Posted on Leave a comment

গান্ধী একমাত্র নেতা নন

The Indian Rover ( Issue : August , 2021)

গান্ধী একমাত্র নেতা নন - জয়দীপ গোস্বামী

যিনি ভারতীয় আধুনিক সভ্যতার অন্যতম প্রাণপুরুষ, যিনি বর্তমান সময়ে বৌদ্ধ ধর্মের মূলমন্ত্র অহিংসবাদিতার প্রধান প্রচারক, নিজের কর্মকান্ডে সর্বদা সত্যের পথ অনুসরণ করেছিলেন, যিনি তাঁর সুমধুর বাচনভঙ্গির দ্বারা সমগ্র ভারতবাসীর হৃদয়ে বাস করতেন, যাঁর ডাকে আবালবৃদ্ধবনিতা সবাই ভারতের স্বাধিনতা আন্দোলনের যোগদান করেছিলেন। যিনি ভারত তথা বহির্বিশ্বের অনেক আন্দোলনের নেতৃত্বদান করেছিলেন, বিশিষ্ট সমাজসেবী, আইনজীবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী, কবি, জননেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী বা বাপুজি নামেই বহূল সমাদৃত। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী গুজরাটের পোরবন্দরে ১৮৬৯ খ্রীস্টাব্দের ২রা অক্টোবর পিতা করমচাঁদ প্রেমচাঁদ, এবং মাতা পুতুলিবা দেবীর ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। গান্ধীজি বাল্যকাল থেকেই মেধাবী ছিলেন। জৈন পরিবেশে বড়ো হওয়ার দরুন ছোট থেকেই অহিংস, নিরামিষ খাবার ভক্ষন, আত্মশুদ্ধিকরণের জন্য উপবাস, পরধর্ম সহিষ্ণতা জাগরিত হতে থাকে। খেলাধূলো বলতে তাঁর পছন্দের খেলা ছিল কুকুরের কান মোচড়ানো। উনি ইউনিভার্সিটি  কলেজ লন্ডন থেকে ওকালতি নিতে শিক্ষা লাভ করেন। মাত্র ১৩ বছর বয়সে পিতা মাতার ইচ্ছায় তাঁর বিয়ে হয় কস্তুরবা মাখঞ্জি এর সাথে। তাদের ৪টি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়, যারা হলেন হরিলাল গান্ধী ( জন্মায় ১৮৮৮), মনিলাল গান্ধী ( জন্মায় ১৮৯২), রামদাস গান্ধী ( ১৮৯৭), দেবদাস গান্ধী ( ১৯০০)। গান্ধী খুবই রক্ষণশীল মানুষ ছিলেন। উনি নিজে বিদেশ থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁর সন্তান দের উচ্চ  শিক্ষায় শিক্ষিত করেননি। আচ্ছা মহাত্মা গান্ধীর জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা গুলি নিম্নে আলোচিত হলো — 
 গান্ধীজির জীবন বেশ কয়েকটি ঘটনার জন্য সমাদৃত, যাদের মধ্যে অন্যতম হলো গান্ধীজির দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়া এবং সেখানে নিপিড়ীত ভারতীয়দের যোগ্য অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করা। গান্ধীজি দাদা আব্দুল্লা এন্ড সন্স এর আইনজীবী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। ভারতীয় হওয়ার দরুন ওনাকে অনেক অপমানের স্বীকার হতে হয়। ডারবাণের আদালতে মাজিস্ট্রেট তাঁর মাথা থেকে পাগড়ি খুলতে বলেন। শেষে তিনি আদালত থেকে ক্ষোভে আদালত থেকে বেরিয়ে যান। ট্রেনের বৈধ টিকিট থাকা সত্বেও পিটার ম্যারিজবার্গে প্রথম শ্রেনীর কামরা থেকে তৃতীয় শ্রেণির কামরায় যেতে বাধ্য করা হয়। এই সব লাঞ্চনার তিনি যোগ্য জবাব দিতে পারতেন, তিনি চাইলেই নিজের দৈহিক শক্তি দিয়ে এইসব লাঞ্চনা আর লাঞ্চনাকারীদের যোগ্য জবাব দিতে। কিন্তু তিনি তা করেননি। আসলে গান্ধীজি চাইতেন সবাই গান্ধীজি কে মানুক, যদি তিনি হিংসার সাহায্য নিয়ে প্রতিবাদ করতেন তাহলে আর যাই হোক ইতিহাস টা একটু অন্য লেখা হতো। দক্ষিন আফ্রিকাতে ভারতীয় আর কৃষ্ণাঙ্গ দের কোন ভোটদান সুযোগ সুবিধা ভোগ করার অধিকার ছিলো না। গান্ধীজি দক্ষিন আফ্রিকার মানুষ দের আস্বস্ত করেন যে সরকার তাদের ওপর যতই আক্রমণ করুক না কেন তারা যেমন প্রাণ থাকতে হিংসার পথ অবলম্বন নাকরে। এই পরামর্শের ফলে অনেক মানুষ মারা যান। গান্ধীজি দক্ষিন আফ্রিকাতে ১৮৯৪ সালে নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস গঠন করেন। যার ফলে তিনি ভারতীয় দের সঙ্গবদ্ধ করেন। ১৮৯৭ সালে ভারতে সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করে তিনি দক্ষিন আফ্রিকাতে পৌছে আন্দোলোন তীব্রতর আকার ধারন করে, যার জন্য মব রা গান্ধী কে প্রাণে মারতে চেয়েছিলেন।  ১৯০৬ সালে ট্রান্সভাল সরকার উপনিবেশের ভারতীয় দের নিবন্ধনের জন্য এক আইন জারি করেন। এই আইনের প্রতিবাদে ১১ই সেপ্টেম্বর জোহানের্সবার্গে এক প্রতিবাদী সভা আহূত করেন, সেই সভায় গান্ধীজি সবাই ওই আইন প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেন। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন সরকার যদি আইন না মানার কারণে তাদের ওপর অত্যাচার চালায় তাহলে তা মেনে নিতে হবে, কিন্তু আইন মানবেন না। এই পরিকল্পনা কাজে দেয়, ৭ বছর ব্যাপী এক আন্দোলনের সূচনা ঘটে। অত্যাচার মুখবুঝে সহ্য করার ফলে সরকারের দমন পীড়নের ফলে অনেকেই নিহত হন। সরকার দমনপীড়নের মাধ্যমে আন্দোলন অনেকটা রুখে দিতে সক্ষম হয়, কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা এর তীব্র প্রতিবাদ করতে থাকে। অগত্যা দক্ষিন আফ্রিকার জেনারেল ইয়ান ক্রিশ্চিয়ান স্মুট গান্ধীজির সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার ফলে গান্ধীজির নাম একজন যোগ্য নেতা হিসেবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। 
 গান্ধীজি আধুনিকতার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি আধুনিকতার তীব্র সমালোচক ছিলেন। গান্ধীজির জীবনে আমরা রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং ধর্মিয় প্রধান তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। গান্ধীজি পরিবেশ আন্দোলন থেকে শুরু করে মানবতা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি মানব জীবনের বহূ পর্যায় লক্ষ্য করেছিলেন এবং সমাজ সংস্কার মূলক বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি মানুষকে গ্রহন করেছিলেন মানবতা কেন্দ্রিক ভাবে। তিনি আধুনিক সমাজের নানান শত্রুর বিপক্ষে তাঁর যুক্তি প্রদান করেছিলেন, একই সাথে আধুনিক সমাজের যেসকল গূণাবলি যেমন- সাম্য এবং স্বাধীনতা সেগুলিকে গ্রহন করেছিলেন। কিন্তু তিনি বর্বর ভাবে যুক্তি প্রদান করেছেন। আধুনিক সভ্যতার জান্ত্রিক উন্নয়নের বিপক্ষে, তিনি মনুষ্য জাতির জীবনকে গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন বর্বর ভাবে  বিরোধিতা করেছেন। আধুনিক সভ্যতার সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মানুষের নৈতিকতার বিরূপ হওয়াতে তাঁর মতে যদিও যুক্তিবাদীরা গ্রহনযোগ্য তবুও মনুষ্য সমাজের পক্ষে এই যুক্তিবাদীরা এক লুকোনো দানব স্বরূপ, যারা নিজেকে সর্বশক্তিবাদী বলে দাবি করেন। তিনি আধুনিক সমাজকে প্রশ্ন করেছেন যুক্তিবাদীরা যে তথ্য দেন তা কী আদেও সত্য বলে মেনে নেওয়া যাবে? তিনি বলেছিলেন বিকল্প ব্যাবস্থার মাধ্যমে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের জন্য যায়গা তৈরি করে দিতে হবে তিনি বিশ্বাস করতেন বিকল্প চিন্তাভাবনার বা বিকল্প আধুনিকতা যদি এখন থেকেই না ভাবা যায় আগামী দিনে এই যুক্তিবাদীরা সর্বশক্তিমান হয়ে প্রকৃতি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ করবে, যা সবসময় মানুষের হিতকর চিন্তাভাবনা থেকে বিরত হবে। গান্ধীজি এই চিন্তাভাবনা করেছিলেন যে মানুষ সর্ববুদ্ধিমান হয়ে ওঠেনি যারা একটি রাষ্ট্র চালানোর যোগ্যতা অর্জন করবে মানুষ কে শেখাতে হবে কীভাবে প্রকৃতিকে নিয়ে বাঁচতে হয়। 
গান্ধীজি মানব সংরক্ষণের কথা বলেছিলেন ও মানুষের মূল্যবোধ এবং অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে জাগরণের সবকিছু বিচার করে দেখার প্রচেষ্টা করতে বলেছিলেন। তিনি বিস্বাস করতেন জগতের পরিবর্তনের নিয়মে মানব সমাজ আবার জাগরণ ঘটবে, শুধু মানব সমাজের নয় সকল জৈবিক সমাজের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি জীবিত সকল প্রানীকে সন্মান প্রদান করতে। তবুও ওনার বাল্যকালের প্রিয় খেলা ছিলো কুকুর দের কান মোচড়ানো। তিনি ধার্মিক অনুষ্ঠানের অজুহাত দেখিয়ে পশু হত্যার বিপক্ষে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন কোন ধর্মই জীব হত্যার পক্ষে যুক্তি দেয়না। যারা এই ধরনের কার্য কলাপে লিপ্ত থাকে তারা পাপের ভাগিদার হয়। 
গান্ধীজি ছিলেন অহিংসার সম্পুর্ন রক্ষণশীল। তার মতে যেকোনো প্রাণীকে হত্যা করা মানুষের সার্বিক ভাবে নিষিদ্ধ ছিলো। তাঁর এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বিশেষ ভাবে আলোকিত করে। কিন্তু তিনি তাঁর এই অংহিসার সমিকরণের জাঁতা কলে নিজেই হিংসাতে জর্জরিত হয়ে পড়েছিলেন তা প্রশ্নাতীত। পরিবেশগত নীতি শাস্ত্রে গভীর অন্তদৃষ্টি সহ তিনি বলেছিলেন ইশ্বর যতটুকু বেঁচে থাকার আধীকার তা বেঁচে থাকার জন্যই তা সঠিক মঙ্গলের মাধ্যমে অপরের ক্ষতিসাধন বশত নয়। যদি অপর কোনো আক্রমণ কারী ব্যক্তিও নির্বিচারে অত্যাচার প্রাণহানি ঘটাতে থাকে তবুও তার প্রতিবাদ করা যাবেনা কারণ প্রতিবাদ করাটাই হিংসা সেক্ষেত্রে প্রাণ সংশয় হোক অসুবিধা নেই! গান্ধীজি বলেছিলেন মানুষের ধর্মিয় আকাঙ্খা গুলি এই আধুনিক সভ্যতার কারণে অধার্মিকতায় পরিণত হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন আধুনিক চিন্তাভাবনা থেকে কিছু জৈবিক হত্যার মাধ্যমে আধুনিক সভ্যতায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের বিকাশ সাধান করছে যা আধুনিকতাকে সার্বিক ভাবে টিকিয়ে রাখতে অক্ষম। 
গান্ধীজি প্রস্তাব করেছিলেন আধুনিক সভ্যতা ভয়ংকর পরিণতি হলো ব্রিটিশ শাসন। এই শাসনের দ্বারা আধুনিক সভ্যতার প্রবেশ করতে পেরেছে ঠিকই কিন্তু তারা ভারতীয় মানুষকে ভীতু এবং অলসতায় পরিনত করেছে। কিন্তু এই মত গ্রহনযোগ্য নয়। 
রেল ব্যাবস্থা যে প্রবেশ সেই সময়ে ঘটেছিল সেই অনুযায়ী মানুষ একস্থান থেকে অন্যস্থান যাতায়াত করতে পারত, কিন্তু গান্ধীজি একে ক্ষতিকারক বলেছেন, কারণ এতে সসম্প্রদায়গত বিভেদ সৃষ্টি হবে এবং রোগজীবাণু এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ছড়িয়ে যাবে। গ্রামের উৎপাদিত পণ্য রেল ব্যাবস্থার মাধ্যমে সহজেই শহরাঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে যার ফলে গ্রামের কিছু অঞ্চলে তীব্র খাদ্য সংকটের দেখা দেয়, যার প্রভাবে দারিদ্রতা ও মৃত্যু বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক সভ্যতার ফলে অঞ্চলভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রাধান্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্মিয় সম্প্রদায় গুলি একে অপরের থেকে নিজেকে প্রধান প্রমান করতে চাইছে। রাষ্ট্রের অন্দরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্র গঠনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আইন রক্ষাকারীদেরকেও সমালোচনা করেছেন, তিনি বলতেন উকিল বা আইন রক্ষাকারীরা ব্রিটিশ রুলকে প্রবেশ করাতে চাইছে। তারা বিভিন্ন আধুনিক দিক গুলিকে চিহ্নিত করে মানুষের মনকে প্রবাহিত করে ব্রিটিশ শাসন ব্যাবস্থার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। 
