fbpx

আমিই হবো ভারতের প্রধানমন্ত্রী

আমিই হবো ভারতের প্রধানমন্ত্রী - Joydeep Goswami

ইতিহাসের রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হওয়া এক অতি রোমাঞ্চকর দৃশ্য হলো পুণ্যভূমি ভারতবর্ষের পরাধীনতা। এই দৃশ্যের সূচনা হয় ১২০৬ খ্রিস্টাব্দের সুলতানি শাসন শুরুর মধ্য দিয়ে আর এই করুন দৃশ্যের পরিসমপ্তি ঘটে ১৫ই আগষ্ট ১৯৪৭ সালে জাতীয় পতাকা স্বাধীন ভারতের মুক্ত আকাশে পত্ পত্ করে স্ব মহিমায় উড়তে থাকে ঠিক সেই সময়। গোটা ভারতবাসী একইসাথে স্বাধীনতার ঘ্রাণ আস্বাদন করেছিলো। এই মহৎ কাজ যাঁর দ্বারা মঞ্চস্থ হয়েছিল তিনি আর কেও নন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী স্বরাজ পার্টীর বিশিষ্ট নেতা অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী মতিলালা নেহেরুর পুত্র কংগ্রেস সভাপতি জওহরলাল নেহেরু। এই মহান মানবের জন্ম হয় গঙ্গাতট এলাহাবাদে ১৮৮৯ সালের ১৪ই নভেম্বর, পিতা মতিলাল নেহেরুর ঔরসে মাতা স্বরূপ রাণীর গর্ভে। পিতা ছিলেন এলাহাবাদ কোর্টের নামকরা উকিল আর কংগ্রেসের নেতা ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী কালে গান্ধীর সাথে মনোমালিন্যের কারণে তিনি স্বরাজ দলে যোগদান করেন। বাল্যকাল থেকেই নেহেরু জ্ঞানী মেধাবী ছিলেন। পন্ডিত ও তাঁর দুই বোন বিজয়া লক্ষ্মী ও কৃষ্ণা আনন্দভবন নামক এক বিশাল বাড়িতে পাশ্চাত্য সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠেন। সেখানে তাদের হিন্দি ও ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃত শিক্ষা দেওয়া হতো। এর পর মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডের হ্যারোতে  যাত্রা করেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজ থেকে প্রকৃতি বিজ্ঞানের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরে কেমব্রিজ থেকেই ব্যারিস্টার পড়েন। ইংল্যান্ডে থাকা কালীন ভারতীয় রাজনীতি তে সক্রিয় ছিলেন। সেখান থেকেই ওনার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পন। ১৯১৬ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারী উনি কমলা নেহেরুর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন ওনার স্ত্রীর বয়স মাত্র ১৬। নেহেরু মূলত নাস্তিক মানুষ, গান্ধীজীর ভাবাদর্শে এসে গীতা আর বেদান্তের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। গান্ধীজীর ভাবে ভাবান্বিত হয়েই ওনার রাজনৈতিক জীবন শুরু পরে সক্রিয় রাজনীতি তে যোগদান করেন। নেহেরু মূলত যোগদান করেন ১৯২০ সালে AITUC গঠন হবার পর। ১৯২০ সালে নেহেরু নিখিল ভারত শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯২১ সালে গান্ধীজী অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন কিন্তু পরবর্তী কালে ১৯২২ সালে চৌরিচৌরা তে ২২ জন পুলিশকর্মী কে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনার পর গান্ধীজী ওই আন্দোলন প্রত্যাখ্যান করেন। নবীন নেতা নেহেরু খেদা ও চম্পারণ অঞ্চলের কৃষকদের বাড়তি খাজনা গ্রহনের বিষয়ে বিরোধ করে তোলেন। নেহেরু নিজে প্রখ্যাত উকিল ছিলেন। এলাহাবাদ কোর্টে ওকালতি করেন। পরে গান্ধীজীর সাথে সাক্ষাতের পর ভোগ বিলাসের জীবন বর্জন করেন। নেহেরু