাপ্ত হয়েছে। এটু প্রাচীনকাল থেকে অবিরাম চলে আসা ও পর্যায়ক্রমিক বিরতির প্রতিনিধিত্ব করে। এবং চিত্রশিল্পের সাথে বাকি অন্য সব সংস্কৃতি অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জড়িত। মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে মানব সভ্যতার আজ পর্যন্ত ধারার অন্যতম চালিকা শক্তি এই চিত্রকলা। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে এই চিত্রশিল্প মূলত সমাজজীবন, প্রতিনিধিত্বমূলক, ধর্মবিশ্বাস তথা ধ্রপদীয় ধারার বাহক হিসেবে ছিল পরবর্তীকালে আরও বিশুদ্ধ বিমূর্ত এবং ধারণাগত পদ্ধতি প্রাধান্য পেয়েছিল। প্রাচ্যশিল্পকলার বিকাশকাল পাশ্চাত্য শিল্পকলার বিকাশকাল সমসাময়িক হলেও প্রাচ্য শিল্প অনেক প্রাচীন। আফ্রিকার শিল্প, ইহুদীয় শিল্প, ইশলামীয় শিল্প, ভারতীয় শিল্পকলা, চীনা শিল্প এবং জাপানি শিল্প প্রত্যেকেরই পশ্চিমা শিল্পের উপর তাৎপর্যপূর্ণ মিল লক্ষ্য করা যায়। প্রথমদিকে উপযোগী উদ্দেশ্যে এবং সাম্রাজ্যবাদী, বেসরকারি, সাধারণ নাগরিক এবং ধর্মিয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদর্শন করলেও, পূর্ব এবং পাশ্চাত্য চিত্রকলা পরে অভিজাত ও ধণী পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিল। আধুনিক যুগ থেকে মধ্যযুগ ও পরে রেনেসাঁস সময়কালে চিত্রকরেরা চার্চ এবং ধণী অভিজাতদের জন্য কাজ করতো। রেনেসাঁস পরবর্তী যুগের সমাজচিন্তা জানার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এই চিত্রকলা। চিত্রকরের দৃষ্টিভঙ্গি তার কাজের মধ্যে ফুটে উঠেছে। তখনকার চিত্রকররা মূলত সমাজকেন্দ্রিক চিত্র বেশি প্রতিফলিত করতো। আবার অনেক শাসক চিত্রকরদের দিয়ে নিজের প্রতিকৃতি অঙ্কন করাতেন। চিত্রকলার আদিকাল বলতে বোঝায় প্রাগৈতিহাসিক যুগে নিয়ান্ডারথালদের অঙ্কিত গুহাচিত্র, যার আনুমানিক বয়স ৪০০০০ বছর। ফ্রান্সের চৌভেট গুহায় পাওয়া ছবিগুলি প্রায় ৩২০০ বছর পুরোনো। ভারতের ভীমবাটিকা তে একইরকম গুহাচিত্রের প্রমান পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে এই চিত্রকলা দুটিভাগে বিভাজিত হয়েযায়, প্রাচ্যরীতি আর পাশ্চাত্যরীতি। প্রাচ্য চিত্রশিল্পের ইতিহাসে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ধর্মের বিস্তৃত প্রভাব রয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় শিল্পকলা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন বহমান শৈল্পিক ঐতিহ্য। প্রথম দিকে এটি প্রতিনিধিত্বমূলক না হলেও আলঙ্কারিক ছিল। এই গুলিতে চিত্রের পরিবর্তে কারুকার্য নকশা র পরিমাণ ছিলো অনেক বেশি। প্রাথমিক মৃৎশিল্প গুলিতে সর্পিল, আঁকাবাঁকা সর্পিল, বিন্দু বা প্রাণী আঁকা ছিলো। যুদ্ধবাজ রাজ্য গুলির সময়কাল থেকে (অর্থ্যাৎ ৪০৩ থেকে ২২১ খ্রীস্টপূর্ব) শিল্পীরা তাদের চারপাশের বিশ্বকে উপস্থাপন করতে শুরু করে, যুদ্ধাভিজান রাজার প্রভাব আর প্রভাবে জর্জরিত প্রজাদের চিত্র অঙ্কিত করতো। খ্রীস্টপূর্ব ৬ঠ শতকের ছবি গুলো থেকে আমরা মগধের উত্থানের কথা জানতে পারি। খ্রীস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে অশোকের নানা সমাজ সংস্কারমূলক বৃত্তান্তের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। এই চিত্রগুলিই ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে জীবন্ত দলিল হিসেবে কাজ করে। প্রাচীন ভারতীয় এই চিত্রকলার অনেকগুলো ধারা প্রচলিত ছিলো। যাদের মধ্যে অতি প্রাচীনতম হলো মন্ডলা আর প্রাচ্য পাশ্চাত্যের মিলনে গড়ে ওঠা ডুডুল আর্ট। এছাড়াও আলপনাও অনেক পুরোনো সনাতন ধর্মের সূচনা থেকে কোনো শুভ কাজে আলপনা দেওয়ার প্রথা চলে আসছে। এক্ষেত্রে আলপনা শ্রীর প্রতীক। তাই প্রাচীন ভারতীয় এই সব শিল্পকলা সভ্যতার প্রতিটি বিষয়ে অন্তর্নিহিত। এছাড়াও  উপজাতিরা তাদের গৃহসজ্জার খাতিরে একপ্রকার চিত্রশৈলী অঙ্কন করেন। যার ধারা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। প্রাচীন দক্ষিনভারতীয় মন্দির গুলিতে মন্ডলা চিত্রকলার দৃষ্টান্ত লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও রাজা বাদশাদের Portraits অঙ্কনেরও চল ছিলো। তাহলে অন্তিমে বলাই যায় যে প্রাচীন ভারতীয় সভত্যা যদি একটা বটবৃক্ষের হয় তাহলে স্থাপত্য, ভাষ্কর্য, শিল্পকলা, চিত্রশিল্প প্রত্যেকটা তার শাখাপ্রশাখা এবং ঐতিহ্য সংস্কার শৈল্পীকতা তার শিকড় যা আমাদের মানসিক চিন্তার অতিগভীরে প্রথিত অবস্থায় আছে। আর আমাদের এই সভ্যতা তার ছত্রছায়ায় নিজের জীবন অতিবাহিত করছি। আর বর্তমানেই আমরা এই বটবৃক্ষের ছায়া থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি। 

গ্রন্থপঞ্জী সহায়ক চিত্রপঞ্জী :
১) A study on Hindu Temple Planning Construction and The Vastu. By Sujatavni Gunasagaran. 
২) content://com.android.chrome.FileProvider/offline-cache/d1624c69-721a-4782-b0e6-b080db4b32c7.mhtml.
৪)  চিত্রকর সুস্মিতা ভট্টাচার্যের আঁকা কিছু চিত্র। 
৫)  বিষ্ণুপূরের টেরাকোটা শিল্পের নিদর্শন। 