তার অহিংসা ও শান্তির যে বার্তা তিনি দিয়েছিলেন তা কিন্তু আদর্শ নয়। তিনি আধুনিকতা মতবাদ সংক্রান্ত যা বলেছেন তা গ্রহনযোগ্য নয়। তার প্রকৃতিকে নিয়ে যে ধরনের চিন্তাভাবনা করেছিলেন আধুনিকতার স্বার্থে তা কিছু কিছু প্রাধান্য লাভ করে। তিনি দেখেছিলেন মানবিক মূল্যবোধ এবং নৈতিকতাকে নিজের মতো করে বিচার করেন। কিন্তু মানুষের অগ্রগতি, বিকাশ একটি অটুট সম্পর্ক যা আধুনিক সভ্যতার পক্ষে জরুরি। আধুনিকতার সমালোচনা তিনি একটি রক্ষণশীল মানসিকতাতে করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে সত্যিকারের সভ্যতা কী? তিনি বলেছিলেন সত্যিকারের সভ্যতা হলো The made of conduct which points out to man the path of his duty, performance of duty and observance of morality which were on convertible terms। তিনি বলেছিলেন ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে যুক্ত হবে কাঠামোগত অনেক পরিবর্তন হবে ঠিকই কিন্তু মানুষ অনেকটাই অসৎ পথে পরিচালিত হবে। 
এবার আসা যাক গান্ধীজির এই রক্ষণশীলতার পরিমাণ কতোটা ছিল। ওনার এই রক্ষনশীল মানসিকতার জন্য উনি ওনার কোনো সন্তান কেই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করেন নি। নিজে বিলেতে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে ওকালতি নিয়ে পাশ করে এসেছিলেন কিন্তু তিনি তাঁর উত্তরসূরীদের শিক্ষিত করেন নি। গান্ধীজি ভেবেছিলেন সবাই যদি আধুনিক মনষ্ক হয়ে পড়ে তাহলে জনসাধারণ জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের ফলে ইংরেজ রা দেশ থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হবে। সময়ের সাথে সাথে মানুষের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তিনি তাঁর গ্রন্থ The story of  experiments with truth গ্রন্থে লিখেছেন তিনি তাঁর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধীর চিকিৎসা নিজে করেন প্রাচীন ভেষজ রীতি ( Earthopathy) এর সাহায্যে। তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে দেননি। যার ফলে কস্তুরবা গান্ধীকে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন। যদি উনি আধুনিক পদ্ধতি তে চিকিৎসা করতেন তাহলে কস্তুরবা গান্ধী বেঁচে যেতেন। 
 
 গান্ধীজির রাজনৈতিক দর্শনের মৌলিক স্তম্ভ হলো সত্যাগ্রহের ধারণা। সত্যাগ্রহ হলো সত্যের প্রতি আগ্রহ বা আনুগত্য। গান্ধীজির কাছে সত্যাগ্রহ হলো সুসংহত জীবন দর্শন। ব্যাক্তিকে তিনি সমাজমুখী ও সত্যাগ্রহী করার পক্ষপাতি ছিলেন, সাধারণ ব্যাক্তি মানুষের গনতান্ত্রিক চেতনা ও সামাজিক ব্যাক্তিত্বের বিকাশের জন্য তিনি বিবেক, আত্মশুদ্ধি ও প্রতিবাদ এই গুন গুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ, সত্যাগ্রহের মাধ্যমে মহাত্মা গান্ধী মানুষ কে সৎ ও সমাজসচেতক করে তুলতে চেয়েছিলেন। গান্ধীজির এই সত্যাগ্রহের ধারণা জাগরিত হয়েছে বেশ কয়েকটি সুত্রের মাধ্যমে। লিও টলস্টয়ের অহিংস ও প্রেমের বাণী, গীতার নিষ্ক্রিয় কর্মের ধারণা, জিশু খ্রীষ্ট্রের সত্য ও মানবতার আদর্শ, মহম্মদের সহজ সরল জীবন দর্শন। 
এবার আসা যাক এই সুত্র গুলো র ব্যাপারে। উনি মহাভারতের ভীষ্ম পর্বে আমরা শ্রীমদ্ভাগবত গীতা র উল্লেখ পাই। ভগবান শ্রী কৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী হলো গীতা। আর আমরা মহাভারতের অন্তিম পর্ব গুলিতে আমরা পৃথিবীর সবথেকে বিধ্বংসী যুদ্ধ মহাভারতের যুদ্ধের উল্লেখ পাই। ওই যুদ্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজে অর্জুনের সারথি হয়েছিলেন। আচ্ছা ভগবান কী যুধিষ্ঠিরের নায্য অধিকার প্রাপ্তির দাবিতে সমগ্র পান্ডব সেনাবাহিনী নিয়ে হস্থিনাপুর রাজবাড়ীর সামনে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করে অনশনে বসেছিলেন। আবার উনি কী চাইলেই পারতেন না যুদ্ধ বন্ধ করতে, কিন্তু যুদ্ধতো হয়েছে। আর এই মহাভারতের যুদ্ধও ছিলো অসত্যের বিরুদ্ধে সত্যের সংঘাত। যা যুদ্ধের দ্বার পরিণামে এসেছিল। তাহলে যদি যুদ্ধ ছাড়া শান্তি লাভ করা সম্ভব না তাহলে অহিংস আন্দোলনের ব্যাখ্যা। আর অহিংস বাদীতা খ্রীস্টপূর্ব ৫৫৬ শতকে গৌতম বুদ্ধ জন্ম গ্রহণ করেন। বর্তমান সময়ে ব্রাহ্মণ্য অরাজকতার হাত থেকে গোটা বিশ্বকে উদ্ধার হেতু উনি বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার। আর এই বৌদ্ধ ধর্মের মূল মন্ত্র হলো অহিংসা। পরবর্তী সময়ে সম্রাট অশোক এই ধর্ম গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন। আর তিনি যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে বিরত হয়ে পড়েন। এর ফলে এটা সিদ্ধ হয় না যে মানুষ যতই হিংসার পথ অবলম্বন করুকনা কেন তার দমন না করে অহিংস ধর্ম পালন করে চুপচাপ হিংসা সহ্য করা। সত্যাগ্রহ দর্শনের শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠা এবং প্রেম ও অহিংসতার আদর্শ গান্ধীজি নিজে শিখেছেন এবং এবং মানবজাতিকে শিখিয়েছেন বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। এই অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছেন দক্ষিন আফ্রিকায় প্রাপ্ত আঘাত ও অসহনীয় জীবন সূত্রে। তবে তিনি এই শিক্ষার একটু পরিবর্তন করে জনসাধারণ কে শিক্ষা দিতেন তাহলে প্রায় ৪দশক আগেই  ভারতের স্বাধিনতা প্রাপ্তি ঘটে যেত। উনি রেল যাত্রার সমালোচনা করেছেন, হ্যাঁ এই রেললাইন পাতার ফলে অনেক জঙ্গল কাটতে হয়েছে অনেক মানুষই মারা গিয়েছিলেন অনেক সম্পদের নষ্ট হয়েছে কিন্তু এই রেললাইন এর ফলেই ভারতের স্বাধিনতা সংগ্রামীদের অনেক সুবিধে হয়েছিল, কম সময়ে অনেক দূর পর্যন্ত গমন করা যায়। রেললাইনের ফলে গ্রামীণ কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সম্পদ ট্রেনের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে অনেক দ্রুততার সাহায্যে গমন করতে পারতো এবং সেইগুলা বিক্রি করে মুনাফা লাভ করতো। 
সত্যাগ্রহের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে অনেকেই মতামত প্রকাশ করেছেন। সসত্যাগ্রহের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে Joan Bondurant সত্যাগ্রহের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেছেন- ❝ Satyagraha becomes something more than an residents to particular legal norms, it became an instruments of struggle for positive objectives and for fundamental changes.❞ সত্যাগ্রহ সম্পর্কে নির্মল কুমার বসু বলেন অহিংস পদ্ধতিতে যুদ্ধ পরিচালনা করার একটি অন্যতম পন্থা হলো সত্যাগ্রহ। 
সত্যাগ্রহের প্রধান বৈশিষ্ট গুলো এইরকম – সত্যাগ্রহের প্রধান চালিকা শক্তি হলো মানসিক শক্তি। অর্থ্যাৎ আত্মার শক্তি বা মনের দৃঢ়তার দ্বারাই সত্যাগ্রহ আন্দোলন সংগঠিত হয়। এই আন্দোলন ছিল অনেক কষ্টসাধ্য। সমস্ত দুঃখ কষ্ট সহ্য করে সত্যাগ্রহী কে অন্যায়কারীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার হৃদয়ের কাছে আবেদন নিবেদন করে তাকে সদাচারী করে বলা হয়। সত্যাগ্রহ আন্দোলনে শারীরিক শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ ছিলো, কারণ আত্মরক্ষা এখানে দাঙ্গার হিংসার  এক রূপ। সত্যাগ্রহ আন্দোলনে উপায় (means) ও লক্ষ্যের অনুগামী (End) হবে, অর্থাৎ ভালো লক্ষ্য অর্জনের জন্য ভালো উপায় থাকবেই। অর্থাৎ সত্যের লক্ষ্যের জন্য অহিংসার পথ ধরতেই হবে, বাহ! । এই পন্থার কার্যকারিতা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। প্রথম পদক্ষেপে যদি সত্যাগ্রহীরা অন্যায়কারীর অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করার পরেও যদি পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে তাহলে যদি সত্যাগ্রহীরা যদি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিপ্লবের আহ্বান করতো তাহলে তা সফল হওয়ার সমিকরণের কিছুটা হলেও উন্নতি ঘটতো। এটি যেই সময়ের ঘটনা সেই সময়ে ইংরেজ রা আমাদের দেশে রাজত্ব করছে। আর ভারতবাসী হিসেবে সবার একটাই কর্তব্য ভারতমাতার শৃঙ্খলা মুক্ত করা। আর এই পর্যায়ের একটি আন্দোলন এই সত্যাগ্রহ। যুদ্ধ ছাড়াকী শান্তি আসা সম্ভব? যদি সম্ভব তাহলে প্রমাণ আর সফলতার বিশ্লেষনা তাহলে যদি এই সত্যাগ্রহ আন্দোলন এর কার্যকারিতার মান বেশি তাহলে বর্তমানে যখন দুটো আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বাধে তাহলে সবাই সশস্ত্র আন্দোলন ছেড়ে দিয়ে সত্যাগ্রহের পন্থা অবলম্বন করতো। কিন্তু তা তো হয়নি। আর এক্ষেত্রে ইংরেজ সরকার বুঝে গিয়েছিল ভারতবাসীদের ওপর যতোই অত্যাচার চালানো হোক না কেন তারা কোনো দিনই সশস্ত্র আন্দোলন করবেনা। যার ফলে অনেক ভারতবাসীই প্রাণ হারান। 