মনে সর্বদাই ক্ষমতা লাভের ইপ্সা বর্তমান ছিলো। একটা সহজ উদাহরণ দিয়ে বলা যাক— । ১৯৩৯ সালে সংগঠিত হরিপুরা কংগ্রেস অধিবেশনে নেতাজি সভাপতির পদ অলংকৃত করেন। তিনি গান্ধীজির মনণীত পার্থী পট্টভি সিতারামইয়া কে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে গান্ধী সহ কংগ্রেসের বাকি শক্তিধর নেতারাও নেতাজির বিরোধিতা করেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয় গান্ধিজির মতের সাথে নেতাজির মতের কোন মিল ছিলো না। দুই মানুষের চিন্তাভাবনা দুই মেরুর। গান্ধীজি অহিংসার নিতি তে বিশ্বাসী ছিলেন আর নেতাজি পুরো অন্যমেরুর। তবে গান্ধী যে তার অহিংসবাদী মুখোশের আড়ালেই তার হিংসার চরিত্র যার প্রমাণ আমরা এই হরিপুরা কংগ্রেসে সিদ্ধ হয়। গান্ধীজি  এই অধিবেশনে মন্তব্য করন ❝ The defeat of Pattabhi Sitaramayya is my defeat ❞ । সবাইকে ভুল প্রমাণিত করে নেতাজি জয়ী হন। তার নেতাজির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়। এবং চক্রান্ত করে তাঁকে কংগ্রেস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এই প্রসঙ্গে গান্ধীজি নেতাজি কে উদ্দেশ্য করে বলেন নেতাজি হলে ভারত মায়ের বখাটে ছেলে। হ্যাঁ এই বখাটে ছেলেকেই একদিন ইংরেজরা ভয় পেতেন, ভয় পেতেন তাঁর অকুতোভয় মনোভাবকে। নেতাজিকে কংগ্রেস থেকে বিতাড়িত করার কারণে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে গান্ধীজির মতপার্থক্যের সূচনা হয়। কবিগুরু গান্ধীজি কে চিঠি লিখে বলেন -❝ Owing gravely critical situation all over India and especially in Bengal would urge congress working committee immediately remove ban against Subhas  and Invite his cordial co-operation in supreme interest national unity ❞। ( কবিকথা, বিশ্বভারতী পত্রিকা, দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা )।  এছাড়াও রামমোহন রায় কেন্দ্রিক একটা ঘটনার কারণে কবিগুরুর সাথে গান্ধিজির বিবাদ বাঁধে। নেহেরু লবণ সত্যাগ্রহেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। নেহেরু সর্বদা শান্ত প্রিয় নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এর পেছনে তাঁর প্রধান অভিষ্ট ছিলো ভারতের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দখল করা। ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় কংগ্রেসের কাছে সাহায্য পার্থনা করতে ১৯৪২ সালে ভারতে আসে স্যার স্ট্যফোর্ড ক্রিপ্স এর নেতৃত্বে ক্রিপ্স মিশন। এই মিশন প্রস্তাব রাখে যে ভারতকে Dominion Status দেওয়া হবে। এর অর্থ হলো ভারতের নেতারা দেশ শাসন করবে কিন্তু প্রধান ক্ষমতা থাকবে ইংরেজ দের কাছে।  কিন্তু কংগ্রেসের নেতারা তা প্রত্যাখান করে। কংগ্রেসের নেতারা বলেন ভারতকে পুর্ন স্বাধিনতা দিতে হবে তবেই সাহায্য করবে, কিন্তু তাতে ইংরেজরা রাজি ছিলেনা ।  কংগ্রেসের কাছে নানা প্রস্তাব আসতে থাকে কিন্তু কংগ্রেসের নেতারা সেই সব প্রস্তাবে রাজি ছিলোনা। পরবর্তি কালে মুশলিম লীগ পাকিস্তানের দাবি তে অটল থাকে কিন্তু কংগ্রেসের নেতারা দেশ বিভাজন নিতিতে রাজি ছিলোনা। পক্ষান্তরে ব্রিটিশরা বেঁকে বসে। ০৯ ই আগষ্ট ১৯৪২ সালে গান্ধীজি ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা Quick India Movement র ডাক দেন। ধীরে ধীরে দুই সম্প্রদায়ের বিরোধ দেখা দেয়। ইংরেজদের তরফ থেকে বলা হয় দুই দল একসাথে নতুন পরিচালন সভা গঠন করুক কিন্তু মুশলিম লীগ এবং কংগ্রেস কেওই তা মানতে রাজি ছিলোনা। 