বাংলা ভাষা – সৌভিক রাজ

বাংলা ভাষা - সৌভিক রাজ

কবিতার শিরোনাম – বাংলা ভাষা
কলমে- সৌভিক রাজ

বাংলা মোদের প্রানের ভাষা বাংলা আমার মা,
বাংলাতেই আমি প্রকাশ করি মনের যন্ত্রণা।
অ-আ থেকে ক- খ দিয়ে সাজায় বর্ণমালার আসর,
ভাষার মালা বন্ধনে গড়ি ঐক্য ফুলের বাসর।
বাংলা ভাষা মধুর অতি ছন্দ সুরে ঘিরে,
ঋদ্ধ করল বাংলা ভাষা এই ধরণীর তীরে।
বাংলা ভাষায় কথা বলি মোরা গাই যে প্রেমের গান,
বাংলা আমার অহংকার আর বাংলা যে অভিমান।
বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথ আর গীতাঞ্জলীর সুর,
বাংলার পথে জীবনানন্দ হেঁটে গেছে বহুদুর।
বাংলা ভাষায় নজরুল গায় সাম্যবাদের গান,
বাংলা আমার একই বৃন্তে থাকা হিন্দু মুসলমান।
বাংলা ভাষায় পদাবলীর সুর প্রেমের প্রথম সোপান,
বাংলা ভাষা বাউলের হাতে একতারার সুর গান।
বাংলা যে আমার মায়ের মুখে স্নেহ ভরা হাসি,
আমি বাংলায় মা মা বলি আর বাংলাকে ভালোবাসি।
আজকে তবে কেন সকলে বাংলা ভাষা ভুলে,
অন্য ভাষার জপমালা নিয়ে পড়ছে তারা গলে ?
নব্য সমাজ বাংলা ভুলেছে ইংরেজির আহ্বানে,
তাই তো মনে ব্যথা জাগে এই বাংলার অপমানে।
এসো তবে শপথ করি মোরা বাংলায় শব্দ করব গঠন,
বাংলা হবে কাজের ভাষা বাংলায় চলবে পঠন পাঠন।
বাংলা হবে সবার সেরা ঘুচবে মনের ব্যথা,
সবাই মিলে এক ভাষাতেই বলবো মোরা কথা।
গর্বে তখন উচ্চ শিরে উঠবে ফুলে বুক,
উথলে উঠবে হৃদয় জুড়ে বাংলা ভাষার সুখ।
সকল ভাষার মধ্যে বাংলা সবার থেকে সেরা,
বাংলা শুধু ভালোবাসা আর আবেগ দিয়ে ঘেরা।
বাংলা ভাষাকে শ্রদ্ধা করব ভাষাকে দেব যে সম্মান,
বাংলা আমার শান্তির নীড় বাংলা আমার প্রান।
বাংলায় আমার তৃষিত বক্ষে প্রেমকে করেছে দান,
এসো হে সকলে এক ধরাতলে গাই বাংলার গান.
সমাপ্ত

About Souvik Raj:-

লেখক পরিচিতি – সৌভিক রাজ বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত, তিনি গবেষণার সাথে যুক্ত তাঁর
গবেষণার বিষয় রবীন্দ্রসাহিত্য। বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সাথে যুক্ত, লোকসাহিত্য বিষয়ে একটি বই
প্রকাশ করেছেন, বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে, একাধিক কবিতার বই
লিখেছেন।বিভিন্ন জার্নালে লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যের রস আস্বাদন করাই হল লেখকের মূল
উদ্দেশ্য। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপরে তার লেখা দুটি বই প্রকাশিত হতে চলেছে।
তার লেখা কিছুই বইয়ের নাম যৌথ সংকলনে-
১- লোকসাহিত্যের স্বরূপ
২- শব্দের কথোপকথন
৩-কবিতার ডালি
৪-কোরাস কবিতা
৫-কোরাস গল্প
৬- আগমনীর আগমনে
৭-কাব্য কনিকা ( প্রথম খণ্ড)
৮- কাব্য কনিকা ( দ্বিতীয় খণ্ড)
৯- সেদিন দুজনে
১০- কথাকলি
সৌভিক রাজ ( সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক)
জে সি বোস ইন্সটিটিউট অফ এডুকেশন রিসার্চ
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়

September 2021: Art

Shakti- Dr. Srilatha Bhargava

Vignahartha- Dr. Srilatha Bhargava

About Dr. Srilatha Bhargava:-

Dr. Srilatha Bhargava, a qualified Dental Surgeon from India has completed her PhD from Tokyo Medical and Dental University. Being a creative personality and passionate about Bharath, she loves to bring alive its traditions and culture by means of artistic doodling, dot painting and acrylic canvas painting. COVID times has energized her and given ample time to explore this creativity by experimenting on various themes and genres. Based on the outcome of this creative pursuit and encouraged by family, she is now undertaking commissioned orders based on various concepts and themes.

Maasir-i-Alamgiri – Pawan Prajapati

The Indian Rover (Issue: September, 2021)

Maasir-i-Alamgiri – Pawan Prajapati

Next time you get a chance to demolish any arabic structure, start from staircases.

9 अेल 1669 को Aurangzeb ordered to demolish temples as much as possible.

Kashi Vishwanath Mandir! Which is being ignored by the government, even after knowing everything. Moreover, after seeing the stupidity, pride and politics by the Hindus, it seems that in this lifespan I will not be able to see this temple being built.

Order to break Jagannath Temple-

Azam demolished 8 Ancient temples in Bijapur

The temple of Chintamna, and built by Sitadas, Aurangzeb converted into a mosque and named Qmmt-ul-islam.

Somnath temple also destroyed by Mc Aurangzeb

And in 19 Dec. 1661 k2@ mir jumla entered kuch Bihar and destroyed all hindu temples and built mosque to over them

Another hindu temple Dehra Keshav Rai at mathura demolished by beloved sufi mother f¥cker Aurangzeb

7 April 1670 wazir khan sent a slave to destroyed all temple around Ujjain.

In the same year in orissa, All temples also demolished

The Yasho-Madhav temple demolish in the Dacca district

Darab Khan was sent with a strong force to punish the Rajputs Khandela and demolish the great temple Khandela, Sanula and all other temples in the around that’s area.

In Jan 1680, The grand temple at Udaipur was also destroyed.

On 24 Jan, the Emperor went to view the lake Udaisagar and ordered all the three temples on its banks to demolish.

On 29 Jan. Hassan Ali Khan reported that 172 other temples in the Udaipur have been demolished.

On 22 Feb 1680. the Emperor went to look at Chitor and by his order the 63 temples of the place were also destroyed

Aug, 1680 Abu said that he had rallied down 66 temples in Amber.

Aurangzeb appointed Abdul Rahim Khan to demolish temple’s and put down infidel practices in the haidarabad. He was destroyed the temples and build mosques on their sites.

In 1698. Khan Bahadur destroy the temple of Bijapur and build a mosque.

Loss of Culture: An Overlooked Danger

Loss Of Culture: An Overlooked Danger – Anubhav Singh

We live in an era were everything is questioned on the grounds of science and logic. It is good when limited to things where necessary, but when it comes to tradition this is being used to destroy us or rather steal from us what we have. Basically tradition of India is what represents us and there have been constant attempts to steal what we have and these attempts are still going on. It is not exaggeration of facts rather something which will be supported further with reasonable examples.

Its quite known how cultural practices like Yoga and Ayurveda are questioned generally. While Yoga is being mocked and even being claimed as something that originated in 20th century, there are also claims that Yoga is a mix-match of cultural practices from many religions and after all this Hindus claiming that Yoga is not Hindu make is worse. Ayurveda on the other hand is being claimed to be pseudoscience by people all around the world.

Though most Hindus think that it is just an attack on Hinduism by haters, its true but it has another purpose which is stealing our soft power. And the country which ranks at first position in this is none other than the USA. There are many such examples but to keep it short here are three remarkably surprising ones.

Attempt to steal Yoga

While yoga is less important here for and even mocked its trend keeps to grow in the west. But the effects of it are that there are applications claiming patent on yoga poses ! Yes it is true this is happening all around the west with the United States alone having 130 yoga related patents with 150 copyrights and about 2300 trademarks. This basically means that Yoga has become an American invention. Though the government did set a team to identify yoga poses and claim them back but is it really going to work ? Won’t a slight change in a pose make it a unique pose and worth patent ? Even if we manage to get back every patent one by one then one case alone takes many years to resolve practically its not possible for us to get its back. Fault here is definitely our who never claim our what is ours. Even today these ‘patent robbers’ continue their work and we claim that its not Hindu at all. The trend suggests that in a few decades Yoga will be popular as an ‘American’ thing.