গান্ধীজি তাঁর প্রবর্তিত ধারনা সত্যাগ্রহের বিভিন্ন প্রয়োগকৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই প্রয়োগ কৌশল গুলির মধ্যে অন্যতম হলো অনশন। গান্ধীজির মতে সত্যাগ্রহের অন্যতম অস্ত্র এই অনশন। তিনি মনে করেন যাবতীয় মানবিয় বিধি ব্যাবস্থার ন্যায় অনশন ন্যায় সংগত ও অন্যায় উভয়ভাবেই পরিচালিত হতে পারে। তাঁর মতে অনশন একমাত্র তিনিই করতে পারেন যার সঙ্গে যার সঙ্গে যার বিরুদ্ধে অনশন করা হচ্ছে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক যুক্ত। যে উদ্দেশ্য  সাধনে অনশন হচ্ছে যার সঙ্গে তিনি উপবাস করছেন তার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক থাকবে, সেই কারণেই শুধু অনশনের স্বার্থপরতা ক্রোধ, বিশ্বাসের অভাব অথবা অধৈর্যের কোনো স্থান নেই। অনশনের জন্য অন্তরে বিশ্বাসে চালিত হয়ে সত্যাগ্রহী একবার যদি অনশন শুরু করেন তবে কার্যের ফল যাই হোক না কেন তার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে। এই পন্থা সুস্থ শরীর কে ব্যাস্ত করার অন্যতম মাধ্যম। Suppose কেও কারা কারোর নেতৃত্বে একজোট হয়ে শাসক দলের কোনো আইনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অনশনে বসলো। অনশনে বসার পর যখন শাসক দল অনশন কারী দের কাছে দাবি জানতে চাইলে সেই বিশিষ্ট নেতা আইনের বিলোপ না চেয়ে আইন কিছুটা লঘু করার দাবি জানায়। এবার অনশন করার পর যদি সম্পুর্ন পরিবর্তনই না আসে তাহলে অনশন আন্দোলনের সফলতা কোথায়!  এই অনশনের ফলে অনেকেই প্রাণ হারান। গান্ধীজি ধর্মঘটের পক্ষে ছিলেন। ওনার মতে ধর্মঘট হলো শ্রমিকদের একটা অস্ত্র যেটা তাদের অভাব অভিযোগ পূরণের উদ্দেশ্যে ব্যাবহৃত হবে, অর্থাৎ ধর্মঘট হলো কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ন প্রতিবাদ। তাঁর মতে ধর্মঘট কখনই শাসক বা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দখলের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হবে না। তাছাড়া যে লক্ষ্য সমূহ ধর্মঘটে নির্দিষ্ট থাকবে সেই উদ্দেশ্য গুলি যেন যথাযথ ও যুক্তি যুক্ত হয়। তাই গান্ধীজি নির্দেশিত ধর্মঘট অতি অবশ্যই অহিংস পথে পরিচালিত হবে। সমাজের আর দেশের পক্ষে  ধর্মঘট ভালো। এই ধর্মঘটের ফলে গোটা দেশ প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। আর যারা দিনমজুর, যাদের রোজগারের সংস্থান না হলে তারা খেতে পারবেনা তাদের কাছে অন্তত এই ধর্মঘট একটা অতি নিবিড় অমাবস্যার রাতের মতো। গান্ধীজি অতি উন্নত মানের নেতা এবং সুবক্তা ছিলেন, ওনার বক্তৃতা শুনে প্রায় গোটা ভারত তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু ধর্মঘটের মাধ্যমে কি স্বাধীনতা লাভ করা সম্ভব হতো। গান্ধীজি আইন অমান্য আন্দোলন সূচনা করেন। আইন অমান্য হলো একধরনের অহিংস বিদ্রোহ। রাষ্টের অনৈতিক আইন মানতে অস্বীকার করে আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠিত কতৃপক্ষের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে। এক্ষেত্রে প্রতিরোধকারী রাষ্ট্রকে কর দিতে অস্বীকার করতে পারে। অথবা ব্যাক্তির দৈনন্দিন জীবনের রাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত ধরনের সম্পর্ককে সে স্বীকৃতি নাও দিতে পারে। এই সমস্ত কাজের সময় আইন অমান্যকারী কোন রূপ বল প্রয়োগ করবেনা। আবার রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের বিরোধিতাও করবেনা। সেগুলি যখন তার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হবে। যার ফলস্বরূপ বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিরোধ কারী স্বেচ্ছায় কারাবরণ করবে। বাহ! গান্ধীজি নিজের বাণী গুলোর দ্বারা প্রত্যেকটা মানুষ কে বশিভূত করেছিলেন। আর ওনার এই বাণী শুনে সবাই এই আন্দোলনে অংশ গ্রহন করতো। এই আইন অমান্যকারীদের ওপর নেমে আসতো অকথ্য অত্যাচার। আর তাদের এই চুপচাপ সহ্য করার প্রবণতাতে ইংরেজ দের সুবিধেই হতো। আর যদিও বা আইন অমান্য আন্দোলন সফল হতো তবুও আইন অমান্যকারীরা সম্পুর্ন আইনটির বিলোপ না চেয়ে কিছুটা শিথিল করার দাবি জানাতো। আর যদি আইন অমান্যকারীরা একত্র হয়ে সরকারের প্রতি আক্রমণ চালাতো তাহলে সত্যি সত্যি সরকারের অস্তিত্ব অনুবিক্ষন যন্ত্রের সাহায্যেও দেখা যেতো না। 
আমরা সকলেই জানি গান্ধীজি অতি লোকপ্রিয় এবং সমাদ্রিত নেতা ছিলেন। গান্ধীজি নিজের নেতৃত্বে গোটা ভারতকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার আগেই কারোর সাধ্য হয়নি সমগ্র ভারতবাসীকে একত্রিত করার। কিন্তু গান্ধীজির জীবনে অনেক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিলো। তাঁর কর্মকান্ডের ওপর পক্ষপাতিত্ব এবং নানা মতপার্থক্যের লক্ষন পাওয়া যায়। আমরা সবাই জানি লালা লাজপত রায় কে যখন অন্যায় ভাবে হত্যা করা হয় তখন ভগত সিং, রাজগুরু এবং শুকদেব তার প্রতিবাদে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। ইংরেজ সরকার এই বিদ্রোহের দমন শক্ত হাতে করেন। ভগত সিং, রাজগুরু এবং শুকদেব কে বন্দি করা হয়। আদালতে তাদের ফাঁসির সাজা হয়। এই ফাঁসির সাজা রুখতে কংগ্রেস নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ গান্ধীজির কাছে আবেদন করেন, কিন্তু গান্ধীজি আবেদন প্রত্যাখ্যান করে ভগত সিং এর মতো বিপ্লবী কে জঙ্গির তকমা দেন। এটাই হয়তো ওনার কাছে অহিংসার বাণী। আবার যখন আইরিশ জেনারেল মাইকেল’ও ডায়ারের  নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনি পাঞ্জাবের অমৃসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ বিরোধী সমাবেশে নির্বিচারে প্রায় ২৯ রাউন্ড গুলি বর্ষন করে ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিল। ওই দিন পুলিশের গুলিতে রেহাই পায়নি ছোট্ট শিশু, নারী এমনকি বৃদ্ধ মানুষরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে গোটা ভারত সোচ্চার হয়ে ওঠে। কিন্তু এর প্রতিবাদে কোনো সসস্ত্র বিপ্লব সংগঠিত হয়নি। ১৯৪০ সালের ১৩ই এপ্রিল  বিপ্লবী উধম সিং ইংল্যান্ডে গিয়ে জেনারেল ডায়ার কে হত্যা করেন এবং জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যা কান্ডের বদলা নেন। আবার এই ঘটনা যখন গান্ধীজির কর্ণগোচর হয় তখন তিনি উধম সিং কে পাগল আখ্যা দেন। ১৯৩৯ সালে সংগঠিত হরিপুরা কংগ্রেস অধিবেশনে নেতাজি সভাপতির পদ অলংকৃত করেন। তিনি গান্ধীজির মনণীত পার্থী পট্টভি সিতারামইয়া কে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে গান্ধী সহ কংগ্রেসের বাকি শক্তিধর নেতারাও নেতাজির বিরোধিতা করেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয় গান্ধিজির মতের সাথে নেতাজির মতের কোন মিল ছিলো না। দুই মানুষের চিন্তাভাবনা দুই মেরুর। গান্ধীজি অহিংসার নিতি তে বিশ্বাসী ছিলেন আর নেতাজি পুরো অন্যমেরুর। তবে গান্ধী যে তার অহিংসবাদী মুখোশের আড়ালেই তার হিংসার চরিত্র যার প্রমাণ আমরা এই হরিপুরা কংগ্রেসে সিদ্ধ হয়। গান্ধীজি  এই অধিবেশনে মন্তব্য করন ❝ The defeat of Pattabhi Sitaramayya is my defeat ❞ । সবাইকে ভুল প্রমাণিত করে নেতাজি জয়ী হন। তার নেতাজির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়। এবং চক্রান্ত করে তাঁকে কংগ্রেস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এই প্রসঙ্গে গান্ধীজি নেতাজি কে উদ্দেশ্য করে বলেন নেতাজি হলে ভারত মায়ের বখাটে ছেলে। হ্যাঁ এই বখাটে ছেলেকেই একদিন ইংরেজরা ভয় পেতেন, ভয় পেতেন তাঁর অকুতোভয় মনোভাবকে। নেতাজিকে কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত করার কারণে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে গান্ধীজির মতপার্থক্যের সূচনা হয়। কবিগুরু গান্ধীজি কে চিঠি লিখে বলেন -❝ Owing gravely critical situation all over India and especially in Bengal would urge congress working committee immediately remove ban against Subhas  and Invite his cordial co-operation in supreme interest national unity ❞। ( কবিকথা, বিশ্বভারতী পত্রিকা, দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা )।  এছাড়াও রামমোহন রায় কেন্দ্রিক একটা ঘটনার কারণে কবিগুরুর সাথে গান্ধিজির বিবাদ বাঁধে। গান্ধীজি সুবক্তা হিসেবে সর্বজন বিদিত ছিলেন। গান্ধীজি ওডিশা তে তাঁর এক ভাষনে কবীর ও নানকের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে রামমোহন রায় কে একজন pigmy বা বামন বলে আখ্যায়িত করেন। রামমোহন রায় যে কতো উচ্চমাণের মানুষ ছিলেন তা সব বিশ্ববাসীর কাছে সমাদৃত। নারী শিক্ষার প্রসার তার থেকেও সতীদাহ প্রথার বিলোপ ঘটানোতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহন করেন প্রধান কান্ডারী। আর ওনার মতো একজন মানুষকে বামন বলে আখ্যায়িত করেছেন। ১৬ই জুলাই ১৯২১ খ্রীষ্ট্রাব্দে লন্ডন থেকে আগত জাহাজ যখন বোম্বের বন্দরে নোঙর ফেলে তখন এক খবরের কাগজ থেকে গান্ধীজির উক্তির কথা জানতে পারেন। এই ঘটনাতে মর্মাহত কবিগুরু C.F Andrews কে এক চিঠিতে লেখেন— ❝ I strongly protest against Mahatma Gandhi’s deprecation of such great personalities of modern India as Rammohon Ray in his ideal for declaiming against our modern education ought to be proud of the fact that, inspite of immense disadvantages, India still has been able to produced greatness of personality in her children, such as we find Rammohon Ray ❞. এই ঘটনার প্রায় ২ মাস পর কবিগুরু ট্রেনে করে বর্ধমান পৌছোন। বর্ধমানে কবিগুরুর সাথে দেখা করতে যান প্রশান্ত চন্দ্র মহালানবিশ। ততোদিনেও কবিগুরু গান্ধীজির ওই উক্তির কথা ভুলতে পারেন নি। স্টেশনে প্রশান্তচন্দ্র মহালানবিশ কে দেখে গান্ধীজি বলেন— ❝ প্রশান্ত, তিনি রামমোহন কে  যেখানে pigmy মনে করেন সেই দেশে আমি আবার ফিরে এলুম।” আবার কিছুক্ষণ অন্যান্য কথা বলার পর তিনি বলেন, ❝ বোম্বেতে যখন জাহাজ এসে পৌঁছল দেশের মাটিতে পা দেবার আগেই একখানা খবরের কাগজ হাতে পড়লো। তাতে দেখি রামমোহন রায় pigmy কেননা তিনি ইংরাজি শিখেছিলেন। এই হলো দেশের প্রথম খবর। তখন থেকে সেকথা আমি ভুলতে পারছিনা। ❞ ( কবিকথা, বিশ্বভারতী পত্রিকা, দ্বিতিয় বর্ষ, দ্বিতিয় সংখ্যা। ) 
 
 আমাদের দেশে চিরকালই দারিদ্রতার করালগ্রাসে জর্জরিত ছিলো। সেই সময় ভারতবাসীদের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার জুটতো না। খাবার তো দূরের কথা মানুষ তার লজ্জা নিবারণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রি পেতনা। এবার এই রকম পরিস্থিতি তে একজন জননেতার জীবনশৈলি বাকি জনসাধারণের মতোই হওয়া উচিত নয় কি!  আর এটা হলেই এক জন সাধারণ নাগরিক ওই ব্যাক্তি কে নেতা হিসেবে মান্যতা দেবেন। পরাধীন ভারতের একজন বিশিষ্ট নেতা ছিলেন গান্ধীজি। ওনার জীবনশৈলি বিষয়ে আলোকপাত করা যাক। গান্ধীজি গরিব নেতা হিসেবেই পরিচিতি, পরণে ঠেঙো ধুতি মাত্র। কিন্তু ওনার খাদ্যতালিকা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো –
a. At the prayers he kept time by clapping. He ate walnuts and almonds. 
b. At  5:30 am he took 16 ounces of orange or musambi  juice  and at 7:00 am 16 ounces of goat’s milk and 8 ounces of orange or musambi juice. 
c. At 12 noon he drank 16 ounces of goat’s milk boiled down to 4 ounces, and boiled vegetables 5 to 8 ounces, raw vegetables like Tomatoes, carrot etc. 8 ounces, and salad of leaves like palong or coriander 2 ounces. 
d. At 2 pm he drank a glass of coconut milk. 
e. At 5 pm he had 16 ounces goat’s milk boiled down to 4 ounces, 19 ounces of dates boiled in milk and a small quantity of fruits including Kernel of coconut 
f. Often he used to lie down for half an hour with a mud pack upon his abdomen and a cold mud poultice on his forehead. ( Dk page 756) 
যেই  দেশের নাগরিকরা ঠিক মতো খেতে পায়না, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয় সেই দেশের  জননেতা রাষ্ট্রনায়কের এইরূপ খাদ্যতালিকাই তো মানায়। রাজকীয় ভোক্ষন না করলে মনে তৃপ্তি আসেনা। গান্ধীর এক সহযাত্রী তাঁর খাদ্যতালিকা দেখে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন তার খাদ্যের মূল্য কী ৬ পয়সা? তিনি গান্ধীজির সমালোচনা করে বলেন উনি কেন গরিবের মতো জীবনযাপন করছেন না! কংগ্রেসের একজন নেতা শ্রীপ্রকাশ লিখেছেন – গান্ধীজি যখন কাছাকাছি কোথাও যেতেন তখন অতিথি সেবকদের তাঁর জন্য ছাগলের দুধ আনতে বেগ পেতে হতো। কারণ দুধের দাম সর্বদা বেড়ে যেত। আমি যদি ঠিকমতো স্মরণ করতে পারি, তাঁর জন্য প্রতিদিন তিন সের দুধ লাগত এবং আমি আরও স্মরণ করতে পারছি যে, আমাকে প্রতি সের দুধের দাম দিতে হতো তিন টাকা করে। গান্ধীজির জীবনযাত্রা সাধাসিধে মনে হলেও ব্যয়বহুল ছিলো। ( Kothari. Page- 109) । আদতেই কী ইংরেজ রা কংগ্রেস পার্টি কে ভয় পেতেন। না মানে কংগ্রেস আরও শুদ্ধ ভাবে বলতে গেলে বলা যায় গান্ধীজির নেতৃত্বে অনেক গুলো আন্দোলনই সংগঠিত হয়েছিল, যে গুলির মধ্যে একটিও সফল হয়নি। তেমনই একটা আন্দোলন হলো স্যার সিডনি রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯১৯ সালে সংগঠিত হওয়া রাওলাট সত্যাগ্রহ। এই আইনের প্রতিবাদে গান্ধীজি অনশনে বসে অহিংস পন্থায় আইনের বিরোধ শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তী কালে একদল উত্তেজিত জনতা ১৯২২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারী চৌরিচৌরা তে একটি পুলিশ থানা তে আগুন লাগিয়ে দেয়, যার ফলে অনেক পুলিশ কর্মি মারা যান। গান্ধীর অহিংস ভাবনায় হিংসার প্রবেশ ঘটেছে দেখে গান্ধীজি এই সত্যাগ্রহ রদ করে দেন  । ডান্ডি অভিযানের অন্যতম জননেত্রী সরোজিনী নাইডু গান্ধীজি কে বলেন গান্ধীজীকে গরিব সাজিয়ে রাখতে অনেক খরচ হয়ে যাচ্ছে। এটাই জাতির জনকের জাতির প্রতি নৈতিক কর্তব্য। ১৯৩০ সালে ১২ই মার্চ ডান্ডি পদযাত্রা বা লবণ সত্যাগ্রহের ডাক দেন গান্ধীজি। এই সত্যাগ্রহ ছিলো ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরাধীন ভারতে যত পরিমাণ লবণ উৎপাদিত হতো তার ওপর ব্রিটিশ দের একচেটিয়া অধিকার ছিলো। এবং তারা ভারতবাসীর ওপর লবণ কর ধার্য করে। এর ফলে করপ্রদান বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয়। ১৯২০-২২ সালে অসোহোযোগ আন্দোলন ব্যার্থ হওয়ার পর সত্যাগ্রহই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠিত ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। ১৯৩০ সালের ২৬ এ জানুয়ারি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে পূর্ণ স্বরাজ প্রস্তাব গ্রহণ করার অব্যাহতির পরেই এই সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সূচনা হয়। গান্ধীজি আমেদাবাদের সবরমতী আশ্রম থেকে ডান্ডির উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করে ২৪ দিনে ২৪০ মাইল পথ পায়ে হেঁটে ডান্ডি পৌঁছন। আর সেখানে লবণ আইনকে আমাণ্য করে লবণ উৎপাদন করেন। বিরাট সংখ্যক মানুষ তার সহযাত্রী হয়েছিল। ১৯৩০ সালের ৬ই এপ্রিল সকাল সাড়ে ৬টার সময় সমুদ্রের জল থেকে লবণ প্রস্তুত করেছিলেন। এই আন্দোলনে লক্ষাধিক মানুষ অংশ গ্রহন করেছিলেন। এই আন্দোলনের ফলে ভারতীয়দের প্রতি ইংরেজ দের মনোভাব অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছিল। নেহেরু রিপোর্ট কার্যকর করতে ইংরেজ দের ব্যার্থতা, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা, কৃষক ও শ্রমিকদের নানা ট্রেড ইউনিয়ন গুলিতে সরকারের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অসন্তোষ ব্রিটিশ সরকারের ভীতির কারণ হয়ে উঠছিল তাই ব্রিটিশ সরকার আন্দোলন কারীদের ওপর তীব্র দমন নীতি গ্রহন করে। এই পরিস্থিতিতে ১৯৩০ সালের ১৪ই থেকে ১৬ই ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় কংগ্রেস সবরমতি আশ্রমে ওয়ার্কিং কমিটি মিটিং করে ও গান্ধীজি সিদ্ধান্ত নেন যে এই দমনপীড়ন নীতির বিরুদ্ধে এই অহিংস আইন অমান্য আন্দোলন করা হবে। গান্ধীকে এই অহিংস আন্দোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় ।আর এই আন্দোলন শুরু হয়ে লবণ সত্যাগ্রহের মাধ্যমে। এর পর ১৯৩২-৩৪ সালে গৃহীত গান্ধী আরউইন চুক্তির সর্তকে কেন্দ্র করে ও ২য় গোলটেবিল বৈঠকে ব্যার্থতার পর গান্ধী দেশে ফিরে দেখেন যে দেশে গান্ধী আরউইন চুক্তি লঙ্ঘন করে সরকার দেশে দমন মূলক নীতি গ্রহন করে শৈরাচারী শাসন শুরু করেছে এবং জহরলাল নেহেরু, পুরুষোত্তমদাস ট্যান্ডন, ভজহরি মাহাতো, আব্দুল গফফর খান ও তার বড়োভাই সহ লালকোর্তা বাহিনীর বহূ কর্মী গ্রেফতার হন। এই ঘটনার পর গান্ধী ১৯৩২ সালের ৩রা জানুয়ারি লবণ সত্যাগ্রহের ডাক দেন। ৪ঠা জানুয়ারি গান্ধীজি কে গ্রেফতার করা হয় এবং কংগ্রেস কে বেআইনি সংগঠন রূপে নিষিদ্ধ করা হয় এবং কংগ্রেসের যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। এবং শুরু হয় ইংরেজদের ভারতীয়দের প্রতি অত্যাচার। এই আন্দোলন মানুষকে সবর্শ্য ত্যাগের সম্মুখীন করে। বাকি সব আন্দোলন গুলির মতোও এই আন্দোলনও সফল না হয়েই শেষ হয়েছিল। ভারতীয় সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে এই আইন অমান্য আন্দোলন কোন ভূমিকা পালন করতে পারেনি। গান্ধীজি যদি দলবদ্ধ হয়ে ডান্ডিতে লবণ সত্যাগ্রহ করে লবণ উৎপাদন না করে দলবল নিয়ে দিল্লি র উদ্দেশ্যে রওনা হতেন তাহলে ইংরেজ দের কোনো সাধ্য হতোনা তাকে রোখার। ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতো। আদতেই কী কংগ্রেস কে ইংরেজরা ভয় পেতেন। না মানে কংগ্রেসের নেতৃত্বে অনেক আন্দোলনই সংগঠিত হয়েছিল আর তার একটাও সফল হতে পেরেছিলো। গান্ধীজির কর্মকান্ডে ইংরেজরা ভয় পেতেন না। কারণ ইংরেজরা জানতো গান্ধীজির কোনো নিতী ইংরেজ দের উৎখাত করতে পারবেনা। ১৯১৪ সালে যখন গোটা পৃথিবী জুড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজতে থাকে তখন ভীত ইংরেজ ভারতীয় কংগ্রেসের কাছে সাহায্য চেয়ে আস্বাস দেয় তাদের স্বতন্ত্র করা হবে কিন্তু তা হয়নি। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে যখন ইংরেজ বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর ৩৩ রাউন্ড গুলি বর্ষন করে গোটা পৃথিবী তার নিন্দাতে ভেঙে পড়ে। বিশ্বকবি কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নাইট উপাধি ত্যাগ করেন।  ১৯২০ সালে সারা ভারত ব্যপি ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু এই। এই আন্দোলনে উভয় সম্প্রদায় কে একত্রে ডাক দিলে কয়েকদিন সম্প্রতি রক্ষা পায়। ১৯২২ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি গান্ধীজির ডাকে সারা ভারত আবার মেতে ওঠে অসোহোযোগ আন্দোলনে। কংগ্রেস দলটি সম্পুর্ন রূপে গান্ধীজির কথায় চলতো। কাকে কখন উৎখাত করতে হবে, কখন জন সাধারণের কাছে ভালো সাজতে হবে সবই গান্ধীজি নির্ধারণ করতেন। কখন আন্দোলন করতে হবে কখন আন্দোলন প্রত্যাহার করতে হবে সেটা ওনার থেকে আর ভালো কেও জানতনা। গান্ধীজি কী সত্যি অহিংসা নিতি তে বিশ্বাস করতেন নাকি মুখোশ। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষেত্রেও, ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইংরেজ সরকার কংগ্রেসের কাছে সাহায্য পার্থনা করলে কংগ্রেস তা রাজি হয়নি। কংগ্রেস কে রাজি করানোর জন্য স্ট্র‍্যাফোর্ড ক্রিপ্স এর নেতৃত্বে ক্রিপ্স মিশন ভারতে আসে কংগ্রেস কে রাজি করানোর জন্য যাতে ভারতীয় সেনাদের ইংরেজ দের হয়ে যুদ্ধে লড়াই করতে যায়। নেতাজি চেয়েছিলেন ইংরেজদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার ওপর আক্রমণ করে ইংরেজদের ধরাশায়ী করতে। কিন্তু গান্ধীজি এতে রাজি হননি‌*। এক্ষেত্রে গান্ধীজি বলেন ইংরেজরাই যদি পরাধিন হয়ে যায় তাহলে তাদের কাছ থেকে স্বাধীনতার আর মূল্য থাকে না। এবং তিনি সেনা পাঠাতে রাজি হন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও অনেক সেনা প্রাণ হারান আবার ২য় বিশ্বযুদ্ধেও অনেক ভারতীয় প্রাণ হারান। এটা কি হিংসা নয়। মহাত্মা গান্ধীই কী ভারতের একমাত্র নেতা ছিলেন?  