১৯৪০ সালে জিন্না লাহোর প্রস্তাবে পৃথক পাকিস্তানের দাবি করেন। তার ১৫ দিন পর গান্ধীজী হরিজন পত্রিকাতে সেই দাবি সমর্থন করে। এই দুটো ঘটনা একটা দেশকে বিভাজন করতে সক্ষম হয়ে যায়। ভারতীয় সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু দেশ থেকে বিভাজনের দাবি করতে থাকে। 
১৯৪৬ সালে ক্লিমেন্ট এটলি, স্যার ক্রিপস এর এবং স্যার ক্যবিনেট এর নেতৃত্বে ক্যবিনেট মিশন ভারতে আসে এবং ভারতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য ভারতে আসে। কংগ্রেসের নেতারা যেমন জহরলাল নেহেরু, আবুল কালাম আজাদ, সর্দার প্যাটেল এবং মুশলিম লীগের পক্ষ থেকে মহম্মদ আলী জিন্না, লিয়াকত আলী কে একসঙ্গে নিয়ে আলোচনা সভা বসে। এই ক্যাবিনেট মিশন সর্তসাপেক্ষ ভাবে বিভাজন করাতে সচেষ্ট হলে কংগ্রেস তা প্রত্যাহার করে। 
ক্যাবিনেট সর্ত রাখে যে ভারত কে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হবে যথা ~
1st Hindu Majority : বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লী, ওডিশা, শিকিম, মাদ্রাজ প্রভৃতি হিন্দু অধ্যুষিত রাজ্য গুলো থাকবে। 
2nd Muslim Majority area : পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান, লাহোর ইত্যাদি মুশলিম অধ্যুষিত অঞ্চল এবং গুপ c তে বাংলা বিহার। 
 3rd independent area : যতদূর সম্ভব এই বিভাগে সেই সব রাজ্য গুলি ছিলো যারা পৃথক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতো,যেমন কাশ্মির, জুনাগড়, হায়দ্রাবাদ প্রভৃতি। 
  এতে আরও বলা হয় যে অর্থনৈতিক, সুরক্ষা, সেনা এবং আন্তর্জাতিক ছাড়া বাকি সব ক্ষমতা রাজ্যের কাছে থাকবে। সিট গুলির ভাগ জনসংখ্যার ভিত্তিতে হবে  ।এবং কেন্দ্রের কাছে কম ক্ষমতা থাকবেভ। রাজ্য গুলি চাইলে নিজের পৃথক নিয়ম কানুন রাখতে পারবে।  এই শর্তে কংগ্রেস রাজি হয়নি। কারণ এইভাবে দেশের বিভাজন নিশ্চিত। কেন্দ্রের কাছে কম ক্ষমতা থাকবে এবং রাজ্য গুলি অধিক ক্ষমতা যুক্ত হবে। পরবর্তী নির্বাচনে তারা পৃথক দেশ গঠন করতে পারবে যা কংগ্রেস চায়নি। কিন্তু অপরপক্ষ তা স্বীকার করে। তারা এই বিভাজনে রাজি হয় কারণ মুশলিম লীগ জানতো আজ না হোক কাল তারা পৃথক পাকি পাকিস্তান পেয়ে যাবে। যদি বিভাজন সম্ভব হয়ে যায় তাদের পৃথক রাষ্ট্র হবে। কিন্তু কংগ্রেস তা মেনে নেয়নি। 
এরপর মুশলিম নেতা মহম্মদ আলী জিন্না বোম্বে থেকে ঘোষণা করে তারা এবার সংগ্রামের মাধ্যমে পৃথক দেশ দাবি করবে। কয়েকদিন পর দিন ঠিক করা হয় ১৬ই আগষ্ট কলকাতাতে পৃথক পাকিস্তানের দাবিতে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম হবে।   লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান  ধ্বনি তোলে। 
বোম্বের একটি সভা থেকে জিন্না কংগ্রেস এবং সারা ভারতের উদ্দ্যেশ্যে বলেন – 
“ We didn’t want war. If you want war we accept your offer unhesitatingly. 
We will have divided India divided or a destroyed India.” 