Patent on use of Turmeric

Medicinal properties of Turmeric are well known to all, one does not need to study Ayurveda for it as it is something basic rooted deep down in our culture. Its a basic home remedy in India used commonly as a food ingredient but also as a blood purifier, in treatment of common cold and also sometimes in treatment of infections.

Now surprisingly in 1995 there a patent awarded to University of Mississippi medical center for finding wound healing property in turmeric. The Subjects experts claimed to use ‘turmeric powder’ and were even given an exclusive right to sell and distribute. If you tell to any Indian that its a modern discovery they would be surprised at it for sure.

Patent on Neem 

In my personal opinion it is known to everyone in India, Neem is a very common medicine used for vast number of purposes, not since now but thousands of years. And of course there has been a patent attempt on this as well. The patent on Neem was filed by WR Grace and the Department of Agriculture in the USA  in European patent office. The claim made by WR Grace was that he has discovered medicinal properties in Neem and also discovered that fungi on plants can be controlled with help of Neem (by bringing in contact with Neem oil to be specific). In this Case there was a legal opposition from India. The patent was won back but it was not that easy. It was a a battle of 10 years.

Now just think it took 10 years to win something back which is ours already. And these patents were filed in a time when Ayurveda was not as popular as now. While in India Ayurveda is at decline in Europe it continues to grow exponentially. Imagine how many applications must be out there right now and how many which we might not even be aware of. Even if in for a fight can we fight for every patent for 10 years ?

No, We all know we are not capable of that. There have been patents even for other medicines and even for something as small as Basmati Rice, this one was done by a company ‘RiceTec’ in USA and we don’t even know how many other such companies are claiming ownership over what. So is it not the time for us to claim what is ours rather than act liberal and say this or that ‘is not Hindu’.

~Anubhav Singh

রাজন্য আমলের ত্রিপুরার শিক্ষাব্যবস্থা

রাজন্য আমলের ত্রিপুরার শিক্ষাব্যবস্থা -ডঃ অনুপম সরকার

ভারতের উত্তর-পূর্ব দিকের রাজ্য ত্রিপুরা, অনেকদিন রাজন্যশাসিত ছিল । বর্তমান বাংলাদেশের অনেকাংশেই  ত্রিপুরা রাজ্যের সীমানা বিস্তৃত ছিল  । চন্দ্রবংশীয় মানিক্য উপাধি প্রাপ্ত রাজারাই উত্তরাধিকার সূত্রে  এখানে রাজ্য শাসন করে গেছেন । “ রাজমালা “ গ্রন্থে রাজবংশের কীর্তি কাহিনি বর্ণিত  হয়েছে ।  এই গ্রন্থের বিবরণ থেকে আমরা মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যের পূর্ববর্তী রাজাদের শিক্ষাবিস্তার সম্পর্কে কোন পরিচয় পাই না । রাজপরিবারের শিক্ষা ব্যবস্থার বিবরণ থাকলেও সাধারণ প্রজাদের জন্য  প্রবর্তিত শিক্ষার প্রচেষ্টা তেমন  দেখা যায় না । এই প্রসঙ্গে সমালোচক বলেছেন – “ মানিক্য বংশের সূচনা কাল থেকে ঊনবিংশ শতকের ৬ – ১০ অব্দ পর্যন্ত ত্রিপুরা রাজ্যের সাধারণ প্রজাদের বিদ্যা শিক্ষার জন্য কোন প্রকার প্রতিষ্ঠান ছিল এরূপ সাক্ষ্য রাজমালা বা অন্যান্য আকর  গ্রন্থাদিতে পাওয়া যায় না । ধারণা করা যেতে পারে যে  যেহেতু রাজকীয় প্রশাসন  বালক বালিকাদের শিক্ষার দায়িত্ব বহন করত না ।  সেজন্যই শিক্ষার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি । “ (১)

প্রথমদিকে ত্রিপুরার রাজারা বাইরে থেকে লোক আনিয়ে  প্রশাসনিক কাজ করেছেন । সমালোচক বলেছেন -“এভাবে বিশ্বসদের দিয়ে  প্রশাসনের লেখাপড়ার কাজ চলে যেত বলে রাজ্যের নিজস্ব কর্মচারী বাহিনী তৈরি করার কোন উদ্যোগ ত্রিপুরার রাজাগণ নেননি । মোহরীর কাজ করতে যে সামান্য লেখাপড়া জানা দরকার হয় তার জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করে প্রজাদের শিক্ষিত করে রাজকার্যের উপযোগী করে তোলার প্রচেষ্টাও তারা করেননি । “ (২) রাজধানী পরিবর্তনসহ রাজাদের বিভিন্ন পরিবর্তন এর মধ্যেও শিক্ষাব্যবস্থার হাল একই থেকে যায় ।  শিক্ষাব্যবস্থা আগরতলা শহর কেন্দ্রিক ছিল তাতে রাজ্যের অন্যান্য অংশের মানুষের কোন যোগ  ছিল না । রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য গৃহশিক্ষক রেখে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল ।  মহারাজা কৃষ্ণকিশোর মানিক্যের আমলে  ত্রিপুরায় প্রথম পাঠশালা চালু হয় –   কৃষ্ণ কিশোর মানিক্যের রাজত্বের শেষার্ধে পুরাতন আগরতলায় রাজবংশীয় পুরুষ এবং বিশ্বস্ত অভিজাত কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য চালু পাঠশালায় ইংরেজি পড়াশোনার সূত্রপাত হয়ে গিয়েছিল । “ (৩) কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়েও বিদ্যালয়টি চালু ছিল ।  মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যের সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি উপলব্ধি করেন রাজ্যের শিক্ষা প্রসারের জন্য ।

বীরচন্দ্র মাণিক্যের আমলে ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থা :-

মহারাজা বীরচন্দ্র মানিক্য ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থার অনেকটাই পরিবর্তন করেন ।  ড.  নলিনীরঞ্জন ভট্টাচার্য্য বলেছেন – 

 মহারাজ বীরচন্দ্র মানিক্য এই প্রথম রাজ্যবাসির শিক্ষার দায়িত্ব সরকারিভাবে গ্রহণ করেন।“

১৮৭১  সালে তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড মেয়ো এ ডব্লিউ বি  পাওয়ারকে রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে  ত্রিপুরাতে পাঠান ।  পাওয়ার এর সহযোগিতায় বীরচন্দ্র মানিক্য ত্রিপুরার আভ্যন্তরীণ সংস্কারের কাজ শুরু করেন ।  ১৮৭২  সালে কৈলাশহরে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ।  ১৮৯০ সাল থেকেই ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার সূত্রপাত ঘটে । ১৮৯০  সালের ১৫ই  ডিসেম্বর ত্রিপুরার প্রথম উচ্চবিদ্যালয় রূপে আগরতলা সরকারি ইংরেজি বিদ্যালয়  নামক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান  এর সূচনা ঘটে । ১৯০৪  খ্রিস্টাব্দে একুশে ফেব্রুয়ারি থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি উমাকান্ত একাডেমি নামে পরিচিতি লাভ করে ।  জনসংখ্যার নিরিখে দেখতে গেলে এই প্রয়াস সামান্য ছিল ।  সমালোচক বলেছেন – 

  উনিশ শতকের শেষ দিকে প্রকাশিত বঙ্গীয় প্রশাসনিক বিবরণ গুলিতে ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষার গতির শ্লথের কারণ  হিসাবে অনুপযুক্ত স্থানে স্কুল নির্মাণ বা স্থাপন ,  উপযুক্ত পরিদর্শন ও তদারককারীর  অভাব, শিক্ষকদের সময় মতো বেতন প্রদানের অনিশ্চয়তা ,জনগণকে  আর্থিক সাহায্য প্রদান  না করা প্রভৃতির কথা উল্লেখ থাকলেও রাজ্য সরকার শিক্ষায় উৎসাহ প্রদান করার উদ্দেশ্যে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছিলো তার কোনো উল্লেখ  বিশেষ নেই ।” (৫) 