আর কী কেও ছিল না যে ভারত মাকে শৃঙ্খলা মুক্ত করতে পারে। ছিনেলন তো, অনেকেই ছিলেন যাঁরা নিজের জীবনের মায়া না করে দেশকে স্বাধীন করতে উদ্যত হন। আমাদের বাংলাতেই ছিলেন অনেকেই যাঁরা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বীর শহিদ ক্ষুদিরাম বোস, প্রফুল্ল চাকী, মাস্টার দা সূর্যসেন, বীরাঙ্গনা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বীরেন্দ্রনাথ সাসমল, মতিলাল কানুনগো, বটুকেশ্বর দত্ত, নিকুঞ্জ সেন, অতুলচন্দ্র গুপ্ত, রাশবিহারি বসু, ঋষি অরবিন্দ ঘোষ । গান্ধীজির মতের সাথে কারোরই মিল ছিলোনা, অহিংস পথে পরিচালিত হয়ে ইংরেজদের মতো শক্তিকে দমন করা সম্ভব নয়। গান্ধী র মতে অপরপক্ষের মধ্যে অহিংসার মাধ্যমে মানসিক পরিবর্তন এনে কার্যসিদ্ধি করতে হবে, সম্পুর্ন সিদ্ধান্ত অপরপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়ে আমরণ অনশনে বসতে হবে। এতে যদি প্রাণনাশ ও ঘটে তাহলেও কোনো রূপ হিংসার বশবর্তী হওয়া যাবেনা। কিন্তু অন্যান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে এই ধারণা কার্যকর ছিলো না  ।আর সর্বোপরি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস। যাঁকে পরবর্তী কালে স্বাধীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন স্বয়ং রুশ নেতা জেনারেল তোজো। কিন্তু নেতাজি এতে বাধা দান করে বলেন ভারতে নেতৃত্ব দান করার মতো ওনেকেই আছেন যেমন জহরলাল নেহেরু, মহাত্মা গান্ধী, বল্লভভাই প্যাটেল, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। হায়! তখন উনি জানতেন না যে ওনার আর দেশে ফেরা হবেনা। আর তাঁর স্বাধীন অখণ্ড ভারতের অখন্ডতাও বিঘ্নিত হবে। ভারতবর্ষ ধর্মকেন্দ্রিক ভাবে বিভাজিত হয়ে ছিলো। দুটো পৃথক রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল। তবে এই ভাঙন কী একা মুশলিম লীগের জন্যে না কী কংগ্রেসেরও এই দেশ বিভাজনে মদত ছিলো। এবার এই বিভাজন নীতি সম্পর্কে আলোকপাত করা যাক, যার আগে বলা বাহূল্য পরাধীন ভারতে বেশ কয়েকটি পার্টি বা সংগঠন গঠিত হয়েছিল। যাদের বিস্তার কংগ্রেসের মতো অতো না হলেও এই স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো। যেমন হিন্দু মহাসভা, মুসলিম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি। এদের মধ্যে দেশ বিভাজনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল মুসলিম লীগ। ১৯০৬ সালে ঢাকা তে আগা খাঁ র নেতৃত্বে মুশলিম লীগ গঠিত হয়। ভারত চিরকালই ধর্মভীরু দেশ। তাই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা ভারতে সহজ। আর এই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে ইংরেজ রা ভালো  পারতো।  ইংরেজরা ভালোভাবে জানত ভারতে নিজেদের প্রভুত্ব বেশিদিন টিকিয়ে রাখতে হলে ভারতে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ভঙ্গ করতে হবে । এই সময় একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে। সেটি হলো খিলাফত আন্দোলন। তুর্কীর খলিফার ক্ষমতা খর্ব করতে ইংরেজ রা খলিফা কে হত্যা করে। এবং তার ফলে গোটা বিশ্বের মুসলিম অধ্যুষিত দেশ গুলিতে এর প্রতিবাদে খিলাফত আন্দোলন শুরু হয়, নাকি খলিফার অস্তিত্ব বিঘ্নিত হচ্ছে তাই দেশযুড়ে শুরু হয় খলিফার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম। সীমান্ত গান্ধী এই আন্দোলন শুরু করেন, আর এতে গান্ধীজি যোগদান করলে তা সর্বস্তরের মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। মুশলিম রা হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করতে থাকে কিন্তু এর প্রতিবাদে গান্ধী কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। তাই মুশলিম দাঙ্গাবাজ দের মনে সাহসে স্বস্তির সৃষ্টি হয় যে যাই হয়ে যাক গান্ধী তাদের বিরোধিতা করবেনা  । ১৯২০ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি গান্ধীজির ডাকে সারা ভারত আবার মেতে ওঠে অসোহোযোগ আন্দোলনে। ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে মুশলিম লীগ শোচনীয় ভাবে হারে। ওই নির্বাচনে এ.কে ফজলুল হকের নেতৃত্ব কৃষক প্রজা পার্টি  বাংলাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এই ঘটনার পর মুশলিম লীগ তাদের পৃথক রাষ্ট্রের দাবিতে সোচ্চার হয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইংরেজ সরকার ফের কংগ্রেসের কাছে সাহায্য পার্থনা করলে কংগ্রেস তা প্রত্যাখান করে। পরবর্তী কালে ইংরেজ সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে তারা ভারতকে স্বাধীনতা দেবে। ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ব্রিটেনে নতুন সরকার গঠন করা হয়। এবং ভারতকে স্বাধীনতা দান করার কথা ব্যার্থ প্রতিশ্রুতিতে পরিনত হয়। ২য় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন হিটলার প্রথম বিশ্বের প্রায় সব দেশ কেই পরাজিত করে। শুধু ব্রিটিশ বাহিনী লড়াই করতে থাকে এবং তাদের অবস্থাও করুন হয়ে যায়। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় কংগ্রেসের কাছে সাহায্য পার্থনা করতে ১৯৪২ সালে ভারতে আসে স্যার স্ট্যফোর্ড ক্রিপ্স এর নেতৃত্বে ক্রিপ্স মিশন। এই মিশন প্রস্তাব রাখে যে ভারতকে Dominion Status দেওয়া হবে। এর অর্থ হলো ভারতের নেতারা দেশ শাসন করবে কিন্তু প্রধান ক্ষমতা থাকবে ইংরেজ দের কাছে।  কিন্তু কংগ্রেসের নেতারা তা প্রত্যাখান করে। কংগ্রেসের নেতারা বলেন ভারতকে পুর্ন স্বাধিনতা দিতে হবে তবেই সাহায্য করবে, কিন্তু তাতে ইংরেজরা রাজি ছিলেনা ।  কংগ্রেসের কাছে নানা প্রস্তাব আসতে থাকে কিন্তু কংগ্রেসের নেতারা সেই সব প্রস্তাবে রাজি ছিলোনা। পরবর্তি কালে মুশলিম লীগ পাকিস্তানের দাবি তে অটল থাকে কিন্তু কংগ্রেসের নেতারা দেশ বিভাজন নিতিতে রাজি ছিলোনা। পক্ষান্তরে ব্রিটিশরা বেঁকে বসে। ০৯ ই আগষ্ট ১৯৪২ সালে গান্ধীজি ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা Quick India Movement র ডাক দেন। ধীরে ধীরে দুই সম্প্রদায়ের বিরোধ দেখা দেয়। ইংরেজদের তরফ থেকে বলা হয় দুই দল একসাথে নতুন পরিচালন সভা গঠন করুক কিন্তু মুশলিম লীগ এবং কংগ্রেস কেওই তা মানতে রাজি ছিলোনা। 
১৯৪০ সালে জিন্না লাহোর প্রস্তাবে পৃথক পাকিস্তানের দাবি করেন। তার ১৫ দিন পর গান্ধীজী হরিজন পত্রিকাতে সেই দাবি সমর্থন করে। এই দুটো ঘটনা একটা দেশকে বিভাজন করতে সক্ষম হয়ে যায়। ভারতীয় সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু দেশ থেকে বিভাজনের দাবি করতে থাকে। 
১৯৪৬ সালে ক্লিমেন্ট এটলি, স্যার ক্রিপস এর এবং স্যার ক্যবিনেট এর নেতৃত্বে ক্যবিনেট মিশন ভারতে আসে এবং ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য ভারতে আসে। কংগ্রেসের নেতারা যেমন জহরলাল নেহেরু, আবুল কালাম আজাদ, সর্দার প্যাটেল এবং মুশলিম লীগের পক্ষ থেকে মহম্মদ আলী জিন্না, লিয়াকত আলী কে একসঙ্গে নিয়ে আলোচনা সভা বসে। এই ক্যাবিনেট মিশন সর্তসাপেক্ষ ভাবে বিভাজন করাতে সচেষ্ট হলে কংগ্রেস তা প্রত্যাহার করে। 
ক্যাবিনেট সর্ত রাখে যে ভারত কে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে যথা ~
1st Hindu Majority : বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লী, ওডিশা, শিকিম, মাদ্রাজ প্রভৃতি হিন্দু অধ্যুষিত রাজ্য গুলো থাকবে। 
2nd Muslim Majority area : পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান, লাহোর ইত্যাদি মুশলিম অধ্যুষিত অঞ্চল এবং গুপ c তে বাংলা বিহার। 
 3rd independent area : যতদূর সম্ভব এই বিভাগে সেই সব রাজ্য গুলি ছিলো যারা পৃথক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতো,যেমন কাশ্মির, জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ প্রভৃতি। 
  এতে আরও বলা হয় যে অর্থনৈতিক, সুরক্ষা, সেনা এবং আন্তর্জাতিক ছাড়া বাকি সব ক্ষমতা রাজ্যের কাছে থাকবে। সিট গুলির ভাগ জনসংখ্যার ভিত্তিতে হবে  ।এবং কেন্দ্রের কাছে কম ক্ষমতা থাকবেভ। রাজ্য গুলি চাইলে নিজের পৃথক নিয়ম কানুন রাখতে পারবে।  এই শর্তে কংগ্রেস রাজি হয়নি। কারণ এইভাবে দেশের বিভাজন নিশ্চিত। কেন্দ্রের কাছে কম ক্ষমতা থাকবে এবং রাজ্য গুলি অধিক ক্ষমতা যুক্ত হবে। পরবর্তী নির্বাচনে তারা পৃথক দেশ গঠন করতে পারবে যা কংগ্রেস চায়নি। কিন্তু অপরপক্ষ তা স্বীকার করে। তারা এই বিভাজনে রাজি হয় কারণ মুশলিম লীগ জানতো আজ না হোক কাল তারা পৃথক পাকি পাকিস্তান পেয়ে যাবে। যদি বিভাজন সম্ভব হয়ে যায় তাদের পৃথক রাষ্ট্র হবে। কিন্তু কংগ্রেস তা মেনে নেয়নি। 
এরপর মুশলিম নেতা মহম্মদ আলী জিন্না বোম্বে থেকে ঘোষণা করে তারা এবার সংগ্রামের মাধ্যমে পৃথক দেশ দাবি করবে। কয়েকদিন পর দিন ঠিক করা হয় ১৬ই আগষ্ট কলকাতাতে পৃথক পাকিস্তানের দাবিতে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম হবে।   লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান  ধ্বনি তোলে। 
   বোম্বের একটি সভা থেকে জিন্না কংগ্রেস এবং সারা ভারতের উদ্দ্যেশ্যে বলেন – 
“ We didn’t want war. If you want war we accept your offer unhesitatingly. 
We will have divided India divided or a destroyed India.” 