 
১৯৪৬ সালের বাংলা ছিলো মুশলিম অধ্যুষিত। তাই প্রদেশিক নির্বাচনে জয়ী হত মুশলিম লীগ। ২৮এ এপ্রিল প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক দেওয়া হলে লীগ তা বাস্তবায়িত করতে সচেষ্ট হয়।  এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের এই পূন্যভূমী হিন্দু রক্তে স্নানিত হয়েছিল। গোপাল কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এই প্রত্যক্ষ সংগ্রাম সম্পর্কে নেহেরুর অবদান সম্পর্কে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। আর আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার বর্ণনা দেন।  বিখ্যাত হরেণ ঘোষ এর মৃত্যু সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন — 
তার পর তিনি খবর পান হরেণ ঘোষ মারা গেছেন। ৩৯নং মদন বড়াল লেনে তাঁর বাড়ি ছিলো। হরেণ ঘোষ সাংস্কৃতিক জগতের ব্যাক্তিত্ব। তিনি বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর এবং অমলা শংকর এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। হরেণ ঘোষের অফিস ছিলো ওয়াসেল মোল্লার বড়ির দোতলাতে। মুশলিম লীগের অন্যতম নেতা এবং তৎকালিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সারাবর্দী সেই বাড়িতে যেতেন এক বাইজীর কাছে। সেখান থেকে মুশলিম লীগের এই প্রতক্ষ সংগ্রামের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। সেই পরিকল্পনার কাগজটি পাওয়ার পর হরেণ ঘোষ সেটি জহরলাল নেহেরু কে পাঠান। এই পরিকল্পনা তে লেখা ছিলো গঙ্গার এপার অর্থাৎ মুর্শিদাবাদ, নদিয়া এবং কলকাতার কিছুটা অংশ নিয়ে গঠিত হবে হিন্দুস্থান এবং গঙ্গার ওপাড়ের অংস নিয়ে গঠিত হবে পাকিস্তান। গঙ্গা নদী দুই দেশের সীমানা হিসেবে অবস্থা করবে।  এই ঘটনার কয়েকদিন পর হরেণ ঘোষ খুন হন। নিজে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দখল করবেন বলে ভারতের বিভাজন ও করতে পারেন। কে হবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু না জিন্না তা নিয়েও বিরোধ বাঁধে নিজেদের মধ্যে। আরও বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। ভারতকে স্বাধীন করার কথা অনেক আগে থেকেই পরামর্শ চলছিলো। কিন্তু কে হবে। সেই সময় সবথেকে যোগ্য দাবেদর ছিলেন নেতাজি, তাই নেতাজিকে পরিকল্পনা মাফিক দল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। কারণ নেহেরু জানতেন যে যতদিন নেতাজি বর্তমান ততোদিন গোটা ভারতবাসী ওনাকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইবে সেখানে অন্য কাওকে বসালে তারাই সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধ করবে। গান্ধীজিতো অনেক গুলো আন্দোলন করেছিলেন একটাও সফল হয়েছিলেন বা একবারের জন্যেও ইংরেজদের মনে ভীতির জাগরণ ঘটাতে পেরেছিলেন। নেতাজি পেরেছিলেন। তাই নেতাজিকেই যোগ্য নেতা মনে করা হয়। নেতাজি ২য় বিশ্বযুদ্ধের দাবদাহতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজ দের পরাস্ত করার পরিকল্পনা করতে সিঙ্গাপুর যান । ১৯৪২ সালে রাসবিহারী বসুর তৎপরতায় জাপানি কতৃপক্ষ ভারতের জাতীয়তাবাদের পাশে দাঁড়ায় এবং যুদ্ধ বন্দী ভারতীয় দের মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৪২ সালের ২৮ ২৯ মার্চ টোকিও তে তার ডাকে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে  ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেস লিগ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। আর ওই অধিবেশনে এক সেনাবাহিনীর গঠনের প্রস্তাব পেস করা হয়। যুদ্ধবন্দী  ভারতীয় সেনাদের নিয়ে গঠিত হয় আজাদ হিন্দ ফৌজ, যাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিলো ভারত মাতাকে মুক্ত করা। রাসবিহারী বসু এই আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব অর্পণ করলেন নেতাজিকে। ১৯৪৩ সালে সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে পুনর্গঠিত হয়ে সুভাষচন্দের আর্জি হুকুমত-এ-আজাদ হিন্দ সেনাবাহিনী গঠিত হয়। ব্রহ্মদেশ, ইম্ফল, কোহিমায় সাম্রাজ্য বাদী জাপান সেনাবাহিনীর সহায়তায় বাহীনি ব্রিটিশ ও কমনওয়েলথ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযান চালায়। এবং তাতে তাদের ব্যার্থতার সম্মুখীন হতে হয়। পরে প্রায় বেশিরভাগ সেনা কেই ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে দেশদ্রোহীতার জন্য কারোর কারোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ফিরলেন না নেতাজি। নেতাজি সাহায্যের জন্য হিটলারের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু হিটলার শক্তি দিয়ে নেতাজিকে সাহায্য করেন নি। গান্ধীজিও ভারতের স্বাধিনতা সংগ্রামের এক অপরিহার্য অঙ্গ তা নিয়ে কোন প্রশ্নই উঠেনা। তবে ওনার মতো উচু দরের নেতা স্বাধীনতা সংগ্রামরূপে যে প্রহসনের সৃষ্টি করেছিলেন তাতে যুব সমাজের মনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্যের পরিমাণ কিছুটা হলেও খর্ব হয়েছিলো। যারা প্রকৃত উপায়ে সঠিক পন্থায় দেশকে স্বাধীন করার প্রচেষ্টা করতেন গান্ধীজি তাদেরকে আতঙ্কবাদী হিসেবে চিহ্নিত করতেন।  যার ফলে জনসাধারণের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হতো। নেতাজি বরাবরই শক্তি বুদ্ধি দিয়ে ইংরেজ দের পরাস্ত করতে চাইতেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন অহিংস পথে চুপচাপ নির্বিকার ভাবে বসে থেকে কোনদিনই স্বাধীনতা আসবেনা। তাই তিনি চাইতেন ইংরেজদের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তুলতে। কিন্তু তাঁর নিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে অনেকবার বন্দী করে এবং বেশ কয়েকবার নেতাজিকে গৃহবন্দী করা হয়। পরে তিনি ইংরেজ পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে পালিয়ে যান আর শক্তিশালী হয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করার জন্য। কিন্তু নেতাজি আর কোনোদিনই দেশের মাটিতে পা দেওয়া হলোনা। তাঁকে কী দেশে ফেরত আসতে দেওয়া হয়নি। ভয়ে! পাছে উনি দেশ ভাগে বাধা দিয়ে দেন। অগত্যা নেতাজিকে মৃত পরিণত করার একটা সুযোগ এসে গেলো তাদের কাছে, ১৯৪৫ সালের ১৮ই আগষ্ট তাইহুকু বিমানবন্দরে কাছে এক বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়, সেই বিমানে নাকি সুভাষ বসু যাত্রী ছিলেন। কাছাকাছি একটা সেনা হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় নাকি নেতাজির মৃত্যু হয়। তাইহুকুতে নেতাজির অন্তিম সংস্কার করা হয় । আর ওনার চিতাভষ্ম নাকি টোকিও এর একটি বৌদ্ধ মঠে রাখা হয়েছে। একটা ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলো- ‘ The nawab of Bhupal chattered a plane taking Jawaharlal Nehru to Singapore where Lord Wavell was ; he was then viceroy. Gen. Auchinleck, commander-in-chief of the war was also there. Nehru was hesitant there. Lord Mountbatten who was the head of the South East Asia command to Singapore base, was also there. Jawaharlal Nehru was given certain questions by Lord Mountbatten. He said, look here Scotland yard has not yet written off Subhas  as dead  or gone or disappointed never to came. If that is so, is Subhas comes back to India, will you be the prime minister or Subhas will be? Question no. 02: was supposing the country is not provide will Bengal contributed the Prime Ministership or will U.P contributed the Prime Ministership? The hint was very very  clear and vacillating great leader agreed to PARTITION. ’ ( Lak Sabha Debates– vol. VII. Pages- 316 & 317).  এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে ইংরেজ সরকার ও ভয় পেতো যদি সুভাষ চন্দ্র বসু আবার দেশে না ফিরে আসে।  যুদ্ধের পর যখন আজদ হিন্দ ফৌজের  সেনাবাহিনীরা স্বেচ্ছায় ধরা দিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখে এবং তাদের কথা যখন গোটা দেশ যুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন গোটা দেশের আক্রোশ গিয়ে পড়ে ইংরেজ সরকারের ওপর, গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন। এই ভয়াবহ বাতাবরণে সন্ত্রস্ত হয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট এটলি  ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারীতে ঘোষণা করেন যে ১৯৪৮ সালের ৩০ এ জুন ভারতকে স্বাধীন করা হবে। কিন্তু প্রত্যেকটা নেতার মধ্যে ভয় যদি নেতাজি ফেরত আসে! তাই মাউন্টব্যাটেন নির্দেশ দেয় যে এবার দেশভাগের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে। এবং তার পর স্বাধীনতার দিনটি এগিয়ে আনা হয়, ১৯৪৭ সালের ১৪ই ও ১৫ই আগষ্ট   । আর এই ধারণা সত্যি হলো যখন তাইহুকুর সরকার জানালো যে ১৮ই আগষ্ট ১৯৪৫ কোনো বিমান দুর্ঘটনা হয়নি। তাই আরও তাড়াতাড়ি দেশ বিভাজন করে স্বাধীনতা দান করার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। নেতাজির সঠিক পরিণতি জানার জন্য দেশ বাসী সরকার কে চাপ দিতে থাকে যার ফলস্বরূপ সরকার দুটি তদন্তকারী কমিটি গঠন করে। কমিটি গুলি হলো শাহ নাওয়াজ কমিটি, খোসলা কমিটি ও মুখার্জি কমিশন। শাহ নাওয়াজ কমিটি ও খোসলা কমিটি বিমান দুর্ঘটনার মতকেই সত্য বলে আখ্যা দেয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই মতামত মানতে রাজি হয় না। কারণ তাইওয়ান সরকার স্পষ্ট ভাবে জানায় যে ১৯ এ আগষ্টের ৭দিন আগে বা পরে কোনো বিমান দুর্ঘটনা হয় নি। উত্তাল জনতার আক্রোশের ফলে আবার একটি তদন্তকারী কমিটির, মুখার্জি কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের রিপোর্টে লেখা হয় যে ওই দিন কোনো বিমান দুর্ঘটনা হয়নি। এই মত সরকার মানতে পারেনি তাই এই কমিশনের রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। আর এই ব্যার্থতার পেছনে তৎকালীন তাবড়-তাবড় নেতাদের ক্ষমতা লোভের  স্পৃহা নিহিত রয়েছে। তাহলে এই মহান দেশমাতৃকার প্রকৃত নেতা কে? কথায় আছে মানুষের পাপের ঘড়া যখন পুর্ণ হয় তখন তার বিনাশ অবসম্ভাবী হয়ে যায়।  জিন্নাও ভাবতে পারেন নি এতো সহজে ওনার অভিষ্ট সিদ্ধ হবে। ভারতের কেন্দ্র দলই যে দেশবিভাগের পথে এগোচ্ছেন তা ওনার জানা ছিলোনা। সবার মনেই ক্ষমতা দখলের লালশা। লর্ড মাউন্টব্যাটেনের গৃহিণীর সাথে নেহেরু আর জিন্না উভয়ই প্রেম লীলাতে মত্ত ছিলেন। এডউইনা মাউন্টব্যাটেন এই ঘনিষ্ঠ অবস্থার কিছু ছবি রাখেন এবং দুইজনকেই black mail করতে থাকে আর দেশ বিভাজন করার জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু কে হবে দেশকে ভাগ না করা গেলে একই দেশে দুটো প্রধানমন্ত্রী সম্ভব না। তাই আরও দেশ বিভাজন। এই বিষয়ে নাথুরাম গোডসে বয়ানে বলেন- ১৯৪২ সালে গান্ধীজির নেতৃত্বে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে হারের পর কংগ্রেস সমঝোতা