সেই সময়  শহরাঞ্চলে শিক্ষার সুবিধাগুলো ছিল । গ্রামাঞ্চল,  বিশেষ করে পাহাড়ি জনপদগুলোতে শিক্ষার কোন ব্যবস্থা ছিল না ।  দৈনন্দিন জীবন  চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাটুকু পাহাড়ী জনপদে দেখা যায়নি ।  পাশাপাশি ককবরক  ভাষার উন্নতিও তেমন ঘটেনি । কিন্তু সময়ের অগ্রগতির সাথে সাথে ত্রিপুরার সামগ্রিক শিক্ষার রূপরেখাটি কিছুটা পাল্টাতে থাকে ।  তাই দেখা যায় ত্রিপুরার পরবর্তী মহারাজারা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন । ১৮৮০ – ১৮৮১  সালে Bengali Administration Report – এ বলা হয়েছিল –

“ of the 700 pupis , 30 are the sons of thakurs 52 Tipperans 232 manipuris and the remainder ( 3882 ) Bengali , Hindus and Mussalmans of 57 girls attending schools , there are tipperans and 54 manipuris .”

বীরচন্দ্রের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থার তিনটি দিক লক্ষ্য করা যায় – 

১)  তিনি শিক্ষার ক্ষেত্রে পক্ষপাতদুষ্ট ছিলেন না।  রাজ পরিবারের সদস্যরা সহ রাজকর্মচারীদের সন্তানরা সাধারণ বর্গের  ছেলে মেয়েদের মত একই শিক্ষা লাভ করতো ।

২) শিক্ষার ক্ষেত্রে তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণের কোন ভেদাভেদ মানতেন না ।

৩)  নারী শিক্ষার প্রসারের জন্য তিনি চেষ্টা করে গেছেন ।  রাজ অন্তঃপুরের নারীদের পাশাপাশি তিনি  মেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেন ।

শিক্ষার প্রসার ও মান উন্নয়নের জন্য তিনি কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা ত্রিপুরার শিক্ষা ব্যবস্থায়  যথেষ্ট সফলতা নিয়ে আসে । 

১) শিক্ষকদের বেতন স্বল্পতা,  বিদ্যালয়  চালানোর পরিকাঠামোর বিফলতা দূর করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ ।

২) রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের এ বছরের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ।

৩)  নতুন হাবেলীতে  শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য একজন পন্ডিত নিযুক্ত করা হয়েছে । 

৪)  প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অতিরিক্ত বেতন ধার্য করা হয়েছে । 

৫) ১৩০৮ ত্রিপুরাব্দে প্রকাশিত একটি শিক্ষা সম্বন্ধীয় আইনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে ।

মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যের আমলে নতুন উচ্চ বিদ্যালয় ,  একটি বালিকা বিদ্যালয় ,  কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয় ,  একটি টোল খোলা হয়েছিল । কালীপ্রসন্ন সেনগুপ্ত পঞ্চ মানিক্য গ্রন্থে বলেছেন – “ তৎকালোচিত  নিয়মে মহারাজা বাংলা ও উর্দু ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন ,  সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় ও কথঞ্চিত  অধিকার ছিল । তিনি মনিপুরী , ত্রিপুরা এবং উর্দূ ভাষায় মাতৃভাষার  ন্যায় অনায়াসে আলাপাদি করিতে পারিতেন ।” (৭)  

রাধাকিশোর মানিক্যের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা 

বীরচন্দ্র মাণিক্যের পর তার যোগ্য উত্তরাধিকারী রাধা কিশোর মানিক্য ত্রিপুরার সিংহাসনে বসেন ।  পিতার মতো তিনিও রাজ্যের শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে মনোযোগী হন ।  বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ।  এজন্য তিনি ১৯০১  সালে আগরতলার উমাকান্ত একাডেমি প্রাঙ্গনে  একটি দ্বিতীয় গ্রেডের কলেজ স্থাপন করেন । কলেজটির নামকরণ করা হয় আগরতলা কলেজ ।  এটি সম্পূর্ণ অবৈতনিক ছিল । বিদ্যালয়ের পুরোটা খরচই রাজার কোষাগার থেকে আসতো ,  এছাড়া মহাবিদ্যালয় এর ২ জন ছাত্রকে রাজ সরকার থেকে বৃত্তি দেওয়া হতো ।  এছাড়া মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য আবাসিক গৃহের ব্যবস্থাও ছিল । ১৩১৩ ত্রিপুরাব্দের ২৮ শে কার্তিক ত্রিপুরা রাজ সরকারের এক বিবরণ থেকে জানা যায় ২৬ শে  কার্তিক এক অগ্নিকাণ্ডে মহাবিদ্যালয়য়ের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায় । তৎকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নিয়ম  কানুন পূরণ করতে না পারায় এই মহাবিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায় ।  রাধাকিশোর মানিক্য কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছেন ।  মহারাজা রাধাকিশোর মানিক্য শিক্ষাকে বিক্রয় বা ছাত্রদের থেকে টাকা না নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। এ প্রসঙ্গে সমালোচক বলেছেন –

“Radha Kishor at the very beginning of the present century , i.e. in 1901 , Started a free college at Agartala to give higher education to whose ever was  fit to receive it ,  and when being alarmed by the prospects,  then British dominated Calcutta University insisted on a fee being levied ,  the Maharaja decided to abolish the college rather than ‘sell’  education against the hoary  traditions of India and his is dynasty .” ( ৮)

বিভিন্ন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফলে ১৯০৪  সালে আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে আগরতলা কলেজ একেবারে বন্ধ হয়ে যায় ।  এটি একেবারে অবৈতনিক  ছিল বলে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চায় সুবিধা হয়েছিল ।

মহারাজা বীরচন্দ্র এর আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা 

মহারাজা বীরচন্দ্র মানিক্যকে  যথার্থভাবেই ত্রিপুরার আধুনিক রূপকার বলা হয় ।  ত্রিপুরা রাজ্যের শাসনের সব দিকেই তিনি  তাঁর কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন । পূর্ববর্তী রাজাদের রাজকীয় বৈশিষ্ট্য  তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন ।  এছাড়া দেশ ও বিদেশ ভ্রমণ করে শিক্ষার আধুনিকতা ও বিস্তার কীভাবে করতে হয় তা বুঝেছিলেন ।  ১৯৩৭ খ্রি : ৭ ই মে তিনি “বিদ্যাপত্তন” নামে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন ।  এই পরিকল্পনায় একটি কলেজ স্থাপনের কথা বলা হয় এবং এই কলেজের নকশা মহারাজা নিজেই করেছিলেন ।  এই প্রসঙ্গে সমালোচক বলেছেন –   তিনি (মহারাজা বীর বিক্রম)  বিদ্যাপত্তন নামে একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে আগরতলায় একটি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন । তিনি বিদ্যাপত্তনের পরিকল্পনা অনুযায়ী ত্রিপুরায় এমন একটি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে চেয়েছিলেন  যার অধীনে থাকবে সাধারণ ডিগ্রী কলেজ , মেডিকেল কলেজ,  কৃষি ,  চারুকলা ও  ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ । এর জন্য আগরতলা শহরের  পূর্বপ্রান্তে কলেজটিলায় জমিও নির্দিষ্ট করা হয় ।  কিন্তু বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য তার জীবিত কালে এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করে যেতে পারেননি ।  তার মৃত্যুর পর এই পরিকল্পনার আংশিক রূপদান করা হয় মহারাজা বীর বিক্রম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ।” (৯)