১৯৪৬ সালের বাংলা ছিলো মুশলিম অধ্যুষিত। তাই প্রদেশিক নির্বাচনে জয়ী হত মুশলিম লীগ। ২৮এ এপ্রিল প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেওয়া হলে লীগ তা বাস্তবায়িত করতে সচেষ্ট হয়। 
৫ই আগষ্ট, ১৯৪৬ খ্রীষ্টাব্দে বাংলার তৎকালিন মুখ্যমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী সোরাবর্দি The statesman পত্রিকাতে লেখেন ‘ হিংসা ও রক্তপাত অন্যায় নয়, যদি তা মহান উদ্দেশ্য করা হয় ও মুশলমানদের কাছে পাকিস্তান আদায় করা ছাড়া অন্য কোনো প্রিয় কাজ নেই ‘। এই উক্তি টাই ঠিক করে দিয়েছিল যে হিন্দুদের কী দুরাবস্থা হতে চলেছে। মুশলিম লীগ অগন্তি লাশ এর ওপর নিজেদের পাকিস্তানের ভীত প্রস্তুত করতে চেয়েছিলো। 
১৯৪৬ সালের পুরো আগষ্ট মাস জুড়ে মুশলিমদের পবিত্র রমজান মাস। তারা রমজান মাসেই তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে চেয়েছিলো। নবি যেমন রমজান মাসে মক্কা থেকে বিধর্মীদের হত্যা করে মক্কা মুশলিমের হস্তগত করেছিলেন ঠিক সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চেয়েছিলো। ১৬ ই আগষ্ট তাদের পবিত্র জুম্মা ছিলো। ওইদিনই তারা হিন্দুদের নৃশংস ভাবে হত্যা করে পৃথক পাকিস্তানের দাবিতে প্রতক্ষ সংগ্রামে সামিল হয়। যার ফলে গোটা কলকাতা জুড়ে শুরু হয় বর্বরদের ধ্বংসলীলা। নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে হিন্দুদের। রেহাই পায়নি শিশু বা নারী বা বৃদ্ধ রাও। ট্রাকের পর ট্রাক অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত হয়ে জঙ্গিদের আগমন ঘটে। যাদের মুখে শুধু একটাই স্লোগান আজতো প্রত্যেক হিন্দুকে খুন করবো। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন নির্বাক। পরেরদিন অর্থ্যাৎ ১৭ই আগষ্ট হিন্দুদের পালটা আক্রমনে দিন, শ্রী গোপালচন্দ্র মুখোপাধ্যায় এর নেতৃত্বে একদল হিন্দু যুবক মুসলিম বর্বরদের ধরে ধরে মারতে থাকে। যার ফলে মুসলিম রা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এই ঘটনা তে গোটা কলকাতা যুড়ে ৫০০০ জন মারা যায়। আর এই ঘটনা দ্রুত ভারতের অনান্য প্রদেশ গুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। কংগ্রেস এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মোকাবিলা করার জন্য কোন পদক্ষেপ গৃহিত হয়নি। তো এতে কংগ্রেস সরকার লাভ কোথায়। The great Calcutta killings এর সময় গান্ধীজি নোয়াখালী তে ছিলেন। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সোরাবর্দীর মদতে যখন বর্বর দের দ্বারা যখন গোটা কলকাতার সকল রাস্তাঘাট নির্দোষ মানুষের রক্তে রাঙিত হয়েছিল। অনেক নারীই তাদের সংভ্রম হারিয়েছিলেন। তবুও এতে প্রশাসনের কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিলোনা। সেদিন যেন দাঙ্গাবাজ রা হিন্দুখুন করার লাইসেন্স পেয়েগেছিলো। পরের দিন যখন হিন্দুদের পালটা আক্রমনে মুসলিম রা মারা যাচ্ছিল তখন প্রশাসন হিন্দু যোদ্ধাদের বাধা দান করতে আসে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মুশলিম লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গঙ্গার এপাড় থাকবে ভারতের দখলে এবং ওপাড়ের পুরোটা অংশ ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এই কথা শ্রী গোপাল মুখোপাধ্যায়ের মুখ থেকেই জানা যায় যখন এক পত্রিকার সাংবাদিকরা ওনার এই কর্মকান্ডের সাক্ষাতকার নিতে আসে। উনি বলেন — ৩৯নং মদন বড়াল লেনে তাঁর বাড়ি ছিলো। হরেণ ঘোষ সাংস্কৃতিক জগতের ব্যাক্তিত্ব। তিনি বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর এবং অমলা শংকর এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। হরেণ ঘোষের অফিস ছিলো ওয়াসেল মোল্লার বড়ির দোতলাতে। মুশলিম লীগের অন্যতম নেতা এবং তৎকালিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সারাবর্দী সেই বাড়িতে যেতেন এক বাইজীর কাছে। সেখান থেকে মুশলিম লীগের এই প্রতক্ষ সংগ্রামের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। সেই পরিকল্পনার কাগজটি পাওয়ার পর হরেণ ঘোষ সেটি জহরলাল নেহেরু কে পাঠান। এই পরিকল্পনা তে লেখা ছিলো গঙ্গার এপার অর্থাৎ মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং কলকাতার কিছুটা অংশ নিয়ে গঠিত হবে হিন্দুস্থান এবং গঙ্গার ওপাড়ের অংস নিয়ে গঠিত হবে পাকিস্তান। গঙ্গা নদী দুই দেশের সীমানা হিসেবে অবস্থা করবে।  এই ঘটনার কয়েকদিন পর হরেণ ঘোষ খুন হন। 
এই দাঙ্গাতে গান্ধীজির ভূমিকা দেখে গোপাল মুখোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দেন।  এই যুদ্ধে গান্ধীজী বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন করেননি। তিনি বলেন গান্ধীজীর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলা হয়। তাঁকে দিল্লী থেকে ২ বার ডাকা হয় ওই আহ্বান তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ৩ বারের বেলায় তাঁর বাড়িতে আসে কলকাতার কংগ্রেসের নেতা। গোপাল মুখোপাধ্যায় কে সেই নেতা বলেন “ গোপাল মান ইজ্জত যাবে, যন্ত্রপাতি জমা দিও ”। স্থানিয় কংগ্রেসের নেতা পান্নালাল মিত্তির, জগন্নাথ কোলে, ইন্দুভূষণ বেদ প্রমুখরা তাঁর বাড়িতে আসেন। অবশেষে তিনি রাজি হন। তিনি দিল্লী যান। তিনি দিল্লী গিয়ে দেখেন সবাই ছুরি, বন্ধুক, পিস্তল জমা দেয়। তারপর তাঁকে ডাকা হয়। তাঁকে নির্মল বোস বলেন তাঁর কাছে যা অস্ত্র আছে তা জমা দিতে। তিনি এই ভয়াবহ দাঙ্গাতে গান্ধীজীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন এতোবড়ো দাঙ্গাতে গান্ধীজী কোথায় ছিলেন? তিনি সেই অস্ত্র গুলো জমা না দিলে বলেন, যে অস্ত্র দিয়ে মা বোনদের ইজ্জত রক্ষা করেছিল, মহোল্লা রক্ষা করেছেন তা তিনি জমা দিতে রাজি নন এবং তিনি বলেন একটা ছুঁচ দিয়েও যদি কাওকে মারা হয়ে থাকে তাও তিনি দিতে রাজি নন। 
অহিংস গান্ধী তাঁর এই অহিংসতার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। যখন কলকাতাতে মুশলিম লীগ নিজের দেশ বানানোর জন্য হিন্দুদের ওপর অকথ্য আক্রমণ চালায় তখন তাঁর নেতৃত্বে কোনো উদ্যগই নেওয়া হয়নি হিন্দুদের রক্ষা করার জন্য। কিন্তু হিন্দুরা যখন জিহাদি দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তখন মুশলিম লীগ সেই পালটা আক্রমণ রুখতে রাস্তায় রাস্তায় সেনা মোতায়েন করে। হিন্দুদের পালটা আক্রমনে বহূ মুশলিমও প্রাণ হারায়। 
হায়, ওই বিধ্বংসী যুদ্ধে এক সভ্যতার পুরো ধ্বংস হয়ে যায়। যেই অঞ্চল প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু নামে বিবেচিত হতো তারাই এই যুদ্ধের পর ভারতীয় সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। যে দুই ধর্ম ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল তারা পরস্পরের রক্তে নিজেদের ক্ষুদা নিবারণ করতে উদ্যত হয়েছিল। একধর্মের মানুষ নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ওপর ধর্মের নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করতেও দ্বিধা বোধ করেনি। The great Calcutta killings  অখন্ড ভারতের অখন্ডতা নষ্ট হয়ে যায় এবং ভারত বিভাজন স্বীকৃত হয়ে যায়। যদি সেই সময়ের গান্ধীর উক্তি ধরেই বলা যাক ভারত মায়ের বখাটে ছেলেটা ভারতে থাকতেন তার পরেও কী এই রূপ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হতো। নাকি দেশ ভাগ করা নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের জন্য হিন্দুদের মরতে হতো। না কোনো দিনই সম্ভব হতোনা। কারণ নেতাজি কোনোদিন ভারতমাতার অখন্ডতা নষ্ট হতে দিতেন না। কারোরই আশা আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ হতোনা। আর এই পুরো ঘটনাতে কংগ্রেস সমান ভাবে দায়ী। কারণ কংগ্রেসের সবথেকে উচ্চপদস্থ নেতা জহরলাল নেহেরু চাইতেন নিজে ভারত কে শাসন করতে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে। আর সেদিকে জিন্নাও চাইতেন প্রধানমন্ত্রী হতে। কিন্তু একই রাষ্টে দুজন প্রধানমন্ত্রী কোনো দিনই সম্ভব নয় তাই দেশ কে বিভাজন করাটা আবশ্যিক*। তাই গান্ধীজি প্রথমে দেশ বিভাজনে রাজি না হলেও পরে রাজি হতে বাধ্য হন অথবা প্রথম থেকেই রাজি ছিলেন। যখন ইংরেজরা দেশ বিভাজন করার বিল ঘোষণা করে তখন গান্ধীজির মুখ থেকে শোনা যায় – “ India could only the partitioned over my dead body alone. So long as I am alive, I will never agree to the partition of India ❞ । কিন্তু এটাই কী ওনার মনের কথা ছিলো নাকি এর অনেক আগেই উনি দেশ ভাগে সম্মতি দিয়েছিলেন!  দেশ ভাগ রুখতে অনেক কংগ্রেস নেতাই সচেষ্ট হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মৌলানা আবুল কালাম আজাদ। উনি ওনার ❝ India wins freedom ❞ গ্রন্থে এক বিষ্ময়কর ঘটনার কথা উল্লেখ করেন উনি লেখেন যে – ❝ After a few days Jawaharlal  Nehru came to see me again. He began with a long preamble in which he  emphasized that we should not indulge in wishful thinking, but face reality. Ultimately, he came to the point asked me to give up my opposition to partition. He said that it was inevitable and in would not be wisdom not to oppose what was bound to happen. He also said that it would not be wise for me to oppose lord Mountbatten on this issue. 

Now a situation had arisen where we ( congress )  were becoming greater supporters of partition than Jinnah. I warned Jawaharlal that history would never forgive us if we agreed to partition ❞   । কংগ্রেসের অনেকেই এই Partition এর বিরোধী ছিলেন। আর জিন্নাহ বলেন উনি নাকি ভাবতে পারেন নি যে এতো সহজে তারা পৃথক রাষ্ট্র পেয়ে যাবেন।  যদি নেতাজি দেশে অবস্থান করতেন তো কারোর সামর্থে কুলাতোনা দেশ কে বিভাজিত করার। গান্ধীজির সাথে নেতাজির মনের মিল কোনো দিনই ছিলো না। কারণ দুজনের মানসিকতা ভিন্ন, কর্মপন্থাও ভিন্ন। আর আমরা সবাই জানি যাদের সাথে গান্ধীজির মতের মিল হতো না তাদের তিনি সহ্য করতে পারতেন না। গান্ধীজিতো অনেক গুলো আন্দোলন করেছিলেন একটাও সফল হয়েছিলেন বা একবারের জন্যেও ইংরেজদের মনে ভীতির জাগরণ ঘটাতে পেরেছিলেন। নেতাজি পেরেছিলেন। তাই নেতাজিকেই যোগ্য নেতা মনে করা হয়। নেতাজি ২য় বিশ্বযুদ্ধের দাবদাহতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজ দের পরাস্ত করার পরিকল্পনা করতে সিঙ্গাপুর যান । ১৯৪২ সালে রাসবিহারী বসুর তৎপরতায় জাপানি কতৃপক্ষ ভারতের জাতীয়তাবাদের পাশে দাঁড়ায় এবং যুদ্ধ বন্দী ভারতীয় দের মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪২ সালের ২৮ ২৯ মার্চ টোকিও তে তার ডাকে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে  ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেস লিগ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। আর ওই অধিবেশনে এক সেনাবাহিনীর গঠনের প্রস্তাব পেস করা হয়। যুদ্ধবন্দী  ভারতীয় সেনাদের নিয়ে গঠিত হয় আজাদ হিন্দ ফৌজ, যাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিলো ভারত মাতাকে মুক্ত করা। রাসবিহারী বসু এই আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব অর্পণ করলেন নেতাজিকে। ১৯৪৩ সালে সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয়ে সুভাষচন্দের আর্জি হুকুমত-এ-আজাদ হিন্দ সেনাবাহিনী গঠিত হয়। ব্রহ্মদেশ, ইম্ফল, কোহিমায় সাম্রাজ্য বাদী জাপান সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাহীনি ব্রিটিশ ও কমনওয়েলথ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান চালায়। এবং তাতে তাদের ব্যার্থতার সম্মুখীন হতে হয়। পরে প্রায় বেশিরভাগ সেনা কেই ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে দেশদ্রোহীতার জন্য কারোর কারোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ফিরলেন না নেতাজি। নেতাজি সাহায্যের জন্য হিটলারের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু হিটলার শক্তি দিয়ে নেতাজিকে সাহায্য করেন নি। গান্ধীজিও ভারতের স্বাধিনতা সংগ্রামের এক অপরিহার্য অঙ্গ তা নিয়ে কোন প্রশ্নই উঠেনা। তবে ওনার মতো উচু দরের নেতা স্বাধীনতা সংগ্রামরূপে যে প্রহসনের সৃষ্টি করেছিলেন তাতে যুব সমাজের মনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের পরিমাণ কিছুটা হলেও খর্ব হয়েছিলো। যারা প্রকৃত উপায়ে সঠিক পন্থায় দেশকে স্বাধীন করার প্রচেষ্টা করতেন গান্ধীজি তাদেরকে আতঙ্কবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতেন।  