করতে উদ্যত হয় যে ক্ষমতা ও সুরক্ষা কংগ্রেসের হাতে থাক। নেহরু তখনও চিন্তা করতেন যে ভারতে আবার হিন্দু মুসলিম একতা দেখা যাবে। আর যারা এই জিহাদিদের বিরোধ করতো তাদের সাম্প্রদায়িক জঙ্গির আখ্যা দেওয়া হতো। তখন নেহেরু কে স্মরণ করানোর প্রয়োজন ছিলো যে উনি সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভারতের বিভাজন করেছেন। বিভাজনের ফলে প্রায় ১৫কোটি ২০ লক্ষ লোক বেঘর হয়। যার মধ্যে ৪০লক্ষ মুসলিম। পাকিস্তানের হিন্দুদের ওপর নির্জাতন শুরু হয়, করাচি, সাক্ষার, শিখরপুর ও সিন্ধের অন্যান্য প্রান্তে এই দাঙ্গার প্রসার দেখা যায়। বহু হিন্দু মারা যায়। গান্ধীজি কাশ্মিরের রাজা হরি সিং কে ভুল পথে চালিত করার প্রচেষ্টা করেন। গান্ধীজি হরি সিং কে পরামর্শ দেন যে তিনি যেমন সন্যাস গ্রহণ করে কাশি রওনা হয়ে যান এবং কাশ্মীরের রাজভারের সত্বা মুসলিম নেতা শেখ আব্দুল্লা কে অর্পন করেন। কাশ্মিরের রাজা হিন্দু আর অধিকাংশ জনতা মুসলিম। কিন্তু হায়দ্রাবাদের নিজাম কে এই রূপ কোনো পরামর্শ দেননি। তিনি নিজাম কে একবারও বলার সাহস হয়নি যে তিনি যেন ফকিরি নিয়ে মক্কায় চলে যায়। হায়দ্রাবাদে হিন্দুদের সংখ্যা নেহাতই কম ছিলো না। মাউন্টব্যাটেন ছিলেন দক্ষিনপূর্ব সেনার জেনারেল। উনি এক মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতে আসেন সেটা হলো ভারতের বিভাজন, তিনি সেই কার্যে সফল হয়েছিলেন। গান্ধীজি ছিলেন হিংসক শান্তি মুর্তি। গান্ধীজি ওনার লেখাতে বলেন-❝ মুসলিমরা যদি তাদের পৃথক রাষ্ট্রের দাবি রাখে তাহলে তাতে বাধা দান করার সাধ্য কারোর নেই ❞। এই কথার মাধ্যমেই কী উনি পাকিস্তানের দাবি সমর্থন করেছিলেন। এর প্রকৃত ব্যাখ্যা একমাত্র গান্ধীই জানতেন। গান্ধী জিন্নাহ কে সর্বদা ভাই বা কায়েদ এ আজম বলে সম্বোধন করতেন। যদি কংগ্রেস পাকিস্তানি হিন্দুদের সুরক্ষার দায়িত্ব নিতেন তাহলেও আমার ক্রোধ প্রশমিত হতো। কিন্তু কংগ্ররস তা করেনি। যদি পাকিস্তানি দের হুমকি দিয়ে বলতো যে যদি তারা পাকিস্তানি হিন্দুরের ওপর নির্জাতন করা বন্ধ না করবে তাহলে ভারতে থাকা মুসলমান দেরও একই পরিণতি করা হবে। কিন্তু তা হয় নি। দলে দলে শরনার্থী ভারতে আসতে থাকে। শরনার্থীরা দিল্লির মসজিদ গুলিতে আশ্র‍য় নিয়েছিলো। গান্ধীজি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে থাকে তারা যেমন সেই স্থান ত্যাগ করে রাস্তায় বেরিয়া আসে আর মসজিদ মুসলিম দের ফিরিয়ে দেয়। গান্ধীজি তার দাবি পূর্ণ করার জন্য অনশনে বসার হুমকি দেয় এবং তার জেদে সফল হয়। যেদিন গান্ধীজ অনশন রদ করেন সেদিন আমি দিল্লিতেই ছিলাম। শীতের দিন তার ওপর প্রবল বৃষ্টিতে ঘরের বাইরে বেরোনো যাচ্ছেনা আর শরনার্থীরা অসহায় অবস্থায় কুটুম্ব পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বিড়লা হাউসের দিকে অগ্রসর হয়। তারা চিৎকার করতে থাকে গান্ধীজি আমাদের থাকবার যায়গা দিন। এই ঘটনার পরই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে গান্ধীজি কে স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত জীবিত রাখা যাবে না। যদি ততোদিন পর্যন্ত গান্ধীজি জীবিত থাকেন তাহলে হিন্দুদের ওপর থেকে গান্ধীজির কালোছায়া কোনোদিনই সরবেনা। এর পরই ৩০ জানুয়ারির পার্থনা সভাতে ঢুকে গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা দেখিয়ে গান্ধীকে হত্যা করি। ❞ — নাথুরাম বিনায়ক গোডসে ৮নভেম্বর ১৯৪৮ বয়ান দেন। ভারতের স্বাধীনতা লাভের ক্ষেত্রেও এনার কূটনৈতিক বুদ্ধির জুড়ি মেলা ভার। নিজের স্বার্থের জন্য নিজের দলের অন্যতম ব্যাক্তিত্বকেও হত্যা করাতে দ্বিধা বোধ করেন