শুধুমাত্র মহাবিদ্যালয় নয় , বিদ্যাপত্তন পরিকল্পনায় যুক্ত হয়েছিল –  ইংরেজি বিদ্যালয় ,  কারিগরি বিদ্যালয় ,  সংগীত ও নৃত্যের মহাবিদ্যালয় , অংকন ও স্থাপত্যের মহাবিদ্যালয় , মেডিকেল বিদ্যালয় , একটি সাধারণ  পাঠাগার । ১৯৩৭ খ্রি : ৭ ই মে বীরবিক্রম কলেজের কাজ শুরু হয় ।  অধ্যাপক শ্রী  সুচিন্ত্য ভট্টাচার্য্য বলেছেন – “ বিশেষজ্ঞদের মতে ,  এই মহাবিদ্যালয়টি গঠনশৈলী প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের স্থাপত্য শিল্পের এক অন্যতম নিদর্শন । এর তুলনা চলে শুধু বিকানীর এর বিখ্যাত রাজপ্রাসাদের শিল্পরীতির সঙ্গে ।” (১০) 

মহারাজা বীরবিক্রম কলেজ এর মানচিত্র

রাজন্য আমলের নারী শিক্ষা –

মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যের আমল থেকেই রাজ অন্তপুরের নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া হয় । এই প্রসঙ্গে নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মন বলেছেন –   মহারাজ আশ্চর্য উৎসাহশীলতায়  এবং উদ্দীপনায় সেই যুগের ঘোর রক্ষণশীল পরিবর্তন-বিরোধী সমাজের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও নতুন শিক্ষা সভ্যতার দিকে  উন্মুখ হইয়া উঠিয়াছিল । বস্তুত তাহার ব্যক্তিত্বের প্রভাবে এমন একটা কিছু পরিবর্তন মূলক ছিল যে তাহা প্রতিরোধ করা শক্তই হইত । “ (১১) ১৯২৩ – ১৯৪২ সালের প্রশাসনিক বিবরণ সমূহ থেকে জানা যায় যে সেই সময়ে রাজ অন্তপুরের নারীদের শিক্ষার জন্য মহিলা শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছিল ।  রাধা কিশোর মানিক্যের রাজত্বকালেও রাজ্যে নারী শিক্ষার বিস্তার ঘটে । ১৮৯০ – ৯১ খ্রি  মহারানি তুলসীবতী  রাজবাড়িতেই মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেন ।  তার নাম অনুসারেই পরে তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ।  

মহারানি তুলসীবতী বালিকা বিদ্যালয়

১৮৯৪ খ্রিঃ দেওয়ান বিজয়কুমার সেন এর নাম অনুসারে বিজয়কুমার বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ।  এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু বালিকা বিদ্যালয়ে মেয়েদের পঠন পাঠনের ব্যবস্থা করা হয় । ১৯২৭ সালে ত্রিপুরায় হিতসাধিনী  সভা প্রতিষ্ঠিত হয় ।  এই সভার কর্মকর্তারাও ত্রিপুরার নারী শিক্ষার বিস্তারে সাহায্য করেছিলেন । ১৮৮৩ খ্রিঃ  ত্রিপুরা রাজ্য ও  ত্রিপুরা জেলার  শিক্ষা বিস্তারে জন্য “ ত্রিপুরা অন্তঃপুর স্ত্রী  শিক্ষা সভা” গঠিত হয় ।  এক প্রান্তীয় রাজ্যে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ত্রিপুরায় স্ত্রী শিক্ষা বিস্তারের সূচনা হয় । ত্রিপুরা রাজ্যের প্রশাসনিক বিবরণগুলো থেকে রাজন্য আমলে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও তার ছাত্রী সংখ্যার একটি ছক তুলে ধরা হলো –

সন ত্রিপুরাব্দ

পাঠশালা

এল. ভি. স্কুল

এম. ই.  স্কুল

বিদ্যালয় সংখ্যা

ছাত্রী সংখ্যা

বিদ্যালয় সংখ্যা

ছাত্রী সংখ্যা

বিদ্যালয় সংখ্যা

ছাত্রী সংখ্যা

১৩৩৩

১১

২০২

১১

২০২

১৩

১৩৩৪

১৯০

১৯

১৩৩৫

১৯২

৭০

১৩৩৬

১৮৯

৮৫

১৩৩৭

১০

২৩৪

৯৫

১৩৩৮

১০

৩১৯

৯৬

১৩৩৯

১০

৩০২

৫৬

১৩৪০

১০

২৯১

৮৫

১৩৪১

১০

২৯১

৮৫

১৩৪২

২৭৩

৮৯

১৩৪৩

৩১৯

৭৭

১৩৪৪

৩২৯

৬৮

১৩৪৫

১৩৮

৭৪

১৩৪৬

২৭৮

১২১

১৩৪৭

২৮৬

১৫৩

১৩৪৮

৪৪

২৭০

১৪৩

১৩৪৯

৫৯

১৫৫

৩৭৩

১৩৫০

২২২

২১৫

১৩৫১

২৪৫

২৬৭

১৩৫২

৫৩

২১১৬

২২৩

২৮৭

১৩৫৩

৭৮

২১১২

২৩১

২২৩

১৩৫৪

৮৩

৩০৯২

২০৯

২৩২

১৩৫৫

৮৬

৩২৬৬

২৫৬

৩৫০


উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর্যন্ত সাধারণ জনগণের মধ্যে শিক্ষা চেতনা বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে রাজারা বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন । প্রচলিত সাধারণ পর্যায়ের শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের যেমন -কারিগরি শিক্ষা, কৃষি সংক্রান্ত শিক্ষা, সংস্কৃত শিক্ষা , মাদ্রাসা শিক্ষা ,সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয় । ভারতবর্ষের সাথে  যোগদানের পর ত্রিপুরাতে ভারত সরকার পরিচালিত শিক্ষাব্যবস্থার আদলেই তার কাঠামো  বদলায় । রাজন্য আমল থেকে শিক্ষা ব্যবস্থার যে সূচনা হয় তা বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্য সরকারের প্রচেষ্টায় বেড়েই চলেছে । এই প্রসঙ্গে সমালোচক বলেছেন – “শিক্ষার প্রতি ত্রিপুরাতে রাজন্যশক্তির যে তীব্র আগ্রহ ও প্রয়াস ছিল , নানা ঘাত – প্রতিঘাত থাকা সত্ত্বেও সেটা সাধারণ শিক্ষা ক্ষেত্রে ছড়িয়ে অন্যান্য বাস্তবোচিত উন্নয়নমুখী শিক্ষা ও কর্মের দিকে ধাবিত হয়েছিল।” (১৩)

তথ্যসূত্র :-   

১/ আধুনিক ত্রিপুরা প্রসঙ্গ বীরচন্দ্র মানিক্য , ড. দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ গোস্বামী , অক্ষর পাবলিকেশন্স, আগরতলা , ২০০৫ , পৃষ্ঠা১০ 

২/ তদেব , পৃষ্ঠা – ১৩

৩/ ত্রিপুরার শিক্ষা সংস্কৃতির শিকড়ের সন্ধানে , মৃণালকান্তি দেবরায় , ত্রিপুরা দর্পণ , ২০০৩ ইং , আগরতালা , পৃষ্ঠা – ৩২ 

৪/ মানিক্য শাসনাধীন ত্রিপুরার ইতিহাস , ড. নলিনীরঞ্জন রায়চৌধুরী , জ্ঞান বিচিত্রা, ত্রিপুরা , ১৯৯৮ , পৃষ্ঠা৪৫

৫/ আধুনিক ত্রিপুরা প্রসঙ্গ বীরচন্দ্র মানিক্য , ড. দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ গোস্বামী , অক্ষর পাবলিকেশন্স, আগরতলা , ২০০৫ , পৃষ্ঠা– ১১ 