যার ফলে জনসাধারণের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হতো। নেতাজি বরাবরই শক্তি বুদ্ধি দিয়ে ইংরেজ দের পরাস্ত করতে চাইতেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন অহিংস পথে চুপচাপ নির্বিকার ভাবে বসে থেকে কোনদিনই স্বাধীনতা আসবেনা। তাই তিনি চাইতেন ইংরেজদের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে। কিন্তু তাঁর নিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে অনেকবার বন্দী করে এবং বেশ কয়েকবার নেতাজিকে গৃহবন্দী করা হয়। পরে তিনি ইংরেজ পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে পালিয়ে যান আর শক্তিশালী হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করার জন্য। কিন্তু নেতাজি আর কোনোদিনই দেশের মাটিতে পা দেওয়া হলোনা। তাঁকে কী দেশে ফেরত আসতে দেওয়া হয়নি। ভয়ে! পাছে উনি দেশ ভাগে বাধা দিয়ে দেন। অগত্যা নেতাজিকে মৃত পরিণত করার একটা সুযোগ এসে গেলো তাদের কাছে, ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগষ্ট তাইহুকু বিমানবন্দরে কাছে এক বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়, সেই বিমানে নাকি সুভাষ বসু যাত্রী ছিলেন। কাছাকাছি একটা সেনা হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় নাকি নেতাজির মৃত্যু হয়। তাইহুকুতে নেতাজির অন্তিম সংস্কার করা হয় । আর ওনার চিতাভষ্ম নাকি টোকিও এর একটি বৌদ্ধ মঠে রাখা হয়েছে। একটা ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলো- ‘ The nawab of Bhupal chattered a plane taking Jawaharlal Nehru to Singapore where Lord Wavell was ; he was then viceroy. Gen. Auchinleck, commander-in-chief of the war was also there. Nehru was hesitant there. Lord Mountbatten who was the head of the South East Asia command to Singapore base, was also there. Jawaharlal Nehru was given certain questions by Lord Mountbatten. He said, look here Scotland yard has not yet written off Subhas  as dead  or gone or disappointed never to came. If that is so, is Subhas comes back to India, will you be the prime minister or Subhas will be? Question no. 02: was supposing the country is not provide will Bengal contributed the Prime Ministership or will U.P contributed the Prime Ministership? The hint was very very  clear and vacillating great leader agreed to PARTITION. ’ ( Lak Sabha Debates– vol. VII. Pages- 316 & 317).  এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে ইংরেজ সরকার ও ভয় পেতো যদি সুভাষ চন্দ্র বসু আবার দেশে না ফিরে আসে।  যুদ্ধের পর যখন আজদ হিন্দ ফৌজের  সেনাবাহিনীরা স্বেচ্ছায় ধরা দিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখে এবং তাদের কথা যখন গোটা দেশ যুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন গোটা দেশের আক্রোশ গিয়ে পড়ে ইংরেজ সরকারের ওপর, গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। এই ভয়াবহ বাতাবরণে সন্ত্রস্ত হয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি  ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে ঘোষণা করেন যে ১৯৪৮ সালের ৩০ এ জুন ভারতকে স্বাধীন করা হবে। কিন্তু প্রত্যেকটা নেতার মধ্যে ভয় যদি নেতাজি ফেরত আসে! তাই মাউন্টব্যাটেন নির্দেশ দেয় যে এবার দেশভাগের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে। এবং তার পর স্বাধীনতার দিনটি এগিয়ে আনা হয়, ১৯৪৭ সালের ১৪ই ও ১৫ই আগষ্ট   । আর এই ধারণা সত্যি হলো যখন তাইহুকুর সরকার জানালো যে ১৮ই আগষ্ট ১৯৪৫ কোনো বিমান দুর্ঘটনা হয়নি। তাই আরও তাড়াতাড়ি দেশ বিভাজন করে স্বাধীনতা দান করার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। নেতাজির সঠিক পরিণতি জানার জন্য দেশ বাসী সরকার কে চাপ দিতে থাকে যার ফলস্বরূপ সরকার দুটি তদন্তকারী কমিটি গঠন করে। কমিটি গুলি হলো শাহ নাওয়াজ কমিটি, খোসলা কমিটি ও মুখার্জি কমিশন। শাহ নাওয়াজ কমিটি ও খোসলা কমিটি বিমান দুর্ঘটনার মতকেই সত্য বলে আখ্যা দেয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই মতামত মানতে রাজি হয় না। কারণ তাইওয়ান সরকার স্পষ্ট ভাবে জানায় যে ১৯ এ আগষ্টের ৭দিন আগে বা পরে কোনো বিমান দুর্ঘটনা হয় নি। উত্তাল জনতার আক্রোশের ফলে আবার একটি তদন্তকারী কমিটির, মুখার্জি কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের রিপোর্টে লেখা হয় যে ওই দিন কোনো বিমান দুর্ঘটনা হয়নি। এই মত সরকার মানতে পারেনি তাই এই কমিশনের রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। আর এই ব্যার্থতার পেছনে তৎকালীন তাবড়-তাবড় নেতাদের ক্ষমতা লোভের  স্পৃহা নিহিত রয়েছে। তাহলে এই মহান দেশমাতৃকার প্রকৃত নেতা কে? কথায় আছে মানুষের পাপের ঘড়া যখন পুর্ণ হয় তখন তার বিনাশ অবসম্ভাবী হয়ে যায়। না পাপের ঘড়া আরও কিছুটা পূর্ণ হওয়ার ছিলো। ভারতবর্ষ দুটি ভাগে ভাগ হলো। আমরা গান্ধীজির মুখে অনেকবার শুনেছি উনি মুসলিম দের আশস্ত্ব করতেন যে ওনার থেকে মুসলিম দের কোনো ভয় হবে না। যার ফলেই তারা নানান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করার সুযোগ আর সাহস পেয়েছিল। সেই সব থাক। দেশভাগের আগে কংগ্রেস আস্বাস দেয় যে ভারত পাকিস্তানকে ৫৫কোটি টাকা দেবে। কিন্তু পরবর্তী কালে প্যাটেল নেহেরু প্রমুখ নেতারা সেই টাকা দিতে অস্বীকার করে। পাকিস্তান কে ৫৫কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য গান্ধীজি অনশনে বসেন এবং কংগ্রেস ৫৫কোটি টাকা দিতে বাধ্য হয়। কংগ্রেসের ভয় ছিলো যে ওই ৫৫ কোটি টাকা দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র কিনে ভারতের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাবে আর সেটাই হয়। তাহলে কী গান্ধীজি পাকিস্তান জাতির জনক! প্রত্যেকটা মানুষেরই অন্ত নিশ্চিত। নাথুরাম গোডসে ১৯৪৮ সালের ৩০ এ জানুয়ারি গান্ধীজিকে গুলিবিদ্ধ করে হত্যা করেন, এবং গান্ধী হত্যার অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওনার যখন সাজা চলছিলো উনি ওনার কর্মকাণ্ডের সম্পুর্ন ব্যাখ্যা দেন। এমনকি উনি গান্ধী তথা কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের কার্যকলাপের ব্যাখ্যা করেছেন। ২০ জানুয়ারি গান্ধীর সভায় বোম মারার ঘটনার অপরাধে  মদনলাল গ্রেফতার হন। গোডসে গান্ধী হত্যার অপরাধের বিচার চলা কালীন বয়ানে বলেন ৩০ এ জানুয়ারি ঘটনার একমাত্র দায় ওনার, উনি আর কারোর সাথে ষড়যন্ত্র করেননি বা কারোর সহায়তা নেননি। তিনি আরও  বলেন তিনি কীভাবে আর কীকারণে দিল্লি এসেছিলেন। তিনি বলেন তিনি গান্ধীজির ভাবধারার বিরোধিতা করতেন এবং তা সর্বসমক্ষে ছড়িয়ে দিতেন। গোডসে বলেন এই অহিংসার ধর্ম জাতির দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তিনি চিন্তা করেন যে তাঁর মতো মনের মানুষদের নিয়ে একটা সংগঠন গঠন করা দরকার এবং তিনি বলেন গান্ধীজী মুসলমানদের পক্ষপাতি ছিলেন এবং ওনার সিদ্ধান্ত গুলিতে হিন্দুজাতির দুর্দশার কমার বদলে বেড়ে যাচ্ছিলো। তিনি বলেন তিনি তাঁর কথার যথাযথ ব্যাখ্যা করবেন এবং কীভাবে গান্ধীজি হিন্দুজাতির কাছে কালোছায়ার ন্যায় নেমে আসছিল তা তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেন। নাথুরাম গোডসে বলেন “ ১৬ মে তে অগ্রণী পত্রিকাতে আমি গান্ধীজির বিচারধারা গুলির তীব্র সমালোচনা করি। নিজের লক্ষ্য পুরণের জন্য অনশন গুলোর বিরুদ্ধেও কড়া সমালোচনা করি, পার্থনা সভাতে যখন তাঁর বিকৃত রাজনৈতিক বিচার ধারার প্রকাশ করা আরম্ভ করেন, তখন আমি আর শ্রী আপ্তে চিন্তাভাবনা করি যে আমরা গান্ধীজির বিচারধারার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিরোধ করবো। আমরা এই বিরোধিতা পুনে, বোম্বাই, দিল্লিতেও করি। আমাদের আর গান্ধীজির চিন্তাভাবনার মধ্যে তীব্র অন্তর রয়েছে। গান্ধীর মত অনুযায়ী মুসলিমদের অধিক সুবিধা প্রদান করতে হবে। কংগ্রেস ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট দেশবিভাজন স্বীকার করে তখন মতভেদ আরও বেড়ে যায়। ১৩ জানুয়ারি ১৯৪৮ সালে গান্ধীজি আরও একটা অনশন করার মনোস্থির করেন। যার উদ্দেশ্য ছিলো ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক ভালো করা। যার আসল উদ্দেশ্য ছিলো পাকিস্তান কে ৫৫ কোটি টাকা দেওয়া। এই বিষয়ে আপ্তে মত দেন যে গান্ধীর সভাতে বিরোধ সৃষ্টি করতে হবে। আমি তো এই প্রস্তাবে রাজি তো হয়ে গেলাম কিন্তু জানতাম এই কার্যে সিদ্ধিলাভ হবে না এবং আমরা বোম্বে যাই। সেখানে এক শরনার্থীর সাথে দেখা হয়, যে পিস্তল বিক্রি করে। সেই একটা পিস্তল দেখায়। আর ওই পিস্তলটি ভালো লেগে যায় এবং তা কিনে নিই। যে পিস্তল দিয়ে গান্ধীজিকে হত্যা করি এটা সেই পিস্তল।” তিনি আরও বলেন তিনি মোট ২৬দিন বোম্বাইতে কাটান। অনেকে তাঁকে বলেন নাকি বীর সাভারকার তাঁর মার্গ দর্শন করান। যদি এটা সত্যি হতো তাহলে উনি গান্ধীপন্থী হতেন, তা তিনি হননি। তাই তিনি তা মানতে রাজি নন। সত্যহীন ন্যায়হীন তথ্যের প্রতিরোধ করেন। অভিযাজকের মতে তিনি নাকি সাভারকারের হাতের পুতুল ছিলেন। গোডসে ব্রাহ্মণ বংশে জন্মগ্রহণ করেন। ব্রাহ্মণ হওয়ার দরুন উনি নিজেকে হিন্দু বলে গগর্ববোধ করতেন। হিন্দু জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি সন্মান বরাবরই ছিলো। তিনি কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদের বিরোধী ছিলেন ,তিনি জাতপাত মানতেন না, জন্মাতর ভিত্তিক জাতিপ্রথার বিরোধী ছিলেন। তিনি মনে করতেন সনাতন ধর্মালম্বী প্রত্যেক হিন্দুই সমান। তাদের একই দৃষ্টিকোণে দেখা উচিত।  