নি। ভগৎ সিং রাজগুরু কে যখন ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধ করার কারণে বন্দি করা হয় তখন কংগ্রেসের অনেক শির্ষ নেতৃত্বই তাদের মুক্তির দাবিতে গান্ধীজীর কাছে আর্জি করে। কিন্তু গান্ধীজী সেই সব আর্জি নাকচ করেন এবং প্রকাশ্য জনসভায় ওনাদের গুন্ডা বলে উল্লেখ করেন। আর এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের মধ্যেই অন্তর্বতী দ্বন্ধ দেখা দেয়। প্রখ্যাত নেতা চন্দ্রশেখর আজাদের সাথে জওহরলাল নেহেরুর বিবাদ বাঁধে যা দ্রুত মনোমালিন্য তথা সংঘাতের আকার ধারণ করে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর চন্দ্রশেখর আজাদ যখন Alfred Park বিশ্রাম করছিলেন তখন কয়েকজন দুষ্কৃতি ওনার ওপর হামলা করে এবং খুন করেন ( ২৭এ ফেব্রুয়ারী, ১৯৩১। মাত্র ২৪ বছর বয়সে মৃত্যু)। বলার অপেক্ষা রাখে কী এটি কার মস্তিষ্ক প্রসূত চক্রান্ত। এই মহান নেতা দেশবিভাজন তথা দেশ স্বাধীন করবার জন্য বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যাদের প্রত্যেকেরই একটি মূল ধারণা সর্বোচ্চ ক্ষমতা লাভ। আমরা সবাই জানি যে ভারত সাম্প্রদায়িক পরিকাঠামোতে বিভাজিত হয়েছিল। এবং পাকিস্তান ছিলো মুশলিম অধ্যুষিত অঞ্চল তাই সেই অঞ্চলে বসবাসকারী হিন্দুদের কী পরিণতি হবে তা সবার জানা ছিলো। তবুও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সুস্থ ভাবে ভারতে আনার কোনো ব্যাবস্থাই গ্রহণ করেনি। যথারিতি পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর অকথ্য অত্যাচার আর নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার মাত্র ২-৩ বছর আগে অর্থ্যাৎ স্বাধীনতা লাভের কিছু দিন পর শীর্ষ নেতৃত্ব নব নির্মিত পাকিস্তানকে ৫০০ কোটি দেবার কথা ঘোষনা করে। কিন্তু সর্দার সহ অনেকেই এর বিরোধিতা করে কিন্তু আবার গান্ধীজী পাকিস্তানের পক্ষ্যে অনশন শুরু করে এবং ওই বিশাল পরিমাণ ধণরাশি পাকিস্তান কে দেওয়া হয়। যার ব্যাবহার পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবার জন্য ব্যাবহার করেছিলো। ১৯৫০ সালে জওহরলাল নেহেরু আর লিয়াকত আলীর মধ্যে এই সংখ্যালঘিষ্ট হিন্দু দের সুরক্ষা আর ছিটমহল সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নেহেরুর এই পররাষ্ট্রনীতি সর্বজন বিদিত। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পপরবর্তী সময় যখন গোটা বিশ্ব ২টি শিবিরে ভেঙে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই এর এ আবেশে জর্জরিত হয়েছিল তখন নেহেরু সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত ভারতকে কোনো শিবিরেই সংযুক্ত না করে তৃতীয় বিশ্ব গঠন করেছিলো এর ফলে ভারতের অভ্যন্তরে শান্তি বজায় থাকে। নেহেরু সর্বদাই চাইতেন ওনার মৃত্যুর পর ওনার কন্যাই যেমন দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। মানুষের উচ্চাকাঙ্খা নিজের পতনের জন্য দায়ী হয়ে যায়। ভগবান যাকে যতোটা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট না থাকতে পেরে তার বৃদ্ধি ঘটানোর লালশার কারণে একসময় যা ছিলো তাও বিনষ্ট হয়ে যায়। নেহেরু ভারতের সার্বিক উন্নতিকল্পে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আর পঞ্চশীল নীতির উদ্বাবন করেন, যার ফলে কতোগুলি পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে ভারতের উন্নতি সাধন হয়। কিন্তু ওনার গৃহীত অনেক নীতিই ব্যার্থ হয়। জওহরলাল নেহেরু ৭৪ বছর বয়সে মারা যান ২৭এ মে ১৯৬৪ সালে। এই ভাবেই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটে।
সহায়ক: 
• গান্ধীজির অপকর্ম- অলোককৃষ্ণ চক্রবর্তী।