৬/ শিক্ষা পরিক্রমায় ত্রিপুরা , ড. শান্তানু ভট্টাচার্য , নয়া পুস্তক মহল , আগরতলা , ২০২০ , পৃষ্ঠা২৭

৭/ পঞ্চ মানিক্য , কালীপ্রসন্ন সেনগুপ্ত , ত্রিপুরা রাজ্য উপজাতি  সাংস্কৃতিক    গবেষণাকেন্দ্রে  ও সংগ্রহশালা ,  ত্রিপুরা সরকার , ১৯৯৬  ইং , পৃষ্ঠা – ৩১

৮/ শিক্ষা পরিক্রমায় ত্রিপুরা , ড. শান্তানু ভট্টাচার্য , নয়া পুস্তক মহল , আগরতলা , ২০২০ , পৃষ্ঠা – ৪২

৯/ মানিক্য শাসনাধীন ত্রিপুরার ইতিহাস , ড. নলিনীরঞ্জন রায়চৌধুরী , জ্ঞান বিচিত্রা, ত্রিপুরা , ১৯৯৮ ,  পৃষ্ঠা – ৪২

১০/ শিক্ষা পরিক্রমায় ত্রিপুরা , ড. শান্তানু ভট্টাচার্য , নয়া পুস্তক মহল , আগরতলা , ২০২০, পৃষ্ঠা – ৫২

১১/ আবর্জনার ঝুড়ি ,  নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মা ও  অরুণ দেববর্মা ,  সম্পাদনা – ডঃ দ্বিজেন্দ্র নারায়ন গোস্বামী ,  উপজাতি গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ,  ত্রিপুরা সরকার ,  ২০০৪ ,  পৃষ্ঠা – ২৫

১২/ শিক্ষা পরিক্রমায় ত্রিপুরা , ড. শান্তানু ভট্টাচার্য , নয়া পুস্তক মহল , আগরতলা , ২০২০ , পৃষ্ঠা – ৭৫

১৩/ তদেব , পৃষ্ঠা – ১৪৩ 

History of Painting

History of Painting - Swati Trivedi

Art is essentially an expression of human creativity – a medium to communicate emotions and feelings. It takes the form of paintings, sculpture, music, dance, literature etc. Prehistoric man painted on the walls of caves, played wind instruments, carved sculptures out of bones and danced around fire, etched figures and symbols on rock to give expression to his creativity and his daily life.

The living traditions of any country are its cultural heritage, which constantly evolves, adapts and reinvents itself. India has the largest number of art forms anywhere in the world, mainly because its cultural heritage is rich, diverse and vibrant.

Origin of paintings-

Origin of paintings in Indian mythology is related to Brahma when he taught a king to make portrait of his dead son to bring back his senses. Vishvakarma is the divine architecture and presiding genius of art and culture.In India, paintings started with “Bhimbetka caves” near Bhopal, M.P. There oldest collections of rock painting are available. It depicts neolithic age’s everyday lives. Dated frescoes (paintings done on wall) are found in Jogimara Caves of Ramgarh hills in Sirguja, Nagpur, Maharashtra. It is presumed of first centurybefore Christian era.Numerous references to paintings are found in Brahmanical and Buddhist literature dating back to pre Christian period.

Traditionally art and knowledge is divided in 64 (chausath) Kalas which a human can master. Among these 64 Kalas, “Alekhya vidya” is art of painting. Six principles form the essence of any painting, namely:

  1. Rupabheda – knowledge of appearance
  2. Pramanam – Correct perception, measure and structure
  3. Bhava – action of feelings on forms
  4. Lavanya yoganam – infusion of grace, artistic representation
  5. Sadrisyam – similitude
  6. Varnikabhanga – artistic manner of using the brush and colour

Tribal & Folk Art- 

Tribal art is restricted to a single tribe whereas folk art may be practised by various people belonging to a large cross-section of society. The folk art of India does not belong to a particular period. It is a collective expression of rural Indian people driven by a desire to fulfil their social and emotional needs. The famous artist Henry Moore decleared that “folk art is something made by people with a direct and immediate response to life and for that matter rural art was not a matter of arithmetical calculation and academism, but a channel for expressing powerful beliefs, hopes and fears”.

Some Tribal & Folk Paintings of India –

Pithora Paintings-

Pithora paintings are made on walls by the Bhil and Bhilala of Dhar, Jhabua of Madhya Pradesh, the Rathwas of Panchmahal and Baroda, districts of Gujarat to honour their God, Baba Pithora (God of village) during the spring season. 

There is a noticeable difference between the style of painting and colour scheme between Bhils and Rathwas but the subject-matter and rituals are almost similar. Pithora paintings are actually an integral part of the rituals performed to thank Baba Pithora for their wish fulfilment. It is considered auspicious to paint the house walls with the images of a deity during occasions of birth of a child, good harvest, marriage etc. as they bring peace, prosperity and happiness. 

Anybody who owns a Pithora painting is highly respected. The person who is expert in Pithora painting is called Lakhindra. Only male members are allowed to learn the art. Women are not allowed to practice this art form. 

Gond Paintings- 

The Gonds, the largest adivasi community in India are of Dravidian origin and can be traced to the pre-Aryan era. The word ‘Gond’ comes from Kond, which means green mountains in the Dravidian idiom. Dravidian languages have received their name from the Sanskrit word ‘dravida’, which was used by medieval Indian authors as a denomination of the South Indian peoples and their tongues. The Gond called themselves Koi or Koiture, but others called them Gond since they lived in the green mountains. 

The Gond tribe is spread across Madhya Pradesh, Jharkhand, Chhattisgarh, Bihar, Odisha and Andhra Pradesh. In Madhya Pradesh, for centuries they inhabited the dense forests of the Vindhyas, Satpura and Mandla in the Narmada region of the Amarkantak range. 

The Gonds narrate stories about their dogmas, gods, festivals, demons and everything else related to their way of life through paintings. It is an art form in which the painting in itself conveys folklore or a story. This art is practised chiefly by the Gond and Pardhan tribes of Mandla. On the occasion of festivals the walls and floors of houses are covered with beautiful colourful paintings. The forms take shape spontaneously in space. Interestingly, Gond paintings bear very strong resemblance to the art of the aborigines of Australia. 

Warli Paintings- 

The word ‘Warli’ is derived from Warla, meaning “piece of land” or “field”. Warli paintings are primarily done on the walls of homes with rice paste during marriage rituals or after the harvest season. Warli is the main tribe to be found on the northern outskirts of Mumbai, in Western India and extends up to the Gujarat border.

The Warlis inhabit small villages of thatched mud-huts, which are constructed in such a way that they all surround a central cell. The origin of the Warlis is yet unknown and no records of this art are found, but many scholars and folklorists believe that it can be traced to as early as the tenth century C.E.

Traditionally, it was women who painted these wonderful paintings and were joined by men later. Warli art became popular in the early seventies. It was the only means of transmitting folklore to a general populace not well versed in the written word. 

Saura Paintings- 

Hailing from the tribal culture of Odisha’s Rayagada, Gajapati and Koraput districts, Saura paintings are practised by the local tribe called Saura (also called Sora, Sabara and Sour). The Sauras are one of the oldest tribes of India. These tribes have been mentioned in texts like Ramayana and Mahabharata. In the Puranas they are called the Vindhya Maulikas, the wanderers in the Vindhyas. In the 7th and 8th centuries they made their presence felt in Mirzapur in Uttar Pradesh, in Ganjam, Keonjhar and Puri in Odisha, and in Andhra.

They practised medicine and had a vast knowledge of herbs and of mantras to induce healing. The Sabaras worship their ancestral god, Sonum, in the form of sacred pots smeared with turmeric and filled with rice, chillies, garlic and salt. These pots are hung from the roof. 

Santhal Paintings- 

One of the largest tribal communities of India is that of the Santhals. The Santhal tribe is spread across Bihar, Jharkhand, West Bengal, Odisha and beyond. Particularly in West Bengal, they dwell in the districts of Birbhum, Bankura, Bardhaman and Medinipur districts. 