গোডসে দাদাভাই নৌরজি, গোখলে ও স্বামী বিবেকানন্দ এর মতো জীবনি পড়েন। রুশ ও ইংল্যান্ডের ইতিহাস পড়েন, কমিউনিসম এর বই পড়েন। সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেন ভীর সাভারকার ও গান্ধীজির সাহিত্যগ্রন্থ পড়ে অনুপ্রাণিত হন। আধুনিক ভারত গত ৫০ বছর ধরে এনাদের প্রভাবে পরিচালিত হয়েছে। গোডসে বলেন, সাহিত্যগ্রন্থ গুলো পড়া ও ওনাদের চিন্তাভাবনার ফলে আমার অনুভুতি হলো যে দেশভক্ত হওয়ার দরুন আমার প্রধান কর্তব্য হলো হিন্দু জাতির রক্ষা করা, কারণ ৩০ কোটি হিন্দুর স্বতন্ত্রতা ও অধীকার গুলির রক্ষা করা সমগ্র সংসারের পাঁচ ভাগের ভালো করা। ❝এই চিন্তা ভাবনার পর আমি হিন্দু সংগঠন গুলির ওপর আকৃষ্ট হলাম। আর এর দ্বারাই মাতৃভূমির স্বতন্ত্রতা বজায় রাখা যাবে। ১৯৪৬ সালে জিহাদি মুসলমান দল কোলকাতা, নোয়াখালী, পাঞ্জাব সহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের ওপর কঠোর অত্যাচার চালায়। যার ফলে অনেক হিন্দু মারা যায়। বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সারাবর্দী নির্বচারে হিন্দু হত্যার স্লোগান দেয়। আর মুখে পৃথক রাষ্ট্রের দাবি। যখন গান্ধীজি সোরাবর্দী পার্থনা সভাতে শহিদ বলে সম্বোধন করেন তখন আমার ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।❞ দিল্লির ভন্ডি কলনির মন্দিরে পার্থনা সভায় জনতা ও পূজারীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করার জন্য গান্ধীজি কোরানের বাণী পাঠ করেন কিন্তু ওনার কোনোদিন এই ক্ষমতা হয়নি যে মসজিদে গিয়ে উনি গীতাপাঠ করেন। তিনি এই কাজ ভুলেও কোনোদিন করবেন না কারণ গীতা পড়লে যে মুসলিমদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হবে। গান্ধীজি সর্বদা মর্যাদা সহনশীল হিন্দুদেরই নিজ কর্মের দ্বারা পীড়াদান করে থাকেন। পরের পর ব্যার্থ কর্মকাণ্ড, অনশনের নামে দুর্বল করে দেওয়া। ক্ষুদার্ত নেকড়ের ন্যায় মুসলিম দের হাতে নির্দোষ হিন্দুদের ছেড়ে দেওয়া এই সবের মাধ্যমে হিন্দুদের সহনশীলতা নষ্ট করার পক্রিয়া। আপ্তে এবং আমি ওখানে গান্ধী ও সোরাবর্দী বিরোধী স্লোগান দেওয়ার মনোস্থির করি। শেষমেষ গান্ধী ওই সভা ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ঘটনা যখন সাভারকারের কর্নগোচর হয় তখন আমাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নানান উল্টোপাল্টা মন্তব্য করেন। ভারত বিভাজনের অন্তিম সিদ্ধান্তগ্রহনের কিছু আগেই সীমান্তবর্তি অঞ্চল গুলিতে আগ্রাসন দেখা যায়। বিহার, কোলকাতা, পাঞ্জাব প্রভৃতি সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলির হিন্দুদের দুর্দশার অন্ত থাকেনা। তবে কোনো উচ্চপদস্থ নেতা নেতৃদের এই ঘটনার সম্পর্কে কোনো মাথাবেথা ছিলো না। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। বাধ পড়েনি মেয়েরাও। নারীদের উলঙ্গ করে পণ্যের ন্যায় বিক্রি করা হতে থাকে। চারিদিকে অরাজকতা। কংগ্রেস হেরে যায় মুসলিম লীগের তলোয়ারের কাছে। ১৫ই আগষ্ট কংগ্রেসের স্বাধীনতা প্রাপ্তির আনন্দ আর অপর দিকে পাঞ্জাবে হিন্দুদের ওপর মুসলিম দের অত্যাচার। হিন্দুরক্তে রাঙানো স্বাধীনতা প্রাপ্তির আনন্দ।❞ যখন গোডসে কে জানা হয় গান্ধীজির পার্থনা সভায় বিরোধের চিন্তা কী সাভারকারের নির্দেশনাতে। তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন যে একটা জীবন গঠিত হতে গেলে সব ধর্মের ওপর সমান ভক্তি শ্রদ্ধা রাখা প্রয়োজন। গান্ধীজি পার্থনা সভায় একসাথে গীতা, কোরান ও বাইবেল পাঠ করতেন। গোডসে তা সমর্থনও করতেন। কিন্তু গান্ধীজি সর্বদা মুসলিমদের হীতের উদ্দেশ্যে কাজ করতেন তা সর্বদা বিরোধের যোগ্য ছিল। ১৯২০ সালে লোকমাণ্য তিলকের পর গান্ধীজি কংগ্রেসের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। জনতার জাগরণ, সত্য ও অহিংসার বানী সাধারণ মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। দেশের শান্তি আনার জন্য হিংসার পথ ধরা অবসম্ভাবি। রাম যখন রাবণের সংহার করেছিলেন তখন কী উনি হিংসার পথ বেছে নেননি? মহাভারতের যুদ্ধেও অর্জুন কে তাঁর আপনজনদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে হয়েছিলো, পিতামহ ভীষ্মকেও হত্যা করতে হয়েছিলো তাহলে কী অর্জুন অধর্মী? গান্ধীজি সর্বদা শীবাজি, প্রতাম ও গুরু গোবিন্দ সিং জীর নিন্দা করেছেন। ওনাদের মার্গ নাকি অধর্মের মার্গ। শীবাজি যদি আফসাল খান কে বাঘনখ দিয়ে হত্যা না করতো তাহলে শীবাজি কে মরতে হতো। শীবাজি মোঘল সাম্রাজ্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, উনি নাকি ভুল পথে চলেছেন!  যারা গান্ধীজির নীতি মানতে অস্বীকার করতেন তারা নিজেরা বলপূর্বক দেশমাতৃকার শিখল খোলার প্রয়োত্ন করতেন। সশস্ত্র বিপ্লব গড়ে তুলতেন ইংরেজদের বিরুদ্ধে। কিন্তু গান্ধীজির ৩০ বছরের নৈতিক জীবনে বহু মন্দির অপবিত্র হয়েছে। ধধর্মান্তরিত করা হয়েছে বহু মানুষকে, নারী জাতির মর্যাদা নষ্ট করা হয়। ১৯১৪ সালে গান্ধী বিদেশ থেকে দেশে ফেরত এসে রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেয়। তাঁর আমলেই গোলটেবিল বৈঠকে বোম্বাই থেকে সিন্ধপ্রদেশ কে বিচ্ছিন্ন করা হয়। কিন্তু সেখানে বসবাস কারী হিন্দুদের কথা চিন্তাভাবনা করা হয়নি। তাদের পরিণতি নিয়েও কারোর দায় নেই।  জিন্নাহ ততোদিন পর্যন্ত ফেডারেশন থেকে সরে থাকে যতদিন না গান্ধীজি স্বয়ং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী র‍্যামসে ম্যকডোলান্ড এর কাছে পৃথক নির্বাচনের দাবি না রাখে। ১৯৩৫ সালের শাসন আইনে এই ভেদ আরও দৃঢ় হয়। কংগ্রেস ইংরেজ সরকার এর কাছে সত্বা লাভ করে এবং মুসলিমলীগ কে আসস্ত্ব করে যে কংগ্রেস তাদের বিরোধ করবেনা। নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুর্মুখোতার প্রকাশ পায় । ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জিন্নাহ ইংরেজ সরকার কে বলে যে যতোদিন না তারা পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র পাচ্ছে ততোদিন কোনো মুসলিম তাদের সহায়তা করবেনা। এই প্রস্তাবে ইংরেজ সরকার রাজি হয়। কারণ ইংরেজ সরকারও তাই চাইছিলো। ১৯৪০ সালে পৃথক পাকিস্তানের দাবি রাখে আর যুদ্ধের ৬ মাসের মধ্যে মুসলমানদের সুরক্ষার জন্য পৃথক রাষ্টের দাবি শুনে ইংরেজ আনন্দিত। ১৯৪২ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে হারের পর কংগ্রেস সমঝোতা করতে উদ্যত হয় যে ক্ষমতা ও সুরক্ষা কংগ্রেসের হাতে থাক। নেহরু তখনও চিন্তা করতেন যে ভারতে আবার হিন্দু মুসলিম একতা দেখা যাবে। আর যারা এই জিহাদিদের বিরোধ করতো তাদের সাম্প্রদায়িক জঙ্গির আখ্যা দেওয়া হতো। তখন নেহেরু কে স্মরণ করানোর প্রয়োজন ছিলো যে উনি সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভারতের বিভাজন করেছেন। বিভাজনের ফলে প্রায় ১৫কোটি ২০ লক্ষ লোক বেঘর হয়। যার মধ্যে ৪০লক্ষ মুসলিম। পাকিস্তানের হিন্দুদের ওপর নির্জাতন শুরু হয়, করাচি, সাক্ষার, শিখরপুর ও সিন্ধের অন্যান্য প্রান্তে এই দাঙ্গার প্রসার দেখা যায়। বহু হিন্দু মারা যায়। গান্ধীজি কাশ্মিরের রাজা হরি সিং কে ভুল পথে চালিত করার প্রচেষ্টা করেন। গান্ধীজি হরি সিং কে পরামর্শ দেন যে তিনি যেমন সন্যাস গ্রহণ করে কাশি রওনা হয়ে যান এবং কাশ্মীরের রাজভারের সত্বা মুসলিম নেতা শেখ আব্দুল্লা কে অর্পন করেন। কাশ্মিরের রাজা হিন্দু আর অধিকাংশ জনতা মুসলিম। কিন্তু হায়দ্রাবাদের নিজাম কে এই রূপ কোনো পরামর্শ দেননি। তিনি নিজাম কে একবারও বলার সাহস হয়নি যে তিনি যেন ফকিরি নিয়ে মক্কায় চলে যায়। হায়দ্রাবাদে হিন্দুদের সংখ্যা নেহাতই কম ছিলো না। মাউন্টব্যাটেন ছিলেন দক্ষিনপূর্ব সেনার জেনারেল। উনি এক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতে আসেন সেটা হলো ভারতের বিভাজন, তিনি সেই কার্যে সফল হয়েছিলেন। গান্ধীজি ছিলেন হিংসক শান্তি মুর্তি। গান্ধীজি ওনার লেখাতে বলেন-❝ মুসলিমরা যদি তাদের পৃথক রাষ্ট্রের দাবি রাখে তাহলে তাতে বাধা দান করার সাধ্য কারোর নেই ❞। এই কথার মাধ্যমেই কী উনি পাকিস্তানের দাবি সমর্থন করেছিলেন। এর প্রকৃত ব্যাখ্যা একমাত্র গান্ধীই জানতেন। গান্ধী জিন্নাহ কে সর্বদা ভাই বা কায়েদ এ আজম বলে সম্বোধন করতেন। যদি কংগ্রেস পাকিস্তানি হিন্দুদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতেন তাহলেও আমার ক্রোধ প্রশমিত হতো। কিন্তু কংগ্ররস তা করেনি। যদি পাকিস্তানি দের হুমকি দিয়ে বলতো যে যদি তারা পাকিস্তানি হিন্দুরের ওপর নির্জাতন করা বন্ধ না করবে তাহলে ভারতে থাকা মুসলমান দেরও একই পরিণতি করা হবে। কিন্তু তা হয় নি। দলে দলে শরনার্থী ভারতে আসতে থাকে। শরনার্থীরা দিল্লির মসজিদ গুলিতে আশ্র‍য় নিয়েছিলো। গান্ধীজি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকে তারা যেমন সেই স্থান ত্যাগ করে রাস্তায় বেরিয়া আসে আর মসজিদ মুসলিম দের ফিরিয়ে দেয়। গান্ধীজি তার দাবি পূর্ণ করার জন্য অনশনে বসার হুমকি দেয় এবং তার জেদে সফল হয়। যেদিন গান্ধীজ অনশন রদ করেন সেদিন আমি দিল্লিতেই ছিলাম। শীতের দিন তার ওপর প্রবল বৃষ্টিতে ঘরের বাইরে বেরোনো যাচ্ছেনা আর শরনার্থীরা অসহায় অবস্থায় কুটুম্ব পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বিড়লা হাউসের দিকে অগ্রসর হয়। তারা চিৎকার করতে থাকে গান্ধীজি আমাদের থাকবার যায়গা দিন। এই ঘটনার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে গান্ধীজি কে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত জীবিত রাখা যাবে না। যদি ততোদিন পর্যন্ত গান্ধীজি জীবিত থাকেন তাহলে হিন্দুদের ওপর থেকে গান্ধীজির কালোছায়া কোনোদিনই সরবেনা। এর পরই ৩০ জানুয়ারির পার্থনা সভাতে ঢুকে গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা দেখিয়ে গান্ধীকে হত্যা করি। ❞ — নাথুরাম বিনায়ক গোডসে ৮নভেম্বর ১৯৪৮ বয়ান দেন। উনি চেয়েছিলেন ভারতবাসী গান্ধীজির আসল স্বরূপ জানুক, আর পপরবর্তী কালের ইতিহাসবিদ গণ সঠিক ইতিহাস রচনা করুক। আমদের ছোট থেকেই গান্ধীজিকে মহাত্মা হিসেবে দেখানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে উনি দেশের জন্য কী না করেছেন। অনশন করে দেশের সুবিধার জন্য অনেক কিছু করেছেন। গান্ধীজি হলেন জাতির জনক। আর একমাত্র নেতা। না উনি একমাত্র নেতা মোটেইনা। উনি অহিংসার মুখোশের আড়ালে নিজের কার্যসিদ্ধি করেছেন। উনি শুধু চেয়েছেন সবাই ওনাকে মান্যতা দিক শ্রদ্ধা করুক, এটাকি প্রকৃত নেতার উক্তি। যেই নেতা পকৃত দেশ সেবা করবেন দেশের শান্তির জন্য কাজ করবেন দেশের প্রত্যেকটি প্রাণীর সুরক্ষার দায়িত্ব নেবেন সেই নেতাকেই জনসাধারণ প্রকৃত নেতা হিসেবে মানবে। হয়তো গোডসের কথা সত্যি গান্ধীর মৃত্যু না ঘটলে আমাদের দেশ কোনো দিনই শক্তিশালী হতোনা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় স্থাপন করার জন্য অনশন না শস্ত্র দিয়ে যোগ্য জবাব দিয়ে। আজ দেশ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলির তালিকাতে ৪থ স্থানে রয়েছে। আজ ভারতের সেনা মজবুত দৃঢ় সুরক্ষা ব্যাবস্থা কে ভেঙে কারোর সাধ্য নেই ভারতে প্রবেশ করে উপনিবেশ তো দূরঅস্ত। 

সহায়ক : 
১ম) গান্ধীজির অপকর্ম, আলোককৃষ্ণ চক্রবর্তী। 
২য়) নাথুরাম বিনায়ক গোডসে র অন্তিম বয়ান। 
 
 
Leave a Reply