fbpx

নারীর বঞ্চনার অগ্নিস্ফুরণ

নারীর বঞ্চনার অগ্নিস্ফুরণ - শুভ্রা ভট্টাচার্য

সাম্য চায়,অসাম্যের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রকৃতিতে ঝড়ঝঞ্জা রয়
বিজ্ঞান জীবনদর্শন মিলেমিশে একই নিয়মেই চালিত হয়,
জীবনে নানা অন্যায় অবিচার অবমাননায় ব্যথার উদগিরণ
হৃদয়পুঞ্জিত দুঃখ ক্ষোভ হতে সৃষ্ট প্রতিবাদে ঘটে অগ্নিষ্ফুরণ।
 
দ্বিতীয়শ্রেণীর নাগরিক রূপে নারী যুগযুগে বঞ্চনার শিকার
বৈষম্যের এই পাহাড়ে বসে আর কত দিন রবে নির্বিকার!
বছর বছর নিয়ম করে আসে তো দেখি বেশ ভাইফোঁটা,
তবে কেন ক্যালেন্ডারে একটিবারও দেখি না বোনফোঁটা!
 
ঘরে ঘরে কতো আহ্লাদে সমারোহে পালি জামাইষষ্ঠী
তবে কেনো নেই কোনো অনুষ্ঠান বউকে করতে তুষ্টি!
“ফর্সা তন্বী সুন্দরী পাত্রী চাই” বলে ঐ কাগুজে বিজ্ঞাপন
কিন্তু পাত্রের জন্য কেউ তো করেনি সৌন্দর্যের আবেদন!
 
সমাজের যত নিয়ম কানুন অন্ধ কুসংস্কারের বেড়াজাল
শুধু নারীর তরেই তৈরি হয়ে কেন জীবনকে করে বেহাল!
তাই শাখাপলা সিঁদুরের শৃঙ্খলে আজও আবদ্ধ নারী
কিন্তু পুরুষকে তো কোনো বন্ধনেই আটকাতে না পারি!
 
নিজবাড়ি পদবী প্রিয়জন সব একতরফা করতে হয় ত্যাগ
তবু সমাজ দেয়নি তাদের কোনো বিশেষ সন্মানের ভাগ!
সন্তান ধারনে কত না ঝুঁকি কতো না আত্মত্যাগ, হায়!
তাও কি মা পায়’স্বাভাবিক অভিভাবকত্বের’সামান্য দায়!
 
পরিবার পরিজনের সুখে একনিষ্ঠ সেবা যত্নে হয়ে নিমগ্ন
তারা কেনো পায় না প্রথম শ্রেণীর নাগরিকত্বের মান্য!
আর যে নারী ঘরে বাইরে সমান পারদর্শী আর সপ্রতিভ
সব্যসাচী তকমায় সেও কি পারে বদলাতে সমাজ-মোটিভ!
 
এখনও নারীর মেয়ে হওয়ার অপরাধে মনে হীনমন্যতাবোধ
ঘরে ঘরে অপমানিত নারী!কেমনে সমাজভাঙ্গন হবে রোধ!
অকথ্য অত্যাচার সইতে না পেরে চাইলে নারী ডিভোর্স
সমাজ কেন আঙ্গুল তুলে দেখায় মেয়ের চরিত্রের দোষ!
 
আঁধাররাতে একা পেয়ে পুরুষ দেখায় শরীর চুরির ভয়
এরপরও কোন্ নিরাপত্তায় করবে তারা জীবনযুদ্ধে জয়!
এসিডআক্রান্ত পণবলী ধর্ষণ যৌনক্রীতদাসী ব্যাভিচারী
এমন নিঠুর শব্দগুলো আর কতদিন বইবে বলো নারী!
 
“পুত্রং দেহি ধনং দেহি”পুজোর মন্ত্র বিস্মিত করে আমায়
মাগো,তোমার মন্ত্রে “কন্যাং দেহি” কথাটি কেনো নাই ?
আজও কি দুঃসাহসে কন্যার ভ্রূণহত্যা অবাধে চলে,
কিন্তু পুত্রঅবমাননায় কেউতো এসব নিঠুরকথা না বলে!
 
এরপরও কি নারীর থাকতে নেই কোনো দুঃখ অভিমান
শুধু ত্যাগ আর ত্যাগ দিয়েই বুঝি গড়া তাদের অভিধান!
কিন্তু বলতে পারো নারী ছাড়া জীবন থাকবে কি চলমান!
তবু সমাজ কেনো দেয় না তাদের যোগ্য মর্যাদা সম্মান!!

Bio:

শুভ্রা ভট্টাচার্য  , হুগলীর চুঁচুড়া নিবাসী সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পিতা দীননাথ ভট্টাচার্য, মাতা সাবিত্রী ভট্টাচার্য, জন্মসাল : ০১/০২/১৯৭২।  আশৈশব একটু ভিন্ন চিন্তায় প্রতিবাদী লেখনীতে মনের ভাব ব্যক্ত। রাজ্যের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ( ইন্টার ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞানমঞ্চ, হুগলী ক্রেতা সুরক্ষা, মানবিক welfare সোসাইটি, কোভিদ কেয়ার নেট ওয়ার্ক ইত্যাদি) এর কাজের সাথে যুক্ত। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা, বই ও ম্যাগাজিনে লেখা প্রকাশ। প্রিয় ছাত্রছাত্রী ও স্যারদের নিয়ে অসহায় আর্ত মানুষ ও শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে নিজস্ব একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠণ “অন্তরবীক্ষণ”। “অনুরণন” নামক নিজস্ব বই সম্পাদনা। পঞ্চবর্তিকা, পরমাণুপুঞ্জ বিকিরন, ত্রিবেণীবীক্ষনে বইগুলো প্রকাশের পথে।ইন্টার ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন এর পক্ষ থেকে ৮ ই মার্চ সোশ্যাল activist হিসাবে সেরা নারী সম্মাননা Internatinal Women’s Day Excellence Award 2021এ ভূষিত হওয়া। চাকরি ও সংসারের রোজনামচায় জীবন সীমাবদ্ধ নয়। পরিচিত ও অপরিচিতের সুখে দুঃখে পাশে থাকার অঙ্গীকারে অদ্ভুত তৃপ্তিলাভ। ছাত্রছাত্রী জ্ঞানীগুনী মহতীর সান্নিধ্য লাভের আকুলতা প্রাণে। ইতিবাচক মন নিয়ে লেখনীর মাধ্যমে এ পৃথিবীকে সকল শিশুর বাসযোগ্য করার স্বল্প প্রচেষ্টা মাত্র।।