These paintings are in the form of narrative scrolls as well as ritual images on the walls. The clay wall is worked by hand to produce an image in low relief which is then painted with bright locally made dyes. In wall paintings, most of the motifs drawn by Santhal women are geometric figures such as triangles, squares, parallelograms, and creepers.

Animals and birds predominate in the imagery decorating the exterior walls of the homes.The rolled patas or scrolls are painted by professional painters who call themselves chitrakars. There are three kinds of paintings: the first category is a longish rolled paper with the theme of divine figure or description of any memorable event, the second category is laterally rolled paper and third category is square shaped painting which is generally termedas ‘Jadupatua’ or magical painting of enlightenment.

Cherial Scroll Paintings-

Cherial scroll paintings belong to Andhra Pradesh. Cherial in Warangal district is the traditional centre of this art. The traditional caste based groups from Jingor, Muchi and Mera known as nakkash, paint these paintings. Such scrolls were used by the story tellers accompanied by the musicians, alongwith dolls and masks made of coconut shell while the larger ones are made out of sawdust and wood called tella puniki smeared with tamarind seed paste.

Story tellers sing the narrative depicted in these paintings. The storyteller’s are accompanied with other performers who sit with their musical instruments on a large wooden bench to the left of the image. The scroll is ritually consecrated in a series of small ceremonies before displaying it to the public.

The performance with the painted scroll is a momentous event in the lives of the community of people who commission the performance. The houses of these people are whitewashed, cleaned and painted. Married daughters and their extended families are invited from nearby villages. Each household incurs expenses equivalent to hosting a daughter’s wedding for this event. 

 

Ganjifa- 

The artists of Bishnupur in Bankura district of West Bengal produced a special set of cards known as Ganjifa cards in the 14th century C.E., a substitute of present day playing cards. They depicted ten avatars or incarnations of Lord Vishnu-Pisces, Tortoise, Boar, the Man-Lion, the Dwarf, Ram, Parshuram, Balaram, Krishna and Kalki.

Together these 120 specimens of dashavatar cards form a spectacular piece of art. It had various suits like Kalki avatar suit, Parshurama avatar suit, Ram avatar suit, Vaman avatar suit etc. Each category contained 12 cards.

The word ‘Ganjifa’ literally means wealth of money and grains. The Ganjifa cards are referred to by Abul Fazal in the Mughal period under the reign of Akbar in the 16th century C.E. Ain-i-Akbari written by Abul Fazl, mentions two sets of cards, one for commoners and one for ascetics. The method of playing Ganjifa cards is described in Humayun Nama, written by Begum Gulbadan.

The Arabic word for playing cards is waraq, which literally means a leaf or a page. A waraq contained 240 cards. Ganjifa had eight suits instead of four in present day cards, two black and two red. 

Ganjifa cards made in Bishnupur, Bankura district of West Bengal are similar to Ganjappa cards of Odisha. Ganjifa cards made in Sindhudurg district of Maharashtra are of two kinds: Darbari cards have decorative borders and Bazaar cards are without a border. The king of MysoreTipu Sultan also patronized the making of Ganjifa Cards.

Madhubani- 

Madhubani is a village in the district of Mithilanchal in Bihar. The Madhubani painting originated in the area named ‘Mithilanchal’ where King Janak ruled or in other words the birthplace of Sita. The origin of this art form can be traced to the epic of Ramayana as Tulsidas gives a vivid account of Mithilanchal being decorated with Mithila painting at the wedding of Sita with Ram.

There are ample references to Mithila painting in Banabhatta’s Harshacharita. Its roots can be traced to Harappa and Mohenjodaro period which is remarkable for any living tradition.

At present, half of the area of ancient Mithilanchal is in Nepal and rest in Bihar. During the period from 1960 to 1970, Mithila painting became mobile and commercialised. The shift from the traditional, ritual-bound wall painting to individual artistic creations on paper ledto the emergence of several highly renowned women painters such as Sita Devi, Ganga Devi, Mahasundari Devi and Baua Devi. The main commercial centre became Madhubani, hence the name “Madhubani” painting.

Mata-ni-pachedi – 

In Ahmedabad, Mata-ni-pachedi paintings on cloth pertaining to the mother goddess cult are made as votive offerings. The painting comprises 4-5 parts which together combine to form a shrine of Mother Goddess. The literal meaning of the term ‘Mata-ni-pachedi’ is “behind the idol of Mother Goddess”. It is an aesthetic expression of the deeply set religious aspirations of the common folks in quest of bestowal of protection, well-being, prosperity and abundance. 

The painting is done during the time of navaratra, the nine nights festival celebrated after the rains when the earth and the mothers awaken. It recounts the myths associated with the seven mother goddesses. Each part is a narrative-a stand alone story of the deity. Another form of 

Mata-ni-pachedi painting is Matano candarvo (canopy for the goddess). Pachedi is used as a canopy that forms a shrine, or is spread over altars or worn by the shaman while worshipping or in a trance.

The Vaghari community is specially known to paint these pachedis. Only the men paint; the women are not allowed to conduct the sacred ritual. Mata-ni-pachedi paintings are traditionally in maroon, black, white, but developments have brought back an exquisite variety of muted colours in vegetable dyes, reviving a 4000 year old tradition.

Sanjhi- 

The unmarried young girls in the villages of Punjab, Haryana, Rajasthan, Madhya Pradesh, Bihar and Uttar Pradesh prepare the image of the goddess, Sanjhi or Jhanjhi deity, worshipped during Navratri, the nine day festival following the moonless-Amavas day of Asauj in September/October. As these paintings are made in the evening, they are coined with the name ‘Sanjhi’ or ‘Sangya’ or ‘Chandra Tarayya’.

It’s a group activity, the tradition of singing songs while making the image dates back to many centuries. The Sanjhi deity represents the nine main goddesses of Hindu tradition. They are Lakshmi, Kali, Parvati, Ambika, Vaishnavi, Gauri, Saraswati, Ramba and Jagdamba. 

The image is painted on the wall of the house in the village. The Great Mother Goddess Sanjhi is invoked to dwell in her image; her shape is a composition of triangles entirely covered with star-shaped clay discs. They are applied to a coating of mud and cowdung, which is applied to the outer wall of the house.

The small clay elements painted white and speckled with orange, blue and yellow cover the triangular shape of the Goddess. Her image is decorated with colourful flower petals and leaves. She is accompanied by the small figure of her brother who brings offerings to her on the eighth of the Navratri rites of nine nights, when his image is added to that of the great Goddess.

Chitrakathi Paintings- 

Chitrakathi patas are from Paithan or Savantvadi or Pinguli and do not go beyond a period of 250 years. Paithan was a hub of literature and art, both in ancient and medieval time. In medieval Maharashtra and some parts of Andhra and Karnataka, there was a section of people known as Chitrakathis. They travelled from village to village and narrated mythological stories to people. 

Patachitra-

The Patachitra is the traditional painting of Odisha. The word is derived from Sanskrit word “pata” which means canvas and “chitra” means picture. This art style is dedicated to Lord Jagannath of Puri. 

The traditional offering in a temple is called a pat. These icon paintings are painted on wall as well as cotton and tussar cloth. The paintings on cloth are very delicate drawings drawn by the Mahapatras and Moharanacaste groups. The painter is called the patachitrakar for whom the painting of a Patachitra is a religious experience as well as a means of satisfying his aesthetic and creative urges.

The artists’ colony, known as chitrakarsatisurrounds the main temple.Unlike the scroll paintings of Bengal, Rajasthan or South India, the Patachitras of Puri, Kalighat paintings of Bengal and Chitrakathi paintings of Maharashtra are separate pieces of paintings complete in themselves.

Pichhvai-

The word ‘Pichhvai’ literally means ‘at the back’. Pichhvai paintings are done on cloth and serve as painted backdrops for installed icons of Shrinathji at Nathadwara in Rajasthan. Nathadwara is a small pilgrim town in Udaipur. The word ‘Nathadwara’ means Gateway to the Lord. His image, a black stone figure, appeared in the centre of the painting.

The face is featureless except for massive silver lotus eyes that draws the attention of the worshippers. In the background is a brilliant orange hue filled with energy of exploding sunlight. The deity in the painted cloths is adorned with colours, flowers and ornaments of the seasons–changing with the cyclic movement of nature. They are usually done in deep shades of blue and green since these represent the hues of Lord Krishna. Then they are touched with gold.

These paintings are considered a religious service offered to the temple, thus imparting a special quality and value to original Pichhvais. Wall paintings in old havelis, homes of the nobility in the Shekhawati region, are a source of inspiration for this craft to be reproduced on public monuments and the walls of the art-conscious. The art of Pichhvais is 250 years old. They are created by members of the Adi Gaud caste.

Kaliyuga: Suryasiddhanta unveiled

Kaliyuga: Suryasiddhanta Unveiled - Jeevan Rao

Wikipedia writes, “According to the Surya SiddhantaKali Yuga began at midnight (00:00) on 18 February 3102 BCE”

This article aims to bring out the Surya-siddhanta evidence, which according to many (including wiki), gives us information about the first day of Kaliyuga.

Suryasiddhanta is arguably the oldest extant Indian Astronomy treatise available for us today. The knowledge of Suryasiddhanta is said to have received by Mayasura from Sun god.

The Surya Siddhanta describes rules to calculate the motions of various planets and the moon relative to various constellations, and calculates the orbits of various astronomical bodies.

The general belief among common people is that the beginning of Kaliyuga is given by Suryasiddhanta. The same belief is also held by majority of the Indic researchers, who then attempts to date the Mahabharata War based on the Kaliyuga date given by Suryasiddhanta.

This is where the problem starts…

A common aspect amongst all this talk of Suryasiddhanta mentioning the beginning of Kaliyuga is, the claims are mostly done without ever quoting the specific Sanskrit references from the Suryasiddhanta!

Claims of Kaliyuga from Suryasiddhanta is done by not providing the original verses because…the word Kali is not used even once in Suryasiddhanta!!

As a matter of fact, Suryasiddhanta does not mention any Yuga except for the Krita Yuga.

In the very beginning, the introductory verse of the Suryasiddhanta says that the originator of it’s knowledge Mayasura, started his learning when the Krita Yuga was about to end.

Suryasiddhanta Chapter 1

अचिन्त्याव्यक्तरूपाय निर्गुणाय गुणात्मने ।
समस्तजगदाधारमूर्तये ब्रह्मणे नमः ।।१।।
अल्पावशिष्टे तु कृते मयो नाम महासुरः ।
रहस्यं परमं पुण्यं जिज्ञासुर्ज्ञानमुत्तमम् ।।२।।

(1) “To him whose shape is inconceivable and unmanifested, who is unaffected by the qualities, whose nature is quality, whose form is the support of the entire creation-to Brahma be homage”

(2) “When but little of the Krita Yuga was left, a great asura, named Maya, being desirous to know that mysterious, supreme, pure and exalted science(Jyotisa)”

(Similar statements of Krita Yuga prevailing or having just passed away is recorded in multiple other places in the same chapter of Suryasiddhanta)

Suryasiddhanta next mentions the bygone Yugas and Kalpas before putting forward it’s formula for calculation of Time reckoning.

कल्पादस्माच्च मनवः षड् व्यतीतावस्संसंघयः ।
वैवस्वतस्य च मनोः युगानां विघनो गतः ।।२२।।
अष्टाविशादयुगादस्माद्यातमेकं कृतं युगम् 
अतः कालं प्रसंख्याय सङ्ख्यामेकत्र पिण्डयेत् ।।२३।।

(22) “And of this Aeon, six manu are past, with their respective twilights; and of the Manu son of Vivasvant, twenty-seven Ages are past”

(23) “Of the present the twenty-eighth Age, this Krita Yuga is past: from this point, reckoning up the time, one should compute together the whole number”

Comment: So, contrary to the mainstream belief, Suryasiddhanta is actually giving the reckoning of time from the end of Krita Yuga and NOT from the beginning of Kaliyuga!

We once again see the statement of the effect “Kritanta” being reiterated by Suryasiddhanta after putting forward it’s formula for calculating the number of revolutions of Celestial objects in a Yuga.

युगानां विघनं यातं तथा कृतयुगं त्विदम् ।
प्रोज्भ् य सृष्टेस्ततः कालं पूर्वोक्तं दिव्यसंख्यया ।।४६।।
सूर्याब्दसंख्यया ज्ञेयाः कृतस्याऽन्ते गता अमी ।
खचतुष्कयमाद्रयग्निशरनन्दनिशाकराः ।।४७।।

(46) “The twenty-seven Ages (yuga) that are past, and likewise the present Krita yuga; from their sum subtract the time of creation, already stated in terms of divine years”

(47) “In solar years: the result is the time elapsed at the end of the Krita Yuga; namely, one billion, nine hundred and fifty-three million, seven hundred and twenty thousand solar years”

By now, the recurring theme of “Krita” and “Kritanta” should have made it clear for the readers about the epoch/Yuga the Suryasiddhanta is talking about.

However, the popular reference from the Suryasiddhanta that some quote (obviously, only the English translation) talks of a major conjunction of Planets near the beginning of Aries at the start of Kaliyuga. And let me repeat, they use this reference to arrive at the Dating of the Mahabharata War.

Does Suryasiddhanta really say that?

NO!!

Suryasiddhanta explicitly states that, the conjunction it is mentioning took place at the end of Krita Yuga and NOT at the beginning of Kaliyuga.

अस्मिन् कृतयुगस्यान्ते सर्वे मध्यगता ग्रहाः ।
विना तु पातमन्दोच्चान्मेषादौ तुल्यतामिताः ।।५७।।
मकरादौ शशाड्कोच्चं तत्पातस्तु तुलादिगः ।
निरंशत्वं यतारचान्येनोकतास्ते मन्द चारिणः ।।५८।।

(57) “Now, at the end of the Krita yuga, all the planets, by their mean motion-excepting, however, their nodes and apsides (mandocca)-are in conjunction in the first of Aries”

(58) “The moon’s apsis (ucca) is in the first of Capricorn, and its node is in the first of Libra; and the rest, which have been stated above to have a slow motion-their position cannot be expressed in whole signs”

Is it not a terrible manipulation of the ancient Scriptures on the part of the researchers to consider “कृतयुगस्यान्ते which is “End of Krita Yuga” as “The beginning of Kaliyuga” and misguide or confuse the common uninformed folks?

Conclusion:

1) The Suryasiddhanta does not offer any setting to determine the beginning of Kaliyuga.

2) The Suryasiddhanta predominantly deals with the epoch of Krita Yuga or Kritanta.

3) The inability of the researchers to differentiate between subjective conviction and objective evidence is contributing more for misguiding of the uninformed folks than helping them.

4) The next time anyone talks of Suryasiddhanta evidence for the beginning of Kaliyuga…ASK for the original Sanskrit Verse of the alleged reference.

Note: The manuscript used for the sanskrit references were not too legible. If the readers spot any typing error in the verses provided, please bring it to notice. TIA

Image Sources:

Feature image: Google

Bio:

Jeevan Rao has a degree in Electrical engineering, and
is currently working as an IT consultant. He is based in
Bangalore, Karnataka. He is passionate about the study
of Indian history, Epics and Puranas. He is actively
involved in the research of "The beginning of Kaliyuga "
"Dating of Adi Shankaracharya " and "The location of
Ravana’s Lanka ". He tweets at @jeevanraya98.